মিষ্টি কথার চোরাস্রোত পর্ব ১
![]() |
মিষ্টি কথার চোরাস্রোত
প্রথম পর্ব
আমার মা আমার নাম রেখেছিল যামিনী। ছোট থেকে আমিই গ্রামের মাটিতে বড়ো হয়েছি। আমি খুব সুন্দর দেখতে বলে অনেকে আমাকে মোহিনী বলে ডাকতো। এখন আমি বড় হয়েছি। বয়স ২২- ২৩ চলছে । এখন ও সবাই আমাকে খুব সুন্দরী বলে । আমি একটু বয়েসের তুলনায় লম্বা হয়েছি। শরীরের গঠন খুব ভালো। এখন আমার প্রতি কোন পুরুষের চোখ পড়লে তার চোখের পলক পড়ে না। এক দৃষ্টি করুম মুখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। এতে আমি খুব মজা পাই। নিজেকে খুব ভালো লাগে । অনেক গর্ব বোধ করি। প্রেম করলে হয়তো এই বয়সে হাজারটা ছাড়িয়ে যেত। আর যদি বিয়ে করতাম তাহলে আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ১৪ বছর বয়সে বাড়িতে আমাকে পড়াতে আসা প্রাইভেট মাস্টারের সঙ্গেই বিয়ে হয়ে যেত। তিনি আমাকে জীবন সাথী করার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। আমি একটু অন্য রকম। আমার পছন্দ হ্যান্ডসাম বলিষ্ঠ পুরুষ। আবার খুব দামি মানুষ'হওয়া চাই। তাতে বয়স্ক হলেও চলবে। বয়স্করাই জানে আসল প্রেম। তারা সুন্দরী মেয়েদের প্রতিটা অঙ্গের মূল্য বোঝে। আর তাদের ক্ষমতাও বেশি হয়। তাদের কাছে বেশি বেশি শারীরিক সুখ ও পাওয়া যায়।
আমার শারীরিক পিপাশা মেটানোর জন্য ওই ধরনের পুরুষদের আমি খোঁজ রাখতাম। একসময় একজনের পুরুষের নাম আমার কানে আসে। তিনি হলেন পাশের গ্রামের অনিমেষ বাবু। বয়স ৬০এর কাছাকাছি। তিনি নাকি খুব ঘ্যামা মানুষ। জমিদার বংশের মানুষ। জমিদারদের মতো বড়ো বাড়ি আছে। তিন তলা বাড়ি । কলকাতার বড়ো বড়ো কোম্পানির ব্যবসা আছে। সপ্তাহে একদিন গ্রামের বাড়িতে আসেন। যখন বাড়ি আসেন তখন বাড়ি থেকে তেমন বের হন না। পরিচিতিরা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। তাঁর তিন ছেলে আছে। তিনজনই অবিবাহিত। একজন ধর্মকর্ম নিয়ে সারাদিন কাটান। আরেকজন পার্টির বড় নেতা। তার কাছে অনেক মন্ত্রী পর্যন্ত দেখা করতে আসে। আরেকজন স্কুল শিক্ষক। অনিমেষ বাবুকে একবার নিজের চোখে দেখেছিলাম পাঁচ বছর আগে। অনিমেষ বাবুর স্ত্রী মারা যাবার পর শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে আমার মায়ের সঙ্গে খেতে গিয়ে উনাকে দেখেছিলাম। উনার সুন্দর বলিষ্ঠ চেহারাটা তখনই আমার মনকে আকর্ষণ করে তুলেছিল। ওই অনুষ্ঠানে তিনি খাওয়া দাওয়ার তদারকি করছিলেন। খেতে খেতে ওনার সঙ্গে কয়েকবার চোখে চোখ পড়ে গিয়েছিল। তখনই উনাকে দেখে আমার ভালো লেগেছিল। তারপর গ্রামের মানুষদের মুখে ওনার ভালো কাজের প্রশংসা শুনে মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছিলাম। এখন আমার মনে শুধু একটাই ভাবনা ঐ মানুষটটাকে বিছানার সঙ্গী করতে চাই। ওনাকে বিছানার সঙ্গী করতে পারলে আমার শারীরিক সুখের অভাব হবে না। আমি জানি ওইরকম মানুষের সাথে সহবাস করলে ভীষণ সুখ পাওয়া যাবে। আমি জানি ওই ধরনের মানুষরা একটু অন্য মাইন্ডের হয়,ওদের পিপাসা খুব বেশি হয়। ওদের ওদের শরীরে খিদে তৈরি করতে পারলে সুন্দরী নারীর সবই চেটেপুটে খাওয়ার জন্য পাগল হয় । নারীর জীবন ধন্য হয় । তখন ওদেরকে খুশি করতে পারলে শারীরিক সুখের অভাব হয় না। ওদের গাড়ি চলানো অভিজ্ঞতা এখনকার অল্প বয়স্ক ছেলেদের চেয়ে অনেক গুণ বেশি। রাত্রে বিছানায় শুতে গিয়ে ওনার কথা বারবার মনে পড়তে লাগল। কিভাবে ওনার ঐ বলিষ্ঠ চেহারার মধ্যে আমি ধরা পড়বো এই চিন্তায় আমি বিভোর হয়ে রইলাম।
একদিন আমার বান্ধবী এসে খবর দিল অনিমেষবাবুর মেজো ছেলে ইন্দ্রজিত বাবু একটা মিটিং করবেন। বড়ো মিটিং হবে। তিনি নাকি এবার ভোটে দাঁড়িয়েছেন। ভোটে জিতলে MLA হবেন। ওই মিটিংয়ে আমাদের একটা ড্যান্স করতে হবে। ছোট থেকেই আমি খুব ভালো নাচ জানি। আমাদের নাচের একটা টিম আছে। বান্ধবীর কথায় আমি রাজি হয়ে গেলাম। মনে মনে ভাবলাম নিশ্চয়ই অনিমেষ বাবু ওখানেই থাকবেন। কারণ ওনার ছেলের উদ্যোগে মিটিং হবে । এই সুযোগে আমি ওখানেই ওনার সাথে পরিচয় করব। আমি আমার সুন্দর নাচ দেখিয়ে ওনাকে বসে আনার চেষ্টা করব। তিনদিন পর মিটিংয়ে আমরা নাচের দল হাজির হলাম।। সেখানে প্রচুর লোকজন এসেছে। মাইকে স্লোগান চলছে। আমার চোখ অনিমেষ বাবু কে খুঁজে বেড়াতে লাগল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও অনিমেষবাবু দেখা পেলাম না। আমরা আমাদের অনুষ্ঠান শেষ করে পাশে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি এমন সময় একজন লোক এসে আমার খোঁজখবর নিতে লাগলেন। লোকটি লম্বা উঁচু পুরু মানুষ । এক কথায় বলিষ্ঠ মানুষ বললে ভুল হবে না। পরণে ছিল সাদা পাঞ্জাবি প্যান। চোখে সানগ্লাস। গলায় একটা সোনার চেন। হঠাৎ তিনি চোখের সানগ্লাস খুলে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন- তোমার নাম কি?
আমি বললাম- যামিনি।
তিনি বললেন- খুব সুন্দর নাম। তোমার বাড়ি কোথায়?
আমি বললাম- এই সামনে গোপিনাথপুরে। তিনি কিছুটা অবাক হয়ে বললেন -আমার তো পাশের গ্রামের বাড়ি। তোমাকে তো কোনদিন দেখিনি? আমি মজা করে বললাম- আমি ওখানেই থাকি না।
-কোথায় থাকো?
হেসে বললাম- বিলেতে থাকি। আমি এখন বিদেশিনী।
তিনি বললেন- তোমার বাবার নাম কি? আমি বললাম- বশিরুল শেখ।
পাশে এক বান্ধবী বলল -স্যার ও আপনার সঙ্গে মজা করছে। ওর নাম যামিনী সেন। ওর বাবার নাম মনমোহন সেন। ও বিলেতে থাকে না। গ্রামেই থাকে।
তিনি তখন একটু মেজাজ নিয়ে বললেন- আমাকে চেনো?
আমি বললাম- কি করে চিনবো? কোনদিন আপনার সঙ্গে তো দেখাই হয়নি।
বান্ধবী আমাকে বলল- উনি হলেন অনিমেষ বাবুর বড় ছেলে ইন্দ্র বাবু । এবার ভোটে দাঁড়িয়েছেন।
আমি বললাম- তাই নাকি? তাহলে ওনার জন্য এখানে আসা? ভোটে জিতে গেলে তো মন্ত্রী হয়ে যাবেন। তখন আমার কথা মনে থাকবে তো?
(ইন্দ্রবাবু একটু নম্র হয়ে বললেন) -মন্ত্রী না হলেও আমি তোমাকে মনে রাখব। আর যদি সারা জীবন আমার কাছে কাছে থাকতে চান তাতে কোন অসুবিধা নেই।
(আমি আকাশ থেকে পড়লাম। প্রথম দেখাতেই এই অবস্থা। মনে মনে ভাবলাম এই কথাটি যদি অনিমেষ বাবু বলতেন তাহলে আমি খুব খুশি হতাম। মনে মনে। ভাবলাম যদি অন্যেশ বাবুর হাত ধরে ওই বাড়িতে প্রবেশ করতে পারি তাহলে এই মালেটাকে খুব সহজেই ম্যানেজ করতে পারবো। তাহলে বাড়তি একজনের শারীরিক সুখ পাবো।
ইন্দ্রবাবু বললেন- কি ভাবছো?
আমি মিষ্টি হাসি দিয়ে বললাম- আপনার কথাটা ভাবছি।আপনি বললেন যদি সারা জীবন আমার কাছে কাছে থাকতে চান তাতে কোন অসুবিধা নেই। আপনার কাছে কাছে থাকতে হলে তো, আপনাকে বিয়ে করতে হবে।
ইন্দ্র বাবু বললেন- আমি তো ওটাই বলছি।
(আমি মনে মনে খুব খুশি হলাম।আমি জানি অনিমেষবাবু তিন ছেলে বিয়ে করেনি। অবাক হবার ভান করে অভিনয় করে বললাম)- সে কি আপনি এখনো বিয়ে করেননি? মেয়ে পছন্দ হচ্ছে না নাকি?
ইন্দ্রবাবু বললেন- তোমার মত মেয়ে পেলে আমি কবেই বিয়ে করে ফেলতাম।।
আমি বললাম- কি আশ্চর্য ! আগে বলতে পারেননি? এখন তো আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
( ইন্দ্রবাবু মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল। নিজেকে একটু সামলে নিয়ে বললেন)- ঠিক আছে। তাহলে তাড়াতাড়ি বিয়েটা করে ফেলুন। পরে আবার দেখা হবে।
আমি বললাম- চিন্তা নেই। পৃথিবীটা গোল। অবশ্যই দেখা হবে।
দু তিনজন লোক ইন্দ্র বাবুকে ডাকতে এলে ইন্দ্র বাবু চলে গেলেন। বান্ধবীর কাছে জানলাম অনিমেষবাবু বড় ছেলের নাম বিলেশ্বর । তিনি সব সময় দোতলার ঘরে ঈশ্বরের ধ্যান জ্ঞান নিয়ে পড়ে থাকেন। তিনিও ইন্দ্র বাবুর মতো সুপুরুষ। আর ছোট ছেলেটা খুব শান্ত প্রকৃতির। দেখে কেউ বলবে না রজতবাবু ওই বাড়ির সন্তান। সব সময় লেখাপড়া আর মাস্টারি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তিনিও অবিবাহিত। ওদের বাড়ির মধ্যে কেউ কারো সঙ্গে সম্পর্ক নেই। সবাই সবার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বাড়ির সব কাজ ঝি, চাকর, রাধুনী এরা করে। ওরা কোটি কোটি টাকার মালিক।
একদিন গোপনে বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে অনিমেষ বাবুদের বাড়িটা দেখতে গেলাম। বিরাট বড়ো জায়গা নিয়ে আশেপাশে দু তিনটি তিন তলা বাড়ি। বাড়িতে অনেকগুলো ঘি- চাকর কাজ করছে। বাড়িতে কারো সঙ্গে সম্পর্ক তেমন থাকে না। সবাই সবার নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমি মনে মনে স্থির করলাম ইন্দ্র বাবু কে নয় ছোট ছেলে রজতকে বিয়ে করে ওই বাড়িতে আমাকে প্রবেশ করতে হবে। তাহলে আমি স্বর্গ সুখ লাভ করতে পারব । আমি এখন একটু শারীরিক সুখ বেশি ভালোবাসি। ও বাড়িতে বউ হয়ে গেলে আমার শারীরিক সুখের অভাব হবে না। বিয়ে করে ওই বাড়ির আমি সকলকে ঠিক ম্যানেজ করে নেব । তারপর ধীরে ধীরে গোপনে সকলের কাছে আমি শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করব। আর কোটি কোটি টাকার মালিক হবো। নিত্য নতুন যৌবনের স্বাদ অনুভব করব।
কিন্তু কিভাবে অনিমেষ বাবুর সঙ্গে আমার পরিচয় হবে? তার সঙ্গে কিভাবে আমার সম্পর্ক গড়ে উঠবে? এই নিয়ে চিন্তা করতে লাগলাম। বন্ধুবান্ধবকে এ কথা বলা যায় না। কারণ অনিমেষ বাবু আমার তুলনায় অনেক বয়সে বড়ো। ওদের বলতে গেলে আমাকে ঠাট্টা করবে। পরে ঘটনা ক্রমে জানতে পারলাম, আমাদের পাশের গ্রামে শ্রাবণ মাসে একটা পুজো হয়। ওই পূজায় অনিমেষবাবু সেখানে যান। সেই সুযোগ টা কাজে লাগালাম। অনিমেষ বাবুর সঙ্গে দেখার জন্য আমি ঐ গ্রামে বান্ধবীর বাড়ি পূজার সময় গেলাম।
দুপুরবেলা গ্রামের মধ্যেখানে এক জায়গায় পূজা দেওয়ায় জন্য সকল মানুষ জড়ো হয়। বান্ধবীর সঙ্গে আমি গ্রামের ঐখানে পূজা দেখতে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি অনেক মানুষের ভিড় জমেছে।। আমি এমনিতেই দেখতে সুন্দর। তার ওপর একটু বেশি সাজগোজ করেছি দেখে আমার বান্ধবী বলেই ফেলল -তোকে হয়তো কেউ মেলা থেকে তুলে নিয়ে যাবে। আমি মনে মনে বলি তোরা কি করে জানবি? আমি কার জন্য সেজেছি? পূজা তলায় অনেক লোকজন এসে হাজির হয়েছে। আরও লোকজন সব আসছে। আমার চোখ ঘুরতে ঘুরতে থামলো দূরে দাঁড়ানো বট গাছ তলায় এক সু পুরুষের দিকে। কপালে লাল তিলক। পরনে ধুতি পাঞ্জাবি। চোখে কালো সানগ্লাস। গলায় ঝুলছে একটা লাল- সাদা রঙের তোয়ালি। ওই মানুষটির দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবছিলাম উনি হয়তো অনিমেষবাবু। আমি চোখ ফেরাতে পারছিলাম না। এমন সময় সানগ্লাসটা চোখ থেকে খুলতেই তার চোখে চোখ পড়ে গেল। আমি চোখটা নামিয়ে অন্য দিকে তাকালাম। কিছুক্ষণ পর দেখি তিনি আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। চোখের পলক পরছে না। উনার পাশে কিছুজন সঙ্গী সাথী রয়েছেন । তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আমার দিকে তাকাছেন। বান্ধবীর সাথে কথা বলতে বলতে আমিও ওনার দিকে তাকতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পর উনি সানগ্লাসটা বুকের মধ্যে গুঁজে নিয়ে আমার দিকে সব সময় তাকিয়ে রইলেন। ওই সুযোগে আমি ওনাকে মিষ্টি হাসি দিতে লাগলাম। আমার হাসির ছোঁয়া পেয়ে কেমন যেন হয়ে গেলেন। আমি ওনার ওই অবস্থা দেখে আবার ও বারবার মিষ্টি হাসি দিতে লাগলাম। এই অবস্থায় আমার বান্ধবীর চোখে আমি পড়ে গেলাম। আমার বান্ধবী আমাকে ধমক দিয়ে বলল - এ কি করছিস? জানিস উনি কে? ওই লোকটি হলেন পাশের গ্রামে অনিমেষ বাবু। খুব ভয়ংকর মানুষ। ওনার সঙ্গে কথা বলতে অনেকে ভয় খায়। আমাদের গ্রামের সবাই উনাকে খুব সম্মান করে। আর তুই কি করছিস উনার সঙ্গে?
আমি হেসে বললাম - ভালো লাগছে তাই দেখছি। কেমন সুন্দর চেহারা বল?
আমার বান্ধবী রেগে বলল- চল, বাড়ি চল।তোকে এখানে থাকতে হবে না। তোকে আর পূজা দেখতে হবে না।
আমি বললাম- এত ব্যস্ত হচ্ছিস কেন? এমন সুন্দর মানুষটাকে একবার চোখের দেখা দেখতে দে।
আমার বান্ধবী আমাকে টানতে টানতে ভিড়ের বাইরে নিয়ে এলো বলল - প্রেম তো খুব করছিস। মিষ্টি মিষ্টি হাসি তো খুব দিচ্ছিস। তোকে যদি ভালোবেসে ফেলে বিয়ে করতে চায়? তখন কি করবি? তুই জানিস উনার বউ এক বছর হল মারা গেছে।
আমি মিষ্টি হাসি দিয়ে বান্ধবীকে বললাম - আমার সে ভাগ্য কি হবে ?
বান্ধবীটি অবাক হয়ে বলল- বলিস কিরে ? তুই অনিমেষ বাবুকে বিয়ে করবি? তুই ওকে সামলাতে পারবি?
আমি হেসে বললাম - মেয়ে হয়ে যখন জন্ম নিয়েছি, তখন তো সে দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। সামলাতে না পারলে মারা যাব। মেয়ে হয়ে জন্মে যদি পুরুষকে একটু সুখ না দিতে পারলাম তাহলে সে জীবন রেখে লাভ কি?এমন মানুষকে পেলে কি ছাড়া যায়?
এমন সময় একজন লোক এসে আমার বান্ধবীকে বলল- -তোমাকে অনিমেষ বাবু ডাকছেন।
আমার বান্ধবীটি খুব ভয় পেয়ে গেল। আমাকে বলল- হয়েছে তো ? আশা মিটেছে তো? এবার দেখ কি হয় ।
আমি হেসেই বললাম - কিছু হবে না। তুই গিয়ে দেখা কর ।
বান্ধবী বলল- আমার খুব ভয় করছে।
আমি মিষ্টি হাসিদিয়ে বললাম - কোন ভয় নেই। উনি আমার কথা জিজ্ঞাসা করবেন। তুই গিয়ে সরাসরি বলে দিবি,আমার উনাকে খুব পছন্দ। উনি চাইলে আজকেই আমি বিয়ে করতে পারেন।।
বান্ধবী আমার প্রতি রেগে বলে -যতসব । চল তোকে বাড়ি গিয়ে আমি বিষ খাওয়াবো।
আমি আবার বললাম - তোর কোন ভয় নেই । আমি তো রাজি আছি।
বান্ধবীটি লোকটির সঙ্গে অনিমেষবাবুর কাছে গেল। আমি দূর থেকে দেখতে লাগলাম। অনিমেষ বাবু আমার দিকে তাকাতে তাকাতে আমার বান্ধবীকে কি যেন বলছেন। আমার বান্ধবীটি মাথা নত করে ভয়ে ভয়ে শুনছে।
কিছুক্ষণ পর বান্ধবী তাড়াতাড়ি ফিরে এসে আমার হাত ধরে বলল- এক্ষুনি বাড়ি চল।
আমি বললাম- কেন? কি হয়েছে?
বান্ধবী খুব নার্ভাস হয়ে বল- অনিমেষ বাবু আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুই আমাদের বাড়িতে এসেছিস কিনা? আমি বললাম হ্যাঁ । তারপর উনি বললেন, সন্ধ্যা ৭ টার সময় তোদের বাড়ি যাবো। মেয়েটাকে থাকতে বলবি।
আমি ভীষণ খুশি হয়ে বললাম --থ্যাঙ্ক ইউ ! ভালো খবর দেওয়ার জন্য তোকে অনেক ধন্যবাদ। মনে হচ্ছে তোদের গ্রামে পুজো দেখতে এসে জীবনটা ধন্য হলো।
বান্ধবী বলল- ৭টার পর বুঝতে পারবি। তোর কি হবে। তখন দেখবি জীবনটা ধন্য হলো না ধ্বংস হল।
আমি হেসে বললাম -কিছু চিন্তা করিস না। আমি সব ঠিক করে নেব ।
