আমাদের আলংকারিক শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন || শব্দের ত্রিবিধ কথাগুলি আলোচনা কর || বাংলা ভাষার বিজ্ঞান || দশম শ্রেণি
![]() |
প্রশ্ন : তাতে পাঠাকের অসুবিধা হয়। ---- কীসে পাঠকের অসুবিধা হয়? অসুবিধা দূর করার জন্য কী কী করা প্রয়োজন?
উত্তর > পাঠকের অসুবিধা: প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসুর মতে, বাংলায় বৈজ্ঞানিক সাহিত্য রচনায় পরিভাষার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। যথার্থ পরিভাষা ভাষাকে সর্বাঙ্গসুন্দর করে। পরিভাষা ছাড়া কোনো রচনায় বিষয়ের বর্ণনায় বারবার একই কথা লিখে আলোচনা দীর্ঘায়িত করতে হয়। অবান্তর বর্ণনা পাঠকমনে অসুবিধা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
| অনেক লেখকের মতে, পারিভাষিক শব্দ কম ব্যবহার করে বা সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে রচনাকে সহজতর করা যায়। কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়, পরিভাষা বর্জন কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্ভব হলেও সর্বত্র তা অনুচিত। কারণ, আমেরুদণ্ডী বুঝাতে যেসব জন্তুর শিরদাঁড়া নেই লেখা গেলেও আলোক তরঙ্গ বোঝাতে আলোর কাঁপন বা নাচন লিখলে ব্যাপারটা কিছুমাত্র সহজ হয় না। তাই যথার্থ পরিভাষার ব্যবহারেই পাঠকের অসুবিধা দূর করা সম্ভব। পরিভাষা-লেখার ভাষাকে যেমন সংক্ষিপ্ত করে, তেমনই অর্থকে সুনির্দিষ্ট করে। সুতরাং পরিভাষ সম্পূর্ণ বর্জনের পরিবর্তে, বৈজ্ঞানিক রচনাগুলিতে ছয় পরিচিত বা অপরিচিত পরিভাষার সঙ্গে তার ব্যাখ্যা ও ইংরেজি নাম দেওয়া চলতে পারে। পরবর্তীকালে বিষয়টি পরিচিত হয়ে যাওয়ার পর শুধু বাংলা পরিভাষাটি দিলেই কাজ চলবে।
প্রশ্ন : আমাদের আলংকারিক শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন—শব্দের ত্রিবিধ কথাগুলি আলোচনা করো।
অথবা, "আলংকারিকগণ শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন- এগুলি কি কি উদাহরণ সহযোগে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর> শব্দের ত্রিবিধ কথা- মানবশরীরের শোভাবর্ধনকারী গহনাকে অলংকার বলে। সাহিত্যের অঙ্গ হিসেবে শব্দ ও অর্থের শোভাবর্ধনকার বিষয়গুলিকে অলংকার বলে।
অভিধা : ভারতীয় অলংকারীদের মধ্যে শব্দের শক্তিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।অভিধা, লক্ষণা ও ব্যঞ্জনা। 'অভিধা' শব্দের অর্থ নাম বা সংজ্ঞা এবং একটি শব্দের প্রথম শক্তি। যার সাহায্যে শব্দের মুখ্য অর্থের জ্ঞান হয়। এক কথায় শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো 'অভিধা। যেমন অরণ্য শব্দের অর্থ বন, জঙ্গল ইত্যাদি।
লক্ষণা : শব্দের দ্বিতীয় শক্তি 'লক্ষণা' ব্যবহৃত হয় যখন শব্দের মূল অর্থ বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন। যেমন, 'দেশের লজ্জা' বলতে 'দেশ' অর্থাৎ ভারত, চিন, জাপানের লজ্জা নয়, সেখানকার জনগণের অর্থাৎ দেশবাসীর লজ্জা বোঝায়।
লক্ষণা: 'অভিধা' বা 'লক্ষণা'-র দ্বারা যখন বক্তার মনোভাব পরিস্ফুট না-হয়, তখন অর্থ বোঝানোর জন্য 'ব্যঞ্জনা' প্রযুক্ত হয়। যেমন, 'অরণ্যে রোদন' শব্দটির অর্থ 'বনে কান্না' নয়; ব্যঞ্জনার্থে শব্দটির অর্থ হল 'নিষ্ফল খেদ'।
প্রাবন্ধিকের মন্তব্য: প্রাবন্ধিকের মতে শব্দ ও পরিভাষা বিষয়ের আলোচনায় আলংকারিকদের ত্রিবিধ অর্থ প্রকাশনা সূত্রের কথা মাথায় রাখতে হবে।
‘অভিধা’, ‘লক্ষণা' ও 'ব্যঞ্জনা' বিষয়ে অস্পষ্ট ধারণার কারণে বিজ্ঞান-বিষয়ক প্রবন্ধের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট হয়ে যায়। তাই অলংকারের পরিবর্তে পরিভাষার প্রয়োগ যুক্তিযুক্ত।
