বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' শীর্ষক প্রবন্ধটিতে পরিভাষা রচনা প্রসঙ্গে লেখক যে-বক্তব্য প্রকাশ করেছেন তা আলোচনা করো।
![]() |
প্রশ্ন: 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' শীর্ষক প্রবন্ধটিতে পরিভাষা রচনা প্রসঙ্গে লেখক যে-বক্তব্য প্রকাশ করেছেন তা আলোচনা করো।
অথবা, ‘অনেকে মনে করেন পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করলে রচনা সহজ হয়।-মতটির যাথার্থ্য বিচার করো।
উত্তর > 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' রচনায় রাজশেখর বসু বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার বিভিন্ন সমস্যা বিষয়ে আলোকপাত করে সেগুলি অতিক্রম করার বিষয়ে সচেষ্ট হয়েছেন।
পারিভাষিক শব্দের অভাব ও সমাধান : বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার বিভিন্ন বাধার মধ্যে একটি হল পারিভাষিক শব্দের অভাব। অনেক সময়েই কোনো ইংরেজি শব্দের উপযুক্ত বাংলা শব্দ পাওয়া যায় না। এই সমস্যা দূর করার জন্য; যতদিন না যথাযথ বাংলা শব্দ রচিত হচ্ছে, ততদিন ইংরেজি শব্দ বাংলা বানানে ব্যবহার করাই যুক্তিসংগত।
অনেকের ধারণ: অনেকে আবার মনে করেন পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করলে রচনা সহজ হয়। তবে এ ধারণা সম্পূর্ণ ঠিক নয়।
যেমন, অমেরুদণ্ডীর বদলে হয়তো যেসব জন্তুর শিরদাঁড়া নেই লেখা যায়; কিন্তু 'আলোকতরঙ্গ'-র বদলে আলোর কাঁপন বা নাচন লিখলে প্রাসঙ্গিক অর্থ পরিস্ফুট হয় না।
প্রাবন্ধিকের সিদ্ধান্ত : পরিভাষার উদ্দেশ্যই হল ভাষার সংক্ষেপ এবং সুনির্দিষ্ট অর্থের প্রকাশ তাই পরিভাষা বাদ দিলে একই কথার পুনরাবৃত্তির ফলে বক্তব্য অনর্থক দীর্ঘ এবং অস্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ লেখার সময় অল্পপরিচিত পারিভাষিক শব্দ প্রথমবার প্রয়োগের সময়, তার ইংরেজি নামসহ ব্যাখ্যা দেওয়া আবশ্যক। যদিও পরে প্রচলিত হয়ে গেলে, শুধু বাংলা পারিভাষিক শব্দটি ব্যবহার করলেই চলে।
