মিষ্টি কথার চোরাস্রোত পর্ব ৭ ধারাবাহিক চটি গল্প
![]() |
মিষ্টি কথার চোরাস্রোত
পর্ব ৭
খাট থেকে আমাকে টেনে সোফায় নিয়ে গেলেন। তারপর কখনো চেয়ারে, কখনো টেবিলে। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন আসনে আমাকে সুখ দিতে লাগলেন । আমি শুধু আরাম আর আরাম। সুখ আর সুখ পেলাম। যখন তিনি ক্লান্ত হলেন তখন সূর্য ডুবে গেছো। ক্লান্ত হয়ে তার উপর আমার উপর শুয়ে নিঃশ্বাস ছাড়লেন।
আমি বললাম- বাপরে বাপ! এতক্ষণ লাগে? এবার আমাকে ছেড়ে দিন । এতক্ষণ আপনার ছেলে বাড়ি চলে এসেছে। আমাকে অনেক কৈফিয়ৎ চাইবে। ওনার কাছ থেকে মুক্ত হয়ে তাড়াতাড়ি বাথরুমে গিয়ে পরিষ্কার হয়ে পোশাক পড়ে নিলাম। তারপর আমার শ্বশুরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঘরের বাইরে এলাম । ফোনটা সুইচ অফ ছিল। বারান্দা থেকে দেখতে পেলাম আমাদের ঘরের লাইট জ্বলছে । বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফোনটাকে আছার মেরে ভেঙে ফেললাম। ওই ভাঙ্গা ফোনটা হাতে নিয়ে তাড়াতাড়ি নীচে নেমে এলাম। নীচে নেমে দেখি রজত চলে এসেছে।
আমি বললাম- কখন এলে?
রজত বললো- কিছুক্ষণ আগে, তুমি কোথায় গিয়েছিলে?- তোমার বাবার কাছে।
-তোমার ফোনে সুইচ অফ করা কেন?
আমি অভিনয় করে ভাঙ্গা ফোনটাকে দেখিয়ে বললাম- র দেখো ফোনটার কি অবস্থা হয়েছে। মাকে একটা ফোন করার দরকার ছিল। তাই তোমার বাবার কাছে গিয়ে ফোনটা করতে পারলাম।
রজত ফোনটা দেখে বলল - কেমন করে হল?
- রান্না করছিলাম । ফোন টা পাশেই ছিল। আচমকা উপর থেকে পড়ে গেল।
- তাতেই তোমাকে ফোনে পাচ্ছিলাম না। ঠিক আছে কালকে একটা নতুন ফোন কিনে দেবো। এত দেরি হল কেন? খুব চিন্তা হচ্ছিল।
- চিন্তা কবার কোন কারণ নেই। যদি কোনদিন এসে দেখো আমি ঘরে নেই তখন নিশ্চয়ই জানবে কোন একটা দরকারি কাজে তোমার বাবার কাছেই গেছি। কাজ মিটে গেলে ঠিক চলে আসব। আজ তাড়াতাড়ি চলেই আসছিলাম। তোমার বাবা কাকে যেন ফোন করে দিঘা বেড়াতে যাওয়ার কথা বলছিল। কথা আর শেষ হয় না। তাই একটু দেরি হলো। তুমি কি অন্যরকম কিছু ভাবছো?
- না সেরকম কিছু না। যদি কিছু ভাবো তাহলে আর যাব না।
- না, আমি সে কথা বলছি না। তোমার যখন মন হবে তখন তুমি যাবে।
- তাহলে ঠিক আছে ।
আমি অভিনয় শুরু করে বললাম-তোমার বাবার বেড়াতে যাবার খুব শখ।
রজত বলল - ঠিক বলেছো । বাবার বেড়ানো খুব শখ। অনেক জায়গা বেরিয়ে এসেছেন।
আমি আদর করে বললাম- তুমি তো আমাকে বিয়ে করে কোথাও নিয়ে গেলে না। তোমার বাবা যদি আমাকে সঙ্গে করে দীঘা নিয়ে যেত তাহলে একটু হাওয়া বদল করে আসতে পারতাম।
-তুমি তো বাবাকে দিঘা যাওয়ার কথা বলতেই পারতে।
- দূর ! আমি কি করে বলতে পারি? তোমার পারমিশন চাইনা? তুমি যদি তোমার বাবাকে বলে দাও তাহলে ভালো হয়।
- ঠিক আছে। আমি বলে দেবো।
আমি মনে মনে খুশি হয়ে হয়ে বললাম -তাহলে আজকেই বলতে হবে। কারণ তোমার বাবা তো সকালে কাল চলে যাবে। আর সামনে সোমবার মনে হয় দিঘা যাওয়ার ডেট ঠিক হয়ে গেছে। হাতে মাত্র দুদিন টাইম। তুমি বললে নিশ্চয়ই উনি রাজি হবেন।
-ঠিক আছে তাই হবে।
- আমি না থাকলে তোমার কোনো অসুবিধা হবে নাতো? যদি হয় তাহলে আমি যাব না।
- দু-একদিন আমি ম্যানেজ করে নেব।
আমি বললাম যদি দু একদিন না হয়ে যদি একমাস হয় বা দু মাস হয়?
-সেটা একটু অসুবিধা হবে।
হেসে বললাম- ম্যানেজ করে নেবে। তোমার বাবাকে বলবে অন্তত এক মাসের জন্য আমাকে যেন দিঘার বেরিয়ে নিয়ে আসে। তুমি তো জানো আমি খুব ঠাকুর ভক্ত। শুনেছি দীঘায় অনেক মন্দির আছে । সেগুলোতে পুজো দিতে হবে? একটা শুভ বার তিথি দেখে তো পুজো দেবো। সেই জন্যই এক মাস থাকবো বলছি।
- ঠিক আছে। বাবাকে বলব একমাসের জন্য ঘুরিয়ে আনতে।
-তাহলে চলো এক্ষুনি যাওয়া যাক। যদি পারমিশন ok হয়ে যায় তাহলে আজ তোমাকে রাত্রে খুব ভালো করে করতে দেবো। তুমি তোমার মনের মতো করে আমাকে করবে। খুশি তো? চলো।
আমি রজতকে সঙ্গে নিয়ে শশুরের ঘরের দিকে যাত্রা করলাম। দরজায় চাপ দিতেই দরজা খুলে গেল। দেখি শশুর একটা বারমুন্ডা পড়ে একটা সাদা গেঞ্জি গায়ে বই পড়াশোনা করছিলেন।
আমাদের দেখে বলল- এস । বসো ওখানে ।
আমি রজতকে ইশারা করতেই রজত বলল - বাবা আপনারা দীঘা যাচ্ছেন শুনলাম।
শ্বশুরমশাই বই বন্ধ করে মাথা তুলে তাকালেন। বললেন- হ্যাঁ। সেই রকমই একটা ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমি ওনার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলাম।
রজত বলল - আপনার বৌমা কে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া যাবে? ওর দিঘা যাওয়ার খুব শখ। আপনার বৌমাকে দুদিন কার জন্য যদি দীঘা নিয়ে যান তাহলে খুব ভালো হয়।
আমি বললাম -দুদিনে হবে না। অন্তত এক মাস।
যাতে রজত সন্দেহ না করে তার জন্য তিনি বললেন- এক মাস থাকলে হবে? যদি এক মাস থাকতে হয় তাহলে রজত কে নিয়ে যাও।
আমি বললাম -ওর ইস্কুল আছে। তারপর ছাত্রদের পরীক্ষা আছে। ছাত্রদের ক্ষতি হবে। তাছাড়া আপনারা যখন যাচ্ছেন তখন ওর যাওয়ার কি প্রয়োজন ? আমি আপনার সঙ্গে সামনে সোমবারেই যেতে চাই।
বললেন- ঠিক আছে চেষ্টা করব।
- চেষ্টা করলে হবে না। নিয়ে যেতেই হবে । রজতকে উদ্দেশ্য করে বললাম -তুমি তোমার বাবাকে ভালো করে বলে দাও। আমাকে যেন সামনে সোমবার দিঘা নিয়ে যায়।
রজত আমার কথা শুনে সুবোধ বালকের মত বলল - আপনার বৌমা যখন আপনার সঙ্গে যেতে চাইছে আপনি ওকে নিয়ে যান। এক মাসের জন্য হাওয়াবদল করে নিয়ে আসুন।
- ঠিক আছে। নিয়ে যাবো।
আমি মনে মনে ভীষণ খুশি হলাম। অনিমেষবাবুর চোখে চোখ রেখে মিষ্টি হাসি দিলাম । এই সুযোগে উনি আমাকে ইশারা করলেন একবার করতে দেয়ার জন্য। আমি মিষ্টি হাসি দিয়ে বোঝালাম আমি রাজি আছি। একটু অপেক্ষা করুন।
আমি রজতকে বললাম- আমাদের হাতে সময় নেই। আমাকে রেডি হতে হবে। আমি আমার মায়ের সঙ্গে তোমার বাবার ফোন থেকে কথা বলে কাল কে আসতে বলি । আমার ফোনটা তো খারাপ তুমি জানো।
রজত বলল- ঠিক আছে। তুমি কথা বলে নীচে এসো। আমি নিচে যাচ্ছি।
- বেশ! তুমি নিচে বিশ্রাম নাও। আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই যাচ্ছি।
রজত চলে যেতেই আমি বারান্দাটা ভালো করে দেখে এসে ঘরের দরজা বন্ধ করে শ্বশুর মশাইয়ের কাছে ধরা দিয়ে বললাম- বাপরে বাপ! কি জ্বালা? ! আবার করতে মন হচ্ছে আমাকে! এইতো কিছুক্ষণ আগেই হল। এর মধ্যে আবার চাই ? আমাকে দেখলেই করতে মন হয় বুঝি ? কি মানুষ রে বাবা! তাড়াতাড়ি নিন। আমি এখন আমার শ্বশুরমশাইয়ের জন্য রেডি।
আমাকে চুম্বন করে আমার শ্বশুর বলল - আজকের সারারাত তোমাকে চাই ।
আমি মেজাজ নিয়ে বললাম-বাপরে বাপ! আমাকে জ্বালিয়ে মারে । সোমবার থেকে তো সারাদিন রাত আপনার কাছেই থাকব । দুটো দিন কষ্ট সহ্য হচ্ছে না? তাছাড়া রজত জানতে পারলে ওখানে যাওয়াটা বাতিল হয়ে যাবে। তাড়াতাড়ি একবার নিয়ে আমাকে মুক্তি দিন। আমি কিন্তু ১৫ মিনিট সময় দেবো।
অনিমেষ বাবু আমাকে চুম্বন জিব্বা লেহন করতে করতে আমাকে বিছানায় ফেলে সুখ দিতে লাগলেন। কুড়ি মিনিট পর আমাকে মুক্তি দিলেন।
আমি আদর করে গলা ধরে চুম্বন করে বললাম- বাপরে বাপ! শেষ আর হয় না। এতক্ষণ লাগে ? আমার শ্বশুর তো নয় যেন দানব বলে চুম্বন করলাম । আজ আসছি। সোমবার দিন যেন সকাল সকাল চলে আসা হয়। বেলা চারটের পর বের হব।
-আর একবার হলে ভালো হতো।
আমি আদর করে ধমক দিয়ে বললাম- আজ আর কিছু হবে। এরপর গাড়িতে যেতে যেতে হবে । গাড়িটাতে সেরকম ব্যবস্থা করবেন । বিশ্বাসী ড্রাইভার নেবেন।
শ্বশুরমশাই বললেন - সব ঠিক ব্যবস্থা করে রাখবো। তুমি যেন বেশি বেশি জল খাবে।
আমি মিষ্টি হাসি দিয়ে শশুরের গাল দুটো টিপে দিয়ে বললাম - কেন গাড়ির ইঞ্জিনে তেল ভরতে হবে বুঝি?
আমাকে আদর করে বললেন - আমি যেটা বলছি সেটা করবে। সকাল থেকেই বেশি বেশি জল খাবে।
- খেতে হবে বৈকি। আমার প্রিয় শ্বশুরমশাই যখন বলছে তখন তো তার কথা শুনতেই হবে । আমার শ্বশুরমশাই যখন ইচ্ছা হয়েছে গাড়ির মধ্যে আমার গরম নোনতা নোনতা জল খেয়ে মস্তি করবে। তখন আমি সেটা বাধা দিতে পারি ? সেটা যাতে আমার শ্বশুরমশাই ইচ্ছা পূরণ হয় তার চেষ্টা করতেই হবে। তাহলে এবার আসি ?
-এসো।আমি ঘরের দরজা খুলে বাইরে এলাম। নিজের ঘরে এসে দেখি রজত টিভি দেখছে ।
আমাকে দেখে বলল -মায়ের সঙ্গে কথা হলো?
আমি বললাম -হ্যাঁ। রজত বুঝতেই পারলো না আমার মায়ের সঙ্গে কথা না বলে তার বাবার সঙ্গে কত মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে তার বাবাকে বাবাকে আমি কতটা সুখ দিয়ে এলাম।
সেদিনকার মত তাড়াতাড়ি খাওয়া-দাওয়া করে বিছানায় রজতকে ভালো করে আরাম দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। তারপরের দিনটা কোনমতে কাটিয়ে দিলাম। তারপরের একদিন ছিল সোমবার। সোমবার আসতেই আমার মনটা আনন্দে ভরে উঠলো শ্বশুরমশাই দশটার মধ্যে হাজির হলো আমাকে দীঘা নিয়ে যাব বলে। আমি তৈরি হয়েই ছিলাম । রজত স্কুল থেকে ফিরলে রজতকে রজত কে বিছানায় নিয়ে গিয়ে তার পাওনাটা দিয়ে বললাম -আর একবার যদি নিতে চায় নিয়ে নাও। এক মাস আমাকে পাবে না। জোরজবস্তি করে ও আর একবার নিল। তারপর স্নান করে নতুন বিয়ের কনে সেজে রজতের সঙ্গে বাড়ির মেন গেটের সামনে দাঁড়িয়ে কালো গাড়িটার দিকে পা বাড়ালাম ।
৮ পর্র দেখুন
