অনেকে মনে করেন পরিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করলে রচনা সহজ হয়। মদ থেকে তুমি কি সমর্থন করো? আলোচনা করে বুঝিয়ে দাও। বাংলা ভাষার বিজ্ঞান || দশম শ্রেণি - school book solver

Thursday, 27 August 2026

অনেকে মনে করেন পরিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করলে রচনা সহজ হয়। মদ থেকে তুমি কি সমর্থন করো? আলোচনা করে বুঝিয়ে দাও। বাংলা ভাষার বিজ্ঞান || দশম শ্রেণি

 



প্রশ্ন: 'এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। কোন্ ধারণা? লেখক কীভাবে প্রমাণ করেছেন যে, এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয় ?

অথবা, 'অনেকে মনে করেন পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করলে রচনা সহজ হয় :- মতটিকে তুমি কি সমর্থন কর? আলোচনা করে বুঝিয়ে দাও‌।

উত্তর> ধারণা:  অনেকে মনে করেন যে, বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক সাহিত্য লেখার সময় পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করলে রচনা সহজ হয়। লেখক রাজশেখর বসুর মতে, এই ধারণা বিভ্রান্তিকর।

লেখকের প্রমাণ: প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু মনে করেন যে, কোথাও কোথাও পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে কাজ চললেও সর্বত্র তা সম্ভব নয়। যেমন: 'আমেরুদণ্ডী' বোঝাতে লেখা যেতে পারে যেসব জন্তুর শিরদাঁড়া  নেই। কিন্তু 'আলোকতরঙ্গ' পরিবর্তে আলোর কাঁপন বা নাচন লেখা কখনোই বিজ্ঞানসম্মত নয়। এক্ষেত্রে কোনো বিষয় সম্পর্কে ভুল ধারণার সৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে বারবার কোনো বিষয়ের বর্ণনা ভাষার গতি যেমন শ্লথ করে, তেমনই তাকে স্থূল করে তোলে। তাই পরিভাষার ব্যবহার ভাষাকে সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট অর্থবিশিষ্ট করে। সাধারণ মানুষের বোঝার জন্য বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে প্রথমবার ব্যবহৃত কিংবা কম ব্যবহৃত পরিভাষার অর্থ ও প্রয়োগ দিয়ে দেওয়া উচিত। লেখার পরবর্তী অংশে কেবল

পরিভাষাটি দিলেই চলে। এভাবেই প্রাবন্ধিক বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধে যথার্থ পরিভাষা ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করেছেন।

প্রশ্ন : তাতে পাঠাকের অসুবিধা হয়। ---- কীসে পাঠকের অসুবিধা হয়? অসুবিধা দূর করার জন্য কী কী করা প্রয়োজন?

উত্তর >  পাঠকের অসুবিধা:  প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসুর মতে, বাংলায় বৈজ্ঞানিক সাহিত্য রচনায় পরিভাষার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। যথার্থ পরিভাষা ভাষাকে

সর্বাঙ্গসুন্দর করে। পরিভাষা ছাড়া কোনো রচনায় বিষয়ের বর্ণনায় বারবার একই কথা লিখে আলোচনা দীর্ঘায়িত করতে হয়। অবান্তর বর্ণনা পাঠকমনে অসুবিধা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।

| অনেক লেখকের মতে, পারিভাষিক শব্দ কম ব্যবহার করে বা সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে রচনাকে সহজতর করা যায়। কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়, পরিভাষা বর্জন কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্ভব হলেও সর্বত্র তা অনুচিত। কারণ, আমেরুদণ্ডী বুঝাতে যেসব জন্তুর শিরদাঁড়া নেই লেখা গেলেও আলোক তরঙ্গ বোঝাতে আলোর কাঁপন বা নাচন লিখলে ব্যাপারটা কিছুমাত্র সহজ হয় না। তাই যথার্থ পরিভাষার ব্যবহারেই পাঠকের অসুবিধা দূর করা সম্ভব। পরিভাষা-লেখার ভাষাকে যেমন সংক্ষিপ্ত করে, তেমনই অর্থকে সুনির্দিষ্ট করে। সুতরাং পরিভাষ সম্পূর্ণ বর্জনের পরিবর্তে, বৈজ্ঞানিক রচনাগুলিতে ছয় পরিচিত বা অপরিচিত পরিভাষার সঙ্গে তার ব্যাখ্যা ও ইংরেজি নাম দেওয়া চলতে পারে। পরবর্তীকালে বিষয়টি পরিচিত হয়ে যাওয়ার পর শুধু বাংলা পরিভাষাটি দিলেই কাজ চলবে।