বাংলা বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধাদিতে আর একটি দোষ প্রায় নজরে পড়ে। কোন দোষের কথা এখানে বলা হয়েছে? বিজ্ঞান বিষয়ক গল্প|| দশম শ্রেণী
![]() |
প্রশ্ন: ‘বাংলা বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধাদিতে আর একটি দোষ প্রায় নজরে পড়ে।–কোন্ দোষের কথা বলা হয়েছে? এই দোষ মুক্তির উপায় কী?
অথবা, 'এই রকম ভুল লেখা সাধারণ পাঠকের পক্ষে অনিষ্টকর/- কী ধরনের ভুল লেখার কথা লেখক উল্লেখ করেছেন। সেই ভুল সংশোধনের কোন উপায় তিনি নির্দেশ করেছেন লেখো।
উত্তর > দোষের পরিচয়: বাংলায় বিজ্ঞান-বিষয়ক প্রবন্ধরচনা করতে লেখকদের বহু ক্ষেত্রে ত্রুটিবিচ্যুতি লক্ষণীয়, যেমন—ভাষার আড়ষ্টতা, ইংরেজির আক্ষরিক অনুবাদ, পরিভাষা বর্জন, অতিরিক্ত অলংকারের ব্যবহার ইত্যাদি। প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু এসব কিছুকে ছাপিয়ে অপর একটি প্রচলিত ও হানিকর দোষের কথা উল্লেখ করেছেন। সেটি হল সঠিক তথ্য না-জেনে ভুল লেখা। এতে পাঠকদের জ্ঞান আহরণে ক্ষতি হয়। লেখক এ বিষয়ে একটি পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যাতে লেখা ছিল, 'অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন স্বাস্থ্যকর বলে বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই। তারা জীবের বেঁচে থাকবার পক্ষে অপরিহার্য অঙ্গ মাত্র। তবে ওজন গ্যাস স্বাস্থ্যকর।' এ ধরনের বিজ্ঞানগত ভুল পাঠকের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই এ দোষ থেকে মুক্ত হওয়ার কথাই প্রাবন্ধিক উক্ত প্রবন্ধে বলেছেন।
দোষ মুক্তির উপায়: প্রাবন্ধিক এই দোষ মুক্তির ব্যাপারে লেখক ও পত্রপত্রিকার সম্পাদকদের সচেতন হতে বলেছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক রচনায় ভুল তথ্য পরিবেশন একেবারেই. কাম্য নয়-এ বিষয়ে নজর রাখতে হবে। কোনো বিষয় সম্পর্কে গভীর ও যথার্থ জ্ঞান সংগৃহীত হওয়ার পরই এই ধরনের রচনায় মনোনিবেশ করা উচিত। পত্রিকা ও পুস্তক সম্পাদকদের উচিত কোনো অখ্যাত বা অনামি লেখকদের রচনা প্রকাশের আগে তাদের লেখাকে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দিয়ে যাচাই করে নেওয়া। এককথায়, বিজ্ঞান-বিষয়ক প্রবন্ধ রচনাকালে বিষয়ের ওপর স্পষ্ট ধারণা ও জ্ঞান থাকা উচিত।
