বাংলা ভাষার বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের পাঠকদের লেখক যে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন তাদের পরিচয় দাও - school book solver

Tuesday, 18 August 2026

বাংলা ভাষার বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের পাঠকদের লেখক যে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন তাদের পরিচয় দাও

 




প্রশ্ন: বাংলা ভাষার বিজ্ঞান-বিষয়ক গ্রন্থের পাঠকদের লেখক যে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন, তাদের পরিচয় দাও।

অথবা, 'তাদের মোটামুটি দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে। -কাদের দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। শ্রেণি দুটির পরিচয় দাও।

উত্তর:  প্রখ্যাত রসায়নবিদ ও প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু তাঁর ‘বাংলা ভাষায বিজ্ঞান' প্রবন্ধে বিজ্ঞান-বিষয়ক প্রবন্ধ বা গ্রন্থের পাঠকবর্গকে (বাংলাদেশে বা ভারতে) দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। যথা- (ক) প্রথম শ্রেণি : যারা ইংরেজি জানে না বা অতি অল্প জানে। (খ) দ্বিতীয় শ্রেণি : যারা ইংরেজি জানে ও ইংরেজি ভাষায় কমবেশি বিজ্ঞান পাঠ করেছে।

|| প্রথম শ্রেণির পরিচয়: প্রথম শ্রেণিভূক্ত পাঠকেরা হয় ইংরেজি জানে না, অথবা অতি অল্প ইংরেজি জানে। এই দলে পড়ে অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়েরা এবং অল্পশিক্ষিত বয়স্ক লোকেরা। এদের বিজ্ঞানের সঙ্গে পূর্বপরিচয় থাকে না। কিছু ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ তারা জানে, যেমন টাইফয়েড, মোটর,জেব্রা, আয়োডিন ইত্যাদি। অনেক স্থূল তথ্যও তাদের জানা থাকতে পারে। যেমন, জল আর কর্পূর উবে যায়, পিতলের চেয়ে অ্যালুমিনিয়াম হালকা ইত্যাদি। কিন্তু সুসংগঠিত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান তাদের নেই।

ইংরেজি ভাষার প্রভাবমুক্ত হওয়ায় এদের পক্ষে বাংলায় বিজ্ঞানপাঠ সহজতর হয়।

দ্বিতীয় শ্রেণির পরিচয়: দ্বিতীয় শ্রেণিভুক্ত পাঠক হল যারা ইংরেজি জানে এবং ইংরেজিতে কমবেশ।বিজ্ঞানপাঠ করেছে। এই ধরনের পাঠকের পক্ষে বাংলায় লেখা বিজ্ঞান পড়া ও আয়ত্ত করা একটু কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। কারণ বাংলা ভাষায় লেখা বিজ্ঞান রচনা পড়ার সময় তাকে ইংরেজির প্রতি পক্ষপাতিত্ব বর্জন করে মাতৃভাষার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করতে হবে।