অদল বদল' গল্পে অমৃত চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। দশম শ্রেণীর বাংলা
![]() |
প্রশ্ন : “অদল বদল' গল্পে অমৃত চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। দশম শ্রেণীর বাংলা
উত্তর > পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল' গল্পের একটি অন্যতম চরিত্র অমৃত। গল্পকার চরিত্রটিকে আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে, সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার চরিত্রের বিশেষ কয়েকটি দিক হল-
> ছেলেমানুষ : গল্পের শুরুতে গরিব ঘরের এই ছেলেটিকে জেদি, একগুঁয়ে ও অবুঝ প্রকৃতির মনে হয়। যেভাবে নতুন জামা পাওয়ার জন্য বাড়িতে সে উৎপীড়ন চালিয়েছে তা দেখে পাঠকের খারাপ লাগতেই পারে, কিন্তু যেহেতু সে ছেলেমানুষ তাই চরিত্রটি অস্বাভাবিক লাগেনি বরং খুব চেনাই লেগেছে।
বাবা-মাকে মানসিকভাবে উৎপীড়ন করে সে যে জামা আদায় করে তা কিন্তু বন্ধু ইসাবের জামা দেখেই। কিন্তু গল্প যত এগিয়েছে পাঠকের কাছে ধীরে ধীরে অমৃতর স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে।
সাবধানী : নতুন জামা আদায়ের পর অমৃত অত্যন্ত সাবধান হয়ে গিয়েছিল, কানোভাবেই সেটা যাতে ময়লা না-হয় এবং ছিঁড়ে না-যায়; কেন-না তার মা তাকে তেমনই নির্দেশ দিয়েছেন।
ভীরু স্বভাব : অমৃত ছিল একটু ভীরু স্বভাবের। বাবা-মায়ের মারের ভয় তো তার মনে ছিলই, উপরন্তু ইসাবের ল্যাং খেয়ে কালিয়া যখন চিৎকার করতে থাকে, তখন কালিয়ার বাবা-মা তাকে পেটাতে পারে, এই ভেবে অন্যান্যদের মতো সেও পালিয়ে যায়।
-বন্ধুবৎসল : অমৃতকে নতুন করে পাই, যখন কালিয়ার সঙ্গে তার হয়ে লড়াই করতে গিয়ে ইসাবের জামা ছিঁড়ে গেলে বাবার হাতের মার খাওয়া থেকে বাঁচাতে ইসাবকে নিজের জামাটি সে দিয়ে দেয়।
সহানুভূতিশীল : অমৃত বুঝেছিল বাবার হাত থেকে তাকে বাঁচানোর আছে কিন্তু ইসাবের কেউ নেই। অমৃতর চরিত্রে মাতৃভক্তি, বন্ধুপ্রীতি ও ঔদার্যের পরিচয় পাওয়া যায়। গল্পের মুখ্য উপজীব্য যে-বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠাতে অমৃতর ভূমিকা যথেষ্ট। সে শুধু জামা অদলবদল ঘটায়নি সমগ্র সমাজের মানসিকতার বদল ঘটিয়েছিল।
এইভাবে অমৃত চরিত্রটি গল্পকারের লেখনীতে একটি বিশেষ মাত্রা পেয়েছে।
