'হঠাৎ অমৃতের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল।—অমৃত কে? তার মাথায় হঠাৎ খেলে যাওয়া বুদ্ধি দুই বন্ধুকে কীভাবে বাঁচিয়েছিল? অদলবদল গল্প দশম শ্রেণী
![]() |
প্রশ্ন: 'হঠাৎ অমৃতের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল।—অমৃত কে? তার মাথায় হঠাৎ খেলে যাওয়া বুদ্ধি দুই বন্ধুকে কীভাবে বাঁচিয়েছিল?
অথবা, 'অমৃত ও ইসাবের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার গল্প শুনে তাঁদেরও বুক ভরে গেল।-এমন বলার কারণ আলোচনা করো।
উত্তর> পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র হল অমৃত।
॥ অমৃত ও ইসাব দুই অভিন্নহৃদয় বন্ধু। তারা একই স্কুলে একই ক্লাসে পড়ে। রাস্তার মোড়ে মুখোমুখি বাড়িতে থাকে। কিন্তু এসব বাইরের মিল ছাড়াও তাদের বন্ধুত্ব আর বিশ্বাসের শিকড় এতটাই গভীর ছিল, তারা একে অন্যের বিপদকে নিজের বলে মনে করেছে। হোলির দিন বিকেলে তারা দুজনে দুটি একইরকম দেখতে নতুন জমা পরে বেরোয়। এই দৃশ্য দেখে পাড়ার একদল দুষ্টু ছেলে বদ ফন্দি আঁটে। উভয়ের জামা নষ্ট করার মতলবে কালিয়া নামে তাদের মধ্যে একজন অমৃতকে খোলা মাঠে ফেলে দেয়। বন্ধু অমৃতর এরূপ পরিস্থিতির প্রতিবাদে ইসাব কালিয়ার সঙ্গে মারপিটে জড়িয়ে পড়ে।
ধস্তাধস্তির ফলে ইসাবের জামাটি ছিঁড়ে যায়। ‘রণভূমি' ত্যাগ করার পর দুজনেই টের পায় নতুন জামা ছেঁড়ার অপরাধে আজ কপালে তাকে বাবার মারের হাত থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না; কারণ মাতৃহারা ইসাবের বাবা ছাড়া কেউ নেই। তাই বন্ধুকে মারের হাত থেকে রক্ষা করতে অমৃত তাকে নিজের অক্ষত জামাটি দিয়ে দেয়। ইসাব ইতস্তত করলেও নিরুপায় হয়ে রাজি হয়। বাড়ি ফেরার পরে অমৃতের মা জামা দেখে ভ্রু কুঁচকালেও; হোলির দিন বলে মাফ করে জামাটি রিফু করে দেন। এভাবেই উভয়ে বাঁচলেও ইসাবের বাবা সমস্ত ঘটনাটি দেখে ফেলেন। দুই বন্ধুর ভালোবাসা, নির্ভরতা ও ত্যাগের গল্প ক্রমে হাসানের মুখ থেকে পাড়াপড়শি মায়েরাও জেনে ফেলে। সকলেরই ছোট ছেলে দুটির কাণ্ড দেখে গর্বে, আনন্দে বুক ভরে ওঠে।
