আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।-কে, কাকে শিখিয়েছে? ‘খাঁটি জিনিস' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? দশম শ্রেণীর বাংলা - school book solver

Tuesday, 28 July 2026

আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।-কে, কাকে শিখিয়েছে? ‘খাঁটি জিনিস' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? দশম শ্রেণীর বাংলা

 



প্রশ্ন >  'ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।-কে, কাকে শিখিয়েছে? ‘খাঁটি জিনিস' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?


উত্তর > পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল' গল্পে দশ বছরের বালক অমৃত তার অভিন্নহৃদয়ের বন্ধু ইসাবের পিতা পাঠানকে ‘খাঁটি জিনিস’ কাকে বলে তাৎৎশিখিয়েছে।

■ আলোচ্য গল্পে দুটি খাঁটি জিনিসের পরিচয় আমরা পাই; একটি হল মায়ের স্নেহ ও ভালোবাসা, যা ক্ষেত্রবিশেষে পিতার কাছে সর্বদা মেলে না। আর অন্যটি হল নিখাদ বন্ধুত্ব, যেটি অভিন্নহৃদয়ের দুই বন্ধু অমৃত ও ইসাবের মধ্যেৎদেখা গিয়েছিল। অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের শিকড় যে কত গভীর তা বোঝা যায় তখন, যখন অমৃত কালিয়ার হাতে মার খেয়ে পড়ে গেলে ইসাব ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে এবং অমৃতকে বাঁচাতে গিয়ে মারপিটে জড়িয়ে পড়ে সে তার জামা ছিঁড়ে ফেলে। অমৃত ইসাবকে বাঁচাতে তার ভালো জামাটা ইসাবকে দিয়ে দেয়। ইসাব প্রশ্ন তোলে অমৃতকেও তো মার খেতে হতে পারে। অমৃত তখন জানায় তাকে রক্ষার জন্য তার মা আছেন কিন্তু ইসাবের তো মা নেই ৷ আড়াল থেকে শোনা অমৃতের কথাগুলি ইসাবের বাবাকে ভাবিয়ে তুলেছিল। তিনি বুঝেছিলেন মাতৃহারা সন্তানের পিতাকে শুধু পিতা নয় মা-ও হয়ে উঠতে হবে। এ ছাড়া দুই বন্ধুর বন্ধুত্বের গভীরতা ইসাবের বাবার মনের পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

প্রশ্ন> আজ থেকে আমরা অমৃতকে অদল আর ইসাবকে বদল বলে ডাকব।'—বক্তা কে? তাঁর এই উক্তির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

অথবা, 'অমৃত-ইসাব অদল-বদল, অদল-বদল।—কীভাবে এই আওয়াজ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল?

উত্তর > প্রশ্নোদ্ধত উক্তিটির বক্তা অমৃত এবং ইসাবের গ্রামের গ্রামপ্রধান। পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্পে দুটি ছোট্ট ছেলের পারস্পরিক ভালোবাসা ও বন্ধুপ্রীতির ঘটনাটি মানবিক আবেদনের এক আশ্চর্য ব্যঞ্জনা ফুটিয়ে তুলেছে। অমৃত আর ইসাব শুধু দুজন বন্ধুমাত্র নয়, তারা পরস্পরের পরিপূরক। তাই ইসাব নতুন জামা পেলে অমৃতও তার বাবা-মাকে নতুন মা কিনে দিতে বাধ্য করে। আবার দুষ্টু কালিয়ার হাতে বন্ধু অমৃতকে অপদস্থ হতে দেখে ইসাব কালিয়াকে ল্যাং মেরে ফেলে দেয়। এই সময়েই ঘটনাচক্রে ইসাবের নতুন জামাটি ছিঁড়ে যায়। উভয়েই বিপদে পড়ে। অমৃত উপলব্ধি করে বাড়িতে বাবার মারের হাত থেকে তাকে তার মা বাঁচালেও, মাতৃহীন ইসাবকে বাঁচানোর কেউ নেই। সে নিজের অক্ষত জামাটি ইসাবকে দিয়ে দেয়।

ইসাবের বাবা এসময়ে উপস্থিত থাকায়, পারস্পরিক ভালোবাসার এমন আশ্চর্য কাহিনি তার মুখ থেকে সকলে জেনে যায়। শেষে গ্রামপ্রধানও ঘটনাটি শুনে অমৃত ও ইসাবের নামকরণ করেন অদল আর বদল।

ছোট্ট দুটি ছেলের বন্ধুত্ব আর বিশ্বাসের শিকড় এতটাই গভীর ছিল যে তারা একে অন্যের বিপদকে নিজের বলে মনে করেছে। সেখানে ধর্ম বা সম্প্রদায়ের বিভাজন তাদের মানবিকতার কাছে বারবার তুচ্ছ হয়ে গেছে। তাই গ্রাম ছাড়িয়েও অমৃত-ইসাব অদল-বদল আওয়াজে চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠেছে।