পরিবেশ সুরক্ষায় ছাত্র সমাজের ভূমিকা রচনা
![]() |
◆পরিবেশ সুরক্ষায় ছাত্রসমাজের ভূমিকা◆◆
ভূমিকা : আমরা যেখানে বাস করি, তার পারিপার্শ্বিক পরিমণ্ডলকেই বলা হয় ‘পরিবেশ”। গাছ যেমন সজল মাটি, অবাধ আলো এবং উৎকৃষ্ট সার পেলে সতেজভাবে বেড়ে ওঠে, আমাদের বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠাটাও যেন ঠিক সেইরূপ। আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য চাই উপযুক্ত পরিবেশ।
প্রতিকূল পরিবেশ: আমাদের বেঁচে থাকার জন্য নির্মল পরিবেশের বড়ো অভাব। বেশিরভাগ সময়েই দেখা যায়, আমাদের ঘরের পাশেই নালানর্দমা। আমরা যে জল ব্যবহার করি, তার নিকাশিব্যবস্থাও ঠিক নেই। ফলে, জল জমে এবং এই জমে থাকা জলে মশা এবং নানারকম ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের আশ্রয় হয়। কলেরা প্রভৃতি নানান রোগের সৃষ্টি হয় এই দূষিত পরিবেশে। শুধু জমা জল নয়, আমরা ঘরের পাশেই জমিয়ে তুলি নানা ধরনের আবর্জনা। ছাইপাঁশ, মাছের আঁশ, পচা খাবার, কাঁঠালের ভুতি, শালপাতা, খাবারের প্যাকেট ইত্যাদি জমিয়ে ঘরের পাশে তৈরি করি আবর্জনার পাহাড়। এই আবর্জনা হল দূষিত গন্ধের গন্ধমাদন, ভীষণ অস্বাস্থ্যকর। এরা হল নানান রোগের উৎস।
আলো ও বাতাসের প্রয়োজনীয়তা: সূর্যের আলো এবং বাতাসের ওপর পরিবেশের উৎকর্ষ নির্ভর করে। সূর্যের আলোর অভাবে বাসগৃহগুলি অনেক সময় ভিজে ও স্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকে। চারদিকের নোংরা আবহ পরিবেশকে করে তোলে অস্বাস্থ্যকর। এই ধরনের পরিবেশে যারা বাস করে, তারা সারাবছর ধরে নানা অসুখে ভোগে। কোনো ওষুধের ক্ষমতা নেই তাদের নিরাময় করে তোলে। এই প্রেক্ষিতে বলা যায়, পরিবেশ উন্নয়নের আলো ও বাতাস খুবই জরুরি।
সুস্থ পরিবেশের জন্য চাই নাগরিক-সচেতনতা। নাগরিকরা যদি নিজেরা নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হন, তা হলে তাঁরা পরিবেশকেও পরিচ্ছন্ন রাখায় সচেষ্ট হবেন। এ ব্যাপারে অবশ্য সরকার, পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগ ও পরিকল্পনা থাকা দরকার।
ছাত্রসমাজের ভূমিকা: ছাত্রসমাজের ভূমিকা এ ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্রদের জীবন সুন্দর, পবিত্র, নির্মল। তারা নিয়মিতভাবে স্কুলের পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখায় কার্যকারী ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। তাই সামাজিক পরিবেশরক্ষায়ও তাদের এগিয়ে আসতে হবে। তারা যেমন হাতেকলমে পরিচ্ছন্নতার কাজ করবে, তেমনি নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা আনার জন্য তাদের সামনে নিজেরা কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, আলাপ-আলোচনা করবে, পদযাত্রা করে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে। ছাত্ররা প্রথমে তাদের গৃহ-পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করবে; তারপর তারা প্রতিবেশীদের পরিবেশকে সুন্দর করার চেষ্টা করবে। এইভাবে তারা বৃহত্তর সমাজে নিজেদের আদর্শের কথা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে। ফলে সমাজের সবচেয়ে সচেতন অংশ যে-ছাত্রসমাজ, তাদের আচার-আচরণ দেখে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হবে এবং পরিবেশ সুন্দর হয়ে উঠবে।
পল্লির নিকাশিব্যবস্থা এবং বাসগৃহের পাশে যাতে জাল না-জমে সে-বিষয়ে আবাসিকদের সচেতন করার দায়িত্বও নিতে পারে ছাত্রসমাজ।দরকার হলে তারা দল বেঁধে সাফাইয়ের কাজেও নেমে পড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে আবাসিকদের সচেতন করতে ছাত্রছাত্রীরাই পারে।
উপসংহার: সুস্থ পরিবেশে মানুষের জীবনের যথার্থ বিকাশ ঘটে। আর সেই পরিবেশই যদি দূষিত হয়ে পড়ে তবে মানুষের তথা জীবকুলের স্বাভাবিক কাজগুলি নানা কারণে স্তব্ধ হয়ে যায়। তাই পরিবেশকে দূষণমুক্ত করতে মানবজাতির তথা ছাত্রসমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
