প্রশ্ন : মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কাব্যাংশ অবলম্বনে ধাত্রীরূপী ইন্দিরা ও ইন্দ্রজিতের সাক্ষাৎ দৃশ্যটি বর্ণনা করো।
![]() |
প্রশ্ন : মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কাব্যাংশ অবলম্বনে ধাত্রীরূপী ইন্দিরা ও ইন্দ্রজিতের সাক্ষাৎ দৃশ্যটি বর্ণনা করো।
উত্তর/ 'অভিষেক' কাব্যাংশ অনুসারে ধাত্রীরূপী ইন্দিরা তথ্য লক্ষ্মী প্রমোদকাননে ইন্দ্রজিতের কাছে গিয়ে উপস্থিত হন। বিনয়াবনত ইন্দ্রজিৎ ধাত্রীর চরণে প্রণাম করে 'কনক-আসন' ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। তিনি প্রভাষারূপী লক্ষ্মীর কাছে শারীরিক কুশলতা সহ এখানে আসার কারণ জানতে চান। তখন ছদ্মবেশী লক্ষ্মী বীরবাহুর মৃত্যু এবং পুত্রশোকে আহত রাবণের যুদ্ধযাত্রার সংবাদ জানান। প্রভাষারূপী লক্ষ্মীর মুখে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে ইন্দ্ৰজিৎ বিস্মিত হয়েছিলেন, কারণ তাঁর দ্বারা পরাস্ত ও নিহত রামের হাতে বীরবাহুর কীভাবে মৃত্যু হতে পারে ! ইন্দ্রজিতের কাছে এই বার্তা অদ্ভূত বলে মনে হয়েছে এবং বার্তার উৎস জানতে চাইলে লক্ষ্মীদেবী সীতাপতি রাঘবকে মায়াবী মানব বলে অভিহিত করেন। ও ইন্দ্রজিৎকে এই কালসমরে লঙ্কাকে রক্ষার আহ্বান জানান।
ইন্দিরা সুন্দরীর মুখে ইন্দ্ৰজিৎ মায়াবী মানব সীতাপতির পুনরুজ্জীবনের কথা শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। তিনি গলার ফুলের মালা ছিঁড়ে, হাতের সোনার বালা ও কানের অলংকার সমস্ত ছুড়ে ফেললেন। অশোক গাছের তলায় অশোক ফুল যেভাবে পড়ে থাকে সেভাবেই ইন্দ্রজিতের সমস্ত অলংকার তাঁর পদতলে শোভা পাচ্ছিল। তীব্র আত্মধিক্কারে তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেন—যখন শত্রুদল স্বর্ণলঙ্কা ঘিরে ফেলেছে তখন তাঁর মতো বীরের পক্ষে কি নারীদের মাঝে বিলাসমত্ত থাকা শোভা পায়? তীব্র ক্রোধ ও আত্মগ্লানির বশবর্তী হয়ে ইন্দ্রজিৎ অনুচরদের যুদ্ধযাত্রার জন্য রথ প্রস্তুত করতে বলেন এবং শত্রুপক্ষকে বধ করে অপবাদ ঘোচাবার অঙ্গীকার করেন।
