পঞ্চতন্ত্রের দুটি বাছাই গল্প চড়ুইনি ও বাঁদর এবং বেজি ও বক
চড়ুইনি ও বানর
এক বনে একটি আমগাছের ডালে মনের সুখে একজোড়া চড়ুই বসবাস করত।
একদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হল। চড়ুই-চড়ুইনি সেই প্রচন্ড দুর্যোগে কোথাও না বেরিয়ে নিজেদের বাসাতেই রয়ে গেল।
সেই বনেই বাস করত একটি বানর। এই দুর্যোগের দিনে প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ভিজে বানরের অবস্থা হল কাহিল। ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে সে এসে সেই আমগাছের তলায় হাজির হল। বানরকে ঠকঠক করে কাঁপতে দেখে দয়াপরবশ হয়ে চড়ুইনি বলল, ভাই জলে ভিজে তোমার ভারি কষ্ট হচ্ছে। আমরা কেমন বাসা বেঁধে সুখে আছি। তোমার তো মানুষের মতো হাত পা আছে। একটা বাসা বাঁধলে জলে ভিজে এত কষ্ট পেতে হয় না। তুমি বেশ আমাদের মতো সুখে থাকতে পারো।
চড়ুইনির কথা শুনে রেগে আগুন হয়ে বানর বলল, কী— যত বড়ো মুখ নয় তত
বড়ো কথা। তোর তো সাহস কম নয়। সামান্য একটা পাখি হয়ে তুই আমায় জ্ঞান দান করছিস। আমার সুখশান্তি নিয়ে তোকে চিন্তা করতে হবে না।
চড়ুইনি বলল, রাগ কোরো না ভাই, তোমার দুঃখে আমার প্রাণ ফেটে যাচ্ছে।
একটা বাসা থাকলে এই বৃষ্টিতে তোমায় আর ভিজতে হত না। মনের আনন্দে তুমি দিব্যি আমাদের মতো নিজের বাসায় আরাম করতে।
রেগে গিয়ে বানর দাঁত কিড়মিড় করতে করতে বলল, দাঁড়া, তুই বড্ড বেড়েছিল।
আজ তোকে আমি এমন শিক্ষা দেব যে তুই সারা জীবন মনে রাখবি। বানর এক লাফে গাছে উঠে চড়ুইয়ে বাসা মাটিতে আছড়ে ভেঙে ফেলল।
চড়ুই-চড়ুইনি সময়মতো বাসা থেকে উড়ে যাওয়ার জন্য মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেল।
বেজি ও বক
বিশাল এক বন। সেই বনের মধ্যে এক বটগাছে বাস করত একদল বক। সেই গাছেরই কোটরে বাস করত এক বিষধর কালকেউটে। ভারি দুষ্টু ছিল এই সাপ। বকের ছানাদের সে খেয়ে ফেলত।
এক বক একবার শোকে কাতর হয়ে পুকুর পাড়ে বসে বিলাপ করছে। তার সবগুলি ছানাকেই কেউটে খেয়ে নিয়েছে।
ওই পুকুরের এক কাঁকড়া বকের এই কাতর অবস্থা দেখে বলল, কী বকভাই কাঁদো কেন ?
আর বোলো না। ওই বটগাছের কোটরে যে কেউটে বাস করে সে আমাদের ছানাগুলোকে খেয়ে ফেলে। বক বলে উঠল, কী করে যে শয়তানটাকে মারা যায় বুঝতে পারছি না। চালাক কাঁকড়া ভাবল, এমন বুদ্ধি দেব ব্যাটা কেউটেও মরবে আর বকের বংশও ধ্বংস হবে। এই বকগুলো আমাদের প্রায় খেয়ে ফেলে। ব্যাটারা আমাদের জাত শত্রু।
কাকড়া বলল, কালকেউটে থাকলে তোমাদের বংশ বলে কিছুই থাকবে না। তোমাদের বট গাছের তলায় এক গর্তে একটি বেজির বাস। এক কাজ করো। মাছের টুকরো বেজির গর্তের থেকে সাপের কোটর পর্যন্ত ছড়িয়ে দাও। বেজি মাছের গন্ধে গন্ধে গাছে উঠে বদমাইশ সাপটাকে মেরে ফেলবে।
কাঁকড়ার বুদ্ধিমতো বক বাসায় ফিরে সেই কাজ করল। গর্তের ভেতর থেকে মাছের।গন্ধ পেয়ে বেরিয়ে এল বেজি। মাছের মাংস খেতে খেতে গাছে উঠল বেজি।
কেউটে সাপটাকে টুকরো টুকরো করে বেজি তো মারলই, এরপর গাছে যত বক ছিল খেয়ে একে একে সবাইকে বধ করে ফেলল। কেউটের হাত থেকে বক ছানাদের রক্ষা তো হলই না, কাঁকড়ার কু-বুদ্ধি শুনে বকেদের নিজেদেরও প্রাণনাশ ঘটল।
■■□■■