প্রলয়োল্লাস' কবিতায় একদিকে ধ্বংসের চিত্র আঁকা হয়েছে আবার অন্যদিকে নতুন আশার বাণী ধ্বনিত হয়েছে। বিষয়টি কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো। - school book solver

Friday, 19 June 2026

প্রলয়োল্লাস' কবিতায় একদিকে ধ্বংসের চিত্র আঁকা হয়েছে আবার অন্যদিকে নতুন আশার বাণী ধ্বনিত হয়েছে। বিষয়টি কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো।



প্রশ্ন:  'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় একদিকে ধ্বংসের চিত্র আঁকা হয়েছে আবার অন্যদিকে নতুন আশার বাণী ধ্বনিত হয়েছে। বিষয়টি কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো।

উত্তর > কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় যেমন একদিকে মাসে বা প্রলয়ের চিত্র আঁকা হয়েছে, অন্যদিকে আবার এক গভীর আশার বাণী ধ্বনিত হয়েছে। একদিকে কালবৈশাখী ঝড়ের দাপটের চিত্র, অন্যদিকে আসন্ন প্রলয়ের পরেই নতুন দিনের প্রতীক্ষার অবসান-

সবমিলিয়ে বিনাশ ও সৃষ্টির চমৎকার মেলবন্ধনে প্রাণিত নজরুলের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতা। প্রথম কয়েকটি স্তবকে অনাগত প্রলয়ের তাণ্ডবের বর্ণনা পাঠককে ভয়ের বিবশ করে তোলে। সেখানে ‘ওরে ওই হাসছে ভয়ংকর' অথবা জয় প্রলয়ংকর ইত্যাদি বাক্যাংশ ব্যবহার করে কবি খুব সচেতনভাবে প্রলয়ের ধংসকারী রূপকে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। একদিকে “দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা ভয়াল তাহার নয়নকটায়”, অন্যদিকে “বিন্দু তাহার নয়নজলে সপ্তমহাসিন্ধু দোলে”– আগুন ও জলের সহাবস্থান একই নয়নে দেখিয়ে কবি এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে, অন্ধকারের সঙ্গেই আলো, কালোর সঙ্গেই সাদা ওতপ্রোত ও একাকার। ঠিক এই বার্তাই রূপ পায়, যখন কবি উল্লসিত আবেগে বলে ওঠেন, “এবার মহানিশার শেষে/আসবে ঊষা অরুণ হেসে” অথবা “ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?-প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!” কবি জানেন সৃষ্টির বেদনা। তাই মহাপ্রলয়ের শেষে যে নতুন দিনের উদয় অবশ্যই হবে সে-সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত। আশা ও ভীতির দোলাচলে ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি একটি ছন্দময় আবেগগীতি।