প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন দশম শ্রেণী বাংলা
প্রশ্ন: 'ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?-কবি ধ্বংসকে ভয় পেতে নিষেধ করেছেন কেন ?
উত্তর > প্রলয়ের মধ্যেই লুকিয়ে আছে নূতনের বীজ। ধ্বংসের মাঝেই নিহিত আছে নতুন সৃষ্টির হাতছানি। তাই বিনাশ বা ধ্বংসের আগমনে কবি ভারতবর্ষের অচেতন, ভীরু দেশবাসীকে ভয় পেতে নিষেধ করেছেন।
প্রশ্ন 'প্রলয় নূতন সৃজন বেদন!-তাৎপর্য কী?
উত্তর : সৃষ্টির আগে শিল্পী, অথবা শিশুর জন্মের আগে মা যে-বেদনা অনুভব
করেন, কবিও তেমনি যুগান্তরের ইঙ্গিতবাহী এই আসন্ন প্রলয়ের মধ্যে সৃষ্টির যন্ত্রণাকে অনুভব করেছেন।
প্রশ্ন : 'আসছে নবীন। -নবীন কে?
উত্তর: কবি নজরুল 'নবীন' বলতে নবযুগের বার্তাবাহক মহাকাল, ভয়ংকর বা নবীন বিপ্লবী শক্তিকে বুঝিয়েছেন, যাদের হাত ধরে পৃথিবীতে আসবে প্রলয়।আর প্রলয়ের মধ্যেই লুকিয়ে আছে নতুনের বীজ। ধ্বংসের মাঝেই।যন্ত্রণাকে অনুভব করেছেন।
প্রশ্ন : 'প্রলয় বয়েও আসছে হেসে 'প্রলয়' বহন করেও হাসির কারণ কী ?
উত্তর: কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় কবি বলেছেন প্রলয় বা ধ্বংসের বার্তা নিয়ে মহাকালের হাসিমুখে আসার কারণ, তিনি ধ্বংসের মাধ্যমে সৃষ্টি করেন।
প্রশ্ন ‘ওই ভাঙা-গড়া খেলা যে তার 'ভাঙা-গড়া খেলা' বলতে কী বোঝ?
উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস' কবিতায় 'ভাঙা-গড়া খেলা' বলতে কবি নজরুল ধ্বংস ও সৃষ্টির চক্রাকার আবর্তনকে বুঝিয়েছেন।
প্রশ্ন: বধুরা কেন প্রদীপ তুলে ধরবে?
উত্তর: 'প্রলয়োল্লাস' কবিতা অনুসারে, যুগান্তরের অন্যকারের বুক চিরে কাল-ভয়ংকর এগিয়ে আসে মানুষের আকাঙ্ক্ষিত মুক্তিবার্তা নিয়ে। কবি বধূদের প্রদীপ তুলে নিয়ে এই শক্তিকে বরণ করে নিতে বলেছেন।
প্রশ্ন: ‘বন্ধুরা প্রদীপ তুলে ধর-বধূরা কার উদ্দেশে প্রদীপ তুলে ধরবে ?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় যুগান্তরের।অন্ধকারের বুক চিরে কাল-ভয়ংকর এগিয়ে আসে মানুষের মুক্তিবার্তা নিয়ে।
তাই কবি কাল-ভয়ংকরের উদ্দেশে প্রদীপ তুলে ধরতে বলেছেন।
প্রশ্ন 'ওই আসে সুন্দর'—'সুন্দর' কীভাবে আসে?
উত্তর : প্রলয়োল্লাস' কবিতা অনুসারে 'সুন্দর', 'কাল-ভয়ংকরের বেশে"। অর্থাৎ রুদ্ররূপী প্রলয়ের বেশ ধরে আসে বর্ষের অচেতন, তাঁর দেশবাসীকে ভয় পেতে নিষেধ করেছেন।
প্রশ্ন: “তোরা সব জয়ধ্বনি কর।- 'তোরা কারা? তাদের করতে বলা হচ্ছে কেন?
উত্তর: কবি নজরুল 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় 'তোরা' বলতে পরাধীন দেশের স্বাধীনতার প্রত্যাশী আপামর জনসাধারণকে বুঝিয়েছেন।
ভারতবর্ষের পরাধীনতা কবি নজরুলের কাছে ভীষণ পীড়াদায়ক ছিল। তিনি সর্বদাই এই অবস্থার অবসান চাইতেন। তিনি বুঝিয়েছিলেন কালবৈশাখীর।মতো ভয়ংকর শক্তি কিংবা প্রলয়-নেশায় মত্ত মহাদেবের মতোই কেউ এসে এই অবস্থার অবসান ঘটাবে। তাই কবি ভারতীয়দের এই ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতার আগমনের উদ্দেশ্যে জয়ধ্বনি করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রশ্ন: আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল -
“অনাগত' কে? সে ‘প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল' কেন?
উত্তর অনাগত শব্দটি আক্ষরিক অর্থ যা আসেনি এক্ষেত্রে পরাধীনতার নাগপাশ থেকে আমাদের মুক্ত করতে পারে এমন শক্তির আগমন যে আসন্ন তা আশাবাদী কবি মানসদৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ করেছেন। শিব বা রুদ্ররূপী এই শক্তিকেই কবি 'অনাগত' বলেছেন।
| 'প্রলয়' ও 'নৃত্য পাগল' শব্দ দুটির দ্বারা কবি শিবের বিধ্বংসী ও নটরাজরূপের কথা বলতে চেয়েছেন। কবির কাঙ্ক্ষিত।অনাগত শক্তি অত্যাচারী ব্রিটিশ শক্তিকে ধ্বংসের ও মন্থনের দ্বারা আমাদের স্বাধীনতার নতুন সকাল উপহার দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর।
প্রশ্ন: ‘বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর।—'ভয়ংকর' বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন। তার আসার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
অথবা, 'বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর।' – এখানে কাকে ভয়ংকর বলা হয়েছে? ভয়ংকর কীভাবে আসছে কবিতা অবলম্বনে লেখো।
উত্তর : নজরুল তাঁর 'প্রলয়োল্লাস' কবিতাতে ‘ভয়ংকর’ বলতে নবযুগের বার্তাবহ প্রলয়রূপী বিপ্লব বা বিদ্রোহকে বুঝিয়েছেন। ‘রুদ্ররূপী’ শিবকে তিনি এর প্রতীক রূপে কল্পনা করেছেন।
> অত্যাচারী ব্রিটিশের শাসনে ভারতবাসী স্থবির হয়ে গিয়েছিল। আর ভারতবর্ষ হয়ে গিয়েছিল অচলায়তন। কালের নিয়মে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবেই। সেই অচলায়তন ভাঙবে মানুষের সম্মিলিত বিপ্লবের দ্বারা। আশাবাদী কবি আসন্ন বিপ্লবের এই আছড়ে পড়া ঢেউকে ভয়ংকর প্রলয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
প্রশ্ন: ‘অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ চরাচর—চরাচর' শব্দের অর্থ কী? চরাচর স্তব্ধ কেন লেখো।
উত্তর: উপরের উদ্ধৃতিটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার অন্তর্গত। চরাচর' শব্দের অর্থ হল সমগ্র পৃথিবী বা জগৎ।
> কবি প্রলয় বা ধ্বংসকে ফুটিয়ে তুলতে কখনও শিব, আবার কখনও সর্বনাশী জ্বালামুখী স্বরূপ চণ্ডীমূর্তির রুদ্রতাণ্ডবের উপমা টেনে এনেছেন। বিনাশের অট্টহাসির গভীর ব্যঞ্জনা যেন সমগ্র জগতে সৃষ্টি করেছে এক রুদ্ধশ্বাস পরিবেশ। প্রলয়ের ভয়াবহ বিস্ফোরণের অজানা আশঙ্কায় এ পৃথিবী নিষ্কম্প-নিস্তব্ধ। প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে কবির এ ভাবনাই প্রকাশ পেয়েছে।
প্রশ্ন: 'জয় প্রলয়ঙ্কর!-প্রলয়ঙ্কর কে? কবিতায় তাঁকে আর কী কী নামে অভিহিত করা হয়েছে?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘প্রলয়োল্লাস' কবিতায় রুদ্ররূপী মহাদেবকে প্রলয়ঙ্কর বলেছেন।
> মহাদেবের আর যে যে নাম 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় উল্লেখ আছে তা হল—নৃত্যপাগল, মহাকাল, বিশ্বপিতা ও দিগম্বর।
প্রশ্ন: ‘মাভৈঃ মাভৈঃ। জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে'—কবি ‘মাভৈঃ' বলে কী জানাতে চেয়েছেন? প্রলয় এসে কোন্ কাজ করবে বলে কবির মনে হয়েছে?
উত্তর: বিদ্রোহী সত্তার অধিকারী কবি নজরুল তাঁর ‘প্রলয়োল্লাস' কবিতায় ‘মাভৈঃ মাভৈঃ’শব্দযুগলের ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ ভয় কোরো না, অর্থাৎ নির্ভয়ে এগিয়ে চলো। পরাধীনতার অন্ধকার থেকে মুক্ত হওয়ার গণনারত ভারতবাসীকে কবি পুরাতনকে দে।নূতনের বিজয় পতাকা ওড়ানোর জন্য হৃদয়ে সঞ্চার করার কথা বলেছেন।
> মহাপ্রলয়ের ফলে পৃথিবীতে বারে বারে অশুভ শক্তি ধ্বংস হয়ে সৃষ্টি।।বীজ বপিত হয়েছে। প্রলয়ের ফলে দীর্ঘ পরাধীনতার শেষে স্বাধীনতার সূর্যালোকে ভারতবর্ষ উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে এটাই কবির আশা।
প্রশ্নভ: 'জরায়-মরা মুমূর্ষুদের প্রাণ-লুকানো ওই বিনাশে। -পঙক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: বিপ্লব আসছে যোদ্ধার বেশে, নতুন সূর্যের সন্ধানে তার অগ্রগমন।।কিন্তু এই অগ্রগতির পথে অনেক বাধা। বহু সংস্কার, বহু জরাগ্রস্ত, অন্ধ ও মুমূর্ষু।মতবাদ এসে পথের গতি শ্লথ করতে চায়। কিন্তু এসবকে বিনাশ করে নতুন দিনের সন্ধানী আলোয় প্রলয়রুপী।বৈপ্লবিক সৃজন তার নিজের পথ করে নেবে। কবি নজরুলের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতার প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে কবিকণ্ঠে এই ভাবনাই ব্যক্ত হয়েছে।
প্রশ্ন: ‘এবার মহানিশার শেষে/আসবে ঊষা অরুণ হেসে - মহানিশা’ কী? এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে কবি কীসের ইঙ্গিত দিয়েছেন?
অথবা, ‘এবার মহানিশার শেষে/আসবে ঊষা অরুণ হেসে – অংশটির তাৎপর্য লেখো।
উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি নজরুল পরাধীন ভারতের শোষিত লাঞ্ছিত স্থিতাবস্থাকে মহানিশা' অর্থাৎ দীর্ঘ অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত্রির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
> কবির বিশ্বাস নিপীড়িত দেশের এই দুর্দশার অন্ধকার ভেদ করে নতুন সকাল আসবে। কারণ প্রলয় আসন্ন। এ প্রলয় মুক্তিকামী দেশবাসীর নবজাগরণের প্রলয়। ফলে ধ্বংসের মধ্যে তিনি দেখতে পেয়েছেন নতুন জীবনের সম্ভাবনা। রুদ্রের ভিতরে যেমন লুকিয়ে থাকে সুন্দর, তেমনই অন্ধকারের শেষে মেলে আলোর উৎস। তাই কবি অন্ধকার রাত্রি শেষে নতুন সূর্যোদয়ের মধুর হাসির আশ্বাসবাণী শুনিয়েছেন।
প্রশ্ন: ‘দিগম্বরের জটায় হাসে শিশু-চাঁদের কর--- "দিগম্বরের জটা’ ও ‘শিশু-চাঁদের কর'—এই দুই চিত্রকল্পের মেলবন্ধনের স্বরূপ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: নজরুল তাঁর কল্পনাশক্তির শিখরে পৌঁছেছেন 'প্রলয়োল্লাস' কবিতার।প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে। দিগম্বর অর্থাৎ দেবাদিদেব শিবের অন্য এক রূপ হল রুদ্রচণ্ডের সংহারক মূর্তি। অথচ তাঁরই জটায় শোভা বৃদ্ধি করে চাঁদের ছোট্ট একটি ফালি। ঠিক যেন প্রলয়ের।ভয়ংকরতার পাশাপাশি প্রতীক্ষায় আছে এক নূতন দিনের স্নিগ্ধ শান্তির হাতছানি। রাতের শেষে যেমন দিন আসে, অঝোর বর্ষণের শেষে দেখা দেয় সোনাঝরা রোদ, তেমনই প্রলয় আবির্ভূত হবে মানবমুক্তির স্নিগ্ধ সৌন্দর্য, এই হল কবির বিশ্বাস।
