পঞ্চতন্ত্রের ভালো দুটি গল্প নীলবর্ণ শেয়ালের কীর্তি এবং তিতির ও সমুদ্র - school book solver

Monday, 22 June 2026

পঞ্চতন্ত্রের ভালো দুটি গল্প নীলবর্ণ শেয়ালের কীর্তি এবং তিতির ও সমুদ্র

 পঞ্চতন্ত্রের গল্প পঞ্চতন্ত্রের গল্প

নীলবর্ণ শিয়ালের কীর্তি

গ্রাম থেকে দূরে এক বনে বাস করত এক শিয়াল। একদিন রাতে খাবারের খোঁজে ঘুরতে ঘুরতে সে হাজির হল একটা গ্রামে। গ্রামের মধ্যে কুকুরের দল শিয়ালকে দেখতে পেয়ে তাকে তাড়া করল।

প্রাণের তাগিদে ছুটতে ছুটতে শিয়াল ঢুকে পড়ল এক বাড়িতে। বাড়িটা ছিল এক ধোপার। উঠোনে এক গামলা ভরতি নীল রং গোলা ছিল। শিয়াল দৌড়ে এসে পড়ল সেই গামলার মধ্যে। মুহূর্তের মধ্যে তার শরীরের রং হয়ে গেল নীল। নীল বর্ণ শিয়াল বনে ফিরে এলে কেউই তাকে চিনতে পারল না। জঙ্গলের পশুরা এরকম অদ্ভুত জীব কখনো দেখেনি। ভয়ে তারা পালাতে লাগল। শিয়াল ছিল মহাচালাক। সে মাথা খাটিয়ে বুদ্ধি বার করল। অন্যান্য জন্তুদের বলল, ভয় পেয়ো না। ঈশ্বর আমাকে তোমাদের রাজা হিসাবে পাঠিয়েছেন। তোমরা আমার আদেশ পালন করবে। আমি তোমাদের রক্ষা করব।

বনের পশুরা তাকে বিশ্বাস করে রাজা হিসাবে মেনে নিল। প্রণাম করে তারা বলল, আদেশ করুন কী করতে হবে। শিয়াল বলল, রাজাকে তোমরা সেবা করবে, সব রকম ভালো খাবার জোগাড় করে দেবে। বনের সব পশুরা শিয়ালকে রাজার মতো মান্য করে দেখে শিয়ালের আর অহংকার ধরে না। নিজেদের জাত ভাইদের সে অবহেলায় দূরে সরিয়ে রাখল।

একদিন সন্ধ্যাবেলা আকাশে চাঁদ উঠেছে। চারদিক জোছনায় ভেসে যাচ্ছে। মনের আনন্দে বনের শিয়ালরা একসঙ্গে ডেকে উঠল- হুকা হয়। নীলবর্ণ শিয়ালটি তার

জাতভাইদের ডাক শুনে আনন্দে নিজেকে সামলাতে না পেরে সঙ্গীদের সঙ্গে মাথা তুলে ডাকতে আরম্ভ করল। নীলবর্ণ শিয়ালের গলার স্বর শোনামাত্রই সকল পশুরা তাকে চিনে ফেলল। তারা বুঝল সামান্য একটা শিয়াল এতদিন তাদের বোকা বানিয়েছে।

রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে সব পশুরা শিয়ালের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মুহূর্তের মধ্যে তাকে মেরে ফেলল। 

জন্মগত স্বভাব বদলে ফেলা কঠিন


■■■■■

     তিতির ও সমুদ্র


একজোড়া তিতির পাখি বাস করত সমুদ্রের ধারে গাছের নীচু ডালে। তিতির বউ একদিন তিতিরকে বলল, চলো, নিরিবিলি জায়গায় একটা বাসা বানাই। কারণ জিজ্ঞাসা করতে তিতির-বউ খবর দিল সে ডিম পাড়তে চলেছে।

তিতির বউকে বলল, চিন্তা কোরো না। সমুদ্রের এপাশেই বাসা বাঁধব আমরা।

তিতির-বউ বলল, না না, এখানে সব ডিম সমুদ্রের ঢেউ এসে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।

বউকে নিশ্চিত করে তিতির বলল, 'আমার বাচ্চাদের ক্ষতি করার ক্ষমতা নেই সমুদ্রের ?”

সমুদ্র এইসব কথা শুনে ভাবল, ভারি আস্পর্ধা তো ছোটো পাখিটার। এমন শিক্ষা দেব পাখিটাকে যে সারাজীবন মনে রাখবে। তিতির আর তার বউ গাছের নীচু ডালে বাসা তৈরি করে ডিম পাড়ল। আনন্দে আত্মহারা হয়ে অপেক্ষা করতে লাগল কবে ডিম ফুটবে।

কয়েকদিন কেটে যাবার পর বউকে বলল তিতির,  দু-একদিনের মধ্যে ফুটবে ডিম। চলো আজ একটু ঘুরে আসি আর বাচ্চাদের জন্য খাবার জোগাড় করে আনি। দুজনে বেরিয়ে যাবার পরই সমুদ্রের জল এসে ভাসিয়ে দিল তীর। তিতিরের

ডিমগুলোও চুরি করে নিয়ে গেল সমুদ্র। ফিরে এসে ভাঙাচোরা বাসা দেখে তিতির-বউ পাগলে মতো কাঁদতে লাগল। দেখলে তো, তোমার জন্যই আজ আমার ডিমগুলোর এই অবস্থা, বলে উঠল তিতির-বউ।

চিন্তা কোরো না, ফিরিয়ে আনব তোমার ডিমগুলোকে, বলে ওঠে তিতির। সমুদ্রের জল আমি ছেঁচে ফেলে সমুদ্রকে শুকিয়ে ফেলব।

তিতির-বউ বলল, তোমার একার পক্ষে এই কাজ সম্ভব নয়। সকল বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে করতে হবে এই কাজ।

মাছরাঙা, বক এইসব বন্ধুবান্ধবদের তিতির সমুদ্রকে শুষে ফেলার কথা বলাতে তারা পরামর্শ দিল গরুড়ের কাছে যেতে। গরুড় সব কথা শুনে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন, চলো, সমুদ্রকে শুষব। অবিলম্বেই তিতিরের ডিম তিতিরের কাছে ফিরে আসা দরকার। গরুড়ের কাছ থেকে নারায়ণ সব শুনলেন। নারায়ণের বিশ্রাম স্থান সমুদ্র হলেও সমুদ্রের এই অন্যায় কাজের জন্য নারায়ণ অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন। নারায়ণ গরুড়কে বললেন যে সমুদ্রের কাছ থেকে তিনি তিতিরের ডিম ফিরিয়ে আনবেন। নারায়ণ সমুদ্রের কাছে পৌঁছে তাঁর ধনুকে জুড়লেন অগ্নিবাণ। তিনি সমুদ্রকে

বললেন, তোর এত আস্পর্ধা। তুই তিতিরের ডিম চুরি করিস। দে ফিরিয়ে তিতিরের ডিম, না হলে মুহুর্তের মধ্যে তোকে ডাঙা করে ফেলব। ভয়ে সমুদ্র তিতিরের সব ডিম দিল ফিরিয়ে। মনের আনন্দে তিতির তার বউ-এর হাতে ফিরিয়ে দিল সব ডিমগুলি।


■■■■