অভিষেক কবিতার কিছু ছোট গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর - school book solver

Friday, 12 June 2026

অভিষেক কবিতার কিছু ছোট গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর

 



প্রশ্ন : ‘সীতাপতি’ কে? তাঁকে ‘মায়াবী মানব' বলা হয়েছে কেন ?

উত্তর > পাঠ্য ‘অভিষেক' কাব্যাংশে উক্ত নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।

অযোধ্যার রাজা দশরথের জ্যেষ্ঠপুত্র ছিলেন রাম। এই রামচন্দ্রের স্ত্রীর নামসীতাপতি সীতা। এই কারণে রামচন্দ্রকে 'সীতাপতি' বলা হয়েছে।

|| সীতাপতি রামচন্দ্রকে লক্ষ্মীদেবী 'মায়াবী মানব' বলেছেন। কারণ মায়াবী না-হলে প্রবল শক্তিশালী ইন্দ্রজিতের তিরে রামের মৃত্যু হলেও, তিনি কীভাবে পুনরায় দৈবপ্রভাবে পুনর্জীবন লাভ করেন। এই কারণে কাব্যাংশে রামকে 'মায়াবী মানব' রূপে উপস্থাপনা করা হয়েছে।

প্রশ্ন > 'রক্ষ রক্ষঃকুল মান. এ কালসমরে, রক্ষঃ চূড়ামণি। -বা‘রক্ষঃ-চূড়ামণি' বলে কাকে সম্বোধন করেছেন। 'কালসমর' বলতে কী বোঝা ?


উত্তর > বক্তা ইন্দিরা সুন্দরী অর্থাৎ লক্ষ্মী দেবী ‘রক্ষঃ-চূড়ামণি' বলে ইন্দ্রজিৎকে সম্বোধন করেছেন।

'কালসমর' বলতে বোঝায় কাল রূপ সমর বা ভয়ংকর যুদ্ধ। এক্ষেত্রে রামচন্দ্রের সঙ্গে রাক্ষসদের ভয়ংকর প্রাণঘাতী যুদ্ধকে বোঝানো হয়েছে।

ছদ্মবেশী দেবী লক্ষ্মী প্রমোদকাননে ইন্দ্রজিতের সামনে যখন হতাশার সুরে বীরবাহুর মৃত্যু, রাবণের যুদ্ধযাত্রার কথা বলছিলেন তখন তা তাঁর বিশ্বাস হচ্ছিল না। দেবী মায়াবী মানব রামচন্দ্রের জেগে ওঠা ও তাঁর দৈবী শক্তির পরিচয় দিতে শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

প্রশ্ন > ‘ধিক্ মোরে’–কে, কেন এ কথা বলেছেন? 

উত্তর > উদ্ধৃত অংশটির বক্তা মধুসূদনের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ থেকে গৃহীত অভিষেক' নামক কাব্যাংশের অন্যতম চরিত্র ইন্দ্রজিতের। মেঘনাদ প্রমোদকাননে বিলাসব্যসনে মত্ত থাকার সময় প্রভাষার ছদ্মবেশে লক্ষ্মী এসে ইন্দ্রজিৎকে তার প্রিয় ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যু এবং শোকস্তব্ধ রাবণের শত্রু রাঘব নিধনে ব্রতী হওয়ার কথা জানান। লঙ্কার এই দুর্দিনে ইন্দ্রজিৎ প্রমোদকাননে মেয়েদের মাঝে থেকে রাজধর্ম পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে তাঁর এই আত্মধিক্কার।



প্রশ্ন:  : 'বীর বাঁচে কি ঔষধে। -এ কথা বলা হয়েছে কেন ?

উত্তর >   পিতাকে যুদ্ধযাত্রা থেকে বিরত করে ইন্দ্রজিৎ রামচন্দ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অনুমতি চান। রাবণ রাক্ষসকুলের একমাত্র ভরসাকে কালসমরে পাঠাতে

নারাজ ছিলেন। কিন্তু ইন্দ্রজিৎ বলেন, পুত্র বর্তমান থাকতে পিতার যুদ্ধযাত্রা কলঙ্কব্যঞ্জক। ইতিপূর্বে দু-বার রামচন্দ্র তাঁর কাছে পরাজিত হয়ে দৈবীবলে জীবন ফিরে পেলেও এবার কোনো ওষুধেই তিনি বাঁচবেন না। আত্মবিশ্বাস ও পিতার কাছে যুদ্ধযাত্রার অনুমতি চাওয়ার কারণে এ কথা বলা হয়েছে।


প্রশ্ন: 'জাগান অকালে'-কে 'অকালে' জেগেছিল। কেন জেগেছিল?


উত্তর>  'অভিষেক' নামক রচনাংশে উদ্ধৃত অংশটির উল্লেখ রয়েছে।

রাক্ষসরাজ রাবণের মধ্যম ভ্রাতা কুম্ভকর্ণ অকালে জেগেছিল।

|| ব্রহ্মার বরে কুম্ভকর্ণ ছ-মাস ঘুমোনোর পর একদিন জেগে উঠে প্রচুর আহার ও পান করতেন। তিনি ছিলেন বিশাল বলশালী। তাই লঙ্কার এই দুর্দিনে একমাত্র তিনিই পারতেন দেশ ও জাতিকে রাঘবকুলের মতো শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে। তাই কুম্ভকর্ণের ঘুমের মেয়াদ পূর্ণ না-হওয়া সত্ত্বেও, বহু অনুচর পাঠিয়ে রাবণ তাঁর নিদ্রাভঙ্গ করেন। একেই ‘অকাল জাগরণ' বলা হয়েছে।


প্রশ্ন :  কুম্ভকর্ণের পরিচয় দাও।

উত্তর >  অভিষেক' কবিতায় কুম্ভকর্ণের উল্লেখ পাওয়া যায়। রাক্ষসরাজ রাবণের মধ্যম ভ্রাতা কুম্ভকর্ণ। তিনি বিশ্বশ্রবা মুনি ও নিষার দ্বিতীয় পুত্র।

ব্রহ্মার বরে তিনি ছ-মাস ঘুমোনোর পরে একদিন জাগতেন এবং ওই একদিন তিনি প্রচুর পরিমাণে পান ও ভোজন করতেন। তিনি অমিত বলশালী ছিলেন। বিশাল দেহধারী এই রাক্ষস বহু যুদ্ধে রাবণকে সাহায্য করেছিলেন। রামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বহু অনুচর পাঠিয়ে রক্ষরাজ রাবণ অসময়ে কুম্ভকর্ণের নিদ্রাভঙ্গ করেন। রামের হাতেই কুম্ভকর্ণের মৃত্যু হয়।


প্রশ্ন: 'আগে পূজ ইষ্টদেবে,—এমন উক্তি কার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে? কেন এমন উক্তি করা হয়েছে?

উত্তর > মাইকেল মধুসুদন দত্তের 'অভিষেক' কবিতায় রাক্ষসকুলপতি প্রিয় পুত্র ইন্দ্রজিতের উদ্দেশ্যে প্রশ্নোদৃত উক্তিটি করেছিলেন।

| লঙ্কাপুরীতে প্রবেশ করে বীরশ্রেষ্ঠ ইন্দ্রজিৎ পিতাকে যুদ্ধযাত্রা থেকে বিরত করেন। শোকে-দুঃখে কাতর রাবণকে তিনি এক সুযোগ্য সন্তানের মতো

সাহস জোগান। পুত্রের শৌর্য সাহস ও বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে রাবণ আশ্বস্ত হন।

ইন্দ্রজিৎ দ্বিতীয়বার রাঘবকে পরাজিত করার জন্য পিতার কাছে যুদ্ধযাত্রার অনুমতি চান। তখন রাবণ প্রথমে ইন্টাদেবতা অগ্নির পুজার্চনায় তাঁকে তুষ্ট করে এবং নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ করে আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়ে, যুদ্ধযাত্রার কথা বলেন। এর থেকে পুত্রের প্রতি এক শুভাকাঙ্ক্ষী পিতার স্নেহ, ভালোবাসা এবং মততাবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।



প্রশ্ন: প্রমীলা কে? ইন্দ্রজিতের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন নিজের ভাষায় লেখো


উত্তর > পাঠ্য 'অভিষেক' নামাঙ্কিত কাব্যাংশে মধুসুদন ইন্দ্রজিতের স্ত্রীহিসেবে প্রমীলাকে উপস্থিত করেছেন। বাল্মীকি রামায়ণে না-থাকলেও আমরা কৃত্তিবাসী রামায়ণে তাকে পাই। এখানে  প্রমীলা কবির নিজস্ব পরিকল্পনা।

| প্রমোদ উদ্যানে বিলাসে মত্ত থাকাকালীন প্রভাষারূপী ছদ্মবেশী দেবী লক্ষ্মীর মুখে রাঘবের হাতে বীরবাহুর মৃত্যু ও শোকাহত রাবণের যুদ্ধযাত্রার কথা শুনে ক্রুদ্ধ ইন্দ্ৰজিৎ নিজেকে ধিক্কার জানিয়ে রণসাজে সজ্জিত হয়ে যখন বীরদর্পে যুদ্ধে গমনোদ্যত, তখন প্রমীলার দেখা পাওয়া যায়। তিনি তখন স্বামীর দুটি পা ধরে কেঁদে জানতে চান, ইন্দ্রজিৎ তাঁকে রেখে আজ কোথায় চলেছেন? স্বামীর বিরহে কীভাবে তিনি দিনপাত করবেন? এ প্রসঙ্গে প্রমীলার বক্তব্য গভীর জঙ্গলে হাতির দল বনলতার আকর্ষণ ছিন্নকরলেও, হাতির দলপতি তাকে পদতলে স্থান দেয়। তিনিও এটুকুই চান। আজ কেন ইন্দ্রজিৎ এই সেবিকাকে ত্যাগ করে যাচ্ছেন? স্বামী-স্ত্রীর চিরন্তন বন্ধনের কথা মনে করিয়ে ইন্দ্ৰজিৎ যত দ্রুত সম্ভব ফিরে আসার অঙ্গীকার করেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রমীলাই তো ইন্দ্রজিতের কল্যাণী। তার মঙ্গল কামনার জোরে এই যুদ্ধে ইন্দ্রজিৎ রাঘবকে অনায়াসে নাশ করতে পারবেন। প্রমোদকানন থেকে লঙ্কায় যাত্রাকালে ইন্দ্ৰজিৎ এভাবেই প্রমীলার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন।