কনক আসন তাগি কে কোন কা শুনতে এক করেছিল প্রসঙ্গ উল্লেখ করো অভিষেক কবিতা।
![]() |
প্রশ্ন: কনক-আসন ত্যজি–কে, কেন কনক আসন ত্যাগ করেছিল?
উত্তর > আমাদের পাঠ্য মধুসূদনের 'অভিষেক' নামক কাব্যাংশে রাবণ ও মন্দোদরীর বীরপুত্র ইন্দ্রজিতের কনক-আসন ত্যাগের কথা বলা হয়েছে।
|| ইন্দ্রজিৎ প্রমোদ উদ্যানে স্ত্রী প্রমীলা ও তাঁর সখীদের নিয়ে প্রমোদবিহারে বাস্ত ছিলেন। এমন সময় ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে দেবী লক্ষ্মী সেখানে উপস্থিত হন। ধাত্রী প্রভাষার এই অপ্রত্যাশিত আগমনের কারণ জানার জন্য ও তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য ইন্দ্রজিৎ
কনক-আসন ত্যাগ করেছিলেন। মধুসূদনের ইন্দ্রজিৎ এখানে বিনয়, শ্রদ্ধা ও সৌজন্যবোধের প্রতীকরূপে প্রতিভাত।
প্রশ্ন “শির: চুম্বি, ছদ্মবেশী অম্বুরাশি-সুতা/উত্তরিলা;— অম্বুরাশি-সুতা” কে? তাঁর উত্তর কী ছিল?
উত্তর > মধুসূদনের 'অভিষেক’ নামক পাঠ্য কাব্যাংশে ‘অম্বুরাশি-সুতা’ শব্দটি পাই। ইনি আসলে দেবী লক্ষ্মী। দেবতা ও অসুরের সমুদ্রমন্থনকালে জল থেকে উত্থিত বলে তাঁর এমন নাম।
|| দেবী লক্ষ্মী ধাত্রী প্রভাষার রূপে প্রমোদ উদ্যানে হাজির হলে ইন্দ্রজিৎ তাঁকে আসার কারণ ও লঙ্কার কুশল জিজ্ঞাসা করেন। অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে তিনি (দেবী লক্ষ্মী) রামের সঙ্গে ভীষণ যুদ্ধে ইন্দ্রজিতের প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ ও পুত্রশোকে শোকগ্রস্ত পিতা রাবণের যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতির কথা জানান।
প্রশ্ন > ‘সসৈন্যে সাজেন আজি যুঝিতে আপনি। – আপনি কে? তার যুদ্ধসজ্জার পরিচয় দাও।
উত্তর > মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্য'-এর 'অভিষেক' নামাঙ্কিত কবিতার উদ্ধৃত অংশে 'আপনি' হলেন রাবণ।
|| রামের হাতে রাবণপুত্র বীরবাহু মৃত। সেজন্য পুত্রশোকে কাতর রাবণ বীরমদে মত্ত হয়ে যুদ্ধযাত্রার জন্য সাজছেন। চারদিকে শোনা যাচ্ছে যুদ্ধের বাজনা, হাতির গর্জন, ঘোড়ার ডাক ও পদাতিক সৈন্যের হুংকার। উড়ছে রেশমি পতাকা।
প্রশ্ন: "জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া:- কাকে 'মহাবাহু' বলা হয়েছে? তার বিস্ময়ের কারণ কী?
উত্তর > মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কাব্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটিতে ‘মহাবাহু” বলতে রাক্ষস বংশের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা ইন্দ্রজিতের কথা বলা হয়েছে।
|| স্বর্ণলঙ্কার ঘোর দুর্দিনের সংবাদ নিয়ে প্রভাষা-রূপী লক্ষ্মী প্রমোদকাননে এসে উপস্থিত হন। সেখানে উপস্থিত ইন্দ্রজিৎকে তিনি জানান, ভয়াবহ যুদ্ধে তাঁর প্রিয় ভাই বীরবাহু নিহত হয়েছেন এবং পুত্রশোকে স্তব্ধ রক্ষোপতি রাবণ সসৈন্যে যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লঙ্কাপুরী এখন বীরশূন্য। ভাইয়ের মৃত্যু ও পিতার যুদ্ধযাত্রার কথা শুনে, এ সমস্ত ঘটনাক্রম সম্পর্কে অনবগত ইন্দ্রজিৎ বিস্মিত হয়েছিলেন।
প্রশ্ন > ‘এ অদ্ভুত বারতা,—কোন্ বার্তা, কেন অদ্ভুত?
উত্তর/ উদ্ধৃত অংশটি মধুসূদন দত্ত রচিত (মেঘনাদবধ কাব্য : প্রথম সর্গ) অভিষেক’ নামক পাঠ্য কবিতা থেকে গৃহীত।
|| লক্ষ্মীদেবী ইন্দ্রজিতের ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে এসে স্বর্ণলঙ্কার সকল সংবাদ তাঁকে জানালেন। সম্মুখসমরে রামের সঙ্গে প্রচণ্ড যুদ্ধে নিহত হয়েছেন ইন্দ্রজিতের প্রিয় ভাই বীরবাহু। কিন্তু ইন্দ্রজিৎ এ সংবাদে অত্যন্ত বিস্ময়াপন্ন হলেন। কারণ তিনি নিজের হাতে রাত্রিকালীন যুদ্ধে রামকে হত্যা করেছেন। আর সেই মৃত রাঘব কিনা তাঁর ভাই-ই-এর হত্যাকারী—এই বার্তাই তাঁর কাছে অদ্ভুত লেগেছে।
