সাজিলা রথীন্দ্রর্যভ বীর আবরণে। রথীন্দ্রর্যভ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? তার এই আবরণে সজ্জিত হওয়ার কারণ কি? অভিষেক কবিতার আরও কিছু প্রশ্ন - school book solver

Tuesday, 9 June 2026

সাজিলা রথীন্দ্রর্যভ বীর আবরণে। রথীন্দ্রর্যভ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? তার এই আবরণে সজ্জিত হওয়ার কারণ কি? অভিষেক কবিতার আরও কিছু প্রশ্ন





প্রশ্ন : 'সাজিলা রথীন্দ্রর্যভ বীর -আভরণে,'- 'রথীন্দ্রর্যন্ত' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? তাঁর এই বার আভরণে সজ্জিত হওয়াকে কাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, ঘটনা উল্লেখ করে তা বর্ণনা করো।

উত্তর > মধুসূদনের 'মেঘনাদবধ কাব্য'-এর প্রথম সর্গ থেকে গৃহীত পাঠ্য ‘অভিষেক' নামক কাব্যাংশে আমরা 'রথীন্দ্রর্যন্ত' শব্দটি পাই, যার অর্থ শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা। এক্ষেত্রে রাবণপুত্র ইন্দ্রজিতের বীরত্ব বোঝাতে ‘রথীন্দ্রর্যভ' শব্দটি কবি ব্যবহার করেছেন।

|| ইন্দ্ৰজিৎকে শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা হিসেবে বর্ণনা করতে গিয়ে কবি তাঁকে দেবসেনাপতি কার্তিক ও বৃহন্নলারূপী তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুনের বীরত্বের সঙ্গে তুলনা করেছেন। স্ত্রী প্রমীলা-সহ নারীদের মাঝে বিলাসমত্ত ইন্দ্রজিৎ ছদ্মবেশী লক্ষ্মীদেবীর মুখে যখন শুনলেন, তাঁর প্রিয় ভাই বীরবাহু রাঘবের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন এবং পিতা রাবণ শোকাহত অবস্থাতেই যুদ্ধযাত্রার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন, তখন তিনি নিজেকে তীব্র ধিক্কার জানান। শত্রুপক্ষকে বধ করেই তিনি এই অপবাদ ঘোচাতে চান।

বীরসাজে সজ্জিত ইন্দ্রজিতের পরাক্রম বোঝাতেই কবি এই দুই শ্রেষ্ঠ যোদ্ধার সাহসিকতার সঙ্গে ইন্দ্রজিতের সাহসিকতার তুলনা করেছেন। তারকাসুর স্বর্গরাজ্য অধিকার করে দেবলোকে ত্রাসের সঞ্চার করেছিল। পার্বতী ও মহাদেবের পুত্র কার্তিকেয় তাকে হত্যা করে স্বর্গরাজ্য দেবতাদের ফিরিয়ে দেন। বৃহন্নলারূপী কিরীটি অর্থাৎ অর্জুন অজ্ঞাতবাসকালে বিরাট রাজকন্যার নৃত্যগীতাদির শিক্ষক ছিলেন। সেই সময় দুর্যোধনরা বিরাটের গোধন অপহরণ করলে প্রবল পরাক্রমী অর্জুন তথা বৃহন্নলারূপী কিরীটি তা রক্ষ করেন।


প্ৰশ্ন : ‘যথা নাশিতে তারকে মহাসুর; কিম্বা যথা বৃহন্নলারূপী কিরীটি,–'বৃহন্নলারুপী কিরীটি' কে? তার বৃত্তান্তটি বর্ণনা করো। 'নাশিতে তারকে মহাসুর' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর > কবি মধুসুদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য'-এর প্রথম সর্গের অন্তর্গত পাঠ্য 'অভিষেক' কাব্যাংশ থেকে উপরোক্ত উদ্ধৃতাংশটি গৃহীত। ‘বৃহন্নলারূপী কিরীটি' হলেন পাণ্ডবশ্রেষ্ঠ অর্জুন। তিনি দেবরাজ ইন্দ্রের দেওয়া কিরীট বা মুকুট মাথায় ধারণ করতেন বলে তাঁর আর-এক নাম কিরীটি।

|| পাঠ্যে উল্লিখিত 'বৃহন্নলারূপী কিরীটি' তথা তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন বিরাট রাজার গৃহে অজ্ঞাতবাসে থাকার সময় রাজকন্যা উত্তরাকে নৃত্যগীতাদি শিক্ষাদানের জন্য বৃহন্নলা ছদ্মবেশ ধারণ করেন। সেই সময় কৌরব ভ্রাতৃবর্গ বিরাট রাজার গোধন অপহরণ করে বিরাটকে পরাজিত ও বন্দি করেন। রাজপুত্র উত্তরের সারথিরূপে এবং বৃহন্নলারূপী অর্জুন যুদ্ধে কৌরবদের সম্মুখীন হন এবং গোধনসমূহ উদ্ধার করে, শত্রুদের পরাজিত করে বিরাট রাজাকে বিপদ থেকে মুক্ত করেন। 'অভিষেক' কবিতায় কবি মধুসূদন অত্যন্ত সচেতনভাবেই দুই শ্রেষ্ঠ যোদ্ধার পরাক্রম বোঝাতে ধনুর্ধর অর্জুনের সঙ্গে ইন্দ্রজিতের সাহসিকতার তুলনা করেছেন।


|| "নাশিতে তারকে মহাসুর' বলতে, দেবসেনাপতি কার্তিকেয়র হাতে

তারকাসুর বধের প্রসঙ্গটি উত্থাপিত হয়েছে। তারকাসুর একসময় স্বর্গরাজ্য অধিকার করে দেবলোকে ত্রাসের সঞ্চার করেছিল। পার্বতী ও মহাদেবের পুত্র দেবসেনাপতি কার্তিকেয় স্বর্গরাজ্য নিষ্কণ্টক করার জন্য তারকাসুরকে বধ করে দেবতাদের রক্ষা করেন। স্বাজাত্যবোধ ও স্বাদেশিকতায় উদ্দীপিত পিতৃভক্ত বীর ইন্দ্রজিৎকে কবি দেবসেনাপতি কার্তিকের সঙ্গে তুলনা করেছেন।


প্রশ্ন:  তবে কেন তুমি, গুণনিধি, ত্যজ কিঙ্করীরে আজি?

—কিঙ্করী” কে? তাঁর চরিত্রবৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।


উওর:  মধুসূদনের 'অভিষেক' কাব্যাংশে কিঙ্করী হলেন প্রমীলা। ‘কিঙ্করী' শব্দের অর্থ দাসী। স্বামীর বিরহে কাতর এক স্ত্রীর আকুতি প্রমীলার এই উক্তির মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।

| প্রমীলা রাবণের পুত্রবধূ, মেঘনাদের স্ত্রী। মহাকাব্যে চিত্রিত প্রমীলা চরিত্র কবির কল্পনাপ্রসূত। মূল বাল্মীকি রামায়ণে এই চরিত্র সম্পর্কে উল্লেখ না-থাকলেও কৃত্তিবাসী রামায়ণে এই চরিত্রের উল্লেখ চরিত্র বৈশিষ্ট্য আছে। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যের সংমিশ্রণে মধুসূদন তাঁর এই মানসকন্যাকে অঙ্কন করেছেন; যা বাংলা সাহিত্যে বিরল।


পতিবিরহে কাতর : পাঠে আমরা প্রমীলাকে পাই এমন এক নারী হিসেবে যিনি যুদ্ধগামী পাতিকে বিদায় দিতে অনিচ্ছুক। একজন কুলবধূর পক্ষে তাই স্বাভাবিক। তিনি পতিপ্রেমে মুগ্ধ, তাই সাময়িক পতিবিরহ যে তাঁর পক্ষে অসহনীয় তার উল্লেখ তাঁর উক্তিতেই পাওয়া যায়।

যোগ্য পত্নী : প্রমীলা মেঘনাদের সুযোগ্য পত্নী। সর্বজয়ী প্রেমে তিনি মেঘনাদকে জয় করেছেন। মেঘনাদের উক্তিতেই তা স্পষ্ট, ইন্দ্ৰজিতে জিতি তুমি, সতি,/বেঁধেছ যে দৃঢ় বাঁধে, কে পারে খুলিতে/ সে বাঁধে ?'—এ কেবল মুখের কথা নয়, এ এক পরমসত্য। নারী যে বিচিত্র রূপ ধরতে পারে, তা প্রমীলার মধ্যে দেখা যায়। যেভাবে তিনি দেব-দৈত্য-নর-ত্রাস রণরঙ্গে মত্ত বীরকে নিজের প্রেমে আবদ্ধ করেছেন তা তুলনাহীন।

প্রশ্ন  ‘যেন উড়িলা মৈনাক-শৈল– পৌরাণিক আখ্যানটি লেখো।

পাঠ্য কবিতা অবলম্বনে ইন্দ্রজিতের লঙ্কাযাত্রার বর্ণনা দাও

উত্তর >  পাঠ্য 'অভিষেক' কাব্যাংশে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত উদ্ধৃত প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন।

কৈলাসের দক্ষিণে অবস্থিত মৈনাক পর্বত হিমালয় ও মেনকার পুত্র। পুরাণ অনুসারে পূর্বকালে পর্বতদের পাখা থাকত। পাখির মতো তাঁরা চারদিকে আকাশপথে ভ্রমণ করতে পারতেন। দেবতা ও ঋষিরা এই পর্বতদের সর্বদা ভয় করতেন। ইন্দ্র একবার ক্রুদ্ধ হয়ে সব পর্বতের পক্ষচ্ছেদ করেছিলেন। কিন্তু মৈনাক পবনদেবের সাহায্যে সাগরে আশ্রয় নিয়ে ইন্দ্রের আক্রমণ থেকে রক্ষা পান। হনুমানের সাগর পার হওয়ার সময় পবনদেবের উপকারের কথা স্মরণ করে তাঁর বিশ্রামের জন্য মৈনাক পর্বত জল থেকে উঠে এসে হনুমানকে তার উপর বিশ্রাম নিতে বলেন। হনুমান তাঁকে স্পর্শ করে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে যান। রামায়ণে আমরা এই কাহিনির

উল্লেখ পাই।

| প্রভাষা যাত্রীর ছদ্মবেশধারী লক্ষ্মীর কাছে স্বর্ণলঙ্কার ঘোরতর দুর্দিনের

কথা শুনে, ইন্দ্রজিতের প্রমোদকানন ত্যাগ করে স্বর্ণলঙ্কার উদ্দেশে যাত্রাকে

কবি মৈনাক শৈলের হেমপাখা বিস্তার করে সমস্ত আকাশময় ঘুরে বেড়ানোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।ক্রুব্ধ ইন্দ্রজিতের ধনুকের টংকার যেন মেঘমাঝে গরুড়ের প্রবল গর্জন। ইন্দ্রজিতের এই প্রবল প্রতাপে স্বর্ণলঙ্কাসহ সমুদ্র বারবার কেঁপে উঠতে থাকে।