জনজীবনে উপদ্বীপীয় মালভূমির গুরুত্ব আলোচনা করো। দশম শ্রেণীর ভূগোল - school book solver

Monday, 6 April 2026

জনজীবনে উপদ্বীপীয় মালভূমির গুরুত্ব আলোচনা করো। দশম শ্রেণীর ভূগোল





প্রশ্ন:  জনজীবনে উপদ্বীপীয় মালভূমির গুরুত্ব আলোচনা করো

উত্তর: ভারতীয় জনজীবনে উপদ্বীপীয় মালভূমির গুরুত্ব: ভারতীয় জনজীবনে উপদ্বীপীয় মালভূমির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ-
(১) খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য: খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য থাকায় মালভূমির
বিভিন্ন অংশে প্রচুর পরিমাণে আকরিক লোহা, কয়লা, চুনাপাথর, তামা, ম্যাঙ্গানিজ প্রভৃতি খনিজ দ্রব্য উত্তোলন করা হয়। এখানকার ছোটোনাগপুর অঞ্চল এইসব খনিজ সম্পদে এতটাই পরিপূর্ণ যে তার জন্য ছোটোনাগপুরকে ‘ভারতের খনিজ ভাঙার' বলা হয়।
(২) কৃষির প্রসার: মালভূমির নদী উপত্যকাগুলিতে প্রচুর পরিমাণে তুলো (রেগুর মৃত্তিকা অঞ্চল), ধান (কৃয়া, গোদাবরী, কাবেরী অববাহিকা ও খান্দেশ সমভূমি), বাদাম, (কর্ণাটকের ময়দান), পিঁয়াজ, আখ (মহারাষ্ট্র সমভূমি), কমলালেবু (নাগপুর সমতলভূমি), আঙুর (কণটিকের ময়দান) প্রভৃতি উৎপন্ন হয়।
(৩) শিল্পের প্রসার: কৃষিজ ও খনিজ কাঁচামাল সংগ্রহের সুবিধা থাকায়
এখানে অনেক শিল্প গড়ে উঠেছে।
(৪)  সেচ ও জলবিদ্যুতের প্রসার: মালভূমি অঞ্চলের নদীগুলি সেচকার্য
এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী।
(৫) অরণ্য সম্পদের প্রাচুর্য; এই মালভূমির বিভিন্ন অংশ অরণ্য সম্পদে সমৃদ্ধ।
(৬) পর্যটন শিল্পের বিকাশ: মনোরম প্রাকৃতিক শোভার জন্য এখানে
অনেক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে, যেমন—আরাবল্লির মাউন্ট আবু,
ছোটোনাগপুরের নেতারহাট, মহাদেব পাহাড়ের পাঁচমারি, তামিলনাড়ুর উদাগামণ্ডলম (উটি), কেরলের মুন্নার প্রভৃতি।