রক্ত ও লৌহ নীতি বলতে কী বোঝো? বিসমার্ক কিভাবে এই নীতির সাহায্যে জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন? নবম শ্রেণীর ইতিহাস । তৃতীয় অধ্যায় - school book solver

Monday, 13 April 2026

রক্ত ও লৌহ নীতি বলতে কী বোঝো? বিসমার্ক কিভাবে এই নীতির সাহায্যে জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন? নবম শ্রেণীর ইতিহাস । তৃতীয় অধ্যায়

 


প্রশ্ন :  রক্ত ও লৌহ নীতি বলতে কী বোঝ? বিসমার্ক কীভাবে এই নীতির সাহায্যে জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন?

উত্তর সংকেত : প্রথম অংশ : রক্ত ও লৌহ নীতি।

 দ্বিতীয় অংশ : বিসমার্কের নেতৃত্বে জার্মানির ঐক্য : (১) ডেনমার্কের সঙ্গে যুদ্ধ, (২) স্যাডোয়ার যুদ্ধ, (৩) সেডানের যুদ্ধ ,উপসংহার।


উত্তর » প্রথম অংশ : ১৮৪৮-৪৯ খ্রিস্টাব্দে জার্মানিতে জাতীয়তাবাদী ঐক্য আন্দোলনের ব্যর্থতা থেকে কয়েকটি বিষয় প্রমাণিত হয়—

(১) নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জার্মানির ঐক্যসাধন সম্ভব নয় এবং 

(২) প্রাশিয়ার নেতৃত্বেই জার্মানির ঐক্য সম্ভব। তাই প্রাশিয়ায় রাজা প্রথম উইলিয়াম অটোভন বিসমার্ককে প্রধানমন্ত্রীর পদে নিযুক্ত করেন (১৮৬২ খ্রিস্টাব্দ)।

রক্ত ও লৌহ নীতি : প্রধানমন্ত্রী বিসমার্কের উদ্দেশ্য ও নীতি ছিল খুব জোরালো। তিনি ছিলেন রাজতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং প্রাশিয়ার রাজতন্ত্রের অধীনে তিনি সমগ্র জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করার পক্ষপাতী। সামরিক বাহিনীর ব্যয়বরাদ্দের প্রশ্নে রাজার সঙ্গে প্রাশিয়ার সংসদের বিরোধ দেখা দেয়। এ প্রসঙ্গে বিসমার্ক প্রাশিয়ার সংসদের অর্থ সংক্রান্ত কমিটিতে বলেছিলেন—বক্তৃতা বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত নয়, বরং

একমাত্র সামরিক শক্তি বা রক্ত ও লৌহ

নীতি' (Policy of Blood and Iron)-র

দ্বারাই সমস্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব।

বিসমার্কের এই নীতি রক্ত ও লৌহ নীতি

নামে পরিচিত। প্রাশিয়ার প্রতিনিধিসভার

সংখ্যাগরিষ্ঠের মতকে উপেক্ষা করেই

তিনি সামরিক প্রস্তুতি চালান এবং পরপর

তিনটি যুদ্ধের মাধ্যমে জার্মানির ঐক্য

সম্পন্ন করেন।


দ্বিতীয় অংশ :

বিসমার্কের নেতৃত্বে জার্মানির ঐক্য : বিসমার্কের নেতৃত্বে জার্মানির ঐক্যকরণ ছিল তিন অঙ্কের নাটকের মতো। রুদ্ধশ্বাসে পর পর তিনটি যুদ্ধের মাধ্যমে দ্রুততালে এই কাজ সম্পন্ন করেন যেমন-

[১] ডেনমার্কের সঙ্গে যুদ্ধ : বিসমার্কের নেতৃত্বে জার্মানির ঐক্যের প্রথম পদক্ষেপ ছিল ডেনমার্কের সঙ্গে প্রাশিয়ার যুদ্ধ। ডেনমার্কের দক্ষিণে শ্লেজউইগ ও হলস্টেইন নামে দুটি ডাচি জার্মানির রাজ্যসীমার মধ্যে অবস্থিত হলেও তা ডেনমার্কের অধীনে ছিল। এই দুটি প্রদেশ দখলের জন্য বিসমার্ক অস্ট্রিয়ার সঙ্গে মিলিত হয়ে ডেনমার্ক এর বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করে তাকে অনায়াসে পরাজিত করে। এরপর ভিয়েনার সদি অনুসারে স্থির হয় যে, স্লেজউইগ পাবে প্রাশিয়া আর হলস্টেইনের ওপর কর্তৃত্ব থাকবে অস্ট্রিয়ার।

[২] স্যাডোয়ার যুদ্ধ : ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়া গ্রেজউইগ- হলস্টেইনের প্রশ্নটি কনফেডারেশনের ডায়েটের নিকট উপস্থিত করলে তা গ্যাস্টিনের চুক্তির বিরোধী এই অভিযোগে প্রাশিয়া হলস্টেইনে সেনা পাঠায়। এর প্রতিবাদে অস্ট্রিয়ার নেতৃত্বে ডায়েট প্রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করে। মাত্র ছয় সপ্তাহকাল এই যুদ্ধ স্থায়ী হয়েছিল। ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে স্যাডোয়ার যুদ্ধে (Battle of Sadowa) অস্ট্রিয়া চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়। এর ফলে জার্মানির ওপর অস্ট্রিয়ার কর্তৃত্ব নষ্ট হয় এবং প্রাশিয়ার কর্তৃত্ব স্থাপিত হয়।

[৩] সেডানের যুদ্ধ : স্যাডোয়ার যুদ্ধের ফলে জার্মানির ঐক্য আংশিকভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। বিসমার্ক বুঝেছিলেন যে, জার্মান জাতির সম্পূর্ণ ঐক্যের পথে ফ্রান্সই প্রধান বাধা। তাই ফ্রান্সকে বিচ্ছিন্ন করে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বিসমার্ক যুদ্ধের

অজুহাত খুঁজতে থাকেন। শীঘ্রই স্পেনের সিংহাসন নিয়ে ফ্রান্স ও প্রাশিয়ার মধ্যে এক বিবাদ উপস্থিত হয়। এই বিবাদের সূত্র ধরেই এমস টেলিগ্রামকে কেন্দ্র করে বিসমার্ক এমন অবস্থা সৃষ্টি করেন যে, ফ্রান্স নিজেই প্রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করে। ইউরোপীয় শক্তিগুলি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ফ্রান্স সহজেই প্রাশিয়ার কাছে পরাজিত হতে থাকে। অবশেষে ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে সেডানের যুদ্ধে ফ্রান্স (১ সেপ্টেম্বর, ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দ) সম্পূর্ণ পরাজিত হয়। ফ্রান্স ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে অপমানজনক শর্তে ফ্রাঙ্কফোর্টের সন্ধি মেনে নিতে বাধ্য হয়। এই সন্ধি অনুযায়ী ফ্রান্স দক্ষিণ জার্মানিতে মেট্‌জ দুর্গ ও আলসাস-লোরেন অঞ্চল জার্মানিকে হস্তান্তর করলে জার্মানির ঐক্য সম্পূর্ণ হয়।

উপসংহার : এভাবে বিসমার্ক যুদ্ধ ও কুটনীতির সাহায্যে জার্মানির ঐক্য সম্পন্ন করেন। প্রাশিয়ারাজ উইলিয়াম জার্মানির সম্রাট এবং বিসমার্ক জার্মানির প্রধানমন্ত্রী হন।