আফ্রিকা কবিতা সকল প্রশ্নের উত্তর । দশম শ্রেণী
আফ্রিকা কবিতা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ছোট প্রশ্ন
প্রশ্ন: 'বাঁধলে তোমাকে'—কী দিয়ে?
উত্তর> সমুদ্র পৃথিবীর পূর্বভাগ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে
বেঁধেছিল বনস্পতির নিবিড় পাহারায়, অরণ্যের অন্ধকারে।
প্রশ্ন: 'কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে। -আলো কৃপণ কেন ?
উত্তর> আফ্রিকা মহাদেশ ঘন নিবিড় অরণ্যে ঢাকা যেখানে সূর্যের আলো
প্রবেশ করতে পারে না। কৃপণ শব্দের অর্থ ব্যয়কুণ্ঠ। অর্থাৎ নিবিড় অরণ্যানীতে ঢাকা আফ্রিকা মহাদেশে আলো প্রবেশ করতে পারে না। অন্ধকারে ঢাকা তাই আলোকে কৃপণ বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: 'কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে বলার অর্থ কী?
উত্তর> 'কৃপণ আলোর অন্ত্যপুরে কথাটির অর্থ যেখানে আলোর প্রবেশপথ সুগম নয়। অর্থাৎ উদ্ধৃতাংশটি জঙ্গলময় আফ্রিকার দুর্গম ও অন্ধকার রহস্যময়তার প্রতীক।
প্রশ্ন; আফ্রিকা নিভৃত অবকাশে কী করছিল?
উত্তর> সমুদ্র যখন পূর্বাঞ্চলীয় ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকাকে বিচ্ছিন্ন করেছিল
তখন অরণ্যের অন্ধকারে আফ্রিকা দুর্গনের রহস্য সংগ্রহে ব্যস্ত ছিল।
প্রশ্ন: কেচিনেছিলে জলস্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেত।
উত্তর> বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'আফ্রিকা' কবিতা থেকে গৃহীত
প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে জল-স্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেতকে আফ্রিকা চিনেছিল।
প্রশ্ন: কার অনুরোধে রবীন্দ্রনাথ 'আফ্রিকা' কবিতাটি লেখেন?
উত্তর> রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবি অমিয় চক্রবর্তীর অনুরোধে 'আফ্রিকা'
কবিতাটি লেখেন।
প্রশ্ন: ‘উদভ্রান্ত সেই আদিম যুগে' কী ঘটেছিল ?
উত্তর> রবীন্দ্রনাথের 'আফ্রিকা' কবিতায় উদ্ভ্রান্ত আদিম যুগে স্রষ্টা নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁর সৃষ্টিকে নিখুঁত করার জন্য সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করছিলেন।
প্রশ্ন: ‘'স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে- স্রষ্টা নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন কেন?
উত্তর> কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতা অনুসারে, উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম সময়ে স্রষ্টা তাঁর নিজের সৃষ্টির মধ্যে খুঁত বা ঘাটতি দেখে বিরূপতায় নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে উঠেছিলেন।
প্রশ্ন: ‘শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে – কে, কীভাবে শঙ্কাকে হার মানাতে চেয়েছিল ?
উত্তর> দুর্গম, দুর্ভেদ্য ছায়াবৃতা আফ্রিকা নিজেকে উগ্র করে বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমায়, বিধ্বংসী তাণ্ডবলীলার প্রচন্ড শব্দে শঙ্কাকে হার মানাতে চেয়েছিল।
প্রশ্ন:> 'কালো ঘোমটার নীচে'কালো ঘোমটার নীচে কী ছিল?
উত্তর> কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'আফ্রিকা' কবিতায় বলেছেন কালো ঘোমটা নীচে অপরিচিত ছিল আফ্রিকার মানবরূপ। অর্থাৎ আফ্রিকা মহাদেশে মানবরূপ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির কাছে উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে যেন অরে
ঢাকা কালো ঘোমটার নীচে অপরিচিত ছিল।
প্রশ্ন: ‘তাঁর সেই অধৈর্যে ঘন-ঘন মাথা নাড়ার দিনে – ঘনঘন মাথা নাড়ার কারণ কী ছিল?
উত্তর > ‘আফ্রিকা' কবিতায় স্রষ্টা তাঁর নতুন সৃষ্টির প্রতি বিরূপ হয়ে তাকে
নিখুঁত করার জন্য অর্থাৎ বারংবার প্রাকৃতিক পটভূমি পরিবর্তনের জন্য অধৈর্যে ঘনঘন মাথা নাড়ছিলেন।
প্রশ্ন: ‘ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে'—কাকে, কে ছিনিয়ে নিয়ে গেল ?
উত্তর> ‘আফ্রিকা' কবিতা অনুসারে স্রষ্টা নিজের সৃষ্টির প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে
যখন বারবার প্রাকৃতিক পটভূমির বদল ঘটাচ্ছিলেন। সেইসময় উত্তাল সমুদ্র পৃথিবীর পূর্বভাগ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
প্রশ্ন: সমুদ্র আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে কীভাবে রেখেছিল ?
উত্তর > সমুদ্র পৃথিবীর পূর্বভাগ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে
নিবিড় অরণ্যের অন্ধকারে বন্দি করে রেখেছিল। এক্ষেত্রে কবিকল্পনায়
আফ্রিকার দুর্গম সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন: ‘তোমার চেতনাতীত মনে?—'চেতনাতীত কথাটি কী অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে?
উত্তর> কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা' কবিতার কল্পনা করা যায় এমন সময়কালেরও আগেকার সময়কে বোঝাতে ‘চেতনাতীত” শব্দটিকে ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রশ্ন: ‘বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে—কীভাবে বিদ্রূপ করেছিল?
উত্তর > পাঠ্য কবিতা অনুসারে আফ্রিকা মহাদেশ আদিম রহস্যময়তায় ভর করে ভয়াবহ ভীষণকেই যেন বিদ্রুপ করেছিল।
প্রশ্ন: আফ্রিকা উপেক্ষিত কেন ?
উত্তর > আফ্রিকার প্রাকৃতিক দুর্গমতা ও রহস্যময়তা পৃথিবীর বাকি অ
থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। আধুনিক সভ্যতার আলো সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি। তাই সে উপেক্ষিত।
প্রশ্ন: 'এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে,- 'ওরা' কারা ?
অথবা, 'এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে :- কারা লোহার হাতকড়ি নিয়ে এল?
উত্তর > 'আফ্রিকা' কবিতায় 'ওরা' বলতে অত্যাচারী ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের বলা হয়েছে, যারা আফ্রিকার মানুষদের বন্দি করে ক্রীতদাসে পরিণত করেছিল।
প্রশ্ন: 'এল মানুষ-ধরার দল- 'মানুষ ধরার দল' বলতে কী বোঝ ?
অথবা, 'এল মানুষ-ধরার দল' – কবি কাদের মানুষ ধরার দল বলেছেন ?
উত্তর> রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতায় নির্মম, অত্যাচারী ও দাস-ব্যবসায়ী ঔপনিবেশিক শ্বেতাঙ্গ শাসককে ‘মানুষ-ধরার দল' বলা হয়েছে।
প্রশ্ন : 'এল মানুষ-ধরার দল - কারা এসেছিল ?
উত্তর > বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা' কবিতায় মানুষ-ধরার দল বলতে নির্দয় ও হিংস্র সাম্রাজ্যবাদী শাসকের কথা বলেছেন। ইউরোপীয় শাসককুল আফ্রিকায় এসেছিল মানুষ ধরার জন্য। ক্রমে ক্রমে আফ্রিকা হয়ে
ওঠে পশ্চিমি সভ্য দেশগুলির জন্য ক্রীতদাস জোগানোর ক্ষেত্র।
প্রশ্ন:;'এল মানুষ-ধরার দল – মানুষ-ধরার দলের স্বভাব কেমন ছিল?
উত্তর > কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতায় ‘মানুষ-ধরার দল’ অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদী শ্বেতাঙ্গ শাসকেরা ছিল নিষ্ঠুর-অত্যাচারী দাস-ব্যবসায়ী।
তারা পীড়ন-অপমান ও লাঞ্ছনায় আফ্রিকাকে বিধ্বস্ত করেছিল।
প্রশ্ন: নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে’— এর দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর> 'আফ্রিকা' কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ আফ্রিকার মানুষদের ওপর সাম্রাজ্যবাদী শ্বেতাঙ্গ শাসকের বর্বর ও পাশবিক অত্যাচারের ভয়াবহতার কথা বলতে গিয়ে তাদের বন্য নেকড়ের চেয়েও নিষ্ঠুর এবং হিংস্র বলে অভিহিত করেছেন।
প্রশ্ন: 'গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।-তাৎপর্য লেখো।
উত্তর> সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ক্ষমতাবলে আফ্রিকার সভ্যতা, সংস্কৃতি ও মানবতার অপমৃত্যু ঘটিয়েছে। তাই 'আফ্রিকা' কবিতায় তাদের গর্বকে আফ্রিকার গভীর অন্ধকার বনভূমির চেয়ে অন্ধ বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: 'সভ্যের বর্বর লোভ' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ইউরোপের তথাকথিত 'সভ্য' জাতিগুলি আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন করে সেখানকার সম্পদ লুঠ করে স্থানীয় মানুষদেরকে ক্রীতদাসে পরিণত করে। এই নির্মমতাকেই কবি শ্বেতাঙ্গ সাম্রাজ্যবাদীদের 'বর্বর লোভ’ বলে অভিহিত করেছেন।
প্রশ্ন: 'নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা / — কীভাবে নির্লজ্জ
অমানুষতা প্রকাশ পেল ?
উত্তর > পাশ্চাত্য ঔপনিবেশিক শক্তির নির্মম অত্যাচার ও আগ্রাসনে
ক্ষতবিক্ষত হয় আফ্রিকা মহাদেশ। প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ, সথানীয় সংস্কৃতির বিনাশ এবং কদর্য দাসপ্রথার প্রচলনের মধ্য দিয়ে শ্বেতাঙ্গা শাসকেরা তাদের 'নির্লজ্জ অমানুষতা'-র প্রকাশ ঘটিয়েছিল।
প্রশ্ন: 'চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।। -'চিরচিহ্ন' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর> সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক শাসকের অত্যাচারে-অপমানে যুগ
যুগ ধরে ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার কলঙ্কিত ইতিহাসকে কবি "চিরচিহ্ন শব্দটির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।
প্রশ্ন: ‘সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায়—কী ঘটে চলেছিল?
উত্তর> ‘আফ্রিকা” কবিতা অনুসারে সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের
পাড়াতে দয়াময় দেবতার নামে সকাল-সন্ধ্যায় মন্দিরে বেজেছিল পুজোর ঘণ্টা। সেসময় মায়ের কোলে শিশুরা খেলছিল আর কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল সুন্দরের আরাধনা ।
প্রশ্ন : ‘শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে;—কখন কোথায় শিশুরা খেলছিল ?
উত্তর> ‘আফ্রিকা’কবিতা অনুসারে বর্বর শ্বেতাঙ্গ শাসকের হাতে আফ্রিকারমানুষেরা যখন শোষিত ও অত্যাচারিত হচ্ছিল, তখন সমুদ্রপারে তাদের দেশে fমন্দিরে বাজছিল ঘণ্টাধ্বনি আর নিশ্চিন্তে নিরাপদে শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে।
প্রশ্ন: কবির সংগীতে কিঢ়বেজে উঠেছিল?
উত্তর> কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’কবিতা অনুসারে কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল সুন্দরের আরাধনা।
প্ৰশ্ন; ‘আজ যখন পশ্চিম দিগন্তে'—পশ্চিম দিগন্তে কী ঘটে চলেছিল?
উত্তর> ‘পশ্চিম দিগন্তে' অর্থাৎ পাশ্চাত্য দেশগুলিতে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে মানুষের মধ্যেকার পাশবিক শক্তি বেরিয়ে এসে অশুভ ধ্বনিতে সভ্যতার অন্তিমকাল ঘোষণা করছিল।
প্রশ্ন: 'এসো যুগান্তের কবি ... - কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'যুগান্তের কবি'-র কাছে কোন্ আহ্বান জানিয়েছেন ?
অথবা, 'এসো যুগান্তের কবি,'- কবির ভূমিকাটি কী হবে?
অথবা, 'এসো যুগান্তের কবি, -- যুগান্তরের কবিকে কোথায় এসে দাঁড়াতে বলা হয়েছে ?
উত্তর> কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'আফ্রিকা' কবিতায় 'যুগান্তের কবির কাছে 'মানহারা মানবী' তথা আফ্রিকার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সকলের হয়ে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থাৎ, যুগান্তের কবি মানবতার পূণ্য বাণীতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ ও দীক্ষিত করবেন।
প্রশ্ন: ‘আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে- সন্ধ্যাকাল আসন্ন কেন?
উত্তর > 'পশ্চিম দিগন্তে' অর্থাৎ পাশ্চাত্য দেশগুলিতে ক্ষমতা দখলের
লড়াইয়ে মানুষের মধ্যেকার পাশবিক শক্তি বেরিয়ে এসে অশুভ ধ্বনিতে
ঘোষণা করেছে সভ্যতার অভিমকাল। তাই রূপকার্থে বলা হয়েছে সন্ধ্যাকাল
আসন্ন।
প্রশ্ন; ‘দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে'- কবি কাকে এই আহ্বান করেছেন?
উত্তর> রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতা থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে কবি যুগান্তের কবিকে মানহারা মানবী আফ্রিকার সামনে দাঁড়াবার কথা বলেছেন।
প্রশ্ন::;আফ্রিকার দুর্দিনে কবি কীভাবে তার পাশে থাকতে চেয়েছেন?
উত্তর > সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ঘোর বিরোধী রবীন্দ্রনাথ ঔপনিবেশিক শাসন-পীড়নে ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার ওপর নির্মম অত্যাচার ও অপমানের জন্য যুগান্তের প্রতিভূ হয়ে তার কাছে ক্ষমা চাইতে চান।
প্রশ্ন:: বলো ‘ক্ষমা করো—কীসের জন্য এই ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন?
উত্তর > আফ্রিকা মহাদেশের ইতিহাস শ্বেতাঙ্গ ঔপনিবেশিক শাসকের নির্মম অত্যাচারে কলঙ্কিত। তাই কবি মনে করেন অপমানিত আফ্রিকা, ও তার অধিবাসীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নেওয়াটাই সভ্যসমাজের প্রতি
শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কর্তব্য। এই জন্যই কবি ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন।
প্রশ্ন: 'ক্ষমা করো'—উচ্চারণটি সভ্যতার পুণ্যবাণী হয়ে উঠবে কেন?
উত্তর> 'আফ্রিকা' কবিতায় কবি মনে করেন ক্ষমাপ্রার্থনার মধ্য দিয়ে প
শেতাঙ্গ শাসকের উপনিবেশিক পাপের প্রায়শ্চিত্ত ঘটবে।
প্রশ্ন: 'সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী। -“সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী'-টি কী ?
উত্তর> শ্বেতাঙ্গ সাম্রাজ্যবাদী শাসকের নির্দর অত্যাচারে ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনাকেই কবি হিংস্র প্রলাপের মাঝে সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী বলে মনে করেছেন।
প্রশ্ন: 'আফ্রিকা' কবিতার কবিগুরু অপমানিত ইতিহাসের বিপরীতে কোন বিষয়টিকে স্থাপিত করেছেন?
উত্তর> ‘আফ্রিকা' কবিতায় কবিগুরু অপমানিত ইতিহাসের বিপরীতে
আফ্রিকা ও তার অধিবাসীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নেওয়াটাই সভ্যসমাজে প্রতিটি শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কর্তব্য বলে মনে করেছেন।
প্রশ্ন: 'স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে'—'স্রষ্টা' কে? তিনি নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন কেন?
উত্তর> রবীন্দ্রনাথের 'আফ্রিকা' কবিতা থেকে অংশটি গৃহীত। যিনি সৃষ্টি করেন তিনিই স্রষ্টা। এখানে কবি ঈশ্বরকেই ‘স্রষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।
|| স্রষ্টার ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তুষ্টি হয় না যতক্ষণ-না তাঁর সৃষ্টিকর্ম নিজের
মনোমতো হয়। সেই সত্যকে কল্পনা করেই কবি বলতে চেয়েছেন সৃষ্টির আদিম লগ্নে ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টিকে বারবার ধ্বংস করে নতুনভাবে গড়ে তুলছিলেন। কিন্তু তা কখনোই তাঁর মনোমতো হচ্ছিল না। এই কারণে তিনি নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন।
★প্রশ্ন: ‘ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে,- 'তোমাকে' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? তাকে কে, কোথা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে?
উত্তর> রবীন্দ্রনাথের 'আফ্রিকা' কবিতায় ‘তোমাকে' বলতে আফ্রিকা মহাদেশকে বোঝানো হয়েছে।
| আদিম পৃথিবীর বুকে ঘটে যাওয়া ভৌগোলিক বিবর্তনকে এখানে কবি
ফুটিয়ে তুলেছেন এক আশ্চর্য ব্যঞ্জনায়। বৈজ্ঞানিকদের মতে টেকটনিক প্লেটগুলির নড়াচড়ার ফলেই এশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কবি এরই কাব্যিক রূপ দিয়ে বলেছেন, রুদ্র সমুদ্র মূল ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে যেন বনস্পতির নিবিড় পাহারায় কৃপণ আলোর অন্তরালে তাকে নিক্ষেপ করেছিল।
প্রশ্ন: ‘কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে। – আফ্রিকাকে কে, কীভাবে বেঁধেছিল?
উত্তর: কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পাঠ্য কবিতায় আফ্রিকা মহাদেশ্যে
জন্মরহস্যকে এক আশ্চর্য কাব্যিক রূপ দিয়েছেন। পাতগাঠনিক তত্ত্ব অনুযায়ী পাতের নড়াচড়ার ফলে এশিয়া মহাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েই এই আফ্রিকার সৃষ্টি। কবির ভাষায় সৃষ্টির আদিম লগ্নে রুদ্র সমুদ্রের বাহু তাকে মূল ভূখণ্ড থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তারপর বিচ্ছিন্ন আফ্রিকাকে বনস্পতির নিবিড় পাহারায় অর্থাৎ দুর্গম আরণ্যক জগতের ছায়াঘেরা রহস্যময়তায় বেঁধে রাখে।
প্রশ্ন: ‘হায় ছায়াবৃতা,’–‘ছায়াবৃতা” কে? তাকে ছায়াবৃতা বলার কারণ কী ?
অথবা, ‘অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ" বলার কারণ কী?
উত্তর> রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'আফ্রিকা' কবিতায় আফ্রিকা মহাদেশকে ‘ছায়াবৃতা বলে সম্বোধন করেছেন।
| 'ছায়াবৃতা' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ছায়া দ্বারা আবৃতা বা ছায়াঢাকা। দুটি অরণ্যে ঘেরা আফ্রিকা মূল ভূখণ্ড থেকে বহুদূরে অবস্থিত। আধুনিক সভ্যতা ও জ্ঞানের আলো থেকে সে বঞ্চিত। দুর্গমতার কারণে উনিশ শতকের আগে পর্যন্ত আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ ও নিজস্ব সংস্কৃতি বাকি বিশ্বের কাছে অজানাই রয়ে গেছে তার রহস্যময় অরণ্যের মতোই।
প্রশ্ন: "অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ – কার রূপ কেন অপরিচিত। সেই মানবরূপের পরিচয় দাও।
উত্তর> আফ্রিকা মহাদেশের মানবরূপ অপরিচিত ছিল। দুর্গম অরণ্যে ঘেরা আফ্রিকা মূল ভূখণ্ড থেকে বহুদূরে অবস্থিত ছিল। তাই সভ্য জগতের কাছে আফ্রিকার মানবরূপ অপরিচিত ছিল। আবার ব্যাঞ্জনা অর্থে বলা যায় আফ্রিকা মহাদেশের মানবরূপ সাম্রাজ্যবাদী
দেশগুলির কাছে উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে যেন অরণ্যে ঢাকা কালো ঘোমটা'-র নীচে অপরিচিত ছিল।
> সভ্যতার আদিমতম লগ্নে পৃথিবীর পূর্বভাগের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন
হয়ে আফ্রিকা মহাদেশের জন্ম। সেখানে দুর্গম জঙ্গলে ঢাকা রহস্যময় জগৎ ছিল ছায়াবৃত। দীর্ঘকাল ধরে তথাকথিত সভ্য মানুষের চোখের আড়ালে প্রকৃতি তাকে মনের মতো করে সাজিয়েছিল। আরণ্যক প্রকৃতির নিবিড় পাহারায় সেখানকার বন্যপ্রাণী-মরভূমি-মানুষ ও তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ছিল সকলের দৃষ্টির অগোচর।
প্রশ্ন: 'এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে, – ওরা কারা? তাদের পরিচয় দাও।
উত্তর > কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'আফ্রিকা' কবিতায় ওরা হল
সাম্রাজ্যবাদী শ্বেতাঙ্গ শাসকদল।
> পাশ্চাত্য ঔপনিবেশিক শক্তির নির্মম অত্যাচার ও আগ্রাসনে ক্ষতবিক্ষত হয় আফ্রিকা মহাদেশ, এই সাম্রাজ্যবাদী শ্বেতাঙ্গ শাসকেরা ছিল নিষ্ঠুর অত্যাচারী দাস-ব্যবসায়ী। তারা পীড়ন-অপমান ও লাঞ্ছনায় আফ্রিকাকে বিধ্বস্ত করেছিল।শ্বেতাঙ্গ ঔপনিবেশিক শক্তির লাঞ্ছনা ও নির্যাতনে আফ্রিকার বনজঙ্গল বারংবার রক্তাক্ত হয়েছিল। এই ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হয়ে উঠেছিল বন্য নেকড়ের চেয়েও হিংস্র এবং কদর্য। তারা লোহার হাতকড়ি নিয়ে এসে আফ্রিকাবাসীকে বন্দি করে দাসে পরিণত করে রাখত। অবক্ষরী এই তথাকথিত সভ্যরা ছিল দাস-ব্যবসায়ী।
প্রশ্ন : নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে,- 'যাদের' বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের নখ নেকড়ের চেয়ে তীক্ষ্ণ বলার কারণ কী?
উত্তর> রবীন্দ্রনাথ তাঁর আফ্রিকা' কবিতার 'যাদের' বলতে সাম্রাজ্যবাদী
শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের বুঝিয়েছেন।
|| মুসোলিনির ইথিওপিয়ায় অনুপ্রবেশের প্রতিক্রিয়া হিসেবে কবি তাঁর এই 'আফ্রিকা' কবিতাটি লিখেছিলেন। কবি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হিংস্রতাকে বোঝাতে “নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছেন। অরণ্য সংকুল আফ্রিকা মহাদেশ হিংস্র শ্বাপদপূর্ণ। কিন্তু ইউরোপীয়
ঔপনিবেশিকদের নির্মম হিংস্রতা সেইসব হিংস্র প্রাণীদের চেয়েও ভয়ংকর এ কথা বোঝাতেই কবি শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছেন।
প্রশ্ন : 'এল মানুষ-ধরার দল- 'মানুষ-ধরার দল' কোথায় এল? তাদের মানুষ-ধরার দল' বলার কারণ কী?
উত্তর> কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত “আফ্রিকা' কবিতায় মানুষ-ধরার দল' বলতে নির্দয় ও হিংস্র সাম্রাজ্যবাদী শাসকের কথা বলেছেন। ইউরোপীয় শাসককুল আফ্রিকায় এসেছিল মানুষ ধরার জন্য।
> শেতাঙ্গা ঔপনিবেশিক শক্তির পানা এবং নির্যাতন আফ্রিকার বনজঙ্গল বারংবার রস্তার হয়েছিল। তাদের নির্বিচার খুন ও হত্যার নৃশংসতায়, তারা হয়ে উঠেছিল বন্য নেকড়ের চেয়েও হিংস্র এবং কদর্য। অবক্ষয়ী এ তথাকথিত সভ্যরা ছিল দাস-ব্যবসায়ী। কবির মতে নিরীহ মানুষকে পণ্য হিসেবে কেনাবেচা করার মিথ্যা গর্ব কিংবা অহমিকা আসলে এদের অসভ্য অমানবিকতার প্রকাশ। ইউরোপীয় শাসককুলের বর্বর লোভের এই ঘৃণ্য-করুণ ইতিহাসটির কখনও ‘এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে' কিংবা 'এল মানুষ-ধরার দল' শব্দবন্ধের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রশ্ন: ‘সভ্যের বর্বর লোভ/নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।—তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও ।
অথবা, ‘গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে। —উদ্ধৃতাংশটির অন্তর্নিহিত অর্থ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর> মানবতার পূজারি রবীন্দ্রনাথ। আফ্রিকার জনজাতি, তার ঐতিহ্য ও
সংস্কৃতির ওপর নেমে আসা ঔপনিবেশিক শক্তির তথা সাম্রাজ্যবাদের হিংস্র অত্যাচারের প্রতিবাদে তিনি মুখর হয়েছেন। ইউরোপের প্রায় প্রতিটি সভ্য দেশই আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন করে। কিন্তু ক্ষমতালোভী সেইসব দেশ আফ্রিকার সম্পদ লুণ্ঠন করে সেখানকার মানুষকে অত্যাচারে, অপমানে ও লাঞ্ছনায় বিধ্বস্ত করে তোলে। নিরপরাধ আফ্রিকাবাসীর ঘামে-রক্তে আর কান্নায় ভিজে ওঠে সেখানকার মাটি। তথাকথিত সভ্যের এই বর্বর লোভ কবির কাছে তাদের নির্লজ্জ অমানুষতারূপে প্রতিভাত হয়েছে।
প্রশ্ন: ‘নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।-কারা, কীভাবে
তাদের নগ্নতা প্রকাশ করল?
উত্তর> আফ্রিকার ইতিহাস শ্বেতাঙ্গ ঔপনিবেশিক শাসকের নির্মম
অত্যাচারে কলঙ্কিত। তারা যুগ যুগ ধরে সে-দেশে চালিয়েছে হত্যা, ধ্বংসলীলা ও নিরপরাধ মানুষের মারণযজ্ঞ। শাসকের বর্বর লোভ, হিংসা এবং মনুষ্যত্বহীনতার ফলেই সেখানে ঘৃণ্য দাসপ্রথার প্রচলন সম্ভব হয়েছিল। এই সাম্রাজ্যবাদী স্বঘোষিত সভ্যের দল আফ্রিকা মহাদেশের
বুকে এঁকে দিয়েছিল লাঞ্ছনা, বঞ্চনা ও অপমানের চিরচিহ্ন। এদের নির্লজ্জ লালসায় বারবার লুণ্ঠিত হয়েছে আফ্রিকার সম্পদ এবং সংস্কৃতি। মানুষের কান্না-ঘাম আর রক্তে পঙ্কিল হয়েছে এখানকার মাটি। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এই মনুষ্যত্ব-বিরোধী বর্বরতাকেই কবি নগ্ন
' নির্লজ্জতা' বলে মনে করেছেন।
প্রশ্ন: 'সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই'— 'সমুদ্রপারে' বলতে বোঝানো হয়েছে ? সেই মুহূর্তে কী ঘটেছিল ?
উত্তর> রবীন্দ্রনাথের 'আফ্রিকা' কবিতায় 'সমুদ্রপারে' বলতে ইউরোপ মহাদেশকে বোঝানো হয়েছে।
॥ সাম্রাজ্যবাদী শাসকের দল যখন আফ্রিকায় নিজেদের অধিকার কায়েমের জন্য অমানবিক শোষণ চালাচ্ছিল, তখন আফ্রিকাবাসীর রক্তে ও ঘামে সেখানকার অরণ্য পথের ধুলো কাদায় পরিণত হয়েছিল। অথচ সেই সময় তাদের নিজেদের দেখে কিন্তু নিরুপদ্রপ শান্তি বিরাজমান ছিল। সেখানে পাড়ায় পাড়ায় মন্দিরে পূজার ঘন্টা বাজছিল আর ঈশ্বরের উপাসনা চলছিল। শিশুরা মায়ের কোলে নিরাপদে খেলে বেড়াচ্ছিল। সুন্দরের আরাধনায় বেজে উঠেছিল কবির সংগীত। এভাবেই শাসক ও শোষিতের বৈপরীত্যপূর্ণ অবস্থান বর্ণনার মাধ্যমে কবি সাম্রাজ্যবাদী শাসকের দ্বিচারিতাকে তুলে ধরেছেন।
প্রশ্ন: 'অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করল দিনের অন্তিমকাল - 'অশুভ ধ্বনি' বলতে কী বোঝানো হয়েছে। 'দিনের অন্তিমকাল' ঘোষণা করার মর্মার্থ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর> রবীন্দ্রনাথের 'আফ্রিকা' কবিতাটি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কবির এক সোচ্চার প্রতিবাদ। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত হয়—যার পরিণাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ক্ষুধিত পশুর মতোই ক্ষমতার লোভে মত্ত শ্বেতাঙ্গ শাসকদের রণহুংকারকে এ কবিতায় ‘অশুভ ধ্বনি' বলা হয়েছে।
II `দিনের অন্তিমকাল' বলতে একদিকে যুগান্তের ইঙ্গিত ও ধ্বংসের পূর্বাভাস, আর অন্যদিকে ক্ষমতালোভী শাসকের নির্দয় শাসন অবসানের এক সুস্পষ্ট ঘোষণা।
প্রশ্ন ‘এসো যুগান্তের কবি,—‘যুগান্তের কবি’-কে কেন আহ্বান করা হয়েছে?
উত্তর> কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘যুগান্তের কবি'-র কাছে, মানহারা মানবী' তথা আফ্রিকার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সকলের হয়ে ক্ষমাপ্রার্থনার
আহ্বান জানিয়েছেন। কবি দেখেছেন পশ্চিম দিগন্তে সন্ধ্যা নেমেছে; সভ্যতার সূর্য ঔপনিবেশিক অত্যাচারে, মানবতার অপমানে অস্তাচলগামী। সভ্য দুনিয়ার অসভ্য আগ্রাসন প্রকট হয়ে উঠেছে, পশুরা গুপ্ত গহ্বর থেকে বেরিয়ে অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করেছে দিনের অন্তিমকাল'। তাই কবি মনে করেছেন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের উচিত এই বর্বরোচিত রাষ্ট্রশক্তির বর্বরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো; আর সেই কারণেই কবি যুগান্তের কবিকে তাঁদেরই প্রতিনিধি করে আহ্বান জানিয়েছেন। যুগান্তের কবি মানবতার পুণ্যবাণীতে সকলকে উদ্বুদ্ধ ও দীক্ষিত করবেন—এটাই কবির বিশ্বাস।
প্রশ্ন: দাঁড়াও এই মানহারা মানবীর দ্বারে:- কাকে দাঁড়াতে বলা হচ্ছে ? 'মানহারা মানবী' সম্বোধনের কারণ কী?
উত্তর> রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতা থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে কবি যুগাস্তের কবিকে মানহারা মানবী আফ্রিকার সামনে দাঁড়াবার কথা বলেছেন।
|| সামাজ্যবাদী শক্তির হাতে আফ্রিকা যুগে যুগে শোষিত হয়েছে।
ক্ষমতালোভী তথাকথিত সভ্য পশ্চিমি দেশগুলি বারবার নিজেদের অধিকার
কারেন করেছে আফ্রিকার। আফ্রিকার অধিবাসীদের রক্ত ও অশ্রু ঝরে পড়ে তার বনভূমির ধুলিকে কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল করে তুলেছে। আফ্রিকার আত্মসম্মান ও মর্যাদা ধুলিসাৎ হয়েছে বারবার। তাই কবি আফ্রিকাকে 'মানহারা মানবী বলেছেন।
প্রশ্ন: 'সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।।- সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণীটি কী? বিষয়টি ব্যাখ্যা করে লেখো।
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতা অনুসারে সভ্যতার শেষ
পুণ্যবাণীটি হল, শ্বেতাঙ্গ শাসকের অত্যাচারে ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা।
॥ সাম্ৰাজ্যবাদী-ঔপনিবেশিক শক্তির হাতে চিরকাল আফ্রিকা শোষিত ও
অত্যাচারিত হয়েছে। তারা নির্বিচারে সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করেছে বন্যপ্রাণী আর মানুষদের হত্যা করেছে কিংবা ক্রীতদাসে পরিণত করেছে। আফ্রিকার নিরীহ, নিরপরাধ জনগণের ঘামে, রক্তে ও কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে সে-দেশের মাটি ও বাতাস। এ ইতিহাস লাঞ্ছনা, বঞ্চনা এবং অপমানের। তাই এমন অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে মানবতাবাদী কবি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের প্রাক্কালে বিশ্বব্যাপী হিংস্র প্রলাপের মধ্যে আফ্রিকার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সকলকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রশ্ন: : ‘সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী — কীসের মধ্যে উচ্চারিত এই পুণ্যবাণী? পুণ্যবাণীর স্বরূপ কী?
উত্তর> ‘আফ্রিকা’ কবিতায় যুগ যুগ ধরে অত্যাচারিত আফ্রিকার কাছে যুগান্তের কবির সকলের হয়ে ক্ষমাপ্রার্থনার মাধ্যমে সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণীটি উচ্চারিত হয়েছে।
॥ সাম্ৰাজ্যবাদী-ঔপনিবেশিক শক্তির হাতে চিরকাল আফ্রিকা শোষিত ও
অত্যাচারিত হয়েছে। তারা নির্বিচারে সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করেছে বন্যপ্রাণী আর মানুষদের হত্যা করেছে কিংবা ক্রীতদাসে পরিণত করেছে।
আফ্রিকার নিরীহ, নিরপরাধ জনগণের ঘামে, রক্তে ও কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে সে-দেশের মাটি ও বাতাস। এ ইতিহাস লাঞ্ছনা, বঞ্চনা এবং অপমানের। তাই এমন অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে মানবতাবাদী কবি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের প্রাক্কালে বিশ্বব্যাপী হিংস্র প্রলাপের মধ্যে আফ্রিকার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সকলকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বড়ো প্রশ্লের উত্তর
প্রশ্ন: 'আফ্রিকা' কবিতায় মানবতার মর্মবাণী ধ্বনিত হয়েছে।—কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো।
উত্তর> সাম্রাজ্যবাদের ঘোর বিরোধী, মানবতার পূজারি রবীন্দ্রনাথ।
তাই মুসোলিনির ইথিওপিয়ায় অনুপ্রবেশকে ধিক্কার জানিয়ে লেখা ‘আফ্রিকা’ কবিতায় মানবতার মর্মবাণী ধ্বনিত হবে এটাই স্বাভাবিক। কবিতাটি আফ্রিকার সমাজ ও রাজনৈতিক ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। সৃষ্টির আদিতে আফ্রিকা তৈরি হয়েছিল প্রকৃতির খেয়ালে। আদিম প্রকৃতি নিজের মনের মতো করে গড়ে তুলেছিল তাকে। বাকি পৃথিবীর কাছে সে ছিল অপরিচিত। পরবর্তীকালে সভ্যসমাজের দৃষ্টি পড়ে এই অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশের ওপর। ক্রমে ক্রমে আফ্রিকা হয়ে ওঠে পশ্চিমি সভ্য দেশগুলির জন্য ক্রীতদাস জোগানের ক্ষেত্র। এমনকি সে দেশের আদিম প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে থাকা সম্পদও তাদের নজর এড়ায় না। পৃথিবীর তথাকথিত সভ্য দেশগুলির
'আফ্রিকা' কবিতায় লোভ আর অমানবিকতায় লুণ্ঠিত হয় আফ্রিকা। তার ধুলো-মাটি কাদা হয় সেখানকার মানুষদের রক্তে কান্নায়। লেখা হয় তার অপমানের ইতিহাস। কিন্তু কার্য
মানবতার পূজারি। তাই সভ্যতার নামে মানবতার এই অপমান তিনি সহা করেননি। দিনবদলের সন্ধিক্ষণে তাই পৃথিবীর সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের হয়ে অপমানিত, লাঞ্ছিত আফ্রিকার কাছে তিনি ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন। সভ্যতার এই সংকটের দিনে ঘৃণা বা হিংসা নয়, মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা আর সংবেদনশীলতাকেই আশ্রয় করতে চেয়েছেন তিনি।
প্রশ্ন: ‘উদভ্রান্ত সেই আদিম যুগে'—কবি আফ্রিকাকে যেভাবে দেখেছিলেন লেখো। এই আফ্রিকার প্রতি উন্নত পৃথিবীর দৃষ্টিভঙ্গি কী ছিল।
উত্তর> বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'আফ্রিকা' কবিতাটি ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুজ কবি অমিয় চক্রবর্তীর অনুরোধে রচনা করেন। কবি আফ্রিকা মহাদেশের জন্মরহস্যকে এক আশ্চর্য কাব্যিক রূপ দিয়েছেন। পাতগাঠনিক তত্ত্ব অনুযায়ী পাতের নড়াচড়ার ফলে এশিয়া মহাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েই এই আফ্রিকার সৃষ্টি। কবির ভাষায়-
রুদ্র সমুদ্রের বাহু প্রাচী ধরিত্রীর বুকের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা – সৃষ্টির আদিম লগ্নে রুদ্র সমুদ্রের বাহু তাকে মূল ভূখণ্ড থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তারপর বিচ্ছিন্ন আফ্রিকাকে বনস্পতির নিবিড় পাহারায় অর্থাৎ দুর্গম আরণ্যক জগতের ছায়াঘেরা রহস্যময়তায় যেন চিরতরে বেঁধে রাখে। এই রহস্যময় বন্যতাই তাকে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করেছিল।
|| সৃষ্টির আদিতে প্রকৃতির রহস্যময়তায় ঢাকা আফ্রিকা মহাদেশ বাকি পৃথিবীর কাছে ছিল অজানা, অচেনা এক দেশ। সভ্যসমাজের কাছে সে ছিল উপেক্ষার পাত্র। পশ্চিমি সভ্যতা আফ্রিকাকে পদানত করে ক্রীতদাস জোগানোর
এক উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত করেছিল। অরণ্যের গভীরে লুকিয়ে থাকা আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ ক্রমশ প্রকাশ পেলে সাম্রাজ্যবাদী শাসক দল অমানবিকভাবে আক্রমণ করল আফ্রিকাকে-
"পঙ্কিল হলো ধুলি তোমার রক্তে অশ্রুতে মিশে,
দস্যু-পায়ের কাঁটা-মারা জুতোর তলায় বীভৎস কাহার পিণ্ড
চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে"
রক্ত, ঘাম আর কান্নায় ভিজে গেল আফ্রিকার মাটি। ঔপনিবেশিক
শোষণ-পীড়ন আর লাঞ্ছনার শিকার আফ্রিকার সেই অপমান ব্যথা হয়ে
বেজেছে কবির বুকে। তাই তিনি মনে করেন অপমানিত আফ্রিকা ও তার
অধিবাসীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নেওয়াটাই সভ্যসমাজের প্রতিটি
শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কর্তব্য।
প্রশ্ন: 'বিদ্রুপ করছিলে ভীষণকে/বিরূপের ছদ্মবেশে,/ শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে ভীষণকে বিদ্রুপ করা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
'আফ্রিকা' কবিতায় বিরূপের ছদ্মবেশে শঙ্কাকে হার মানানোর তাৎপর্য কবিতা অবলম্বনে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর> বনস্পতির নিবিড় পাহারায় কৃপণ আলোর অন্ধকারে জন্ম নেওয়া
নবজাতক আফ্রিকা যখন রহস্যময় দুর্বোধ্য প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছিল
তখন তার অন্তর্জগতে ভীতি জাগ্রত হয়েছিল। সেই ভয়ংকর ভীষণ ভীতিকে হার মানাতে চেয়ে তাকে আফ্রিকা বিদ্রুপ করেছে। প্রকৃতির রহস্যময়তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে, নিজের জন্মদাত্রী প্রকৃতি মায়ের কাছে বিরূপের ছদ্মবেশে তার আত্মপ্রকাশ।
|| মা হারানো শিশুর মতো জন্মকালেই এশিয়া মহাদেশ থেকে আলাদা হয়ে পড়ে আফ্রিকা। অরণ্যময় দুর্গম আফ্রিকা অজ্ঞানতার অন্ধকারে ডুবে ছিল। সভ্যতার সামান্যতম আলোক সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি। কিন্তু থেমে থাকলে চলবে না। থেমে থাকার অর্থ মৃত্যু। তাই অবজ্ঞা, অশিক্ষা, অজ্ঞানতা, অসহায়তার হাত থেকে মুক্তি পেতেই হবে তাকে। সে বেছে নিল প্রত্যাঘাতের পথ। তার চেতনাতীত মনে অনুরণিত হচ্ছিল জেগে ওঠার নতুন মন্ত্র। বিরূপের ছদ্মবেশে সে ভীষণকে বিদ্রুপ করছিল। হার মানাতে চাইছিল শঙ্কাকে। সে
নিজেকে উগ্র ও বিভীষিকাময় করে তুলে তীব্র শব্দে তাণ্ডবনৃত্য শুরু করে, যার ফলে শঙ্কা ভীত ও পরাস্ত হয়।
প্রশ্ন : ‘এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে,—ওরা কারা? ওদের নগ্নরূপের পরিচয় দাও ।
উত্তর> সাম্রাজ্যবাদের ঘোরতর বিরোধী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা কবিতা থেকে উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটিতে ‘ওরা’ বলতে পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদীদের বোঝানো হয়েছে।
|| এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে' পঙ্ক্তিটির সাহায্যে রবীন্দ্রনাথ
সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনকে ও তার নগ্নরূপকে তুলে ধরেছেন। সৃষ্টির প্রথম থেকে বিচ্ছিন্ন আফ্রিকা নিভৃতে দুর্গমের রহস্য সন্ধানে ব্যাপিত ছিল। তার চেতনাতীত মনে জাগ্রত হচ্ছিল নতুন মন্ত্র। নিজেকে উগ্র বিভীষিকাময় তাণ্ডবে শামিল করে শঙ্কাকে সে হার মানাচ্ছিল একটু একটু করে। সভ্যসমাজের উপেক্ষার পাত্র ছিল আফ্রিকা। তারপর
একদিন ঔপনিবেশিক বিষবাষ্প গ্রাস করল আফ্রিকার স্বাভাবিক সারল্যকে। দাস ব্যাবসার মতো চরম পাশবিকতা নিয়ে উপস্থিত হল মানুষরূপী হিংস্র বর্বরের দল। যাদের হাতকড়িতে আবদ্ধ হল আফ্রিকার অসহায় মানুষ। এই সাম্রাজ্যবাদী শাসকের বর্বর লোভ নগ্ন করেছিল নিজেদের অমানবিকতাকে। আফ্রিকার অধিবাসীদের মানবিকতাকে উপেক্ষা করে শ্বেতাঙ্গ সাম্রাজ্যবাদীরা দিনের-পর-দিন আফ্রিকার সভ্যতা- সংস্কৃতিকে দলেছে, পিষেছে, ধ্বংস করেছে। এককথায় নানানভাবে সাম্রাজ্যবাদীদের আগ্রাসনে আফ্রিকার শৃঙ্খলিত হওয়ার ঘটনাকে কবি উদ্ধৃত পঙ্ক্তিতে ব্যক্ত করেছেন।
প্রশ্ন: 'এল মানুষ-ধরার দল,—কোথায় এল? ‘মানুষ-ধরার দল’ এসে কী করেছিল?
উত্তর> নির্দয় ও হিংস্র সাম্রাজ্যবাদী শাসক তথা ইউরোপীয় শাসককুল
আফ্রিকায় এসেছিল।
|| পাশ্চাত্য ঔপনিবেশিক শক্তির নির্মম অত্যাচার ও আগ্রাসনে ক্ষতবিক্ষত হয় আফ্রিকা মহাদেশ। এই সাম্রাজ্যবাদী শ্বেতাঙ্গ শাসকেরা ছিল নিষ্ঠুর অত্যাচারী দাস-ব্যবসায়ী। তারা পীড়ন-অপমান ও লাঞ্ছনায় আফ্রিকাকে বিধ্বস্ত করেছিল। শেতাঙ্গ ঔপনিবেশিক শক্তির লাঞ্ছনা ও নির্যাতনে আফ্রিকার বনজঙ্গল বারংবার রক্তাক্ত হয়েছিল। এই ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হয়ে উঠেছিল বন্য নেকড়ের চেয়েও হিংস্র আর কদর্য। তারা লোহার হাতকড়ি নিয়ে এসে আফ্রিকাবাসীকে বন্দি করে দাসে পরিণত করে রাখত। কবির মতে নিরীহ মানুষকে পণ্য হিসেবে কেনাবেচা করার মিথ্যা গর্ব কিংবা অহমিকা আসলে তাদের অসভ্য অমানবিকতার প্রকাশ। ইউরোপীয় শাসককুলের বর্বর লোভের এই ঘৃণ্য-করুণ ইতিহাসটিই কখনও 'এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে' কিংবা 'এল মানুষ-ধরার দল' শব্দবন্ধের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রশ্ন: ‘দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে; /বলো 'ক্ষমা করো-
/হিংস্র প্রলাপের মধ্যে/সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।
—উদ্ধৃত পঙ্ক্তিগুলির মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের কবিসত্তার যে-পরিচয় মেলে,তা আলোচনা করো।
অথবা, 'দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে; কবি কোন মানহারা মানবীর দ্বারে দাঁড়াতে বলেছেন তা 'আফ্রিকা' কবিতার বিষয়বস্তু অবলম্বনে আলোচন করো।
উত্তর> ‘আফ্রিকা' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের প্রতিবাদী সত্তার প্রতীক। সম্রাজ্যবাদী শাসনের নগ্ন চেহারা কবি নিজে চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন। তাই তিনি ছিলেন ঘোরতর সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী। কবির 'মানহারা মানবী' হল 'আফ্রিকা'।
সে যেন আমাদের রূপকথার দুয়োরানি। তাকে নিজের অধিকার পেতে হাজারো পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। পাশ্চাত্য ঔপনিবেশিক সভ্যতা 'মানবী' আফ্রিকার বুকের মধ্য থেকে ছিনিয়ে নেয় সম্পদের ভাণ্ডারকে আর স্থাপন করে উপনিবেশ। এরপর দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে তার সরল সাদাসিধে মানুষগুলিকে, কিন্তু স্বীকৃতি দেয় না তার সভ্যতা, সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে। তাই আফ্রিকাকে ডুবে থাকতে হয় উপেক্ষার আবিল অন্ধকারে। ‘ক্ষমা করো’ উদ্ধৃতিটির মধ্য দিয়ে কবি ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেছেন। কবি-সাহিত্যিকেরা সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠাতা। তাই শোষণ লাঞ্ছনার স্বীকার আফ্রিকার মর্মবাণী যেন সংবেদনশীল কবি হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছিলেন। ‘আফ্রিকা' কবিতার রচনার সময় গোটা ইউরোপে সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা। শুরু হয় ঔপনিবেশিক ও ফ্যাসিস্ট শক্তির স্বার্থের টানাপোড়েন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের পালা। বিশ্বব্যাপী এই হিংস্র প্রলাপের মাঝে কবির দৃষ্টিভঙ্গিতে আফ্রিকা হয়ে ওঠে নিপীড়িত মানবাত্মার প্রতীক। তাই তাঁর মতে
আফ্রিকা ও তার নাগরিকদের ওপর যে-অত্যাচার সভ্যসমাজ করেছে, এর
একমাত্র প্রায়শ্চিত্ত ক্ষমা ভিক্ষা। হিংসার উন্মত্ততার মাঝে, মানবতার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাই হবে সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।
প্রশ্ন: 'হায় ছায়াবৃতা, – 'ছায়াবৃতা' বলার কারণ কী? তার সম্পর্কে কবি কী বলেছেন সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: 'ছায়াবৃতা' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ছায়া দ্বারা আবৃতা বা ছায়াঢাকা।
দুর্গম অরণ্যে ঘেরা আফ্রিকা মূল ভূখণ্ড থেকে বহুদূরে অবস্থিত। আধুনিক সভ্যতা ও জ্ঞানের আলো থেকে সে বঞ্চিত। দুর্গমতার কারণে উনিশ শতকের আগে পর্যন্ত আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ ও নিজস্ব সংস্কৃতি বাকি বিশ্বের কাছে অজানাই রয়ে গেছে তার রহস্যময় অরণ্যের মতোই।
॥ সাম্রাজ্যবাদের ঘোর বিরোধী তথা মানবতার পূজারি রবীন্দ্রনাথ।
মুসোলিনির ইথিওপিয়ায় অনুপ্রবেশকে ধিকার জানিয়ে লেখা 'আফ্রিকা' কবিতাটি আফ্রিকার সমাজ ও রাজনৈতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।
সৃষ্টির আদিতে আফ্রিকা তৈরি হয়েছিল প্রকৃতির খেয়ালে। আদিম প্রকৃতি নিজের মনের মতো করে গড়ে তুলেছিল তাকে। বাকি পৃথিবীর কাছে সে ছিল অপরিচিত। পরবর্তীকালে সভ্যসমাজের দৃষ্টি পড়ে এই অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশের ওপর। ক্রমে ক্রমে আফ্রিকা হয়ে ওঠে পশ্চিমি সভ্য দেশগুলির জন্য ক্রীতদাস জোগানের ক্ষেত্র। এমনক সেদেশের আদিম প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে থাকা সম্পদও তাদের নজর এড়ায় না। পৃথিবীর তথাকথিত সভ্য দেশগুলির লোভ আর অমানবিকতায় লুণ্ঠিত হয় আফ্রিকা। তার ধুলো-মাটি কাদা হয় সেখানকার মানুষদের রক্তে আর কান্নায়। লেখা হয় তার অপমানের ইতিহাস। কিন্তু কবি মানবতার পূজারি। তাই সভ্যতার নামে মানবতার এই অপমান তিনি সহ্য
করেননি। দিনবদলের সন্ধিক্ষণে তাই পৃথিবীর সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের হয়ে অপমানিত, লাঞ্ছিত আফ্রিকার কাছে তিনি ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন। সভ্যতার এই সংকটের দিনে ঘৃণা বা হিংসা নয়, মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা আর সংবেদনশীলতাকেই আশ্রয় করতে চেয়েছেন তিনি।
প্রশ্ন: ‘চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।—কাকে এ কথা বলা হয়েছে? কীভাবে তার অপমানিত ইতিহাসে চিরচিহ্ন
মুদ্রিত হল?
অথবা, 'চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।।– “তোমার’
বলতে কার কথা বলা হয়েছে? তার ‘অপমানিত ইতিহাস'-এর সংক্ষিপ্ত
পরিচয় দাও।
উত্তর> রবীন্দ্রনাথের 'আফ্রিকা' কবিতায় উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটিতে অপমানিত আফ্রিকাকে এ কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ ‘তোমার’ বলতে কবি আফ্রিকা মহাদেশের কথা বলেছেন।
|| রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'আফ্রিকা' কবিতায় 'অপমানিত ইতিহাস' বলতে সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের দ্বারা শোষিত আফ্রিকার বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার ইতিহাসকে বুঝিয়েছেন। সৃষ্টির সূচনা থেকেই আফ্রিকা অরণ্যাবৃত। সে তথাকথিত উন্নত সভ্যতার আলো থেকে বহু দূরে নির্বাসিত ছিল। সভ্য ইউরোপীয় সভ্যতার চোখেও
আফ্রিকা উপেক্ষিত ছিল দীর্ঘদিন। তথাকথিত 'সভ্য' পাশ্চাত্য সভ্যতা আফ্রিকার নিজস্ব জীবনধারা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ইত্যাদিকে স্বীকার করত না। কিন্তু ঊনবিংশ শতকে ইউরোপীয়রা আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপনের সূচনার ফলে ক্রমে এ শতকের শেষে প্রায় পুরো আফ্রিকাই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের উপনিবেশে পরিণত হয়। আফ্রিকার সম্পদের সন্ধান পেতে এই শ্বেতাঙ্গ ঔপনিবেশি
তথা সাম্রাজ্যবাদীর দল শুরু করে মানবিক লাঞ্ছনা। তাই কবি বলেন-
এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে,
নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে।
আফ্রিকার সরল মানুষগুলিকে লোহার হাতকড়ি পরিয়ে 'মানুষ-ধরা' এই বর্বরেরা তাদের পরিণত করে ক্রীতদাসে। তাদের বর্বরতা ও লোভ আফ্রিকার সূর্যতারা অরণ্যের চেয়েও কালো। এইসব অত্যাচারিত মানুষদের রক্ত ও অশ্রুতে কর্ণমাপ্ত হয় আফ্রিকার বনপথের ধুলো। সাম্রাজ্যবাদ দস্যুদের কাটা মারা জুতোর তলার কাদার পিন্ড এভাবেই আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাসে চিরচিহ্ন দিয়ে গেছে।
প্রশ্ন: 'প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস / যখন গুপ্ত গহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এল- 'প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? 'গুপ্ত গঙ্গার' থেকে পশুদের বেরিয়ে আসা কোন
ঐতিহাসিক ঘটনার ইঙ্গিত বহন করে?
উত্তর> 'আফ্রিকা' কবিতার মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদী শাসনের প্রত্যক্ষদর্শী
রবীন্দ্রনাথ ঔপনিবেশিকতা ও সাম্রাজ্যবাদকে তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন সাম্রাজ্যবাদ দীর্ঘস্থায়ী হলেও তা যে চিরস্থায়ী নয় সে-কথা বোঝাতেই কবি যেন 'আফ্রিকা' কবিতা লিখেছেন। আফ্রিকার জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে সাম্রাজ্যবাদী হামলায় মানবতার
অবক্ষয় এবং শেষে ঔপনিবেশিকতার যবনিকা তথা আসন্ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘোষণা এই কবিতার ব্যক্ত হয়েছে। 'প্রদোষকাল শব্দটির অর্থ সন্ধ্যা অর্থাৎ দিনের শেষ সময়। 'বঙ্কাবাতাস' ও 'রুদ্ধশ্বাস' শব্দ দুটি সমকালীন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার সূচক। তাই উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটির সাহায্যে কবি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখিয়েছেন, যে-সাম্রাজ্যবাদী শাসন এতদিন অসহায় আফ্রিকার ওপর অত্যাচার চালিয়ে এসেছে এবার তার শেষ সময়। এবার পশ্চিমি সভ্যতা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখে, বিপন্ন হতে চলেছে তার অস্তিত্ব।
| ‘গুপ্ত গহ্বর থেকে পশুদের বেরিয়ে আসা বলতে কবি আড়াল থেকে শোষণ, অত্যাচার চালানো পাশবিক শক্তির সামনাসামনি আসাকে বোঝাতে চেয়েছেন। সাম্রাজ্যবাদী শাসকরা একসময় অসহায় আফ্রিকার ওপর চালিয়েছে অকথ্য অত্যাচার। হত্যা করেছে মানবিকতাকে।
প্রথম যুদ্ধোত্তর কালে এই অসুখে মানুষ বেসামাল হয়ে পড়ে, তখন থেকেই অনিবার্যভাবে প্রকট হয়ে উঠেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা। গুপ্ত গহ্বর থেকে হিংস্র পশুর বেরিয়ে আসা আসলে সভ্যসমাজের বর্বর রূপের বহিঃপ্রকাশেরই ইঙ্গিতবাহী।
প্রশ্ন: সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।। - ‘পুণ্যবাণী’-টি কী? কেন সেই পুণ্যবাণীর প্রয়োগ অনিবার্য হয়ে উঠেছে?
অথবা, যুগান্তের কবির বক্তব্যের সার্থকতা 'আফ্রিকা' কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো।
উত্তর> রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতা অনুসারে সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণীটি হল, শ্বেতাঙ্গ শাসকের অত্যাচারে ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা।
|| কবি এক ভয়াবহ সংকটের প্রাক্কালে এই কবিতাটি রচনা করেন।
ঔপনিবেশিক এবং ফ্যাসিস্ট শক্তির স্বার্থের সংঘাত সেসময় জন্ম দিয়েছিল এক ভয়াবহ সমাজ-রাজনৈতিক অস্থিরতা; যা ক্রমশ সমস্ত পৃথিবীকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। হিংসার এমন চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ দেখে ব্যথিত কবি আফ্রিকাকে নিপীড়িত মনুষ্যত্বের প্রতিভূ হিসেবে তুলে ধরেন। কারণ সাম্রাজ্যবাদী শ্বেতাঙ্গ শাসকের সীমাহীন বর্বরতার এ মহাদেশ বারবার রক্তাক্ত হয়েছে। তাদের কাঁটা-মারা জুতোর দাগ, অসহায় আফ্রিকার হৃদয়ে এঁকে দিয়েছে কলঙ্কের চিরচিহ্ন। আর আফ্রিকাকে কান্না নাম আর রক্তে রাঙ্গিয়ে
নির্লজ্জ শাসক নিজ দেশে করেছে সুন্দরের আরাধনা। সেখানে নিরাপদ নিরুপদ্রব জীবনে চোখে পড়ে না কোনো খেদ বা আক্ষেপ। কবি টের পান সাম্রাজ্যবাদী শাসকের এই দ্বিচারিতা, হিংসা ও লোভই আসলে সমগ্র সভ্যতাকে পতন ও অবক্ষয়ের শেষ সীমায় নিয়ে এসে দাঁড় করিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে
বেরোতে হলে মানবতাকে পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন। তাই তথাকথিত 'সভ্য'
শাসকের ক্ষমাপ্রার্থনাই হতে পারে তাদের ঘৃণ্য কৃতকর্মের একমাত্র প্রায়শ্চিত্ত।
যুগান্তের কবি সেই মানবিকতার অর্ঘ্য সাজিয়েই, শেষ পুণ্যবাণীতে সবাইকে
দীক্ষিত করতে চেয়েছেন।
প্রশ্ন: 'কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল/সুন্দরের আরাধনা।-
উদ্ধৃতাংশটির মধ্য দিয়ে কবির যে বক্তব্য ফুটে উঠেছে তা বিবৃত করো।
উত্তর> বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘পত্রপুট’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত
‘আফ্রিকা’ কবিতা থেকে আলোচ্য উদ্ধৃতিটি গৃহীত হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী
শাসকের দল যখন আফ্রিকায় নিজেদের অধিকার কায়েমের জন্য অমানবিক শোষণ চালাচ্ছিল, শ্বেতাঙ্গ ঔপনিবেশিক শক্তির লাঞ্ছনা এবং নির্যাতনে আফ্রিকার বন-জঙ্গল বারংবার রক্তাক্ত হয়েছিল, তখন আফ্রিকাবাসীর রক্তে ও ঘামে সেখানকার অরণ্যপথের
ধুলো কাদায় পরিণত। এই নির্লজ্জ অমানবিকতা মানবতার অপমান।
সাম্রাজ্যবাদী দস্যুদের কাঁটা-মারা জুতোর তলায় কাদার পিণ্ড এভাবেই
আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাসে চিরচিহ্ন দিয়ে গেছে। অথচ সেই সময়
সাম্রাজ্যবাদী শাসকের দল নিজেদের দেশে নিরুপদ্রব শান্তি বজায় রেখেছে।
“সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায় মন্দিরে বাজছিল পূজার ঘণ্টা
সকালে সন্ধ্যায় দয়াময় দেবতার নামে;
শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে;
কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল
সুন্দরের আরাধনা" ।
সেখানে পাড়ায় পাড়ায় মন্দিরে পূজার ঘণ্টা বাজছিল আর ঈশ্বরের উপাসনা চলছিল। শিশুরা মায়ের কোলে নিরাপদে খেলে বেড়াচ্ছিল। সুন্দরের আরাধনায় বেজে উঠেছিল কবির সংগীত। এভাবেই শাসক ও শোষিতের বৈপরীত্যপূর্ণ অবস্থান বর্ণনার মাধ্যমে কবি সাম্রাজ্যবাদী শাসকের দ্বিচারিতাকে তুলে ধরেছেন।
শেষ.....
