নতুন মেসো কে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের। কোন ঘটনায় জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল? গল্প অনুসারে সত্যিই কি এই ঘটনা তখন এই জ্ঞানচক্ষু খুলে গিয়েছিল? জ্ঞানচক্ষু গল্প || দশম শ্রেণী - school book solver

Saturday, 14 March 2026

নতুন মেসো কে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের। কোন ঘটনায় জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল? গল্প অনুসারে সত্যিই কি এই ঘটনা তখন এই জ্ঞানচক্ষু খুলে গিয়েছিল? জ্ঞানচক্ষু গল্প || দশম শ্রেণী

 




প্রশ্ন:: 'নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের-কোন্ ঘটনায় জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল? গল্প অনুসারে সত্যিই কি এই ঘটনায় তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলেছিল ?


অথবা, 'কিন্তু নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের । কোন কারণে এ কথা বলা হয়েছে? সত্যিই তার জ্ঞানচক্ষু খুলেছিল কিনা আলোচনা করো।


উত্তর- গল্পকার আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের প্রধান চরিত্র তপন।

তার শিশুমনে লেখক বা সাহিত্যিক সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা ছিল না। সে ভারত লেখকেরা বুঝি কোনো ভিন গ্রহের জীব। ছোটোমাসির বিয়ে হওয়ার পর তপন জানতে পারে নতুন মেসো একজন লেখক এবং তাঁর অনেক বই ছাপা হয়েছে। জলজ্যান্ত একজন সত্যিকারের লেখককে চোখের সামনে দেখে সে বুঝতে

পারে লেখকেরা তার বাবা, ছোটোমামা কিংবা মেজোকাকুর মতোই নিরন্তই সাধারণ মানুষ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই তপনের প্রাথমিক জ্ঞানচক্ষু খুলে যায়।

|| লেখক মেসোমশাইয়ের দৃষ্টান্তে অনুপ্রাণিত হয়ে তখন নিজেও একটা

আস্ত গল্প লিখে ফেলে এবং গল্প লিখে ফেলার রোমাকে ও উত্তেজনায় তা সে বন্ধু মনোভাবাপন্ন ছোটোমাসিকে দেখায়। ছোটোমাসির প্ররোচনায় আর নতুন মেসোর প্রভাবে সেই গল্পটি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু পত্রিকায় ছাপা গল্পটি পড়ে তপন টের পায় সংশোধনের নামে মেসো লেখাটির আগাগোড়া বদলে দিয়েছেন। এ গল্পে

তপন কোথাও নেই। আর বাড়িতেও মুখে মুখে রটে যায় মেসোর দৌলতেই তার গল্প ছাপা হয়েছে। এ ঘটনা আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন তপনের সংবেদনশীল লেখক মনে আঘাত করে। লজ্জায় অনুশোচনায় সে

সিদ্ধান্ত নেয় ভবিষ্যতে কারও সুপারিশে নির্ভর না-করে নিজের লেখা নিজেই ছাপতে দেবে। এক কিশোরের আত্মস্বরূপ আবিষ্কারের এ কাহিনির মধ্যেই আসলে লুকিয়ে আছে প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু লাভের সার্থকতা।