আমাদের ইতিহাস নেই। কে, কেন এ কথা বলেছেন? আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা || দশম শ্রেণী বাংলা
![]() |
প্রশ্ন: ‘আমাদের ইতিহাস নেই–কে, কেন এ কথা বলেছেন ?
অথবা, 'এমনই ইতিহাস - উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
অথবা, 'আমাদের ইতিহাস নেই'—কাদের ইতিহাস নেই? তাদের ইতিহাস না-থাকার কারণ কী?
অথবা, 'আমাদের ইতিহাস নেই'— আমাদের ইতিহাস নেই কেন?
উত্তর> উদ্ধৃত অংশটি কবি শঙ্খ ঘোষের লেখা 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতার অন্তর্গত। দেশকাল নির্বিশেষে সমগ্র পৃথিবীর আপামর জনসাধারণের প্রসঙ্গে কবি উদ্ধৃত অংশটি লিখেছেন।
> বর্তমানে এক ভয়ংকর প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমরা চলেছি। আমরা গৃহহারা, এমনকি ধ্বংসের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতেও অপারগ। আমাদের বাঁচার আর পথ নেই। যুগে যুগে আমরা সাধারণ মানুষরা বঞ্চিত হয়েই চলেছি। আমাদের এই উপেক্ষা ও বঞ্চনার ইতিহাস কোথাও লেখা নেই। কারণ ইতিহাস নিয়ন্ত্রিত হয় ক্ষমতাবানদের দ্বারা। আসলে জীবস্মৃত মানুষের অস্তিত্বটাই যেখানে তুচ্ছ, সেখানে চিরকাল অবজ্ঞা আর উপেক্ষাই তার প্রাপ্য। তাই সাধারণ মানুম হয় ইতিহাসহীন, নয় অস্পষ্ট ইতিহাসের আড়ালে থাকা বিস্মৃত তাচ্ছিল্যের সামগ্ৰী।
প্রশ্ন: 'আমরাও তবে এইভাবে/এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?- কবির এরুপ শঙ্কার হেতু কী?
উত্তর> কবি শঙ্খ ঘোষের লেখা "আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে প্রশ্নোদ্ধৃত অংশটি গৃহীত। এখানে কবির এমন শঙ্কার কারণটি অত্যন্ মর্মগ্রাহী। যেখানে আমরা আমাদের শিশুদের অস্তিত্ব রক্ষায় অপারগ,যেখানে প্রাণঘাতী হানাহানির অনায়াস শিকার হচ্ছে আমাদের শিশুরা; সেখানে নিজেদের অস্তিত্বের প্রশ্নটিও অবান্তর ও অর্থহীন হয়ে ওঠে। কারণ কবি কেবল বেঁচে থাকার জন্যই বেঁচে থাকাকে ঘৃণা করেন। তাই এহেন নারকার প্রবলের কাছে নতিস্বীকার এক সংবেদনশীল মানুষের কাছে অত্যন্ত যন্ত্রণা ও অপমানের বিষয়। পাঠ্য উদ্ধৃতাংশে সেই হাতাশা ও অনুশোচনারই প্রকাশ ঘটেছে।
