তপন আর পড়তে পারে না। বোবার মতো বসে থাকে। তপনের এরকম অবস্থার কারণ বর্ণনা করো। জ্ঞানচক্ষু গল্প || দশম শ্রেণী - school book solver

Wednesday, 11 March 2026

তপন আর পড়তে পারে না। বোবার মতো বসে থাকে। তপনের এরকম অবস্থার কারণ বর্ণনা করো। জ্ঞানচক্ষু গল্প || দশম শ্রেণী



প্রশ্ন: তপন আর পড়তে পারে না। বোবার মতো বসে থাকে।- 'তপনের এরকম অবস্থার কারণ বর্ণনা করো।

উত্তর:  আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপনের ইচ্ছে ছিল লেখক হওয়ার। একইসঙ্গে লেখকদের সম্বন্ধে তার ধারণা ছিল, তাঁরা। বুঝি আকাশ থেকে পড়া অতিলৌকিক কোনো প্রতিভা। কিন্তু তার ছোটোমাসির বিয়ের পর নতুন মেসোকে দেখে তার সেই ভুল ভাঙে। তার নতুন মেসো অধ্যাপক, বইও লেখেন; সেসব বই ছাপাও হয়—অথচ মেসোর আচার-আচরণের সঙ্গে তার বাবা, ছোটোমামা বা মেজোকাকুর আচার- আচরণের কোনো তফাতই সে খুঁজে পায় না। নতুন মেসোকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তপন একটি আস্ত গল্প লেখে, যেটি তার মাসির হাত ঘুরে মেসোর হাতে গিয়ে পড়ে। মাসির পীড়াপীড়িতে সামান্য কারেকশন করে সেই গল্প ‘সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপানোর আশ্বাস দেন নতুন মেসো। বাড়িতেও সে নিয়ে আনন্দের শেষ নেই।

অনেকদিনের ইচ্ছে হয়তো এবার পূরণ হতে চলেছে—এই ভেবেই একটু

সংশয়কে সঙ্গী করে তপনের মনও উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। কিন্তু যথাসময়ে

'সন্ধ্যাতারা'-য় ছাপা লেখাটি পড়তে গিয়ে তপন টের পায় কারেকশনের নামে লেখক-মেসো গল্পের আগাগোড়া বদলে দিয়েছেন। নির্বিচারে কলম চালানোয় নিজের নামে ছাপানো গল্পে সে আর নিজেকেই খুঁজে পায় না। তপনের

লেখকমন আহত হয়। নিজের গল্প পড়তে বসে অন্যের লেখা লাইন পড়ার যন্ত্রণা তাকে কুরে কুরে খায়। লজ্জা, অনুশোচনা আর আত্মসম্মান হীনতায় তার বাকরোধ হয়ে আসে।


প্রশ্ন ; গল্প ছাপা হলে যে ভয়ংকর আহ্লাদটা হবার কথা, সে আহ্লাদ

খুঁজে পায় না – এরকম কেন হল তপনের?

উত্তর:  আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপনে্য ইচ্ছা ছিল লেখক হওয়ার। একইসঙ্গে লেখকদের সম্বন্ধে তার ধারণা ছিল, তাঁরা বুঝি আকাশ থেকে পড়া অতিলৌকিক কোনো প্রতিভা। কিন্তু তার ছোটোমাসির বিয়ের পর নতুন মেসোকে দেখে তার সেই

ভুল ভাঙে। তার নতুন মেসো পেশায় অধ্যাপক হলেও লেখক, বই লেখেন; সেসব বই ছাপাও হয়—অথচ মেসোর আচার-আচরণের তার বাবা, ছোটোমামা বা মেজোকাকুর আচার-আচরণের কোনো তফাত সে খুঁজে পায় না। নতুন মেসোকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তপন একটি আস্ত গল্প লেখে, যেটি তার মাসির হাত ঘুরে মেসোর হাতে গিয়ে পড়ে। মাসির

পীড়াপীড়িতে সামান্য কারেকশন করে সেই গল্প 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপানোর আশ্বাস দেন নতুন মেসো। বাড়িতেও সে নিয়ে আনন্দের শেষ নেই।

অনেকদিনের ইচ্ছে হয়তো এবার পুরণ হতে চলেছে, এ ভেবেই একটু সংশয়কে সঙ্গী করে মামার বাড়ি থেকে সে নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছে। যখন সে ছাপার অক্ষরে নিজের লেখা গল্প দেখতে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়ে বিষণ্ণ মন নিয়ে বাড়িতে বসে আছে, তখন 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকার একটা সংখ্যা

নিয়ে তাদের বাড়িতে আসেন ছোটোমাসি ও মেসো। তার স্বপ্ন সত্যি হয়।

‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় শ্রীতপন কুমার রায়-এর 'প্রথম দিন' গল্প প্রকাশিত

হয়েছে। বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়। সকলেই চোখ বুলিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রশংসা করলেও নতুন মেসো যখন বলেন, তিনি একটু-আধটু কারেকশন করে দিয়েছেন, তখন তাদের বাড়ির অনেকেই বলেন যে ‘সন্ধ্যাতারা'-র সম্পাদককে নতুন মেসোমশাই না বলে দিলে এই ‘প্রথম দিন' গল্পটা কড়ে আঙুল দিয়ে ছুঁয়েও দেখতেন না সম্পাদকমশাই। এইসব কথাবার্তা তপনের শিশুমনে আঘাত করে। তাই গল্প ছাপা হলেও ভয়ংকর আহ্লাদটা তার হয় না।