আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর। দশম শ্রেণি বাংলা। - school book solver

Tuesday, 10 March 2026

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর। দশম শ্রেণি বাংলা।

  



প্রশ্ন:  ‘আমাদের ইতিহাস নেই–কে, কেন এ কথা বলেছেন ?

অথবা, 'এমনই ইতিহাস - উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

অথবা, 'আমাদের ইতিহাস নেই'—কাদের ইতিহাস নেই? তাদের ইতিহাস না-থাকার কারণ কী?

অথবা, 'আমাদের ইতিহাস নেই'— আমাদের ইতিহাস নেই কেন?

উত্তর>  উদ্ধৃত অংশটি কবি শঙ্খ ঘোষের লেখা 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতার অন্তর্গত। দেশকাল নির্বিশেষে সমগ্র পৃথিবীর আপামর জনসাধারণের প্রসঙ্গে কবি উদ্ধৃত অংশটি লিখেছেন।

> বর্তমানে এক ভয়ংকর প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমরা চলেছি। আমরা গৃহহারা, এমনকি ধ্বংসের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতেও অপারগ। আমাদের বাঁচার আর পথ নেই। যুগে যুগে আমরা সাধারণ মানুষরা বঞ্চিত হয়েই চলেছি। আমাদের এই উপেক্ষা ও বঞ্চনার ইতিহাস কোথাও লেখা নেই। কারণ ইতিহাস নিয়ন্ত্রিত হয় ক্ষমতাবানদের দ্বারা। আসলে জীবস্মৃত মানুষের অস্তিত্বটাই যেখানে তুচ্ছ, সেখানে চিরকাল অবজ্ঞা আর উপেক্ষাই তার প্রাপ্য। তাই সাধারণ মানুম হয় ইতিহাসহীন, নয় অস্পষ্ট ইতিহাসের আড়ালে থাকা বিস্মৃত তাচ্ছিল্যের সামগ্ৰী।


প্রশ্ন: 'আমরাও তবে এইভাবে/এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?- কবির এরুপ শঙ্কার হেতু কী?

উত্তর> কবি শঙ্খ ঘোষের লেখা "আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে প্রশ্নোদ্ধৃত অংশটি গৃহীত। এখানে কবির এমন শঙ্কার কারণটি অত‍্যন্ মর্মগ্রাহী। যেখানে আমরা আমাদের শিশুদের অস্তিত্ব রক্ষায় অপারগ,যেখানে প্রাণঘাতী হানাহানির অনায়াস শিকার হচ্ছে আমাদের শিশুরা; সেখানে নিজেদের অস্তিত্বের প্রশ্নটিও অবান্তর ও অর্থহীন হয়ে ওঠে। কারণ কবি কেবল বেঁচে থাকার জন্যই বেঁচে থাকাকে ঘৃণা করেন। তাই এহেন নারকার প্রবলের কাছে নতিস্বীকার এক সংবেদনশীল

মানুষের কাছে অত্যন্ত যন্ত্রণা ও অপমানের বিষয়। পাঠ্য উদ্ধৃতাংশে সেই হাতাশা ও অনুশোচনারই প্রকাশ ঘটেছে।



প্রশ্ন: 'আমরা ভিখারি বারোমাস – 'আমরা' বলতে কারা? ‘ভিখারি’ শব্দ বলে কবি কী?

অথবা, ‘আমরা ভিখারি বারোমাস'—উক্তিটির তাৎপর্য কী?

উত্তর> কবি শঙ্খ ঘোষের আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত। এখানে আমরা' বলতে বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসনে ও মৌলবাদী শক্তির অত্যাচারে জর্জরিত সাধারণ, শান্তিকামী ও শ্রমজীবী মানুষদের বোঝানো হয়েছে।

> ‘ভিখারি' শব্দের মধ্য দিয়ে কবি মানুষের মানসিক দৈন্যের কথাবলেছেন। কবির মতে নানান প্রতিকূলতা ও যুগ যন্ত্রণার ক্ষত নিয়ে মানুষ বেঁচে আছে। সে পথহারা, তার মানসিক দৃঢ়তা শিথিল হয়ে পড়েছে। তার প্রকৃত ইতিহাসের সঠিক প্রতিফলন হয়নি জেনেও সে নিশ্চুপ ও বহি-বিশ্বের থেকে বিচ্ছিন্ন। এভাবে আপাতদুর্বল ও ভীরু সাধারণ মানুষের অবহেলিত।মানসিক দৈন্যের কথা বলতে গিয়ে কবি এমন মন্তব্য করেছেন।


প্রশ্ন: ‘পৃথিবী হয়তো গেছে মরে- এমন সংশয়ের কারণ কী?

উত্তর>  কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় এমন সংশয়পূর্ণ উক্তিটি করেছেন। উপনিষদের কথার রেশ টেনে বলা যায় মানুষ তার মানবতার পক্ষে চলমান, তাই জীবনে থেমে থাকা মৃত্যুরই সমান। আজকের যুদ্ধ ও দাঙ্গাবিধ্বস্ত পৃথিবীতে মানুষ দিশেহারা, তারহাত-পা বাঁধা। গৃহহীন, ইতিহাসবিস্মৃত এই নিরন্ন মানুষগুলি নিজের ভাবী প্রজন্মকে রক্ষা করতে ব্যর্থ। জীবনের অর্থহীনতায় বেঁচে থাকার আশা সে হারিয়েছে। তাই সমস্ত পৃথিবীটা তার কাছে জীবন্মৃত বলে মনে হয়েছে।



প্রশ্ন: পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে—কার এবং কেন এসব হয়েছে?

উত্তর> 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবি শঙ্খ ঘোষ এইই সংশয় প্রকাশ করেছেন।

>  আজকের যুদ্ধ ও দাঙ্গাবিধ্বস্ত পৃথিবীতে মানুষ দিশে হারা, তার হাত-পা বাঁধা। কবির মতে, নানান প্রতিকূলতা ও যুগযন্ত্রণার ক্ষত নিয়ে মানুষ বেঁচে আছে।এই যুদ্ধবিদ্ধস্ত পৃথিবীতে মানুষ দিশেহারা। গৃহহীন, ইতিহাসবিস্মৃত এই নিরন্ন মানুষগুলি নিজের ভাবী প্রজন্মকে রক্ষা করতে ব্যর্থ। তাই এই পরিস্থিতিতে কবি সংশয় প্রকাশ করে আলোচ্য উদ্ধৃতিটি করেছেন।