আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার ছোট প্রশ্নের উত্তর পর্ব ১ - school book solver

Thursday, 5 March 2026

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার ছোট প্রশ্নের উত্তর পর্ব ১




আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি

 দশম শ্রেণী 

ছোট প্রশ্নের উত্তর

  প্রশ্ন: 'আমাদের চোখমুখ ঢাকা—'চোখমুখ ঢাকা'-র কারণ কী?

উত্তর/ পৃথিবীর সমস্ত ইতিহাসই ক্ষমতাবানের ইতিহাস। দুর্বল, বিপন্ন মানুষের ইতিহাস কখনোই সভ্যতার দর্পণে প্রতিফলিত হয় না। প্রকৃত সত্য জেনেও সাধারণ মানুষ অন্ধ, আসল অবস্থা বুঝেও তারা বোবা। তাই তাদের 'চোখমুখ ঢাকা'।


প্রশ্ন: 'আমাদের কথা কে-বা জানে বলার কারণ কী?

উত্তর> এই ব্যক্তিসর্বঙ্গ বিচ্ছিন্নতার যুগে, সাধারণ মানুষের সামান্য প্রয়োজনীয়তার কথায় যেন কেউ দৃষ্টিপাত করে না। সেজন্যই কবি এ কথা বলেছেন।


প্রশ্ন:  ‘তবু তো কজন আছি বাকি'—কবির এমন বক্তব্যের কারণ কী ?

উত্তর>  ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতা অনুসারে এই রাজনৈতিক, সামাজিক অবক্ষয়ের যুগেও কিছু মানুষ এখনও মানবতার বিশ্বাস হারায়নি। সেই শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষগুলোকে নিয়েই কবি জোটবাঁধার কথা বলেছেন।


প্রশ্ন: ‘আয় আরো হাতে হাত রেখে'—এই পঙক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ লেখো।

উত্তর>  সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আস্ফালনে মানুষ আজ ঘরছাড়া, পথহারা, ইতিহাস-বিকৃত চিরভিখারিতে পরিণত। প্রত্যয়ী কবি এই ধ্বংসের মাঝেও বিবেকবান ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে সংঘবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রশ্নোদ্ধৃত উক্তিটি করেছেন।


প্রশ্ন: ‘আমাদের পথ নেই আর- কাদের পথ নেই ?

উত্তর>  ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় কবিকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। তাই ‘আমাদের’ বলতে তিনি এ পৃথিবীর সমস্ত নিরন্ন, খেটে-খাওয়া ও নিরাপত্তাহীন অসহায় মানুষকেই বুঝিয়েছেন।


প্রশ্ন: ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতা অনুসারে আমাদের ইতিহাসের পরিচয় দাও ।

উত্তর> পৃথিবীর সামগ্রিক ইতিহাসই আসলে ক্ষমতাবানদের ইতিহাস। অসহায় ও দুর্বল সাধারণ মানুষের কথা তাই তথাকথিত সভ্যতার আয়নায় ফুটে ওঠে না। তারা ইতিহাসহীন অথবা বিকৃত ইতিহাসের আড়ালে থাকার দৈন্যে বিস্মৃত ও নিরুত্তর।


প্রশ্ন: ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় আমাদের চতুর্দিকটা কেমন?

উত্তর>  কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় কবি বলেছেন আমাদের ডান পাশে ধস, বাম পাশে গিরিখাত, মাথার উপর বোমারু ও পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ। কবি আসলে মানুষের পদে পদে বিপদ ও পতনের করেছেন।






প্রশ্ন: “আমাদের ঘর গেছে উড়ে – কাদের ঘর? ঘর উড়ে যাওয়া বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

অথবা, 'আমাদের ঘর উড়ে যাওয়া বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর> উদ্ধৃত অংশে আমাদের বলতে নিরন্ন সাধারণ মানুষের ঘরের কথা

বলা হয়েছে।

| কবি শঙ্খ ঘোষের 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় উদ্ধৃত

প্রসঙ্গটি পাই। আজকের এই অবক্ষয়ের যুগে সাধারণ মানুষকে নানা প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়ে চলতে হচ্ছে চারিদিকে দাঙ্গা, যুদ্ধ আর ধ্বংসের তাণ্ডব মানুষকে গৃহহীন করেছে। হিংসায় উন্মত্ত, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই পৃথিবীতে মানুষকে আশ্রয় নিতে হচ্ছে উদ্‌বাস্তু শিবিরে। মানুষের এই নিরাশ্রয়, নিরাপত্তাহীনতার দিকটিকেই কবি ইঙ্গিত করেছেন।


প্রশ্ন:  'আমাদের পথ নেই কোনো'—'পথ' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?কবির এমন আশঙ্কার কারণ ব্যাখ্যা করো।

অথবা, 'আমাদের পথ নেই কোনো পথ না থাকার কারণ কী?

উত্তর> উদ্ধৃতিটি শঙ্খ ঘোষের 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতার অংশ। এখানে 'পথ' বলতে এই অবক্ষয়ের যুগে আদর্শহীনতা ও অনিশ্চয়তার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে নতুনভাবে বাঁচার উপায় বা দিশাকে বোঝানো হয়েছে।

॥ বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, দাঙ্গা, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা মানুষকে দিশেহারা করে তুলেছে। মানুষ আজ সন্ত্রাস আর বঞ্চনার শিকার। জীবনধারণের প্রতি পদে প্রতিবন্ধকতা তার অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলেছে। তাই কবির আশঙ্কা এই অন্ধকারের আবর্ত থেকে বেরিয়ে এসে, মানুষের সুষ্ঠু জীবনযাপনের আর বুঝি কোনো উপায় নেই ।


প্রশ্ন: ‘আমাদের শিশুদের শব/ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে?—উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য লেখো।

উত্তর>  উদ্ধৃতিটি কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার অংশবিশেষ

যুদ্ধবিধ্বস্ত বর্তমান বিশ্বে আমাদের চারপাশ আজ বিপৎসংকুল। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন; শাসকের মদতপুষ্ট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্তক্ষয়ী হানাহানি থেকে শিশুরাও বাদ যায়নি। ‘কাছে দূরে' গোটা পৃথিবীজুড়েই এখন সদ্যোজাতরাও হিংসাশ্রয়ী যুদ্ধ ও সন্ত্রাসের বলি। কবির আক্ষেপ আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি যেখানে শিশুদেরও কোনো নিরাপত্তা নেই। আমর আমাদের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষা দিতে অক্ষম। এই অক্ষমতা মানবতার পক্ষেও গভীর অবমাননার, তাই অত্যন্ত বেদনার।