নোট বই কবিতার হাতে-কলমে প্রশ্নের উত্তর | note boi kabitar proshner uttor | class 7 bangla
![]() |
![]() |
নোট বই
সুকুমার রায়
সপ্তম শ্রেণী
লেখক সুকুমার রায় পরিচিতি:
শিশুসাহিত্যের লেখক সুকুমার রায় কলকাতার এক ব্রাত্ম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সময়টা ছিল ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ অক্টোবর। তাঁর পিতা ছিলেন শিশুসাহিত্যের আর- এক দিকপাল লেখক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, মাতার নাম বিধুমুখী দেবী। ছোটোদের মাসিক পত্রিকা সন্দেশ-এর জন্যও তিনি নানান লেখা ও ছবি আঁকতে থাকেন। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে পদার্থবিদ্যায় বিএসসি অনার্স করার পর, মুদ্রণবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে সুকুমার রায় বিলাত যান। বিলাত থেকে ফিরে এসে তিনি পৈতৃক মুদ্রণশিল্পে জড়িয়ে পড়েন। কালক্রমে ভারতের অগ্রগামী লিথোগ্রাফার ও আলোকচিত্রী হয়ে ওঠেন। পরবর্তীকালে পিতার মৃত্যুর পর
সন্দেশ সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শুরু হয় বাংলা শিশুসাহিত্যের এক নতুন অধ্যায়। রচনা করেন 'ঝালাপালা', 'আবোল-তাবোল', 'হ-য-ব-র-ল', 'পাগলাদাশ', 'খাই খাই', 'অবাক জলপান', ' 'লক্ষ্মণের শক্তিশেল', 'চলচিত্তচঞ্চরী’, ‘বহুরূপী’, ‘হেসোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরী-এর মতো কালজয়ী সাহিত্যসমূহ। মাত্র ৩৭ বছর বয়সে কালাজ্বরে ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। স্বল্পদিনের জীবনে তিনি যা সৃষ্টি করে গিয়েছেন, তা থেকে বাঙালি জাতি চিরদিন অনাবিল আনন্দের স্বাদ পাবে। তাঁর ছড়ার বই ‘আবোল তাবোল' শুধুমাত্র বাংলা সাহিত্যে নয়, বিশ্বসাহিত্যের অঙ্গনেও নিজস্ব জায়গার দাবিদার।
নোটবই কবিতার সংক্ষিপ্তসার:
কবি আগাগোড়া মাথা ঘামিয়ে তাঁর নোটবুকে অদ্ভুত সব জিনিস লেখেন। ভালো কথা, যা শুনতে পান, নোটবুকে লিখে ফেলেন । যেমন, ফড়িঙের ক-টি ঠ্যাং কিংবা আরশোলা কী খায়? এ ছাড়াও আঙুলেতে আঠা দিলে কেন চটচট
করে অথবা কাতুকুতু দিলে গোরু কেন ছটফট করে। তাঁর মনে খটকা লাগে যে, ঝোলাগুড় কীসে দেওয়া হয়—সাবান তৈরিতে না পটকা তৈরির জন্য। মনের মধ্যে থাকা এইসব প্রশ্ন তিনি সযত্নে গুছিয়ে রেখেছেন, কারণ এর উত্তর জেনে নেবেন তাঁর মেজদার কাছ থেকে। আরও হাজার রকমের প্রশ্ন তার মনের মধ্যে উঁকি দিতে থাকে। কেউ বলতে পারে না,
কেন পেট কামড়ায়৷ জোয়ানের আরকে কেন ঝাঁঝ পাওয়া যায়। তেজপাতায় কেন তেজ থাকে অথবা লংকায় কেন ঝাল থাকে। নাক ডাকার কারণ কী কিংবা পিলে কেন চমকে ওঠে। দুন্দুভি বা অরণি কাকে বলে সেটাও তিনি জানতে চান। যাদের কাছে তিনি এসব প্রশ্ন জানতে চাইছেন, তারাও এসবের উত্তর জানে কি না সে বিষয়েও তাঁর সন্দেহ রয়েছে। কারণ উত্তরদাতাদের ওতো নোটবই পড়া নেই।
নোটবই কবিতার বিষয়বস্তু:
শিশু মনে জিজ্ঞাসার শেষ নেই। হাজারও প্রাসঙ্গিক-অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নে তার মন ভরে থাকে। আর এইসব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্যই নোটবই রাখা দরকার। আসলে নোটবই থাকার সুবিধা হল, যখন যা প্রশ্ন মনে আসে ও উত্তর জানা প্রয়োজন—তা তাতে লিখে নেওয়া যায়। আমাদেরও তাই নোটবই রাখা উচিত।
নোটবই কবিতার উৎস:
“নোট বই' কবিতাটি কবি সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল' নামক ছড়ার বই থেকে নেওয়া হয়েছে। এই ছড়ার বইটি ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের বেশিরভাগ কবিতাই হাস্যরসপূর্ণ। এই ধরনের ছড়াগুলিকে ইংরেজিতে 'Nonsense Verse' বলা হয়। বাংলা সাহিত্যে সুকুমাযর রায়-ই এই ধরনের ছড়ার প্রবর্তক এবং এই ধরনের কবিতায় তিনিই শ্রেষ্ঠ। ‘আবোল তাবোল' গ্রন্থের অন্যান্য ছড়াগুলি হল—‘আবোল তাবোল’, ‘কাঠ বুড়ো’, ‘খিচুড়ি’, ‘হুকো-মুখো হ্যাংলা’, ‘ভয় পেয়ো না’, ‘গানের গুঁতো’ ইত্যাদি। বেশিরভাগ ছড়াগুলিই আপাতভাবে অর্থহীন। তবে, তার মধ্যেও গভীর তাৎপর্য খুঁজে পাওয়া যায়। শিশুসাহিত্য হলেও শুধুমাত্র ছোটোদের জন্য নয়, ‘আবোল-তাবোল' বড়োদের জন্য ও
নির্মল হাস্যরসের আখর।
সুকুমার রায়ের সুযোগ্য পুত্র সত্যজিৎ রায়-ও এরকম কয়েকটি ছড়া লিখেছিলেন। এগুলি ‘তোড়ায় বাঁধা ঘোড়ার ডিম' নামক গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে।
নোটবই কবিতার নামকরণের সার্থকতা:
ন সাহিত্যবস্তুর ক্ষেত্রে নামকরণের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। তবে সাধারণভাবে গল্প, উপন্যাস, নাটক বা কবিতার তুলনায় ছড়ার নামকরণ রীতি একটু পৃথক হয়ে থাকে। সাহিত্যের অন্যান্য ধারায় নামকরণ বিভিন্ন প্রকারের হয়। যেমন—চরিত্রকেন্দ্রিক, বিষয় বা ঘটনাকেন্দ্রিক এবং যা ব্যঞ্জনাধর্মী। কিন্তু, ছড়ার ক্ষেত্রে নামকরণকে সরাসরি বস্তুধর্মী হতে হয়। ব্যঞ্জনা বা রূপক অর্থ এক্ষেত্রে ততটা কাম্য নয়। বিশেষত, শিশুসাহিত্যের ক্ষেত্রে নামকরণ সরল এবং সুবোধ্য হওয়াই কাম্য । আলোচ্য ‘নোট বই' ছড়াটিতেও আমরা তেমনই দেখি। সমগ্র ছড়াটিতে দেখা যায়, কবির
মনে যতরকম প্রশ্ন আছে, তা সে যতই উদ্ভট ও অবাস্তবই হোক না কেন, সেই সবই তিনি নোট বই-এ লিখে রাখেন।
এমনকি, প্রশ্নের উত্তর জানার পরই সেটিও নোট বই-এ লিখে রাখা হয়। সুতরাং, ছড়াটির কেন্দ্রে আছে একটি নোট বই।
এই কারণেই বিষয়কেন্দ্রিক নামকরণ হিসেবে এটি সার্থক ও তাৎপর্যপূর্ণ।
হাতে কলমে প্রশ্নের উত্তর
১. একটি বাক্যে উত্তর দাও :
১.১ নোট বই কী ধরনের লেখাতে ভরা ?
উত্তর: নোট বই কিলবিল লেখাতে ভরা।
১.২ বক্তা কী করে নিজে নিজে নোট বইটি লিখলেন ?
উত্তর- বক্তা যখনই কোনো ভালো কথা শোনেন তখনই তা মাথা ঘামিয়ে নিজের নোট বইতে লিখে ফেলেন।।
২. চটপট, চটচট, ছটফট, কটকট—এই শব্দগুলি কী ধরনের শব্দ ? চটপট আর ছটফট এই দুটি শব্দ দিয়ে দুটি করে বাক্য লেখো।
উত্তর. চটপট, চটচট, ছটফট, কটকট—এই শব্দগুলি ধ্বন্যাত্মক শব্দ।
> চটপট চটপট কাজটা করে ফেলো।
> তরুণ খুব চটপটে ছেলে।
> ছটফট— তোমাকে দেখার জন্য আমার মনটা ছটফট করছে।
> গরমে সবাই ছটফট করছে।
৩. নীচের বিশেষাগুলির আগে উপযুক্ত বিশেষণ ৰসাও
-----লণ্ঠন, ------লংকা,---- আঠা।
উত্তর- টিমটিমে, কাঁচা, চটচটে
৩. একই অর্থযুক্ত আর-একটি শব্দ কবিতা থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো :
[ পা, উত্তর, অস্থিরতার ভাব, তীক্ষ্ণতা।]
উত্তর- > পা ঠ্যাং।
উত্তর - জবাব।
অস্থিরতার ভাব—ছটফট।
তীক্ষ্ণতা - ঝাঁঝ।
৫. শূন্যস্থান পূরণ করো :
বিশেষ্য > বিশেষণ
আঠা------
------------- মন
উত্তর- বিশেষ্য > বিশেষণ
আঠা >আঠালো
মন > মানসিক
৬. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো
৬.১ "ভালো কথা শুনি যেই চটপট লিখি তায়’—বক্তা কোন, কোন কথা নোট বইতে লিখে রেখেছিলেন ?
উত্তর- বক্তা পেনসিল আর নোটবুক সবসময় সঙ্গে রাখেন।
তাই তিনি যখনই কোনো ভালো কথা শোনেন, তখনই তাঁর নোটবুকে সেগুলি টুকে নেন। যেমন কটি ঠ্যাং, আরশোলা কী কী যায়, কাতুকুতু দিলে গোরু কেন ছটফট করে এসব নতুন নতুন কথা তিনি নোটবইতে লিখে রেখেছিলেন।
৬.২ 'কাল থেকে মনে মোর লেগে আছে খটকা'—কাল থেকে মনে কী খটকা লেগেছে ? এই খটকা কীভাবে দূর হবে?
উত্তর > বক্তার মনে কাল থেকে একটি খটকা লেগেছে যে, ঝোলাগুড় সাবান তৈরিতে লাগে, নাকি পটকা তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। এই প্রশ্নই বক্তাকে ভাবিয়ে তুলেছে।
বক্তার মনের খটকা দূর হবে তখনই, যখন তিনি প্রশ্নের উত্তরটা তাঁর মেজদাকে খুঁচিয়ে জেনে নেবেন।
৬.৩ বলবে কী, তোমরাও নোট বই পড়োনি -নেট বই পড়লে আর কী কী জানা যাবে ?
উত্তর > বক্তা তাঁর নোট বইতে লিখে রাখা বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছেন। যেমন—পেট কেন কামড়ায়, জোয়ানের আরকে কেন ঝাঁঝ থাকে, তেজপাতায় তেজ কেন, লংকায় ঝাল কেন, নাক ডাকে কেন, পিলে চমকায় কেন, কিংবা দুন্দুভি কার নাম অথবা অরণি কাকে বলে,
এইসব প্রশ্নের উত্তর বক্তার নোট বই পড়লে জানা যাবে।
৭. নির্দেশ অনুসারে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
৭.১ এ ভালো কোনো কথা শুনলে কবিতার লোকটি কী করে ?
উত্তর > ভালো কোনো কথা শুনলে লোকটি চটপট তাঁর নোটবুকে পেনসিলের সাহায্যে সেটি লিখে নেন।
৭.২ তার শোনা কয়েকটি ভালো কথার নমুনা কবিতা থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো।
উত্তর > বন্ধা যে ভালো কথাগুলি তাঁর নোট বইতে টুকে রেখেছিলেন, সেগুলি হল- ফড়িঙের রুটি ঠ্যাং, আরশোলা কী কী খায়, আঙুলেতে আঠা দিলে কেন চটচট করে এবং কাতুকুতু দিলে গোরু কেন ছটফট করে।
৭.৩ কিলবিল, ছটফট, কটকট, টনটন— এগুলি কী ধরনের শব্দ ?
উত্তর> কিলবিল, ছটফট, কটকট এবং টনটন এগুলি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ধ্বন্যাত্মক শব্দের অর্থ হল, যার অভ্যন্তরে বা ভিতরে একটি বিশেষ ধ্বনি আছে।
৭.৪ ‘মাথা ঘামানো’ এই বিশিষ্টার্থক শব্দবন্ধের অর্থ কী :
উত্তর > 'মাথা ঘামানো'—এই শব্দবন্ধটির দ্বারা কবি বিশেষভাবে মস্তিস্কচর্চার কথা বোঝাতে চেয়েছেন। চারপাশের বিষয়বস্তু দেখেশুনে বিষয়গুলির প্রতি মনোযোগ দেওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করাকেই বক্তা মাথা ঘামানো বলেছেন।
৭.৫ ভালো কোনো প্রশ্ন মনে এলে বক্তা কার সাহায্য নিয়ে সেগুলির উত্তর জেনে নেন ?
উত্তর- ভালো কোনো প্রশ্ন মনে এলে বক্তা তাঁর মেজদাকে খুঁচিয়ে তার উত্তরগুলি জেনে নেন।
৭.৬ মানুষের কাছে নোট বই থাকাকে কি তুমি জরুরি বলে মনে করো ?
উত্তর> অবশ্যই। প্রত্যেকটি মানুষের কাছে নোটবই থাকা জরুরি। কারণ, এই পৃথিবীর অনেক বিষয় আমাদের
অজানা থেকে যায়। নোটবই থাকলে সেসব প্রশ্নের উত্তর অভিজ্ঞ মানুষের থেকে জেনে নেওয়া সম্ভব হয়।
৭.৭ তুমি যদি নোট বই কাছে রাখ তাতে কী ধরনের তথ্য লিখে রাখবে ?
উত্তর-আমার কাছে যদি নোট বই থাকে, তাতে অবশ্যই আমার না-জানা তথ্যগুলি লিখে রাখব। আমার চারপাশে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনার বিষয় আমার অজানা। সেই বিষয়গুলির উত্তর অনেক সময় নোট বইতে থাকা তথ্যের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।
৭.৮ 'জোয়ান' শব্দটিকে দুটি অর্থে ব্যবহার করে আলাদা বাক্যে লেখো।
> জোয়ান (তরুণ যুবক); ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এ জোয়ানের সংখ্যা বেশি।
জোয়ান (বলিষ্ঠ)। দুই জোয়ানের কুস্থিতে কে হারে কে জেতে সেটিই দেখার।
৭.৯ 'আগাগোড়া' এমন বিপরীতার্থক শব্দের সমাবেশে তৈরি পাঁচটি শব্দ লিখে বাক্যরচনা করো।
উত্তর- আগাগোড়া > ঘটনার আগাগোড়া কিছুই আমি জানি না।
ভালো-মন্দ > ভালো-মন্দ মানুষ নিয়েই আমাদের সমাজ গড়ে উঠেছে।
সুখ-দুঃখ—আমাদের জীবনের সঙ্গে সুখ-দুঃখ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
সত্য-মিথ্যা—খবরটার সত্য-মিথ্যা যাচাই করা আমার সাধ্য নয়।
রাতদিন–এ পাড়ায় রাতদিন হইচই লেগেই আছে।
হাসি-কান্না— আমাদের হাসি-কান্নায় ভরা সংসারে অভিমান করা সাজে না।
৭.১০ কবিতাটিতে কোন্ কোন্ পতঙ্গের উল্লেখ রয়েছে ?
উত্তর > কবিতাটিতে দুটি পতঙ্গের উল্লেখ রয়েছে। সেগুলি হল ফড়িং ও আরশোলা।
৭.১১ কবিতায় উত্থাপিত কোন্ কোন্ প্রশ্নের উত্তর তুমি জানো ?
উত্তর > কবিতায় উল্লিখিত বেশ কতকগুলি প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা। যেমন, পতঙ্গশ্রেণির প্রাণীদের তিন জোড়া পা থাকে, তাই ফড়িং-এর তিন জোড়া পা আছে।
আরশোলা সর্বভুক প্রাণী । গোরুকে কাতুকুতু দিলে তার শরীরে স্নায়ুর উপস্থিতির কারণে মানুষের মতো সুড়সুড়ি অনুভূত হয় । তাই তারা ছটফট করে। জোয়ানের আরক, তেজপাতা ও লংকা ভেষজ গুণের কারণে ঝাঁঝালো হয়।
এ ছাড়া নাক ডাকার কারণ, ঘুমোনোর সময় অক্সিজেনের অভাব হওয়া। ‘দুন্দুভি' হল—এক ধরনের রণবাদ্য- এগুলোও আমরা জানি ।
৭.১২ কোন্ প্রশ্নগুলি পড়ে কবিতাটিকে তোমার কবির খেয়ালি মনের কল্পনা বলে মনে হয়েছে ?
উত্তর > কবিতাটির বেশ কতকগুলি প্রশ্ন আমার কাছে উদ্ভট ও কবির খেয়ালি মনের কল্পনা বলে মনে হয়েছে।
যেমন— আরশোলার খাওয়া-দাওয়া, গোরুকে কাতুকুতু দেওয়া, ঝোলাগুড়ের প্রয়োগ কিংবা, জোয়ানের আরকের ঝাঁঝ, লংকার ঝাল স্বাদ হওয়ার কারণ সম্বন্ধে
অনাবশ্যক কৌতূহল আমার অদ্ভুত বলে মনে হয়েছে।
৮. নীচের শব্দগুলির গদ্যরূপ লেখো :
[তায়, মোর, তেজপাতে।]
তায় > তাতে।
মোর > আমার।
তেজপাতে > তেজপাতায়।
৯. বিশেষ্যগুলিকে বিশেষণে আর বিশেষণগুলিকে বিশেষ্যে বদলে লেখো :
[মন, চটচট, জবাব, পেট।]
বিশেষ্য > বিশেষণ
মন > মানসিক
চটচট > চটচটে
জবাব > জবাবি
পেট > পেটুক
১০ নীচের সর্বনামগুলিকে বাক্যে ব্যবহার করো ।
[আমি, মোর, কে, কার, কাকে, তোমরা, নিজে ]
আমি—আমি বড়ো হয়ে ভালো ডাক্তার হতে চাই।
মোর—মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক আমি তোমাদেরই লোক।
কে—এই কাজের পেছনে কে আছে, তা আমি জানি।
কার—কার কাছে এ ব্যাপারে সাহায্য চাইব?
কাকে—কাকে এই জগতে বিশ্বাস করব?
তোমরা—তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ।
নিজে—নিজের কাজ সর্বদা নিজেই করবে।
১১ নীচের বাক্যগুলির উদ্দেশ্য ও বিধেয় দুই অংশ।সম্প্রসারণ করে লেখো :
১১.১ ওরে রামা ছুটে আয় নিয়ে আয় লণ্ঠন।
উদ্দেশ্য > ওরে রামা
বিধেয় > ছুটে আয় নিয়ে আয় লণ্ঠন।
১১.২ এই দেখো ভরা সব কিলবিল লেখাতে।
উদ্দেশ্য > এই দেখো ভরা
বিধেয় > সব কিলবিল লেখাতে।
১১.৩ জবাবটা জেনে নেব মেজদাকে খুঁচিয়ে ।
উদ্দেশ্য > মেজদাকে
বিধেয় > জবাবটা জেনে নেব খুঁচিয়ে ।
১১.৪ ঝাল কেন লংকায়।
উদ্দেশ্য > লংকায়
বিধেয় > ঝাল কেন
১১.৫ বলবে কী, তোমরাও নোট বই পড়োনি !
উদ্দেশ্য > তোমরাও
বিধেয়। > বলবে কী, নোট বই পড়োনি !
১২. নিম্নরেখ অংশগুলির কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো ।
১২.১ কাল থেকে মনে মোর লেগে আছে খটকা।
উত্তর > কাল থেকে–অপাদান কারকে 'থেকে' অনুসর্গ ।
১২.২ ওরে রামা ছুটে আয় ।
উত্তর > রামা—সম্বোধন পদে শূন্য বিভক্তি।
১২.৩ পেট কেন কামড়ায় বলো দেখি পারো কে?
উত্তর > পেট কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।
১২.৪ নিজে নিজে আগাগোড়া লিখে গেছি আমি এ। .
উত্তর > আমি—কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
১২.৫ এইবেলা প্রশ্নটা লিখে রাখি গুছিয়ে।
উত্তর > এইবেলা—অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর
সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো :
প্রশ্ন: 'নোট বই' কবিতার কবি (সত্যজিৎ রায় / সুকুমার রায়/কালিদাস রায়)।
উত্তর > সুকুমার রায়।
প্রশ্ন: আঠা আঙুলে দিলে (চটচট/চ্যাটচ্যাট/টসটস) করে।
উত্তর > চটচট
প্রশ্ন: নিজে নিজে (আগামাথা/আগাআগি/আগাগোড়া) লিখে গেছি আমি।
উত্তর> আগাগোড়া
প্রশ্ন: কাল থেকে (হৃদে / মনে প্রাণে) মোর লেগে আছে খটকা।
উত্তর> মনে।
প্রশ্ন: বলো দেখি (তেজ/ঝাল/ঝাঁঝ) কেন জোয়ানের আরকে ?
উত্তর > ঝাঁঝ
প্রশ্ন: কার নাম (কন্দুলি /কালি/ দুন্দুভি)?
উত্তর > দুন্দুভি
প্রশ্ন: কতৃত্ব দিলে (গোৰু/মহিষ/বলদ) কেন করে ছটফট।
উত্তর > গোরু।
প্রশ্ন: কান করে কটকট (সাড়া/ফোড়া/ঘোরা) করে টন টন।
উত্তর > ফোড়া
প্রশ্ন: ওরে রামা (থেমে/ ছুটে/ঘুমিয়ে) আয়।
উত্তর > ছুটে
'প্রশ্ন: নোট বই' কী ?
উত্তর: নতুন কিছু জানা বা শেখার পর সেটি যে খাতায় লিখে বা টুকে রাখা হয়, তাই হল নোট বই ৷
প্রশ্ন: নোট বই”-তে কী কী বিষয় লিখে রাখা যায় ?
উত্তর> ‘নোট বই’-তে যে-কোনো অজানা বিষয় লিখে রাখা যায়। যেমন—প্রিয় খেলোয়াড়ের নাম, তার সম্বন্ধে নানান তথ্য, সাধারণ জ্ঞানের বিষয়, লেখকের ছদ্মনাম, বিজ্ঞানের বিষয়, প্রাণীর বিজ্ঞানসম্মত নাম ইত্যাদি।
প্রশ্ন: 'নোট বই' থাকলে কী সুবিধা পাওয়া যায় ?
উত্তর> 'নোট বই” থাকলে আমরা সহজে হাতের কাছে অজানা তথ্য খুঁজে নিতে পারি। হঠাৎ নতুন কিছু জানলে তাতে লিখে নিতে পারি। এভাবে আমরা আমাদের জ্ঞানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করতে পারি।
'প্রশ্ন: নোট বই' কীভাবে তৈরি করা যায় ?
উত্তর: দোকান থেকে কাগজ কিনে সেলাই করে আমরা ‘নোট বই” তৈরি করতে পারি।
প্রশ্ন: 'নোট বই' লিখতে কী কী জিনিস লাগে ?
উত্তর > 'নোট বই' লিখতে পেনসিল বা কলম এবং খাতা অবশ্যই লাগবে।
প্রশ্ন: বক্তার হাতে কী কী আছে ?
উত্তর> বক্তার হাতে নোট বই ও পেনসিল আছে।
প্রশ্ন: বক্তা ভালো কথা শুনলেই কী করেন ?
উত্তর> বক্তা ভালো কথা শুনলেই চটপট নোট বইতে লিখে। ফেলেন।
প্রশ্ন: বক্তা কীভাবে তাঁর নোট বইতে আগাগোড়া লিখেছেন ?
উত্তর > বক্তা তাঁর নোট বইতে আগাগোড়া মাথা ঘামিয়ে লিখে গিয়েছেন।
প্রশ্ন: ঝোলাগুড় কীসে দেয় সাবানে না পটকায়। এই নিয়ে কবির মনে খটকা লেগেছে।
উত্তর > বক্তা তাঁর প্রশ্নগুলির উত্তর কার কাছে পাবেন ?
প্রশ্ন: বক্তা তাঁর প্রশ্নগুলির উত্তর মেজদাকে খুঁচিয়ে পেয়ে যাবেন।
প্রশ্ন: আঙুলেতে কী দিলে চটচট করে ?
উত্তর > আঙুলেতে আঠা দিলে খুব চটচট করে।
প্রশ্ন: কাতুকুতু দিলে কে ছটফট করে ?
উত্তর> কাতুকুতু দিলে গোরু ছটফট করে।
প্রশ্ন: রামাকে কবি কী নিয়ে ছুটে আসতে বলেছেন ?
উত্তর > রামাকে কবি লণ্ঠন নিয়ে ছুটে আসতে বলেছেন।
প্রশ্ন: কবি কবিতার শেষে পাঠকদের কী পড়েননি বলেছেন ?
উত্তর> কবি পাঠকদের কবিতার শেষে নোট বই পড়েননি বলেছেন।
প্রশ্ন: কবি প্রশ্ন পেলে কীভাবে রাখেন ?
উত্তর > কবি প্রশ্ন পেলেই গুছিয়ে রাখেন।
শব্দার্থ
চটপট- তাড়াতাড়ি।
ডাক—সাড়া।
তেজপাতা -মশলা হিসেবেব্যবহৃত এক ধরনের ঝাঁজালো পাতা।
ঠ্যাং- পা।
নোটবুক ( Note book) নোট বা উদ্ধৃতি টুকে রাখার খাতা বা বই।
ভরা- পূর্ণ।
কিলবিল- হরেকরকম।
পিলে- প্লিহা।
চমকায়—চমকিত হওয়া।
দুন্দুভি—এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র।
অরণি—চিত্রক গাছ, এক ধরনের কাঠ যা আগুষ জ্বালাতে সাহায্য করে।
আঠা - একধরনের পিচ্ছিল পদার্থ যা জুড়তে সাহায্য করে।
কাতুকুতু—সুড়সুড়ি।
ছটফট আনচান।
মাথা—মস্তিষ্ক।
ঘামিয়ে - ভেবে।
আগাগোড়া - শুরু থেকে শেষ।
ফোড়া—স্ফোটক বা ঘা।
লণ্ঠন-একধরনের বাতি।
মোর—আমার।
ঝোলাগুড়—খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড়।
পটকা - শব্দবাজি।
গুছিয়ে—পরিপাটিভাবে।
জবাব—উত্তর।
খুঁচিয়ে—খোঁচা দিয়ে।
কামড়ায়—যন্ত্রণা দেয়।
ঝাঁজ—রাগ বা তেজ।
জোয়ান-মশলা হিসেবে ব্যবহৃত একধরনের শস্য/যুবক।
আরক—আয়ুর্বেদিক ওষুধ।

