হঠাৎ ভয়ানক একটা উত্তেজনা অনুভব করে তপন তপন কেন উত্তেজনা অনুভব করে এবং তা ভয়ানক কেন? জ্ঞানচক্ষু গল্প || দশম শ্রেণী
![]() |
প্রশ্ন: 'হঠাৎ ভয়ানক একটা উত্তেজনা অনুভব করে তপন।- তপন কেন উত্তেজনা অনুভব করে এবং তা 'ভয়ানক' কেন?
উত্তর: নতুন মেসো তপনের স্বরচিত গল্প 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপার জন্য নিয়ে গেলে তার গল্প লেখার উৎসাহ আরও বৃদ্ধি পায়। উৎসাহের বশে তিনতলার সিঁড়িতে একান্ত নির্জনে একাসনে বসে তার হোমটাস্কের খাতায় লিখে ফেলে আস্ত আর একটি গল্প।
গল্পটি পড়ে নিজেই অবাক হয়। বিশ্বাস জন্মায় নিজের সামর্থ্যের প্রতি। সে যে একজন লেখক হতে চলেছে—এই উত্তেজনা সে অনুভব করে।
| নতুন মেসোকে দেখে তপনের যেমন লেখক সম্বন্ধে জ্ঞানচক্ষু খুলে গিয়েছিল, ঠিক তেমনভাবে তার গল্প লেখার উৎসাহও বেড়ে গিয়েছিল।
লেখক হতে চাওয়ার যে সুপ্ত ইচ্ছা তার মধ্যে ছিল তার পূর্ণতা পাওয়ার দিন যেন সে দেখতে পায়। উৎসাহভরে হোমটাস্কের খাতা নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে তিনতলায় উঠে একান্তে বসে লিখে ফেলে গোটা একটি গল্প। মা যেমন সন্তানকে দেখে খুশি হয় তাঁর নিজের অংশ হিসেবে ভেবে, তপনও তেমনি তার নিজের সৃষ্টিতে আনন্দিত হয়ে ওঠে। নিজের সৃষ্টি আগাগোড়া পড়ে তার শরীরে শিহরন খেলে যায়। সে ভাবতেই পারে না, এত সুন্দর একটা গল্প সে নিজেই লিখতে পারবে। নিজস্ব ভাব ও ভাবনার বাণীমূর্তিই আলোচ্য অংশে ভয়ানক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যা তার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।
প্রশ্ন: ‘তপন অবশ্য মাসির এই হইচইতে পুলকিত হয়’– মাসি হইচই করেছিল কেন? তপনের পুলকিত হওয়ার কারণই-বা কী ছিল?
উত্তর: গরমের ছুটিতে নামার বাড়িতে এসে নতুন মেসোকে দেখে তপনের
মনে লেখক সম্পর্কে যেসব ধারণা ছিল তা ভেঙে যায়। জলজ্যান্ত লেখকের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তপন অনুপ্রাণিত হয়ে একটা আস্ত গল্প লিখে ফেলে। সদ্য লেখা গল্পের এক অভাবনীয় উত্তেজনায় তিনতলার সিঁড়ি থেকে নেমে এসে তপন তার চিরকালের বন্ধুসম ছোটোমাসিকে সেই গল্প দেখায়। আর মাসি তাতে একটু চোখ বুলিয়েই তার পিঠ চাপড়ে বাহবা দেওয়ার পাশাপাশি হইচই শুরু করে দেয় এবং তা নিয়ে তার লেখক স্বামীর কাছে যায়।
| ছোটোমাসি যখন গল্পে চোখ বুলিয়ে মেসোকে দেখাতে যায়, তখন তপন ব্যাপারটায় প্রথমে আপত্তি তুললেও মনে মনে পুলকিত হয়। পুলকিত হয় এই ভেবে যে, তার লেখার মূল্য একমাত্র কেউ যদি বোঝে তবে ছোটো মেসোমশাই বুঝবে। কেন-না জহুরির
জহর চেনার মতো একজন লেখকই পারে কোনো লেখার মূল্যায়ন করতে। তপনের ভাবনার রূপান্তর ঘটে, যখন তার লেখক-মেসো গল্প দেখে তপনকে ডেকে তার গল্পের প্রশংসা করেন এবং সামান্য কারেকশন করে সেই গল্পটা ছাপিয়ে দেওয়ার কথাও দেন।
