ছোট গল্প হিসেবে আশাপূর্ণা দেবীর রচিত জ্ঞানচক্ষু গল্পের সার্থকতা বিচার করো।
![]() |
প্রশ্ন: ছোটোগল্প হিসেবে আশাপূর্ণা দেবী রচিত 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: শুধু আয়তনে ছোটো হলেই কোনো গল্প ছোটোগল্পের পর্যায়ে পড়ে
না। ছোটোগল্পের কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে। সেই বৈশিষ্ট্যগুলির সাপেক্ষে
‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পটিকে বিচার করলে বোঝা যাবে ছোটোগল্প হিসেবে সেটি কতটা সার্থক।
ছোটোগল্প শুরু হয় হঠাৎ করে। ‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পতেও এই বৈশিষ্ট্যটি লক্ষ করা যায়। ‘কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল'—এই বাক্যটি দিয়ে আচমকাই গল্পটি শুরু হয়।
গল্প লেখাকে কেন্দ্র করে তপনের মোহ এবং সেই মোহভঙ্গের কাহিনিকে ঘিরেই এই গল্প। গল্পে অন্য কোনো উপকাহিনি গড়ে ওঠেনি। তাই গল্পটি তার সংক্ষিপ্ত পরিধির মধ্যে একটিমাত্র বিষয়েই সীমাবদ্ধ।
‘> জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপন ছাড়াও যে চরিত্রগুলির ভূমিকা নজর কাড়ে, তাঁরা হলেন তপনের ছোটোমাসি এবং মেসো। বাকি চরিত্রগুলি নেহাতই গৌণ। এক্ষেত্রেও ছোটোগল্পের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রয়েছে। অতিরিক্ত চরিত্রের ভিড় নেই।
ছোটোগল্প যেমন হঠাৎ করে শুরু হয়, তেমনই হঠাৎ করেই শেষ হয়। গল্প
শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও পাঠকের মনে এক ধরনের অতৃপ্তি থেকে যায়।
>> জ্ঞানচক্ষু' গল্পটিও এর ব্যতিক্রম নয়। ছাপার অক্ষরে নিজের নামের মতোই নিজের লেখাকেও দেখতে চেয়েছিল তপন। তার সেই স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়েই গল্পটি শেষ হয়।
“জ্ঞানচক্ষু' গল্পটির মধ্যে ছোটোগল্পের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যই রয়েছে। সুতরাং,
ছোটোগল্প হিসেবে এটি নিঃসন্দেহে সার্থক।
