জ্ঞানচক্ষু গল্পের তপনের চরিত্রটি আলোচনা কর
![]() |
প্রশ্ন: ‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পের তপন চরিত্রটি আলোচনা করো।
উত্তর- আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের তপনের মধ্যেও সব শিশুর মতোই আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন-স্বপ্নভঙ্গ, কল্পনা-বাস্তব, আনন্দ-অভিমানের টানাপোড়েন দেখা যায়। তবে তার চরিত্রের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য তাকে আলাদা করে রাখে।
কল্পনাপ্রবণ: তপন মনে মনে তার কল্পনার জগৎকে সাজিয়ে নিতে ভালোবাসে। তাই তার কল্পনার জগতে লেখকরা ছিলেন ভিন গ্রহের প্রাণী। সাধারণ মানুষদের সঙ্গে তাদের বুঝি-বা কোনো মিলই নেই।
সাহিত্যের প্রতি তপনের ঝোঁক
সাহিত্যপ্রেমী: ছোটোবেলা থেকেই। সে অনেক গল্প শুনেছে ও পড়েছে। লেখকদের সম্পর্কেও তার কৌতূহল অসীম। ছোটোমেসোকে দেখে তার মনেও লেখক হওয়ার ইচ্ছে জাগে। উৎসাহী হয়ে বেশ কয়েকটা গল্পও লিখে ফেলে।
সংবেদনশীল: বয়স অনুপাতে তপন একটু বেশিই সংবেদনশীল। সমবয়সি ছেলেমেয়েদের মতো রাজারানি, খুন-জখম ও অ্যাকসিডেন্ট নিয়ে না-লিখে, তার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা আর অনুভূতি নিয়ে সে গল্প লেখে। তা নিয়ে বাড়ির লোকের ঠাট্টাতামাশা কিংবা মাসি-মেসোর উৎসাহদান-কোনোটাতেই সে প্রকাশ্যে তার প্রতিক্রিয়া দেখায় না।
এটা তার অন্তর্মুখী স্বভাবেরই পরিচয়। তাই কারেকশনের নামে মেসো তার গল্পটা আগাগোড়া বদলে দিলে তপন তার কষ্ট লুকোতে ছাদে গিয়ে কাঁদে।
আত্মমর্যাদাসম্পন্ন: তপনের আত্মমর্যাদাবোধ ছিল প্রবল। তার গল্প ছোটোমেসো কারেকশনের নাম করে আগাগোড়াই বদলে দিলে তপনের লেখকসত্তা আহত হয়। সে মনে মনে শপথ নেয়, ভবিষ্যতে লেখা ছাপাতে হলে সে নিজে গিয়ে লেখা দিয়ে আসবে পত্রিকা অফিসে। তাতে যদি তার মতো নতুন লেখকের লেখা ছাপা না হয়, তাতেও দুঃখ নেই।
