জ্ঞানচক্ষু গল্পে নতুন মেসোর চরিত্রটি আলোচনা করো।
![]() |
প্রশ্ন: জ্ঞানচক্ষু' গল্পে নতুন মেসোর চরিত্রটি আলোচনা করো।
উত্তর: মিশুকে: কথাশিল্পী আশাপূর্ণা দেবী রচিত 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের মূল চরিত্র তপনের আত্মোপলব্ধির পিছনে যে-চরিত্রটির প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে, তিনি হলেন তপনের নতুন মেসো। এই মেসো পেশায় অধ্যাপক এবং লেখক। তাঁর লেখক পরিচয় তপনের মনের বহু ভুল ধারণা ভেঙে দেয়। অধ্যাপক ও লেখক হওয়া সত্ত্বেও মেসো ব্যক্তিটি বেশ মিশুকে, ফুর্তিবাজ। তিনি শ্যালক-শ্যালিকাদের সঙ্গে গল্প করেন, তর্ক করেন, কবজি ডুবিয়ে খাওয়াদাওয়া করেন, সিনেমায় যান ও বেড়াতেও যান।
সহানুভূতিশীল; শ্বশুরবাড়ির সদস্য হিসেবে তপনের প্রথম লেখা গল্পের তিনি প্রশংসা করেন ও তা ছাপার দায়িত্ব নিয়ে নেন।
নিজের প্রতিপত্তি জাহিরে আগ্রহী : তপনকে উৎসাহ দিতে শুধুমাত্র ছোটোমেসো তার গল্পটা ছাপিয়ে দেন, এমনটা নয়। শ্বশুরবাড়িতে নিজের প্রতিপত্তি জারি করতেও তিনি এ কাজ করেন।
অন্যের আবেগ বুঝতে অক্ষম ; তপনের গল্প যাতে প্রসিদ্ধি পায়, তাই সংশোধনের নামে গল্পের খোলনলচে বদলে দেন মেসো। তাঁর উদ্দেশ্য হয়তো মহৎ ছিল। কিন্তু তাঁর এই উদ্যোগ তপনের লেখকসত্তাকে আঘাত করে। একদিকে চারিত্রিক উদারতায় ও মহত্ত্বে আবার অন্যদিকে অসতর্কতায়, তপনের নতুন মেসো এক রক্তমাংসের চরিত্র হয়ে ওঠেন।
যদিও একজন লেখক হয়ে অন্য লেখকের এই আত্মসম্মান ও অহংবোধকে উপলব্ধি করা তাঁর উচিত ছিল।
