তপনের মনে লেখক হবার বাসনা কিভাবে জাগলো এবং তার পরিণতি কি হয়েছিল? জ্ঞানচক্ষু গল্প। দশম শ্রেণী - school book solver

Thursday, 19 February 2026

তপনের মনে লেখক হবার বাসনা কিভাবে জাগলো এবং তার পরিণতি কি হয়েছিল? জ্ঞানচক্ষু গল্প। দশম শ্রেণী

 


প্ৰশ্ন:  তপনের মনে লেখক হওয়ার বাসনা কীভাবে জাগল ? তার পরিণতি কী হয়েছিল ?


উত্তর: ‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পটির প্রধান চরিত্র কিশোর তপন। সম্প্রতি তার ছোটোমাসির বিয়ে হয়েছে এমন একজনের সঙ্গে যিনি পেশার অধ্যাপক হলেও একজন লেখক। কিশোর তপনের দু-চোখে স্বপ্ন লেখক হওয়ার; একইসঙ্গে সে ভাবে, কবি-সাহিত্যিক-লেখক—তাঁরা সাধারণ মানুষ নন; তাঁরা অনন্যসাধারণ, ভিন্ন প্রকৃতির; হয়তো আকাশ থেকে পড়া কোনো জীব। কিন্তু নতুন লেখক-মেসোকে দেখে তার ধারণার কাল্পনিক পর্দা সরে যায়; সে অনুভব করে লেখকরাও রক্তমাংসে গড়া আর-পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতোই। তার মনে লেখক হওয়ার বাসনা হঠাৎই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

>  শিশুমন কোমল, সামান্য আঘাত পেলেই তারা ভীষণভাবে মুষড়ে পড়ে।

এক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। ছোট্ট তপনের লেখক সম্পর্কে সব কৌতূহলের শেষ

হয় নতুন মেসোকে দেখে। অনুপ্রাণিত তপন একটি গল্প লেখে। সেই গল্প মাসির পীড়াপীড়িতে মেসোর হাত ধরে ‘সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপা হয়। স্বাভাবিক কারণে তপন উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। নানান বিরূপতা সত্ত্বেও সে গর্ব অনুভব করে। কিন্তু তার গর্ব মাটিতে মিশে যায় গল্পটি পড়ার সময়। সে দেখে প্রকাশিত গল্পে তার লেখা লেশমাত্র নেই। কারণ গল্পটা সামান্য কারেকশনের নামে পুরোটাই বদলে গিয়েছিল। এতে তপনের লেখকসত্তা অপমানিত হয়। তার চোখে জল এসে যায়। নিজের গল্প পড়তে বসে অন্যের লেখা লাইন পড়ার দুঃখ ও যন্ত্রণা তাকে কুরে কুরে খায়। লজ্জা, অনুশোচনা এবং আত্মসম্মানহীনতার সংকোচ থেকে এভাবেই সে উপরিউক্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।