কুতুব মিনারের কথা গল্পের প্রশ্নের উত্তর || kutub monster katha golper proshner uttor - school book solver

Thursday, 29 January 2026

কুতুব মিনারের কথা গল্পের প্রশ্নের উত্তর || kutub monster katha golper proshner uttor

 








কুতুবমিনারের কথা

 সৈয়দ মুজতবা আলি

সপ্তম শ্রেণীর


লেখক সৈয়দ মুজতবা আলি পরিচিতি: অধুনা বাংলাদেশের শ্রীহট্ট তথা সিলেট জেলার করিমগঞ্জে ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে সৈয়দ মুজতবা আলির জন্ম হয়। তাঁর পিতার নাম হল সৈয়দ সিকান্দার আলি। তিনি ছিলেন সুবিখ্যাত সাহিত্যিক ও বহু ভাষাবিদ। স্কুলে পড়াকালীন মহাত্মা গান্ধির ডাকে তিনি অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করেন। পরে কাবুলের শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক হন। তিনি আরবি, ফারসি, হিন্দি, সংস্কৃত, উর্দু, মারাঠি, গুজরাটি, ইটালিয়ান, জার্মান-সহ

মোট পনেরোটি ভাষা জানতেন। ভারত ভাগ হওয়ার পর তিনি বগুড়া কলেজে অধ্যাপনা করতেন। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে তিনি আকাশবাণীর কেন্দ্রের পরিচালক রূপে কাজ করেন। একাধারে প্রবন্ধ, ছোটোগল্প, উপন্যাস, রম্যরচনা, ভ্রমণকাহিনি সব ধরনের রচনায় তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হল—‘দেশে-বিদেশে’, ‘পঞ্চতন্ত্র', 'চাচা কাহিনী, ‘ময়ূরকণ্ঠী', শবনম', 'ধূপছায়া', 'অবিশ্বাস্য', 'টুনিমেম', 'লি', 'কত না অঞ্চল' ইত্যাদি। ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি পুরস্কার'-এ সম্মানিত হন। এই মহান স্রষ্টা ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে পরলোকগমন করেন। তবে তাঁর সৃষ্টির মধ্যে তিনি আজও বেঁচে আছেন।

   'কুতুবমিনারের কথা' গল্পের     

            সংক্ষিপ্তসার: 

কুতুব মিনার পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মিনার। বিশ্বে এর তুলনা নেই। এটি পাঁচতলার মিনার। ১২০০ শতাব্দীতে মিনারটির নির্মাণকার্য শুরু করেছিলেন দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবক এবং

এটির কাজ সম্পূর্ণ করেন সুলতান ইলতুতমিস। মিনারটির চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় কী ছিল জানা যায় না। বজ্রাঘাতে তলা দুটি ভেঙে গেলে ফিরোজ তুঘলক মার্বেল দিয়ে তা মেরামত করে দেন। প্রথম তলাতে আছে 'বাঁশি' ও 'কোণে'র পরপর

সাজানো নকশা, দ্বিতীয় তলাতে শুধু ‘বাঁশি, তৃতীয় তলাতে শুধু ‘কো’ণ, সমস্ত মিনারটিকে ঘিরে রয়েছে সারি সারি লতা-পাতা, ফুলের মালা ও চক্রের নকশা। এগুলিতে হিন্দু-মুসলমান উভয় ধর্মের স্থাপত্যের পরিচয় রয়েছে। যদিও স্থাপত্যের কাজগুলি করেছিলেন হিন্দু শিল্পীরা। হিন্দু-মুসলমানের মিলিত উদ্যোগে গড়ে ওঠা মিনারটি এতটাই মজবুত যে, আটশত বছরেও তা ভেঙে পড়েনি। স্থাপত্যশিল্প হিসেবেও এই মিনারের সাফল্য প্রশ্নাতীত। চিন্তাভাবনা, রাজনীতির ক্ষেত্রে উভয় সম্প্রদায় মিলতে না পারলেও স্থাপত্য, সংগীত ও নৃত্যে কিন্তু উভয়ের মিলন আজও অটুট রয়েছে। কুতুব মিনারের মতো মিনার আজ পর্যন্ত একটাও নির্মিত  হয়নি। আলাউদ্দিন খিলজি একবার মিনার গড়তে চেষ্টা করলেও, তার মৃত্যু হওয়ায় সে চেষ্টা সফল হয়নি। তাজমহলের মিনারগুলি সুন্দর কিন্তু সেগুলি নিরাভরণ, অলংকারের অভাবে সাদামাটা। তাই কোনো মতেই কুতুবের সঙ্গে এরা তুলনীয় নয়। গুজরাতের রাজধানী আহমেদাবাদে একটি মিনারিকা রয়েছে, কিন্তু সেটিও কোনোদিক থেকেই কুতুবের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।

    

      'কুতুবমিনারের কথা' গল্পের  

           বিষয়বস্তু: 

কুতুব মিনার বিশ্বস্থাপত্যের ইতিহাসে এক ও অদ্বিতীয়। এর কারুকার্য, ঐতিহ্য ও নির্মাণ কৌশল নিয়ে এটি অতুলনীয়।

লেখক একে বিশ্বের বিস্ময় বলে স্বীকার করে নিয়ে তার ঐতিহ্যকে সবার কাছে তুলে ধরেছেন।


'কুতুবমিনারের কথা' গল্পের  

    নামকরণের সার্থকতা

পরে নামকরণ বিভিন্নভাবে করা হয়ে থাকে যেমন—চরিত্রকেন্দ্রিক, বিষয়বস্তুকেন্দ্রিক, কাহিনিকেন্দ্রিক এবং তাৎপর্য মূলক।  আমাদের আলোচ্য  'কুতুব মিনারের কথা' রচনাটির নামকরণ উপরোক্ত কোন শ্রেণির তা আলোচনা সাপেক্ষ।

সৈয়দ মুজতবা আলি রচিত ‘কুতুব মিনারের কথা' রচনাংশটিতে ভারতের অন্যতম স্থাপত্যশৈলী ‘কুতুব মিনার'

সম্পর্ক আলোচনা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, পাঠ্য রচনাংশটি সৈয়দ মুজতবা আলি রচিত 'চতুরঙ্গ' গ্রন্থের অন্তর্গত ‘দিল্লির স্থাপত্য' শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে গৃহীত হয়েছে। নামকরণটিও লেখককৃত নয়। 'সাহিত্য মেলা' গ্রন্থের সংকলকগণ এই নামকরণ করেছেন।

আলোচ্য রচনাংশটি একটি প্রবন্ধ । আর প্রবন্ধ সাধারণত বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যধর্মী হয়। তবে লেখকের রচনানৈপুণ্যে সেটি সরস হয়ে উঠতে পারে। প্রবন্ধের নামকরণও তাই বিষয়ভিত্তিক হওয়া বাঞ্ছনীয়, তা না-হলে প্রবন্ধটি পাঠ করার সময় পাঠক শিরোনামের সঙ্গে প্রবন্ধের বিষয়ের

সামঞ্জস্য ঘটাতে পারবেন না। পাঠ্য প্রবন্ধটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কুতুব মিনার কেন্দ্রিক। মিনারের স্থাপত্যশিল্প নৈপুণ্য এবং বিশ্বের অন্যান্য স্থাপত্যের সঙ্গে এর তুলনামূলক আলোচনাই হল পাঠ্যাংশের মূল বিষয়। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লেখকের নিজস্ব মুগ্ধতা। সবশেষে এই মিনার যে ভারতের স্থাপত্য-ইতিহাসে একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে, লেখক তাও স্বীকার করেছেন। সুতরাং, প্রবন্ধের বিষয়বস্তুর নিরিখে আলোচ্য নামকরণটি সার্থক হয়েছে।


হাতে কলমে অনুশীলন প্রশ্নের উত্তর

১. অনধিক দুটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

১.১ কোন সম্রাট ‘অশোক স্তম্ভ'-কে দিল্লি নিয়ে এসেছিলেন ?

উত্তর: তুঘলক বংশের সম্রাট ফিরোজ তুঘলক ‘অশোক স্তম্ভ' কে দিল্লি নিয়ে এসেছিলেন।


১.২ কুতুব মিনার নামটি কার নামানুসারে রাখা হয়েছে এবং কেন ?

উত্তর > কুতুবউদ্দিন আইবকের নাম অনুসারে কুতুব মিনার নামটি রাখা হয়। মিনারটি তৈরির কাজ কুতুবউদ্দিন শুধু করেছিলেন বলেই তাঁর নামানুসারে এই নামটি রাখা হয়।


১.৩ কুতুবের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য আর কে মিনার গড়তে চেষ্টা করেছিলেন ?

উত্তর > কুতুবের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য আলাউদ্দিন খিলজি মিনার তৈরি করার চেষ্টা করেন।


১.৩ মিনারেট বা মিনারিকা কী? মিনারের সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায় ?

উত্তর-> মসজিদ, ইমারত, সমাধি ইত্যাদির অঙ্গ হিসেবে যে-ছোটো স্তম্ভ নির্মিত হয়, যাতে মিনার থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে, তাকে মিনারেট বা মিনারিকা বলে ।

◆মিনার নিজের মহিমায় বা ক্ষমতায় দাঁড়ায় আর মিনারিকা অন্য কোনো ইমারতকে ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে থাকে।


১.৫ আহমেদাবাদ শহরটি কোন্ রাজার নামানুসারে হয়েছে ? এই শহরটি কোন্ রাজ্যের রাজধানী ?

উত্তর > আহমেদাবাদ শহরটি রাজা আহমেদের নাম অনুসারে হয়েছে।

◆ এই শহরটি গুজরাট রাজ্যের রাজধানী।


২. নীচে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও :

 [ কানিংহাম, ফার্গুসন, সৈয়দ আহমেদ।]

কানিংহাম: পুরো নাম আলেকজান্ডার কানিংহাম। ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে জন্ম হয়। মৃত্যু ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে।

অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী এই ব্যক্তি ভাষাতত্ত্ববিদ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক। বিশ্বের লুপ্তপ্রায় ভাষা নিয়ে তাঁর সুচিন্তিত মতামত বর্তমান ভাষাবিদদের পাথেয়। প্রত্নবিষয়ক গবেষণাতেও তিনি আজকের মানুষের দিশারি।


ফার্গুসন: বিখ্যাত ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক। নিজের কর্মক্ষেত্রে তাঁর মতো মননঋদ্ধ মানুষ খুবই কম আছেন। ভারতবর্ষের ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তুর ওপর তাঁর অগাধ জ্ঞান ছিল।


সৈয়দ আহমেদ: উনিশ শতকের ইতিহাসে তিনি অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তিনি ভারতের মুসলিম

সংস্কৃতি ও সামাজিক জাগরণের অন্যতম নেতা। তাঁর যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও মননশীলতায় ভারতের মুসলিম সম্প্রদায় সমৃদ্ধ হয়েছে। এই বিখ্যাত ব্যক্তি স্যার সৈয়দ আহমদ খান নামেই পরিচিত, তিনি ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। মারা যান ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে।


৩. কয়েকটি বাক্যে উত্তর দাও :

৩.১ “কুতুব মিনার পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মিনার”—এই উদ্ধৃতিটির আলোকে মিনারটির পাঁচটি বিশিষ্টতা উল্লেখ করো।


উত্তর > কুতুব মিনার পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মিনার। এর মতো মিনার আজও তৈরি হয়নি। মিনারটি মুসলমানদের পরিকল্পনাপ্রসূত হলেও এর খোদাই-কাজ করেছেন হিন্দু কারুশিল্পীরা। মিনারের পাঁচটি তলা। প্রথম তলায় বাঁশি ও কোণের ওপর সাজানো নকশা, দ্বিতীয় তলায় শুধু বাঁশি আর তৃতীয় তলায় শুধু কোণ। এ ছাড়া বাঁশি ও কোণের ওপর দিয়ে সমস্ত মিনারটিতে কোমরবন্ধের মতো সারি সারি লতাপাতা, ফুলের মালা আর চক্রের নকশা দিয়ে ঘেরা আছে।


৩.২ মিনারটির গঠনে হিন্দু-মুসলিম সাংস্কৃতিক মিলনের চেহারাটি কীভাবে ধরা পড়েছে তা লেখো ৷

> কুতুব মিনারের গঠনে হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতির মিলন স্পষ্ট হয়েছে। মিনারটির খোদাইয়ের কাজ করেছে হিন্দু কারু শিল্পীরা। কিন্তু পরিকল্পনায় রয়েছে মুসলিম সংস্কৃতির ঐতিহ্য। মিনারটির বাঁশি ও কোণের নকশার ওপর আঁকা লতাপাতা, ফুলের মালা ও চক্রের নকশা হিন্দুত্বের ধারক। কিন্তু তার মধ্যে এক সারি অন্তর লেখা আরবি হরফ মুসলিম সংস্কৃতি বহন করে। এভাবেই কুতুব মিনারের গঠনে হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতি একাত্ম হয়ে মিশে গিয়েছে।


৩.৩  কুতুব মিনারের শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলতে গিয়ে লেখক আর কোন, কোন স্থাপত্যকীর্তির প্রসঙ্গ এনেছেন ?

উত্তর > কুতুব মিনারের শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলতে গিয়ে লেখক দেশ-বিদেশের বহু স্থাপত্যের নাম করেছেন। তবে বিদেশি কোনো স্থাপত্যের নাম না করে তিনি বলেছেন—ইংরেজরা পর্যন্ত কুতুব মিনারের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন। ইরান-তুরানেও এর মতো স্থাপত্য নেই। তা ছাড়া লেখক এই দেশের তাজমহল, সেক্রেটারিয়েট ভবন, রাজভবন ও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি একই সঙ্গে আলাউদ্দিন খিলজির তৈরি স্তম্ভ, মোগল আমলের নানা মিনারেট, আহমেদাবাদে রানি সিপ্রির মসজিদ প্রভৃতি স্থাপত্যের নাম করেছেন।


৩.৪ আলাউদ্দিন খিলজি চেষ্টা করেও কুতুব মিনারের চেয়ে মহত্তর স্থাপত্য গড়তে পারেননি কেন ?

উত্তর > আলাউদ্দিন খিলজি ছিলেন একজন দুঃসাহসী রাজা। তাঁর মতো সাহসী সম্রাট ভারতবর্ষে খুব কমই ছিলেন। তিনি কুতুব মিনারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আরও মহত্তর স্থাপত্য গড়ার কাজ শুরু করেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল, সেই মিনারটি হবে কুতুব মিনারের চেয়েও দ্বিগুণ উচ্চতাসম্পন্ন। কিন্তু স্থাপত্য তৈরির আগেই খিলজি মারা যান। একারণেই তাঁর প্রচেষ্টা সফল হয়নি।




অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন:  কুতুব মিনার পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মিনার—কথাটি স্বীকার করেছেন (মোগলরা/ইংরেজরা/ইরানিরা)।

উত্তর > কুতুব মিনার পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মিনার—কথাটি স্বীকার করেছেন ইংরেজরা।


প্রশ্ন: কুতুব মিনারের চতুর্থ ও পঞ্চম তলা ধ্বংস হয়েছিল (বোমা বিস্ফোরণে/আগুন লেগে/বজ্রাঘাতে)।

উত্তর > কুতুব মিনারের চতুর্থ ও পঞ্চম তলা ধ্বংস হয়েছিল বজ্রাঘাতে।


প্রশ্ন: কুতুব মিনার (তিন / চার / পাঁচ) তলা বিশিষ্ট।

উত্তর > কুতুব মিনার পাঁচতলা বিশিষ্ট।


 প্রশ্ন: আলাউদ্দিন খিলজির মতো (সাহসী / ভীতু / দুঃসাহসী) রাজা ভারতবর্ষে কমই জন্মেছেন।

উত্তর > আলাউদ্দিন খিলজির মতো দুঃসাহসী রাজা ভারতবর্ষে

কমই জন্মেছেন।


প্রশ্ন: আপন মহিমায় নিজস্ব ক্ষমতায় যে স্তম্ভ দাঁড়ায় তাকে বলে (মিনার / মসজিদ | ইমারত)।

উত্তর > আপন মহিমায় নিজস্ব ক্ষমতায় যে-স্তম্ভ দাঁড়ায় তাকে বলে মিনার।



প্রশ্ন: স্থাপত্যের ব্যাপারে কতুব মিনারের সম্পর্কে লেখকের বক্তব‍্য কি? 


উত্তর > কতুব মিনারের সম্পর্কে লেখক বলেছেন, কুতুব মিনার পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মিনার। ইংরেজরাও এ কথা স্বীকার করেছে।



প্রশ্ন: কুতুব মিনারের চতুর্থ ও পঞ্চম তলার নকশা সম্পর্কে জানা যায় না কেন ?

উত্তর > বজ্রাঘাতে কুতুব মিনারের চতুর্থ ও পঞ্চম তলা ভেঙে যাওয়ায় এখানকার নকশা সম্পর্কে জানা যায় না।


 প্রশ্ন: ধ্বংস হওয়া মিনারের পঞ্চম তলা কে সারাই করেন ।

উত্তর > ধ্বংস হয়ে যাওয়া মিনারের পঞ্চম তলা ফিরোজ তুঘলক ও পরে সিকন্দর লোদি সারাই করেন।

প্রশ্ন: কুতুব মিনারের বাঁশি ও কোণের ওপর কোন্ নকশা হিন্দু কারুকার্যের পরিচয় দেয় ?


 উত্তর> কুতুব মিনারের বাঁশি ও কোণের ওপর তৈরি সারি সারি লতাপাতা, ফুলের মালা ও চক্রের নকশাগুলি হিন্দু কারুকার্যের পরিচয় দেয়।

 

প্রশ্ন: কোন বিষয় সম্পর্কে কেউ সাহস দেখাননি ?

উত্তর > কুতুব মিনারের চেয়েও ভালো মিনার গড়ার বিষয়ে কেউ সাহস দেখাননি।


প্রশ্ন: “একমাত্র তিনিই চেয়েছিলেন”–‘তিনি' কে ? তিনি কী চেয়েছিলেন ?

উত্তর > "তিনি" হলেন ভারতের এক দুঃসাহসী সুলতান আলাউদ্দিন খলজি।

তিনি কুতুব মিনারের চেয়েও ভালো, বড়ো ও উঁচু মিনার গড়তে চেয়েছিলেন।


প্রশ্ন: মিনার সম্পর্কে আলাউদ্দিনের বাসনা কী ছিল ?

> মিনার সম্পর্কে আলাউদ্দিনের বাসনা ছিল যে, তিনি কুতুব মিনারের চেয়েও দ্বিগুণ দের ও দ্বিগুণ উঁচু মিনার তৈরি করবেন।


প্রশ্ন: কুতুবের পর কারা বিস্তর মিনারেট গড়েছেন ?

উত্তর > কুতুবের পর পাঠান ও মোগলরা বিস্তর মিনারেট।গড়েছেন।


প্রশ্ন: লেখক কাকে 'আরও মোড়েল' বলেছেন ?

উত্তর > হুমায়ুনের সমাধি নির্মাতাকে লেখক 'আরও ঘোড়েল বলেছেন।


প্রশ্ন: “যার সঙ্গে কুতুবের মিল নেই।” –কার সঙ্গে।মিল নেই বলে লেখক মন্তব্য করেছেন ?

উত্তর > গুজরাটের রাজধানী আহমেদাবাদ শহরে লেখকের দেখা একটি কারুকার্যময় মিনারিকার সঙ্গে কুতুবের।মিল নেই বলে লেখক মন্তব্য করেছেন।


প্রশ্ন:  মিনার বা ওই জাতীয় সৃষ্টি কীসের কীর্তি বহন করে ?

উত্তর°> মিনার বা ওই জাতীয় সৃষ্টি দেশের কৃষ্টি, ঐতিহ্য, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, রুচিবোধ ও সর্বোপরি ওই দেশের সার্বিক গৌরব বহন করে।


প্রশ্ন: “সে দুটি মার্বেল দিয়ে মেরামত করে দেন।” দুটি' বলতে কোন্ দুটির কথা বলা হয়েছে ? কে তা মেরামত করেন ? সে সম্পর্কে আর কী জানা ?

উত্তর > 'সে দুটি' বলতে বজ্রাঘাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া কুতুব মিনারের চতুর্থ ও পঞ্চম তলার কথা বলা হয়েছে।

> ফিরোজ তুঘলক সে দুটি মেরামত করে দেন। অবশ্য-লেখক এও বলেছেন, পঞ্চম তলাটিতে নাকি সিকন্দর লোদিরও হাত আছে।

> আরও যে কথা জানা যায় তা হল, এই মিনারের মুকুট সম্পর্কে রসিকজন অত্যন্ত কৌতূহলী। তাই সিকন্দর লোদি মিনারের সঙ্গে তাল রাখতে পেরেছিলেন কিনা, মিনারকে স্থপতি কী রাজমুকুট পরিয়েছিলেন সেই সম্পর্কে জনসাধারণ অসম্ভব সব কল্পনা করে থাকেন।


প্রশ্ন: “তার তুলনায় একটা সোজা খাড়া স্তম্ভে সৌন্দর্য আনা কত শক্ত।”–লেখক কার সঙ্গে তুলনা করে এ কথা বলেছেন ? এ ব্যাপারে লেখক আর কী বলেছেন ?

উত্তর > ইমারত তৈরির সঙ্গে সোজা খাড়া স্তম্ভের তুলনা করে লেখক এ কথা বলেছেন।

> এ ব্যাপারে লেখক বলেছেন— ইমারত তৈরি করার সময় কারিগরের হাতে বহু মালমশলা থাকে। কিন্তু মিনারের ক্ষেত্রে তা থাকে না। তাই এর কারিগররা মিনারকে কয়েকটি তলায় ভাগ করেছেন। তাতে সামঞ্জস্য রেখে তলাকে ছোটো করে ব্যালকনি লাগিয়েছেন। একই সঙ্গে মিনারের গায়ে কখনও বাঁশি আবার কখনও কোণের নকশা করেছেন। তাই পৃথিবীর অন্য কোনো মিনারে প্রপর্শনের এমন চূড়ান্ত নিদর্শন আর মেলে না।



প্রশ্ন: “যার সঙ্গে কুতুবের কোনো মিল নেই।”-কুতুব মিনারের সঙ্গে লেখক এখানে কীসের তুলনা করেছেন ? তার সম্পর্কে লেখক আর কী বলেছেন ?

উত্তর > আহমদাবাদে দেখা একটা মিনারিকার তুলনা করে লেখক এ কথা বলেছেন।

> তার সম্পর্কে লেখক আরও বলেছেন যে, মিল না থাকার জন্য এই মিনারিকার নিজস্ব মূল্য আছে। এটি ভূপর্যটকদের আকর্ষণ করে। গুজরাট ও রাজপুতানার মেয়েরা তাদের বাহু ও কবজিতে যে বিচিত্র আকারের অসংখ্য বলয়-কঙ্কণ পরে, এই মিনারিকায় তেমন কারুকার্য করা হয়েছে। ফলে এর সৌন্দর্য কমনীয়।

আহমদাবাদের রাজার তৈরি এই রাজেশ্বরী সিপ্রি যেন তাঁর অনুপম হাত দিয়ে এই বিশ্বখ্যাত মিনারের

কপালে তিলক পরিয়ে দিয়েছে।


প্রশ্ন: তোমার দেখা একটি স্থাপত্যকীতির অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ছ-টি বাক্য লেখো।

উত্তর >  একবার বাবার সঙ্গে ওড়িশা ভ্রমণে গিয়ে আমি কোনার্কের সূর্যমন্দির দেখেছিলাম। কিছু দূরেই ছিল চন্দ্রভাগা নদী । দূর থেকে মন্দিরের চূড়া দেখা যাচ্ছিল। মন্দিরের সারা গায়ে নানান কারুকার্য। শুনলাম, রাজা নরসিংহ দেবের আমলে এটি তৈরি করা হয়। মন্দিরের গর্ভগৃহে কোনো দেবমূর্তি না থাকলেও এর কারুকাজ আমায় বিস্মিত করেছে।


 প্রশ্ন: মিনার বা স্থাপত্য কোনো দেশের গৌরব কীভাবে বহন করে ?

উত্তর >  মিনার বা স্থাপত্যের মধ্য দিয়ে একটা দেশের বা জাতির বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। তাদের সৌন্দর্যবোধ, কৃষ্টি, ঐতিহ্য ওই সব স্থাপত্যের মাধ্যমে ফুটে ওঠে। বিশ্ববাসী তা দেখে মুগ্ধ হয়, অবাক হয়। এইভাবেই মিনার বা স্থাপত্য কোনো দেশের গৌরব বহন করে।


শব্দার্থ

 

 এক্সপেরিমেন্ট (Experiment)—পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অভিজ্ঞতা লাভের চেষ্টা ।

কঙ্কন—চুড়ি। 

কমনীয়তা—সৌন্দর্য। 

  রাজেশ্বরী-রানি। 

অনুপম—যার উপমা বা তুলনা হয় না। নভোলোক—আকাশপট। 

 ভুবনেশ্বর -পৃথিবীর ঈশ্বর। 

 ললাট—কপাল। 

 তিলক—জয়টিকা

 সম্পূর্ণ—পুরোটা, পুরো। 

 ফায়দা- লাভ, সুফল,

 তাজ—তাজমহল। আগ্রায় অবস্থিত। মোগল স্থাপত্যশৈলী 

 নির্মিত — বানানো, গড়া। 

 বিজয়স্তম্ভ— জয়লাভ করার পর নিদর্শন

স্বরূপ বানানো থাম বা স্তম্ভ। 

 গুণীজন—জ্ঞানী ব্যক্তি।

বিস্ময়ের—আশ্চর্যের। 

 ভেবে-চিন্তে গভীরভাবে অনুধাবন করে।  নকশা—ছবির কাঠামো বা খসড়া,

বজ্রাঘাতে- বাজ পড়ে।

মিনার—মোচার বা শাঁখের মতো উঁচু চূড়া।

 সর্বশ্রেষ্ঠ—সবার সেরা। 

 স্বীকার—মেনে নেওয়া।

আশ্চর্য—বিস্ময়কর, অবাক করে যা। পূর্ববর্তী—আগের।

 নিদর্শন—উদাহরণ, দৃষ্টান্ত, প্রমাণ। 

 স্থপতি—সৌধ, ইমারত, প্রাসাদ তৈরির কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি।

 সোৎসাহে- উৎসাহ সঙ্গে। 

ইমারত -প্রাসাদ, অট্টালিকা ।

অকাতরে—কাতর না হয়ে, সংকুচিত না হয়ে।

মেরামত—জীর্ণ বিষয়বস্তু সংস্কার করা।  মার্বেল -মসৃণ পাথর। 

মুকুট—শিরোভূষণ, কিরীট। 

 সর্বাঙ্গে - সারা গায়ে।

 স্বপ্নকাশ-ব্যাখ্যা। 

 দ্যুলোক -স্বর্গ।

 কারিগর—শিল্পী, মিস্ত্রি। 

 অজস্র - বহু, অনেক।

মালমশলা—কাঁচামাল, সরঞ্জাম। 

 গম্বুজ , মন্দির,মসজিদ, মিনার, প্রাসাদ প্রভৃতির শীর্ষদেশের গোলাকার ছাদ ।

থাম—স্তম্ভ। 

আর্চ (Arch) – খিলান। 

ছত্রি - ছাদ বা চাল।

 মিনারেট—মিনারের চেয়ে ছোটো চূড়া। ছজ্জা (ড্রিপস্টোন) (Dripstone)—বৃষ্টির ছাট ঠেকানোর জন্য দরজা বা জানালার উপরকার ছাদের লম্বা অংশ।

কার্নিশ—ছাদ বা দেয়ালের যে অংশ বাইরের দিকে একটু লম্বা থাকে।

 ব্রাকেট (Bracket) – দেয়ালের গায়ে আটকানো তাকের লম্বা আলম্ব। 

 বিভক্ত—ভাগ।

 সামঞ্জস্য - সমতা, সংগতি, মিল।  ব্যালকনি (Balcony)–ঝুল বারান্দা। প্রপশন—সংগতি। 

 চড়ান্ত—চরম, পরম।

নিদর্শন—দৃষ্টান্ত, উদাহরণ। 

 কারুকার্য—শিল্পনৈপুণ্য, নকশা। • কোমরবন্ধ—পেটি, বেল্ট। 

অন্তর—ফাঁক।

 খোদাই—অঙ্কিত, উৎকীর্ণ। 

 কণামাত্র—সামান্যতম ।

সন্দেহ—দ্বিধা। 

অবকাশ—সুযোগ।

 পরিকল্পনা— সুষ্ঠুভাবে চিন্তা-চেতনা বা ভাবনা। 

 কারুশিল্প—কাঠ, ধাতু প্রভৃতির কারুকার্য বা হস্তশিল্প বিদ্যা।

 ভঙ্গ—ভাঙা, চ্যুত।  

প্রাধান্য—প্রধানের ভাব। 

কলা—শিল্পসংস্কৃতি।

 প্রাঙ্গণ—উঠোন, আঙিনা, জগৎ, বিষয়। অটুট—দৃঢ়, অক্ষত। 

 পাল্লা— প্রতিযোগিতা।

 অতুল—যার তুলনা নেই। 

বিড়ম্বিত—বঞ্চিত।

বিলক্ষণ—ভালো মতো।

 দুঃসাহসী—অসীম সাহসী, নির্ভীক। অপটিমাম সাইজ (Optimum Size) — সামঞ্জস্যপূর্ণ আকার।

প্রযোজ্য—প্রয়োগ হতে পারে এমন। ওতরাতো—উতরে যেত, সফল হত। আপন—নিজের। 

মহিমা—গৌরব।

 নিজস্ব— নিজের। 

 সমাধি—কবর ও তার ওপর।নির্মিত কারুকার্যময় প্রাসাদ। 

 বিস্তর—অনেক, বেশ।

ভুবনবিখ্যাত—বিশ্বে খ্যাতিমান। 

নতমস্তক — মাথা

 সাদামাটা—সাধারণ ।

 হার—পরাজয়।

 ন্যাড়া—কারুকার্যহীন। 

 অজান্তে—জানে না এমন ভাবে।

 নোয়া—লোহা দিয়ে বানানো হাতের চুড়ি।  ঘোড়েল - অতি চালাক , ধুরন্ধর। 

বর্জন—বাদ। 

 আওতা—অধীন।

,মধুরদর্শন—দেখতে ভালো বা সুন্দর। ভূপর্যটক—যারা দেশ-বিদেশ পর্যটন করেন। 

 আকর্ষণ—নজর কাড়ার ক্ষমতা।  বাহুলতা—যে বাহু লতার মতো সুন্দর। 

 মণিবন্ধ—হাতের কবজি। 

 বলয়—বালা।