কার দৌড় কদ্দুর গল্পের প্রশ্নের উত্তর || kar deur golper proshner uttor || class 7
![]() |
![]() |
কার দৌড় কদ্দুর
শিবতোষ মুখোপাধ্যায়
সপ্তম শ্রেণীর
লেখক শিবতোষ মুখোপাধ্যায় পরিচিতি:
শিবতোষ মুখোপাধ্যায় ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিশিষ্ট অধ্যাপক ও প্রাণীবিজ্ঞানী। কলকাতার প্রেসিডেন্সি ও দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়-সহ আমেরিকার রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। জীববিদ্যার উন্নয়নমূলক।গবেষণার জন্য ‘জুলজিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া', 'এশিয়াটিক সোসাইটি'-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বহু স্বীকৃতি ও সম্মান পেয়েছেন। ‘স্যার দোরাবজি টাটা স্বর্ণপদক', 'জয়গোবিন্দ স্বর্ণপদক' প্রভৃতি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বিজ্ঞানভিত্তিক লেখায় তিনি সমান জনপ্রিয় ও অবিস্মরণীয় কৃতিত্বের দাবিদার। তাঁর
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য লেখা হল—'অণুর উত্তরায়ণ’, ‘লাবণ্যের অ্যানাটমি’, ‘দিকবিদিক’, ‘মানহাটান ও মার্টিনি’, ‘আসা যাওয়া পথের ধারে' প্রভৃতি। এই বিশিষ্ট অধ্যাপক ও প্রাণীবিজ্ঞানী ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে পরলোক গমন করেন।
কার দৌড় কদ্দুরগল্পের সংক্ষিপ্তসার:
গতিময় জগতের সব কিছুই একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যায়। ইঁদুর গর্তের দিকে, নদী সাগরের দিকে, জন্ম মৃত্যুর দিকে, মৃত্যু জন্মের দিকে ইত্যাদি। একইভাবে জীবজগৎ ও জড়জগৎ একটি নির্দিষ্ট পরিণতির দিকে এগিয়ে চলেছে।
এককোশী প্রাণী অ্যামিবাও চলে। তবে তার চলার ভঙ্গি অদ্ভুত। তার গতিবেগ কম। অন্যদিকে, জেটপ্লেনের গতি বেশি । আমাদের দেহেও অ্যামিবার মতো ভবঘুরে কোশ আছে। তারা দেহে অনুপ্রবেশকারী বহিঃশত্রুকে নাশ করতে ঘুরে বেড়ায়। এ ছাড়া এককোশী জীর প্যারামোসিয়াম সিলিয়ার সাহায্যে চলতে পারে। উচ্চতর প্রাণীর মধ্যে গমনাগমনের মাধুর্য ধরা পড়ে। নানা প্রজাতির মাছ নানা ভঙ্গিমায় জলে চলে। প্রজাপতি ডানায় ভর করে ছুটে যায়। পাখিরাও তাই। তাদের পাখার শক্তিতে এক-এক পাখি এক-এক গতিতে ছুটতে সক্ষম। শামুকরা তাদের চলার পথে জলের ছাপ রেখে যায়। বিশালদেহী চিতাবাঘ ঘণ্টায় সত্তর মাইল বেগে দৌড়োতে পারে। গোবি মরুভূমির গ্যাজেলি হরিণের গতিশক্তি অনেক বেশি। মোটকথা হল, দেহের অত্যধিক ওজন নিয়েও প্রাণীরা যথেষ্ট গতিসম্পন্ন হয়। পাখিদেরও গতি আছে। মেরুপ্রদেশের টারনস প্রতি বছর এগারো হাজার মাইল উড়ে আবার ফিরে যায়। কোনো কোনো পাখি ঘণ্টায় একশো এমনকি দুশো মাইলও উড়তে সক্ষম। ক্যাঙারু, এমুর মতোই গতিসম্পন্ন।
এভাবে দেখা গিয়েছে—মোষ, হাতি, শুয়োর, শেয়াল, শজারু, খরগোশও নির্দিষ্ট গতিবেগে চলে। এ তো গেল বাইরের চলা। এ ছাড়াও আছে মনের জন্য। এই বেগ অসীম। আলোর গতির মতো। সবস্থানেই তার যাতায়াত। মনের দৌড়ে মানুষ চ্যাম্পিয়ন। এই মনের জোরেই হিউয়েন সাঙ, অতীশ দীপঙ্কর, ভাস্কো-দা-গামা, কলম্বাস, শঙ্করাচার্য বিশ্বপরিভ্রমণ করে নতুন নতুন পথ,
নতুন দেশ ও মহাদেশ আবিষ্কার করেছেন। তবে মানুষ নিজের মনের গতিবেগের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে জাহাজ, প্লেন, রেল, জেট ইত্যাদি চালাতে চাইছে। আকাশ তাই মানুষের ঘোড়দৌড়ের নবতম মাঠ। সে স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল তোলপাড় করে বিশ্বভুবনের অধীশ্বর হওয়ার জন্য সচেষ্ট। পৃথিবীও চলে। কিন্তু সে কারও পিছনে ছোটে না। আপন খেয়ালে চলে। তাই পৃথিবী আমাদের শেখায় থেমে যাওয়া মানে জীবনের শেষ। দাঁড়িয়ে পড়া উচিত নয়। শাশ্বত সত্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার গতি বন্ধ না-করাই উচিত।
কার দৌড় কদ্দুরগল্পের বিষয়বস্তু :
বিশ্বভুবন গতিশীল। গতি না-থাকলে সবই স্তদ্ধ, বন্ধ হয়ে যায়। মানুষ গতিকে ভর করেই মহাবিশ্বের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু সবক্ষেত্রে কর্তৃত্বই শেষ কথা নয়। বরং, শাশ্বত সত্যই গতির লক্ষ্য হওয়া উচিত। সার্বিক কল্যাণে সকলের চলার গতি নির্দিষ্ট ও সাবলীল হোক—এটিই লেখকের প্রত্যাশা।
কার দৌড় কদ্দুরগল্পের বিশেষ কথা:
আলোচ্য গল্পের লেখক শিবতোষ মুখোপাধ্যায় যেমন বৈজ্ঞানিক হলেও লেখক হিসেবে অসাধারণ কৃতিত্বের অধিকারী, তেমনই এমন অনেক বাঙালি বিজ্ঞানী আছেন, যাঁরা বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি সাহিত্যসাধনাও করেছেন। নিম্নে তাঁদের নাম এবং সাহিত্যকীর্তির পরিচয় সংক্ষেপে উল্লেখ করা হল—
★জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৭-১৯৩৭) : প্রধান রচনা—অব্যক্ত' (১৩২৮ বঙ্গাব্দ)। অন্যান্য রচনা Plant Responses as a means of Physiological Investigations, 'Physiology of Photosynthesis, "Nervous mechanism of plants' ইত্যাদি ।
★ প্রফুল্লচন্দ্র রায় (১৮৬১-১৯৪৪) : আত্মচরিত— Life and Experiences of a Bengali Chemist. অন্যান্য গ্রন্থ—'বাঙালির মস্তিষ্ক ও তাহার অপব্যবহার’, ‘অন্নসমস্যায় বাঙালির পরাজয় ও তাহার প্রতিকার', ‘History of Hindu Chemistry' ইত্যাদি।
★ মেঘনাদ সাহা (১৮৯৩-১৯৫৬): "The Principle of Relativity', "Treatise on Heat', 'Treatise on Modern Physics', 'Junior Textbook of Heat with
Meteorology' |
★ জগদানন্দ রায় (১৮৬৯-১৯৩৩); 'গ্রহনক্ষত্র', 'প্রকৃতিকী', বৈজ্ঞানিরা', 'পোকামাকড়', 'বাংলার পাখি', 'শব্দ'।
★ গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য (১৮৯৫-১৯৮৬); প্রধান রচনা "বাংলার কীটপতঙ্গ' (১৯৭৫)। অন্যান্য রচনা বাংলার মাকড়সা, মহাশূন্যে রহস্য', ‘করে দেখ’, ‘আধুনিক আবিষ্কার',
'বাংলার গাছপালা', 'জ্ঞানবিজ্ঞানের নানা খবর।
★ চারুচন্দ্ৰ ভট্টাচার্য (১৮৮০-১৯৬১): 'নব্যবিজ্ঞান’, ‘বাঙালির খাদ্য', 'বিশ্বের উপাদান', 'বিজ্ঞান প্রবেশ', 'ব্যাধির পরাজয়'।
■ কার দৌড় কদ্দুরগল্পের নামকরণ সার্থকতা: ■
'নামকরণ' অর্থাৎ, শিরোনামের মধ্য দিয়েই সাহিত্যবস্তুর সঙ্গে পাঠকের প্রাথমিক পরিচয় ঘটে। তাই নামকরণ সুসামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে, মূল সাহিত্যের সঙ্গে পাঠকের মানসিক সংযোগ সুদৃঢ় হয় না। আলোচ্য পাঠ্যাংশটির নাম 'কার দৌড় কদ্দুর'। রচনাটির লেখক একজন বিশিষ্ট বৈজ্ঞানিক শিবতোষ মুখোপাধ্যায়। কিন্তু, লেখকের অসামান্য লেখনী দক্ষতায়
রচনাটি কেবলমাত্র তথ্যধর্মী বিশ্লেষণ না হয়ে, সরস হয়ে উঠেছে। অথচ, তথ্যের দিক থেকেও রচনাটি যথেষ্ট সমৃদ্ধ। পৃথিবীর একাধিক প্রাণীর দেহের ওজন ও তাদের গতিবেগের প্রসঙ্গ যেমন এখানে আছে, তেমনই আছে ঘোড়ার খুর-এর বিবর্তনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আবার, রচনার শেষে লেখক এই ‘চলা’ বা ‘দৌড়ানো’-র একটি দার্শনিক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তখন বোঝা যায়, ‘দৌড়’—আক্ষরিক অর্থ ছাড়িয়ে বিশেষধর্মী হয়ে উঠেছে। এই 'দৌড়'-এর অর্থ "সত্যকারের
চলা’—উপনিষদের বাণী—‘চরৈবেতি’।
সুতরাং, সব মিলিয়ে আশিক এবং তাৎপর্য অনুযায়ী রচনাংশের নামকরণটি সার্থক হয়ে উঠেছে।
হাতে কলমে প্রশ্নের উত্তর
১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো :
১.১ উপনিষদে উত্ত ‘চরৈবেতি' শব্দের অর্থ (যাত্রা থামাও এগিয়ে যাও/দাঁড়িও না)।
উত্তর > এগিয়ে যাও।
১.২ পৃথিবী যে নিজের কক্ষপথে সূর্যের চারদিকে ঘোরে তা প্রথম বলেন (গ্যালিলিয়ো/ কোপার্নিকাস / সক্রেটিস)।
উত্তর > কোপার্নিকাস।
১.৩ ভাস্কো-ডা-গামা ছিলেন (মার্কিন/ পোর্তুগিজ/ গ্রিক)।
উত্তর > পোর্তুগিজ।
১.৪ যে বৈজ্ঞানিক কারণে ‘আপেল দৌড়ায় মাটির দিকে', সেটি হল (মাধ্যাকর্ষণ/প্লবতা/সন্তরণ-নিয়ম)।
উত্তর > মাধ্যাকর্ষণ।
১.৫ আইনস্টাইন ছিলেন (সপ্তদশ/ অষ্টাদশ/ঊনবিংশ)শতাব্দীর মানুষ ৷
উত্তর> ঊনবিংশ ।
২. শূন্যস্থান পূরণ করো :
২.১ এফিড উড়বার সময় প্রতি সেকেন্ডে----বার ডানা নাড়ায় ৷
উত্তর > চারশো ।
২.২ গমনশক্তিকে বিচার করতে হয় সবসময়----হিসাব করে ৷
উত্তর > দৈহিক।
২.৩ গোবি মরুভূমিতে -----নামক এক হরিণ আছে।
উত্তর> গ্যাজেলি
২.৪ ------টারনস প্রতি বছরে এগারো হাজার মাইল একবার উড়ে আসে আবার পরে ফিরে যায়।
উত্তর > মেরুপ্রদেশের
২.৫ ATP-র পুরো কথাটি হল----
> অ্যাডিনোসিন ট্রাইফ্রসফেট
৩. অতি সংক্ষিপ্ত আকারে নীচের প্রশ্ন গুলির উত্তর দাও :
৩.১ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায় এমন দুটি প্রাণীর নাম লেখো ।
উত্তর> অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়, এমন দুটি প্রাণীর নাম-অ্যামিবা, প্যারামোসিয়াম।
৩.২ শামুক চলে যাবার সময় রেখে যায় জলীয় চিহ্ন'–সেটি আসলে কী ?
উত্তর > শামুক চলে যাবার সময় যে জলীয় চিহ্ন রেখে যায়, তা হল আসলে তার একখানি মাংসল পুরু পায়ের ছাপ।
৩.৩ ‘আমাদের নিজেদের শরীরের মধ্যে এরকম ভবঘুরে সেল আছে। সেলটিকে 'ভবঘুরে' বলা হয়েছে কেন ?
উত্তর> সেলটিকে ‘ভবঘুরে' বলা হয়েছে। কারণ এরকম সেল শরীরের মধ্যে বহিঃশত্রুকে নাশ করার জন্য ছুটে চলে।
৩.৪ 'নানা জাতের খরগোশের মধ্যে গতির তারতম্য দেখা যায় কয়েকটি খরগোশের জাতির নাম লেখো।
উত্তর > কয়েকটি খরগোশের জাতির নাম হল—মেঠো খরগোশ (Lepus), জ্যাক র্যাবিট (Jack Rabbit), স্নো সু হেয়ার (Snow shoe hare )।
৩.৫ কোনো কোনো পতঙ্গ উড়বার সময় তাদের ডানা প্রচণ্ড জোরে নাড়ে—তোমার চেনা কয়েকটি।পতঙ্গের নাম লেখো। তাদের ছবি সংগ্রহ করে খাতায় লাগাও।
উত্তর > আমার চেনা কয়েকটি পতঙ্গ হল— প্রজাপতি, মাছি,ফড়িং, আরশোলা, মশা, রেশমকীট ইত্যাদি ।
[ ছবি সংগ্রহ করে নিজেরা লাগাও ]
৩.৬ কত সামুদ্রিক জীব গা ভাসিয়ে মাইলের পর মাইল পাড়ি দেয় তার হিসাব আমরা রাখি না'—কয়েকটি সামুদ্রিক জীবের নাম লেখো।
উত্তর > কয়েকটি সামুদ্রিক জীব হল—হাঙর, তিমি, ডলফিন, অক্টোপাস ইত্যাদি।
৩.৭ রক্ষে এই যে....... - লেখক কোন বিষয়টিকে সৌভাগ্য বলে মনে করেছেন এবং কেন ?
উত্তর > লেখক শিবতোষ মুখোপাধ্যায় সৃষ্টির আদিকাল থেকে চলা অ্যামিবার অবিরাম গতিকে বুঝিয়েছেন।
লেখক এ কথা বলেছেন কারণ, অ্যামিবার মতো আমাদের শরীরের মধ্যে বেশ কিছু কোশ আছে যারা শরীরকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এই ঘটনাকেই লেখক জীবজগতের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে সৌভাগ্যসূচক বলে মনে করেছেন।
৩.৮ প্যারমোসিয়াম কীভাবে চলাফেরা করে ?
উত্তর > প্যারমোসিয়াম নামক এককোশী জীবের সেলের চারিদিকে ছোটো ছোটো চুলের মতো অংশ আছে, যাকে সিলিয়া বলা হয়। এই সিলিয়ার সাহায্যে।প্যারাসোসিয়াম জলের মধ্যে খুব দ্রুত চলাফেরা করতে পারে।
৩.৮ প্যারামোসিয়াম ছাড়া দুটি এককোশী জীবের নাম লেখো।
> প্যারামোসিয়াম ছাড়া অন্য দুটি এককোশী জীব হল অ্যামিবা ও প্লাসমোডিয়াম ।
৩.১০ তার চলাফেরার ভঙ্গিটি ভারি মজার'-কার চলার। ভঙ্গির কথা বলা হয়েছে ? তা ‘মজার' কীভাবে ?
উত্তর > এখানে এককোশী প্রাণী অ্যামিবার চলার ভঙ্গির।কথা বলা হয়েছে।
> এই চলার ভঙ্গি বেশ ‘মজার'। কারণ, অ্যামিবা তারনিজের দেহকেই ক্ষণিকের পা হিসেবে ব্যবহার করে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তারপর সেলের মধ্যে বাকি অংশ গড়িয়ে দেয়। এভাবেই সে যাতায়াত করে বলেই ভঙ্গিটি বড়ো মজার।
৩.১১ গমনে সক্ষম গাছ ও গমনে অক্ষম প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর > গমনে সক্ষম গাছ হল— ভলভক্স (শৈবাল) আর গমনে অক্ষম প্রাণীর নাম হল স্পঞ্জ।
৩.১২ কয়েকটি হক' জাতীয় পাখির নাম লেখো।
উত্তর > কয়েকটি ‘হক’ জাতীয় পাখির নাম হল— শিকারি বাজ (ফ্যালকন), শঙ্খচিল, ইগল, শকুন ইত্যাদি।
৩.১৩ আফ্রিকার কী জাতীয় পাখি ওড়া ছেড়ে হাঁটায় পারদর্শী হয়ে উঠেছে ?
> আফ্রিকার ইন জাতীয় পাখি ওড়া ছেড়ে হাঁটায় পারদর্শী হয়ে উঠেছে।
৩.১৪ ক্রমবিকাশের পথ পরিক্রমায় ঘোড়ার আঙুলের কোন্ পরিবর্তন ঘটেছে ?
উত্তর > ক্রমবিকাশের পথ পরিক্রমায় ঘোড়ার আঙুলে পরিবর্তন ঘটে তা খুরে পরিণত হয়েছে।
৩.১৫ পাঠ্যাংশে রয়েছে এমন একটি নিশাচর প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর> পাঠ্যাংশে রয়েছে এমন একটি নিশাচর প্রাণীর নাম হল—গ্রে হাউন্ড।
৪. টীকা লেখো :
হিউয়েন সাঙ, শ্রীজ্ঞান দীপঙ্কর, ভাস্কো-ডা-গামা, শঙ্করাচার্য।
★হিউয়েন সাঙ > হিউয়েন সাঙ একজন চৈনিক পরিব্রাজক। ৬০২ খ্রিস্টাব্দে তিনি চিনের হুনান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজা হর্ষবর্ধনেরর আমলে ভারতবর্ষে আসেন। সময়টা ছিল ৬২৯
খ্রিস্টাব্দ। সুদূর চীন থেকে দুর্জয় মনকে সঙ্গী কে হিমালয়ের মতো উচ্চপর্বত পার হয়ে তিনি এদেশে এসেছিলেন। তার ভারত ভ্রমণের কাহিনী ও তিনি লিপিবদ্ধ রেখেছেন।
★ শ্রীজ্ঞান দীপঙ্কর : অতীশ দীপঙ্কর ছিলেন বিক্রমমণিপুররাজ কল্যাণশ্রীর পুত্র। তাঁর আদি নাম ছিল আদিনাথ চন্দ্রগর্ভ। ৯৮০ খ্রিস্টাব্দে তাঁর জন্ম হয়। ভারতের বিভিন্ন পণ্ডিতের কাছে তিনি শিক্ষা গ্রহন করেন। উনিশ বছর বয়সে দণ্ডপুরীর মহা সঙ্ঘিকাচার্য শীল রক্ষিতের কাছে তিনি ‘বৌদ্ধধর্মে’ দীক্ষিত এবং ‘শ্রীজ্ঞান' উপাধি লাভ করেন। তিনি একধিক গ্রন্থ লিখেছেন। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি।হল—‘রত্নকরন্ডাদঘাট’, ‘বোধিপাঠ প্রদীপ পঞ্জিকা ‘বোধিপাঠ প্রদীপ” প্রভৃতি। ১০৫৩ খ্রিস্টাব্দে তিব্বতে তাঁর মৃত্যু হয়। লাসার নিকট তাঁর সমাধি আছে।
★ ভাস্কো-ডা-গামা : ১৪৬৯ খ্রিস্টাব্দে ভাস্কো-ডা- গামার জন্ম হয়। তিনি ছিলেন পোর্তুগালের বিখ্যাত নাবিক। তিনিই প্রথম ইউরোপীয় পর্যটক, যিনি সমুদ্রপথে ভারতে আসেন। তাঁর জন্মস্থান অবশ্য
ইটালির শহর ভেনিসে। যুদ্ধবিদ্যাতেও তিনি বেশ পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং পোর্তুগালের রাজার অধীনে চাকরি নেন। রাজা এমানুয়েলের পৃষ্ঠপোষকতায় ভাস্কো-ডা-গামা ভারতবর্ষে আসার জন্য বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু প্রথমবারে ব্যর্থ হন। উত্তমাশা অন্তরীপে তাঁর জাহাজ ভেঙে পড়ে। ফিরে যান পোর্তুগালে শেষে ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে তিনি কালিকট বন্দরে উপস্থিত হন। তিনি
একাধিকবার ভারতে আসেন। ভারতের সঙ্গে | পোর্তুগিজদের বাণিজ্য প্রসারে তাঁর অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। ১৫৪৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়।
★ শঙ্করাচার্য : শঙ্করাচার্য ছিলেন বৈদিক যুগের একজন সংস্কারক। স্বল্প জীবনে তিনি ভারতবর্ষের, ধর্মসংস্কারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেন। তিনি ছিলেন অদ্বৈতবাদের প্রবর্তক। তিনি শুধুমাত্র একজন মহান চিন্তাবিদ ছিলেন না, একজন বড়ো মাপের সংগঠকও ছিলেন। ৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে কেরলের
কালাদি গ্রামের এক ব্রাক্ষ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম হয়। মাত্র আঠারো বছর বয়সেই তিনি বেদ, পুরাণ, গীতা ইত্যাদি গ্রন্থে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। ধর্ম সম্বন্ধে তার নিজস্ব ভাবনা প্রচারের জন্য তিনি বহু গ্রন্থ লেখেন ।
তাঁর গ্রন্থগুলি হল—‘ব্রাক্ষ্মসূক্ত’, ‘মনীষ পঞ্চকাম', ‘গীতাভাষ্য', 'প্রবোধ-সুধাকর', ‘শামবেদান্ত’, ‘সিদ্ধান্ত' ইত্যাদি। ৮২০ খ্রিস্টাব্দে এই মহান সাধকের মহাপ্রয়াণ ঘটে।
৫. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :
৫.১ ‘প্রাণী মাত্রকেই খাবার সংগ্রহ করতে হয়—– গাছ কীভাবে না-দৌড়ে তার খাবার সংগ্রহ করতে পারে ?
উত্তর> প্রাণী মাত্রই খাবার সংগ্রহের জন্য গমন করে। কিন্তু গাছ তা করে না । গাছ তার পাতায় থাকা ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোয় খাবার তৈরি করে। গাছের এই খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া বলে। এককথায়, এই সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার দ্বারাই গাছ না দৌড়ে খাবার সংগ্রহ করতে পারে।
৫.১ প্রবন্ধে লেখক জানিয়েছেন যে খাবার সংগ্রহের কারণেই ‘প্রাণীরা এক জায়গায় স্থাণু না হয়ে দিকে দিকে পরিভ্রমণ করে। –তুমি কি এই মতটিকে সমর্থন কর ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও ৷
উত্তর > প্রাণীরা এক জায়গায় স্থাণু না-হয়ে দিকে দিকে পরিভ্রমণ করে খাদ্য সংগ্রহের জন্য। আমি এই মত সমর্থন করি। আমরা দেখি, প্রাণীরা নিজেদের খাবার নিজেরা তার দেহে তৈরি করতে পারে না। মানুষও নিজেদের খাদ্য সংস্থানের জন্য ফসল ফলায়, গাছ লাগায়। আর তা লাগানোর জন্য তাদের মাঠে যেতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপযুক্ত পরিবেশে মানুষ ফসল ফলায়।
ফসল ফলানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে তাকে যেসব কাজ করতে হয়, তাতে এক স্থানে বসে থাকলে চলে না। অন্য প্রাণীদের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা চলে।
সুতরাং, প্রাবন্ধিকের কথা যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
৫.৩ গমনাগমনের প্রকৃত মাধুর্যটা আমাদের চোখে পড়ে সাধারণত উচ্চতর প্রাণীদের মধ্যে। -পাঠ্যাংশে উচ্চতর প্রাণীদের গমনাগমনের মাধুর্য কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে আলোচনা করো ।
উত্তর > গমনাগমনের মাধুর্য উচ্চতর প্রাণীদের মধ্যে ধরা পড়ে। এই মাধুর্য এইসব প্রাণীদের গমন প্রক্রিয়ার
মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়। এরা কেউ দ্রুত চলে। আবার কেউ ধীরে-সুস্থে যায়। এদের দেহের ওজনে তারতম্য থাকে । সাধারণভাবে দেহের ওজন বেশি হলে গতিবেগ কমে যায়। আর ওজন কম হলে গতিবেগ বাড়ে। কিন্তু কোনো কোনো প্রাণী দৈহিক ওজন বেশি হওয়া সত্ত্বেও যথেষ্ট গতিতে চলতে পারে। যেমন- চিতাবাঘ, গ্যাজেলি, হরিণ। আবার একই ওজন হওয়া সত্ত্বেও অনেকের যথেষ্ট গতিবেগ থাকে না।
যেমন— নেকড়ে বাঘ। হাতির দেহের ওজন বেশি হওয়া সত্ত্বেও তারা যথেষ্ট গতিসম্পন্ন হয়। আবার শজারুর ওজন কম হওয়া সত্ত্বেও তার গতি খুব কম হয়। এভাবেই উচ্চতর প্রাণীদের মধ্যে গমনাগমনের মাধুর্যটা ধরা পড়ে।
৫. ৪ 'এ পথে আমি যে গেছি'—রবীন্দ্রসংগীতের অনুষঙ্গটি পাঠ্যাংশে কোন্ প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে ?
উত্তর > ‘এ পথে আমি যে গেছি'—রবীন্দ্রসংগীতটির অনুষঙ্গটি পাঠ্যাংশে গতিবাদের প্রসঙ্গে ও সৃষ্টিমূলক ভাবনায় ব্যবহৃত হয়েছে।
৫.৫ 'এরকম মনে করলে ভুল হবে। কোন্ দুটি বিষয়ের ভুল সাপেক্ষে এমন মন্তব্য করা হয়েছে ?
উত্তর > যে-দুটি বিষয়ের ভুল সাপেক্ষে কথাটি বলা হয়েছে, তা হল- (ক) হালকা পাখির তিরের মতো ছুটে যাওয়া, এবং (খ) বেজায় ওজন নিয়ে একখানি হিপোর কাদা ভেঙে থপথপ করে এগিয়ে যাওয়া।
৫.৬ উচ্চতর জীবদের পেশি কাজ করার ক্ষেত্রে কীভাবে শক্তি উৎপাদিত হয় ?
উত্তর > উচ্চতর জীবের কাজ করার ক্ষেত্রে বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন হয়। জীবের পেশির সঞ্চালন হলে অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট নামক রসায়নে বিপাক ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আর তার ফলেই শক্তি উৎপাদিত হয়।
৫.৭ ক্রমবিকাশের ইতিহাসে জানা যায়'-এ প্রসঙ্গে লেখক কোন তথ্যের অবতারণা করেছেন ?
উত্তর > এ প্রসঙ্গে লেখক ঘোড়ার পূর্বপুরুষদের কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, ঘোড়ার পূর্বপুরুষদের এখনকার মতো খুর ছিল না। তাদের হাতে ও পায়ে পাঁচটি করে আঙুল ছিল। কিন্তু ক্রমবিকাশের পথপরিক্রমায় আস্তে আস্তে তাদের সব আঙুল অদৃশ্য হয়ে যায়, একমাত্র মাঝের আঙুল ছাড়া। এই মাঝের আঙুলই বর্তমানে খুর-এ পরিণত হয়েছে।
৫.৮ মনের দৌড়ে মানুষ চ্যাম্পিয়ন'—এমন কয়েকজন মানুষের কথা লেখো যাদের শারীরিক অসুবিধা থাকলেও মনের দৌড়ে সত্যিই তাঁরা প্রকৃত চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠেছেন।
উত্তর> শারীরিক অসুবিধা সত্ত্বেও মনের দৌড়ে যারা প্রকৃত অর্থে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, তাদের মধ্যে হোমার, বিটোফেন, স্টিফেন হকিন্স, হেলেন কেলার, মাসদুর রহমান প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
★হোমার: অন্ধ কবি। গ্রিসে জন্ম। তাঁর লেখা পৃথিবী বিখ্যাত মহাকাব্য হল— 'ইলিয়াড' ও 'ওডিসি'।
★ বিটোফেন: অসামান্য সংগীত প্রতিভার অধিকারী। ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে জার্মানিতে জন্ম। ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়।
★ হেলেন কেলার: ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকায় জন্ম। মাত্র আঠারো মাস বয়সে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অন্ধ ও বধির হন। সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে আজীবন প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাপ্রসারকল্পে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
★ স্টিফেন হকিন্স । ইংরেজ তাত্ত্বিক ও বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে জন্ম। ব্যক্তিজীবনে এক বিরল স্নায়বিক রোগের শিকার। চলাফেরা, কথা বলা ও লেখালেখি করতে অক্ষম। 2018 খ্রিস্টাব্দে জীবনাবসান ঘটে।
★ মাসদুর রহমান : ইংলিশ চ্যানেল জয়ী বিখ্যাত সাঁতারু। প্রতিবন্ধী হয়েও অদম্য উৎসাহ, সাহস ও অধ্যবসায়ে সব প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেন।
৫.৯. 'মানুষ এখন শুধু নিজে চলেই ক্ষান্ত নয়।–নিজের চলা ছাড়া বর্তমানে মানুষ কী কী জিনিস চালাতে সক্ষম ?
উত্তর> নিজের চলা ছাড়া বর্তমানে মানুষ বহু কিছু চালাতে সক্ষম। যেমন—জাহাজ, রেল, প্লেন, জেট ইত্যাদি।
তা ছাড়া বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যাণে মানুষ মহাশূন্যে রকেট চালাচ্ছে। সেখানে থাকছে রিমোটের সাহায্যে ঘরে বসে রোবট চালাচ্ছে। তা ছাড়া মানুষ কম্পিউটার,টিভি, রেডিয়ো ইত্যাদি চালায়।
৫.১০ ‘এখন মানুষ আকাশটাকে নতুন করে ঘোড়াদৌড়ের মাঠ করে তুলেছে।—মানুষের মহাকাশ-অভিযানের সাম্প্রতিকতম সাফল্য নিয়ে প্রিয় বন্ধুকে চিঠি লেখো ।
বন্ধু কাজল,. ১২ই বৈশাখ
সম্প্রতি একটা দুর্দান্ত সংবাদে বিস্মিত হয়ে তোকে এই চিঠি লিখছি। সেদিন খবরে শুনলাম সুনীতা উইলিয়ামস মহাশূন্য থেকে ফিরে এসেছেন। ভেবে দেখেছিস, কাণ্ডটা কী অদ্ভুত। ভাবতে পারিস, মানুষ বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আজ আকাশটাকে পর্যন্ত ঘোড়াদৌড়ের মাঠ করে ফেলেছে। আজ এ দেশ মহাকাশে রকেট ছাড়ছে তো কাল অন্য দেশ একই কাজ করছে। এ ছাড়া আকাশে তো নিত্যই হাজার হাজার প্লেন উড়ছে। অথচ দেখো, প্রত্যেকেই নিজ নিজ গতিতে সামঞ্জস্য রেখে চলেছে।
ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা আকাশকে আরও গতিসম্পন্ন করে তুলেছে। এভাবে বিজ্ঞানের সাম্প্রতিকতম সাফল্য মানুষকে আরও বেশি করে মহাকাশ গবেষণায় উৎসাহিত করে চলেছে। আজ আর নয় । তোকে অনেক ভালোবাসা ও বাড়ির সকলকে প্রণাম জানিয়ে শেষ করলাম।
ইতি—
তোর বন্ধু
সমীর
৫.১১ এ যাত্রা তোমার থামাও'—লেখক কাকে এ বলেছেন? এর কোন্ উত্তর তিনি। কীভাবে পেয়েছেন ?
চলা পৃথিবীকে বলেছেন।
> এর উত্তরে পৃথিবী 'দখিনা হাওয়ার মুখ দিয়ে বলেছেন- থামা মানে জীবনের শেষ। তাই যতদিন আছ দাঁড়িয়ে পড়লে চলবে না। শাশ্বত সত্যের দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার গতি বন্ধ করাও যাবে না।
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর
সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো:
প্রশ্ন: গর্তের দিকে দৌড়ায় (ইঁদুর/ছুঁচো/পিঁপড়ে)।
উত্তর- ইঁদুর
প্রশ্ন: প্রাণীকে অবশ্যই সংগ্রহ করতে হয়—(বাসস্থান/ বস্ত্র/খাবার)।
উত্তর-খাবার
প্রশ্ন: উচ্চতর জীবদের মধ্যে গমনশক্তির অনেক (কায়দা- কানুন/কলাকুশলতা/বিশিষ্টতা) থাকে।
উত্তর - কলাকুশলতা
প্রশ্ন: একশো পঞ্চাশ পাউন্ড ওজন নিয়ে ঘণ্টায় পঁয়তাল্লিশ মাইল বেগে দৌড়োয় (এন্টিলোপ হরিণ/গ্যাজেনি হরিণ/নেকড়ে বাঘ)।
উত্তর - এন্টিলোপ হরিণ
প্রশ্ন: পদব্রজে সারা ভারতের দিকে দিকে গিয়েছেন (মেগাস্থিনিস/শঙ্করাচার্য/অতীশ দীপঙ্কর)।
উত্তর- শঙ্করাচার্য।
একটি বাক্যে উত্তর দাও :
প্রশ্ন: কে দৌড়োতে রাজি নয় ?
উত্তর:- গাছ দৌড়োতে রাজি নয়।
প্রশ্ন: কোন প্রাণীর চলার ভঙ্গি মজার ?
উত্তর: অ্যামিবা নামক এককোশী প্রাণীর চলার ভঙ্গি মজার।
প্রশ্ন: শরীরের ভবঘুরে সেলকে লেখক কী বলেছেন?
উত্তর: শরীরের ভবঘুরে সেলকে লেখক ‘সৈন্যসামন্ত' বলেছেন
প্রশ্ন: চিংড়ি কীভাবে চলে ?
উত্তর: চিংড়ি জলের মধ্যে দাঁড়া ভাসিয়ে চলে।
প্রশ্ন: এফিড পাখি একনাগাড়ে কতদূর যেতে পারে ?
উত্তর-এফিড পাখি একনাগাড়ে আট মাইল দূরে যেতে পারে।
প্রশ্ন:চিতাবাঘের দেহের ওজন কত ?
উত্তর- চিতাবাঘের দেহের ওজন একশো ত্রিশ পাউন্ড।
প্রশ্ন: চিতাবাঘের দৌড়ের গতিবেগ কত ?
উত্তর- চিতাবাঘের দৌড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় সত্তর মাইল।
প্রশ্ন: একশো দশ পাউন্ড ওজন নিয়ে ঘণ্টায় পঁয়তাল্লিশ মাইল কে দৌড়োতে পারে ?
উত্তর- এন্টিলোপ হরিণ একশো দশ পাউন্ড ওজন নিয়ে ঘণ্টায় পঁয়তাল্লিশ মাইল বেগে দৌড়োতে পারে।
প্রশ্ন: গ্রে-হাউন্ডের দেহের ওজন ও চলচ্ছক্তির বেগ কত?
উত্তর- গ্রে-হাউন্ডের দেহের ওজন বাইশ পাউন্ড আর তার চলচ্ছক্তির বেগ ঘণ্টায় ছত্রিশ মাইল।
প্রশ্ন: মোষ ও হাতির দেহের ওজন ও দৌড়ের গতিবেগ কত ?
উত্তর- মোষের দেহের ওজন এক হাজার আটশো পাউন্ড আর গতিবেগ ঘণ্টায় ত্রিশ মাইল। হাতির দেহের ওজন সাত হাজার পাউন্ড আর গতিবেগ ঘণ্টায় পঁচিশ মাইল ৷
প্রশ্ন: মনের দৌড়ে চ্যাম্পিয়ন প্রাণীটি কে ?
উত্তর: মনের দৌড়ে চ্যাম্পিয়ন প্রাণীটি হল মানুষ।
প্রশ্ন: হিউয়েন সাঙ কোথা থেকে এসেছিলেন ?
উত্তর-হিউয়েন সাঙ চিনদেশ থেকে এসেছিলেন।
প্রশ্ন: নতুন দেশ আবিষ্কারে কলম্বাসের সঙ্গী কে ছিল ?
উত্তর:- নতুন দেশ আবিষ্কারে কলম্বাসের সঙ্গী ছিল তাঁর দুর্জয় মন।
প্রশ্ন: পৃথিবীটি কীভাবে ছুটে চলে ?
উত্তর- পৃথিবীটি পাগলের মতো হনহন করে ছুটে চলে।
প্রশ্ন: কোন অবস্থাকে জীবনের শেষ বলে মন্তব্য করা হয়েছে ?
উত্তর- চলার গতি থেমে যাওয়াকে জীবনের শেষ বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
প্রশ্ন: কোন্ গতি কোনো কালে বন্ধ করা উচিত নয় ?
উত্তর- শাশ্বত সত্যের দিকে চলার গতি কোনো কালে বন্ধ হওয়া উচিত নয়।
প্রশ্ন: চরৈবেতি' কথাটি মূল কোন্ গ্রন্থে আছে ?
উত্তর- ‘চরৈবেতি' কথাটি ‘বেদ'-এ আছে।
প্রশ্ন: “প্রাণী মাত্রকেই খাবার সংগ্রহ করতে হয়”- কথাটির তাৎপর্য কী ?
উত্তর- বেঁচে থাকার জন্য প্রাণীকে খাবার খেতে হয়। সে নিজে খাবার তৈরি করতে পারে না। কেবলমাত্র উদ্ভিদ সূর্যের আলোর সাহায্যে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় জল ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহযোগিতায় খাবার তৈরি করে। প্রাণীরা সেই খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে। আবার খাদ্য যেহেতু অফুরন্ত নয় এবং সেটা
একস্থানেও পাওয়া যায় না তাই প্রাণীকে খাবার জোগাড় করতে হয়।
প্রশ্ন: "তার হিসাব আমরা রাখি না।”- কীসের হিসাব রাখি না ? কেন রাখি না ?
উত্তর - আমরা সমুদ্রলোকের সঙ্গে গা দিয়ে পাইলের পর মাইল ধরে এগিয়ে চলা সামুদ্রিক জীবের হিসাব রাখি না।
আমরা বিশাল পৃথিবীতে ঘটে চলা অজস্র ঘটনার মধ্যে বেশির ভাগটাই জানি না। এমনকি, আমাদের চারপাশে ঘটে চলা বিষয়েরও যথাযথ খোঁজ আমরা রাখি না। আর সমুদ্রের ওপরে, মধ্যে বা তলদেশে কী হচ্ছে আমরা জানতে চাই না। আসলে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের যে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, তার ফলে আমরা বহির্জগতের খবর জানার সময় পাই না। অবশ্য আনার অনিচ্ছাই আসল। তাই বলা যায় অনাগ্রহ, অনিচ্ছা, উদাসীনতা ইত্যাদির জন্য আমরা হিসাব রাখি না।
প্রশ্ন: “থামা মানে জীবনের শেষ কথার দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে ?
উত্তর- 'থামা মানে জীবনের শেষ'—কথাটির অর্থ হল মৃত্যু।
আসলে মানুষ তার আগ্রহ, আশা ও অগ্রগতির মধ্যেই বেঁচে থাকে। সচলতা, সজীবতা না থাকলে মানুষ নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন হয় না। জ্ঞানের বৃদ্ধি বা বিকাশ ঘটে না। আর এটিই জীবনের লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য। তাই থামা উচিত নয়। থামলে স্থবির, জড় হয়ে থাকতে হবে। জ্ঞানী মানুষ তা চায় না বলেই—উদ্ধৃত কথার মাধ্যমে জীবনের গতিশীল ধর্মের দিকটিকে স্পষ্ট করা হয়েছে।
প্রশ্ন: 'কার দৌড় কদ্দূর' গদ্যটি পড়ে তুমি কী জানতে পারলে ?
উত্তর: 'কার দৌড় কদ্দূর' গদ্যটি পড়ে জানলাম—পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রাণীর চলার বিচিত্র ভঙ্গি আছে। প্রত্যেকেই
সামনের দিকে তার লক্ষ্যে ছুটে চলে। চলমানতা না- থাকলে জীবনের স্বাদ থাকে না। নিজেদের অস্তিত্ব এই চলনশীলতার ওপরই নির্ভরশীল। সুতরাং, জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য গতিশীলতাকে মন্ত্র করতে হবে।
শব্দার্থ
প্রত্যাশী - আশা যে।
মরীচিকা - মরুভূমিতে বালির উপর সূর্য-
করে রশ্মির কারণে সৃষ্ট জলভ্রম।
নারাজ - অসম্মত, অরাজি।
সক্ষম- পারদর্শী।
ভিয়েন—মিষ্টি জাতীয় জিনিস তৈরি করার কাজ করে যে।
সংগ্রহ - জোগাড়, বন্দোবস্ত।
স্থাণু- জড়বং, স্থির।
পরিভ্রমণ—ঘুরে বেড়ানো।
গর্ত—গহ্বর, কন্দর।
সাগর—সমুদ্র।
খবর- সংবাদ।
আঘ্রাণ—গন্ধ, সুবাস।
স্বভাবত স্বভাব বা বৈশিষ্ট্যগত ।
বিদ্যা—অধ্যায়ন দ্বারা লব্ধ জ্ঞান। খদ্দের ক্রেতা।
ডাক্তার - চিকিৎসক।
রসনা—জিহ্বা।
রটনা—প্রচার ঘোষণা, জনশ্রুতি।
দুনিয়া—পৃথিবী।
কুইক মার্চ (Quick March)-তালে দ্রুত পা ফেলা।
কৃতিত্বে— পারদর্শিতায়। যায়।
অদ্ভুত—বিস্ময়কর।
অ্যামিবা - এককোশী ও আদি প্রাণী।।
অণুবীক্ষণ—যে-যন্ত্র দিয়ে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জিনিসকে
সেল (Cell)—কোশ।
ক্ষণিকের - অত্যল্প সময়োর।
প্রোটোপ্লাজম (Protoplasm) - কোশের মধ্যের একটি অংশবিশেষ।
মুহুর্মুহু- বারবার।
মন্দগতি - ধীরগতি।
জেটপ্লেন (Jet Plane) - দ্রুতগতিসম্পন্ন উড়োজাহাজ।
অতিক্রম—পার হওয়া, লঙ্ঘন।
রক্ষে - বাচোয়া।
আদিকাল—প্রথম লগ্ন।
ভবঘুরে - নিজের ইচ্ছেয় চলে যারা। সৈন্যসামন্ত রক্ষক- যারা বহিঃশত্রুর হাত
থেকে দেশকে রক্ষা করেন।
বিশিষ্ট—বিশিষ্টতা
সম্পন্ন, যুক্ত।
অদৃশ্য—উধাও, লুপ্ত।
চ্যাম্পিয়ান - সর্বশ্রেষ্ঠ।
দুর্জয়—যা জয় করা কঠিন।
পদব্ৰজে পায়ে- হেঁটে।
ক্ষান্ত-শেষ।
উৎসুক—উৎসাহী ।
ত্রিভুবনেশ্বর—তিন ভুবনের ঈশ্বর।
ত্রিভুবন—স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল।
বহিঃশত্রু -বাইরে থেকে আগত শত্রু। নাশ- ধ্বংস।
প্যারামোসিয়াম—এক ধরনের এককোশী জীব।
সিলিয়া—গমনে সাহায্যকারী কর্ষিকা। * প্রকৃত—মূলত।
মাধুর্য—কমনীয়তা, সৌন্দর্য।
প্রচণ্ড— ভীষণ, খুব।
এফিড (Aphid)—এক ধরনের পতঙ্গ। কলা-কুশলতা—কায়দা, কানুন, রীতি
পদ্ধতি, উপায়।
দৈহিক—শারীরিক, দেহ সম্পর্কিত।
ওজন—ভার।
বিবেচ্য—বিবেচনার যোগ্য । হিপো
(Hippopotamus)—জলহস্তী।
পাউন্ড (Pound) - ওজন মাপার এক প্রকার একক।
গতিবেগ—চলার গতির পরিমাণ। গ্যাজেলি—মরুভূমিতে বসবাসকারী একপ্রকার হরিণ।
অত্যধিক—খুব বেশি।
বাজি—প্রতিযোগিতা, পাল্লা।
তারতম্য—হেরফের।
তীব্র—প্রখর।
মোটর (Motor)—মোটরগাড়ি, চার চাকাযুক্ত একপ্রকার গাড়ি।
রেস হর্স (Race horse)—দৌড়ের ঘোড়া। গ্রে হাউন্ড (Gray hound)—একজাতীয় শিকারি কুকুর।
অনুপাতে— তুলনামূলকভাবে। পারদর্শী-দক্ষ।
বন্ধু—দেহ, শরীর।
গদাই লস্কর চালে- ধীর গতিতে।
সীমিত—নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে।
বরাহ -শুয়োর।
চলৎশক্তি—গমনের ক্ষমতা। সঞ্চালন-চালনা বা নাড়াচাড়া।
বিপাক- হজম করার পদ্ধতি। উৎপন্ন-সৃষ্টি।
ক্রমবিকাশ- ধীরে উন্নত হওয়ার প্রক্রিয়া। দুস্তর- কঠিন, পার হওয়া দুঃসাধ্য এমন। অবাধ-বাধাহীন।
তোলপাড়—প্রবল আলোড়ন, ওলোট
পালট।
বিশ্বকীর্তি—শ্রেষ্ঠ কাজের নিদর্শন।
ত্বরা- - শাশ্বত চিরন্তন, চিরকালের। চরৈবেতি—চলতে শীঘ্র।
দায়-কর্তব্য।
জীবনের শেষ-মৃত্যু, পরিসমাপ্তি ।
1

