খোকনের প্রথম ছবি গল্পের হাতে-কলমে প্রশ্নের উত্তর । khakoner protham chhabi hate-kalome prosno uttor
খোকনের প্রথম ছবি
বনফুল
সপ্তম শ্রেণি বাংলা
![]() |
বনফুল এর পরিচিতি:
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পরিচিত লেখক বনফুল। তাঁর আসল নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়। তবে, ছদ্মনামেই তিনি সাহিত্যের জগতে বেশি পরিচিত। ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে বিহারের পূর্ণিয়া জেলার মণিহারীতে তাঁর জন্ম হয়। সাহেবগঞ্জ হাই স্কুলে পড়ার সময় ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে মাল পত্রিকায় তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। তারপর প্রবাসী ও ভারতী পত্রিকায় তিনি লিখতে শুরু করেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘তৃণখণ্ড'। পেশায় চিকিৎসক বলাইচাঁদ পাটনা মেডিকেল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাস করেন। বাংলা সাহিত্যের সার্থক অনুগল্প রচনার তিনিই পথপ্রদর্শক। ছোটোগল্প, উপন্যাস, নাটক এবং কাব্য-সাহিত্যের সব শাখাতেই তিনি সমান দক্ষ ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হল—‘স্থাবর', 'জঙ্গম', ‘মন্ত্রমুগ্ধ’, ‘হাটেবাজারে’, ‘শ্রীমধুসূদন', ‘বিদ্যাসাগর' প্রভৃতি । তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘পশ্চাৎপট'-এর জন্য তিনি ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ লাভ করেন। এ ছাড়াও তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' এবং ভাগলপুর ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ডি লিট' উপাধি লাভ করেন। তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ছিলেন। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে এই মহান সাহিত্যিকের মহাপ্রয়াণ ঘটে।
খোকনের প্রথম ছবি গল্পের সংক্ষিপ্তসার:
ছোটোবেলা থেকেই খোকনের ছবি আঁকার শখ। এখন সে দশম শ্রেণিতে পড়ে। বিভিন্ন বিষয় সে হুবহু আঁকতে পারে। একদিন স্কুলের মাস্টারমশাই তাকে প্রকৃতির ছবি আঁকতে বলেন। খোকন গাছ, সাঁকো আঁকল। একবার মেঘের মাঝে দেখা হাতি আঁকতে গিয়ে সে বোকা বনে গেল। মুহুর্তে হাতি রূপ পালটে কুমির হয়ে গেল। একদিন হঠাৎ লখনউ থেকে খোকনের বাবার এক চিত্রকর বন্ধু তাদের বাড়ি এসে খোকনের সব ছবি দেখতে চাইলেন। খোকনের আঁকা দেখে তিনি বলেন, এ তো অনুকরণ, নকল—নিজের ভাবনার ছবি কোথায়?
খোকন অবাক হয়। নিজের কল্পনার ছবি আঁকবে বলে ঘরে চোখ বন্ধ করে বসে থাকে। কিন্তু অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখতে পায় না। খোকন অন্ধকারের ছবি আঁকতে বসল। দেখল ড্রইং খাতার কালো রঙের মধ্যে থেকে চোখ মুখ ফুটে বেরোচ্ছে। মুখে অদ্ভুত হাসি। খোকন বুঝতে পারল, এটাই তার আঁকা প্রথম মৌলিক ছবি, তার প্রথম সৃষ্টি, এটি
কোনো কিছুর কপি নয়, ফোটোগ্রাফ নয়, এটি তার মন থেকে উৎসারিত প্রথম ছবি।
খোকনের প্রথম ছবি গল্পের বিষয়বস্তু:
আর চারপাশের জিনিসগুলিকে হুবহু আঁকা কোনো সৃষ্টি নয়। কল্পনার রঙে বাহ্যবস্তুকে তুলে ধরাই আসল শিল্প বা
সৃষ্টি। এই কারণেই শিল্পী হতে গেলে শিশু অবস্থা থেকে কল্পনার মাধ্যমে অনুভব করতে হয়। সেই অনুভবের স্বরূপ প্রকাশ করাই হল সৃষ্টি। মনে রাখা দরকার সবকিছু হুবহু এঁকে ফেললেই সার্থক শিল্পসৃষ্টি সম্ভব হয় না। সেটি হয়ে ওঠে নকল করা কৃত্রিম ছবি।
খোকনের প্রথম ছবি গল্পের নামকরণে সার্থকতা:
যে-কোনো সাহিত্যবস্তুর প্রাথমিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে নামকরণের একটা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। নামকরণ সার্থক না-হলে, বিষয়বস্তুর সঙ্গে পাঠকের সংযোগ দৃঢ় হয় না। আলোচ্য গল্পের নাম 'খোকনের প্রথম ছবি'। এই নামকরণটির একটি গভীর তাৎপর্য রয়েছে। 'প্রথম ছবি'
বলতে আমরা কোন ছবিকে বুঝব? ছোটোবেলায় খোকনের রং-পেনসিল নিয়ে হিজিবিজি কাটা? নাকি, স্কুলে
শিক্ষকের কাছ থেকে শেখা টুল, টেবিল, চেয়ার, কলশি, কাপের ছবি? নাকি, মাস্টারমশাইয়ের পরামর্শ অনুযায়ী প্রকৃতি দেখে আঁকা ইউক্যালিপটাস গাছের ছবি? বস্তুত, এই ছবিগুলি খোকন জীবনের প্রথম পর্যায়ে আঁকলেও, এগুলিকে তার আঁকা 'প্রথম' ছবি বলা যাবে না। কারণ, এই ছবিগুলির কোনোটিই খোকনের মানসিক কল্পনা থেকে উৎসারিত হয়নি। প্রতিটি ছবিই হয় পরিবেশ থেকে, নয়তো অন্য কোনো আঁকা ছবি থেকে নকল করা। অথচ, সেগুলি নিয়েই খোকন মনে মনে গর্ববোধ করত।
খোকনের বাবার চিত্রকর বন্ধুর সহায়তায় খোকনের এই অহঙ্কারবোধ চূর্ণ হয়ে যায়। খোকনের আঁকা ছবি দেখে তিনি যখন বলেন-“তোমার নিজের আঁকা ছবি কই?” খোকন তখন তাঁর জীবনের প্রথম মৌলিক ছবির সন্ধানে রত হয়। চোখ বুজে, নিজের অপরিণত কল্পনায় সে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না। সেই অন্ধকারেরই ছবি আঁকে সে। তারপর সেই কালো রঙের ভিতর একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকতে থাকতে উপলব্ধি করে, “... একটা মুখ রয়েছে। চোখও আছে।” বক্তৃত, এই চোখ-মুখ খোকনেরই প্রতিরূপ। জীবনে প্রথমবার কোনো কিছু নকল না করে সে যে ছবি আঁকে, তাতেই সে বুঝতে পারে, প্রকৃত মৌলিক সৃষ্টি বলতে কী বোঝায়। সুতরাং, তাৎপর্যপূর্ণ অর্থে আলোচ্য গল্পের নামকরণ সার্থক হয়েছে।
শব্দার্থ
বেকুব -বোকা, নির্বোধ।
প্রকাণ্ড— খুব বড়ো, অতিকায়।
বিখ্যাত—খ্যাতিবান, খুব পরিচিত।
সগর্বে - অহংকারের সঙ্গে।
নিখুঁত- দোষত্রুটিহীন।
বুজে - বন্ধ করে।
জিজ্ঞেস—জানতে চাওয়া ৷
চমৎকার - সুন্দর, মনোহর।
পুল (Pool)- সেতু,সাঁকো।
ইউক্যালিপটাস (Eucalyptus ) – এক ধরনের লম্বা গাছ।
ঝোঁক-প্রবণতা, আগ্রহ।
হিজিবিজি—অর্থহীন আঁকিবুকি।
ড্রইং (Drawing) – আঁকা।
চেয়ার (Chair) -কেদারা।
কাপ (Cup)—পেয়ালা।
কপি (Copy)—অনুকরণ বা নকল।
প্রশংসা—সুখ্যাতি, গুণকীর্তন।
চিত্রকর- ছবি আঁকে যে, শিল্পী।
মহা উৎসাহে - অত্যন্ত আগ্রহে।
দীপ্তি—উজ্জ্বলতা, প্রভা।
ফোটেনি—স্পষ্ট হয়নি।
সৌন্দর্য—চমৎকারিত্ব।
কল্পনা-ভাবনা, উপলব্ধি।
অন্ধকার—আঁধার।
অদ্ভুত—সচরাচর হয়নি যা।
সৃষ্টি—নিজের ভাবনার আলাদা প্রকাশ। ও অবাক -বিস্মিত, কথা না বলে।
হাতে কলমে অনুশীলন প্রশ্নের উত্তর
১. গল্প থেকে একইরকম অর্থযুক্ত আর একটি করে শব্দ খুঁজে নিয়ে লেখো :
[ শিল্পী, নগর, ঐরাবত, উজ্জ্বলতা, অনুকরণ।]
> শিল্পী-চিত্রকর,
> নগর-শহর,
> ঐরাবত-হাতি,
> উজ্জ্বলতা—দীপ্তি,
>অনুকরণ—কপি বা নকল।
২. বিশেষ্য থেকে বিশেষণে রূপান্তরিত করো :
[ প্রকৃতি, গাছ, কল্পনা, ফুল, দীপ্তি।]
> প্রকৃতি—প্রাকৃতিক,
> গাছ–গেছো,
>কল্পনা— কাল্পনিক,
> ফুল-ফুলেল,
> দীপ্তি—দীপ্ত।
৩. নিম্নরেখ অংশটির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করো :
৩.১ প্রকৃতি থেকে ছবি আঁকো ।
> ছবি—কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।
৩.২ তোমার ছবি কই ?
> তোমার—সম্বন্ধপদে ‘র’ বিভক্তি।
৩.৩ একদিন তিনি খোকনদের বাড়িতে এলেন ৷
> বাড়িতে—অধিকরণ কারকে ‘তে’ বিভক্তি।
৩.৪ ড্রইং খাতার একটি পাতা কালো রঙে ভরে গেল ৷
> রঙে—করণকারকে 'এ' বিভক্তি।
৪. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর দাও:
৪.১ “ড্রইং শিখতে লাগল খোকন”-খোকন কোথায় ড্রইং শিখত ? আর প্রথমদিকে কী কী আঁকত ?
উত্তর > খোকন স্কুলে ভরতি হওয়ার পর স্কুলে ড্রইং শিখত।
» প্রথমদিকে ছোটোবেলায় সে কাগজের ওপর রঙিন পেনসিল দিয়ে হিজিবিজি কাটত। তারপর সে টুল, চেয়ার, টেবিল, কলশি, কাপ এমনকি গোরুর ছবিও আঁকত। সে যা দেখত, সেইসব ছবিই আঁকত।
৪.২ “একদিন তো মেঘের ছবি আঁকতে গিয়ে বেকুব হয়ে গেল খোকন”–‘বেকুব' শব্দটির অর্থ কী ? মেঘের ছবি আঁকতে গিয়ে খোকন বেকুব হয়ে গিয়েছিল কেন ?
উত্তর > 'বেকুব' শব্দের অর্থ বোকা বা নির্বোধ।
>মেঘের ছবি আঁকতে গিয়ে খোকন প্রথমে মেঘের মধ্যে হাতি দেখতে পেল। হাতিটা যেন দুপায়ে ভর দিয়ে শুঁড় তুলে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তাড়াতাড়ি আঁকা সত্ত্বেও ছবি শেষ হওয়ার আগেই হাতি মিলিয়ে গিয়ে
কুমিরের রূপ নিল। এভাবে মেঘের ছবি আঁকতে গিয়ে খোকন বেকুব হয়ে গেল।
৪.৩ “এগুলো সব নকল করা ছবি।”–কে, কাকে এই কথা বলেছিলেন ? 'নকল করা ছবি' বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন ?
উত্তর- লখনউ থেকে আসা খোকনের বাবার এক চিত্রকর বন্ধু খোকনকে এই কথা বলেছিলেন।
> 'নকল করা ছবি' বলতে তিনি কোনো কিছু দেখে হুবহু আঁকা ছবিকে বুঝিয়েছেন। খোকন এতদিন যা দেখেছে, ঠিক সেটাই এঁকেছে। তার মধ্যে খোকনের নিজস্ব কোনো কল্পনা ছিল না। ছবিগুলি ছিল বাস্তব বস্তুর কপি মাত্র। এ কারণেই তা নকল করা ছবি ছিল।
৫. নীচের প্রতিটি বাক্যকে দুটি বাক্যে ভেঙে লেখো :
৫.১ সে যখন খুব ছোটো ছিল, কাগজের উপর রঙিন পেনসিল দিয়ে হিজিবিজি কাটত।
উত্তর> সে তখন খুব ছোটো ছিল। সে কাগজের উপর রঙিন পেনসিল দিয়ে হিজিবিজি কাটত।
৫.২ পুলের ছবিটি দেখেও খুব প্রশংসা করলেনমাস্টারমশাই ৷
উত্তর- মাস্টারমশাই পুলের ছবিটি দেখলেন। তিনি ছবিটির খুব প্রশংসা করলেন।
৫.৩ সূর্যের যে ছবিটা এঁকেছে সেটা তো সূর্যের মতো নয় ৷
উত্তর > সূর্যের একটা ছবি এঁকেছে। সেটি ঠিক সূর্যের মতো নয় ৷
৫.৪ একদিন তো মেঘের ছবি আঁকতে গিয়ে বেকুব হয়ে গেল খোকন।
উত্তর> খোকন একদিন মেঘের ছবি আঁকতে গেল। সে বেকুব হয়ে গেল।
৫.৫ খোকন একদিন নিজের ঘরে চোখ বুজে বসে রইল।
উত্তর- খোকন একদিন নিজের ঘরে এল। সে চোখ বুজেবসে রইল।
৬. নীচের আলাদা আলাদা বাক্যগুলি জুড়ে একটি বাক্য তৈরি করো :
৬.১ খোকন এখন বড়ো হয়েছে। ক্লাস টেন-এ পড়ে।
উত্তর > খোকন এখন বড়ো হয়ে ক্লাস টেন-এ পড়ে।
৬.২ খোকনের বাবার একজন বন্ধু বিখ্যাত চিত্রকর। তিনি লখনউ শহরে থাকেন।
উত্তর > খোকনের বাবার একজন বিখ্যাত চিত্রকর বন্ধু লখনউ শহরে থাকেন।
৬.৩ নিজের আঁকা ছবি? তা কী করে আঁকব ?
উত্তর- > নিজের আঁকা ছবি কী করে আঁকব?
৬.৪ চোখ বুজে বসে কল্পনা করো। কল্পনায় যা দেখবে সেটিই এঁকে ফ্যালো।
উত্তর > চোখ বুজে বসে কল্পনায় যা দেখবে তাই এঁকে ফ্যালো।
৬.৫. তারপর হঠাৎ দেখতে পেল ওই কালোর ভিতরেই একটা মুখ রয়েছে। চোখও আছে।
উত্তর > তারপর হঠাৎ দেখতে পেল, কালোর ভিতরেই একটা চোখ-মুখ রয়েছে।
৭. গল্পে রয়েছে এমন দশটি ইংরেজি শব্দ খুঁজে নিয়ে লেখো।
উত্তর > গল্পে থাকা দশটি ইংরেজি শব্দ হল—ক্লাস, টেন, পেনসিল, স্কুল, ড্রইং, কপি, মাস্টার, টেবিল, চেয়ার,
কাপ।
৮. খোকন জিজ্ঞেস করলে প্রকৃতি থেকে ?- প্রশ্ন পরিহার করো।
উত্তর > প্রকৃতি থেকে কি না খোকন তা জিজ্ঞাসা করল।
৯. লখনউ শহরটি কোথায় ? সেখানকার একটি বিখ্যাত স্থাপত্যের নাম লেখো।
উত্তর > লখনউ শহরটি ভারতেরই অঙ্গরাজ্য উত্তরপ্রদেশে অবস্থিত। এখানকার একটি বিখ্যাত স্থাপত্য
হল ইমামবাড়া ।
১০. খোকনের 'ডাইংয়ের মাস্টারমশাই' কীভাবে খোকনকে প্রকৃতি দেখতে শিখিয়েছিলেন ?
উত্তর> মাস্টারমশাই খোকনকে প্রকৃতি দেখতে শেখানোর জন্য তাকে চারপাশের পরিবেশের দিকে তাকাতে বলেছিলেন। প্রথমে বাড়ির সামনের গাছ, তারপর কিছু দূরের পুল, আরও পরে আকাশ, মেঘ, সূর্য, সূর্যের দীপ্তি, গোলাপ ফুল ইত্যাদি খোকনকে দেখতে বলেন। তিনি জানান, খোকনের চারপাশেই অনেক ছবি রয়েছে। আর তাতেই আগ্রহী হয়ে খোকন প্রকৃতি দেখতে শিখেছিল।
১১. প্রকৃতির দৃশ্যের যে-বদল অহরহ হয়, তা খোকন কীভাবে বুঝল ?
উত্তর> প্রকৃতির দৃশ্যগুলি যে-প্রতিমুহূর্তে বদলে যায়, এ কথা খোকন জানত না। একদিন সে মেঘের ছবি আঁকতে গিয়ে দেখল যে, মেঘ দেখতে অনেকটা হাতির মতো। তাড়াতাড়ি সেটি আঁকার পর যখন ছবিটি মেলাতে গেল তখন দেখল, সেটি আর হাতি নেই, সেটি হয়ে গিয়েছে শুয়ে থাকা একটি প্রকাণ্ড কুমির। মেঘের মধ্যে হাতির কুমির হয়ে যাওয়া দেখেই খোকন বুঝল, প্রকৃতির দৃশ্যের অহরহ বদল ঘটে।
১২. "খোকন অবাক হয়ে গেল", আর অবাক হয়ে চেয়ে রইল খোকন।”
-এই দুই ক্ষেত্রে খোকনের 'অবাক' হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর- প্রথমবার খোকনের অবাক হওয়ার কারণ, তার বাবার এক চিত্রকর বন্ধুর কথা। খোকন তাকে প্রকৃতির নানা বিষয়ক থেকে কপি করা অনেকগুলি ছবি দেখালেও, তিনি খোকনকে নিজের আঁকা ছবির কথা জিজ্ঞেস করেন, এখানে খোকন তাঁর কথার তাৎপর্য বুঝতে না পেরে অবাক হয়।
কিন্তু দ্বিতীয়বার খোকনের নিজের তাগিদটাই প্রবল ছিল। ভাব-কল্পনার প্রভাবে নিজের আঁকা প্রথম মৌলিক সৃষ্টি দেখে সে অবাক হয়েছে। এখানে সে সৃষ্টির গভীরে যেতে উৎসাহী।
১৩. “চিত্রকর চলে গেলেন”-এই চিত্রকরের পরিচয় দাও। চলে যাওয়ার আগে তিনি খোকনকে কী বলে গেলেন ?
উত্তর- এই চিত্রকর হলেন খোকনের বাবার বন্ধু। তিনি লখনউ শহরে থাকেন ।
> চলে যাওয়ার আগে তিনি খোকনকে চোখ বুজে বসে কল্পনা করতে বললেন। তিনি আরও বললেন, এই কল্পনা থেকে তার মনে যে উপলব্ধি জন্মাবে, সেটিকেই
খাতায় ছবি এঁকে ফুটিয়ে তুলতে হবে। সেটিই হবে তার নিজের ছবি।
১৪. “এই অন্ধকারেরই ছবি আঁকবে।”—কখন খোকন এমন সিদ্ধান্ত নিল ? অন্ধকারের সেই ছবির দিকে তাকিয়ে খোকন কী দেখতে পেল ?
উত্তর > বাবার চিত্রকর বন্ধু চলে যাওয়ার আগে যা বলেছিলেন, সেটা নিয়ে ভাবতে গিয়েই খোকন নিজের ঘরে চোখ বুজে বসে রইল। সে কল্পনায় অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেল না। কল্পনায় অন্ধকার দেখে সে ঠিক করল, এই অন্ধকারের ছবিই সে আঁকবে।
অন্ধকারের সেই ছবির দিকে তাকিয়ে সে দেখতে পেল—ওই কালোর ভিতরেই একটি মুখ আছে চোখও আছে। আর সেই চোখে অদ্ভুত এক হাসি খেলা করছে ।
১৫. গল্পে 'খোকনের প্রথম ছবি' হিসেবে তুমি কোন ছবিটিকে স্বীকৃতি দেবে এবং কেন তা বুঝিয়ে লেখো ।
উত্তর > খোকনের প্রথম ছবি হিসেবে অন্ধকারের ছবিটিকেই আমি স্বীকৃতি দেব। কালো রং দিয়ে আঁকা ছবিটি
তার নিজের ভাব-কল্পনার সৃষ্টি। এটি তার নিজস্ব শিল্প। এই সৃষ্টিতে অন্ধকারের মধ্য থেকে আলোর আভাস উপলব্ধি করা যায়। আর এই নতুন আভাস খোকনের মৌলিক সৃষ্টির পরিচয় বলেই খোকনের
প্রথম ছবি হিসেবে ড্রইং খাতার পাতায় কালো রঙের এই ছবিকেই আমি স্বীকৃতি দেব ৷
১৬. পাঁচজন সাহিত্যিকের নাম এবং তাঁদের ছদ্মনাম পাশাপাশি লেখো। সাহিত্যিকেরা কেন ছদ্মনাম ব্যবহার করেন তা শিক্ষক/শিক্ষিকার থেকে জেনে নাও ৷
উত্তর- পাঁচজন সাহিত্যিকের নাম ও তাঁদের ছদ্মনাম নীচে পাশাপাশি দেওয়া হল—
সাহিত্যিকের নাম > ছদ্মনাম
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর > ভানুসিংহ
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় >কমলাকান্ত
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় > অনিলা দেবী
গৌরকিশোর ঘোষ > রূপদর্শী
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় > নীললোহিত
> সাহিত্যিকরা নানাবিধ কারণে ছদ্মনাম ব্যবহার করতে পারেন—(১) নিজের নাম গোপন করে অকপটে নিজস্ব বক্তব্য জানানোর জন্য। (২) নতুন লেখক হিসেবে অনেকে ছদ্মনামের আড়ালে নিজের লেখার বলিষ্ঠতা যাচাই করে নেওয়ার জন্য।
১৭. তুমি যদি বড়ো হয়ে সাহিত্যিক হও, কোন ছদ্মনাম তুমি ব্যবহার করবে এবং কেন—তা লেখো।
> আমি বড়ো হয়ে সাহিত্যিক হলে ‘দীপান্বিতা' ছদ্মনামটি ব্যবহার করব। কারণ আমি আলো জ্বালাতে চাই।
বর্তমান সমাজের যে-অন্ধকার দশা, আমি সেই দশাটিকে ঘোচাতে বদ্ধপরিকর। ‘দীপান্বিতা' শব্দটির মধ্যে 'দীপ' অর্থাৎ, আলোর কথা আছে। আবার ‘অন্বিতা’ অংশে আছে সংযোগ বা দানকারীর ভূমিকা । সুতরাং, বিশ্ববাসীর কাছে আলোর সংযোগকারী হিসেবে নামটি যে সার্থক হবে, তাতে আমার কোনো সন্দেহ নেই।
গল্পের অতিরিক্ত কিছু প্রশ্ন উত্তর:
প্রশ্ন: খোকন কোন গাছের ছবি এঁকেছিল ?
উত্তর- খোকন ইউক্যালিপটাস গাছের ছবি এঁকেছিল।
প্রশ্ন: মাস্টারমশাই খোকনের কোন ছবিটার খুব প্রশংসা করেছিলেন ?
উত্তর- মাস্টারমশাই খোকনের আঁকা পুলের ছবিটার খুব প্রশংসা করেছিলেন।
প্রশ্ন: খোকনের কোন ছবিটায় কীসের দীপ্তি ফোটেনি ?
উত্তর- খোকনের আঁকা সূর্যের ছবিটায় সূর্যের দীপ্তি ফোটেনি।
প্রশ্ন: মেঘে ঢাকা হাতিটি কীভাবে দাঁড়িয়েছিল ?
উত্তর- মেঘে ঢাকা হাতিটি পেছনের দু-পায়ে ভর করে শুঁড় তুলে দাঁড়িয়েছিল।
প্রশ্ন: খোকনের বাবার চিত্রকর বন্ধু কোথায় থাকেন ?
উত্তর- খোকনের বাবার চিত্রকর বন্ধু লখনউ শহরে থাকেন।
প্রশ্ন: খোকন সগর্বে কী করল ?
উত্তর- খোকন সগর্বে তার ড্রইংখাতা এনে তার বাবার বন্ধুকে দেখাল।
প্রশ্ন: খোকনের ছবি দেখে তার বাবার বন্ধু কী বললেন ?
উত্তর- খোকনের ছবি দেখে তার বাবার বন্ধু বললেন, সেগুলি সব নকল করা ছবি। খোকনের নিজের আঁকা ছবি আছে কি না, তিনি সেটিও জানতে চাইলেন।
প্রশ্ন: চিত্রকর খোকনকে কী বলে চলে গেলেন ?
উত্তর- চিত্রকর খোকনকে চোখ বুজে কল্পনা করতে বলেছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, কল্পনায় সে যা দেখবে, সেটিকেই এঁকে ফেলতে হবে।
প্রশ্ন: নিজের ঘরে চোখ বুজে খোকন কী খেল ?
উত্তর- নিজের ঘরে চোখ বুজে বসে খোকন এক দৃষ্টিতে চেয়ে শুধুই অন্ধকার দেখল ।
প্রশ্ন: কোন্ দিকে খোকন অবাক হয়ে চেয়ে রইল ?
উত্তর- নিজের আঁকা অন্ধকারের ছবির দিকে তাকিয়ে খোকন একটি মুখ দেখল। তাতে চোখও আছে। অদ্ভুত হাসি সেই চোখে—সেইদিকেই খোকন অবাক হয়ে চেয়ে রইল।
প্রশ্ন: 'বনফুল' কোন লেখকের ছদ্মনাম ?
উত্তর- ‘বনফুল' বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
প্রশ্ন: 'ছবি' শব্দের তিনটি প্রতিশব্দ লেখো।
উত্তর- “ছবি’শব্দের তিনটি প্রতিশব্দ হল— চিত্র, দৃশ্য, প্রতিকৃতি।
প্রশ্ন: দেশ-বিদেশের কয়েকজন বিখ্যাত চিত্রকরের নাম লেখো।
* দেশ-বিদেশের কয়েকজন বিখ্যাত চিত্রকর হলেন—
লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, পিকাসো, ভ্যান গগ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু, রামকিঙ্কর বেইজ প্রমুখ।
প্রশ্ন: ছবি আঁকার জন্য কী দরকার হয় ?
ছবি আঁকার জন্য দরকার দৃষ্টি ও একাগ্রতা।
প্রশ্ন: এগুলো সব নকল করা ছবি”-বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী ?
উত্তর- আলোচ্য উক্তিটির বক্তা খোকনের বাবার বন্ধু। তিনি নিজে একজন চিত্রকর। তিনি জানেন, বাহ্যবস্তুরওপর কল্পনার সৃজনশীল রং চড়িয়ে তাকে সৃষ্টি করতে হয়। যা চর্মচক্ষে দেখছি, তাকেই সরাসরি অঙ্কনের মধ্যে কোনো বিশেষত্ব থাকে না বা সৃজনশীলতা থাকে না—তা প্রতিলিপি হয়ে ওঠে।
এ কারণে খোকনের মধ্যে সৃষ্টিধর্মিতা আনতে বক্তা এমন মন্তব্য করেছিলেন।
প্রশ্ন: “সূর্যের যে ছবিটি এঁকেছে সেটা তো সূর্যের মতো নয়”– সূর্যের ছবিটি ঠিক সূর্যের মতো নয় বলতে তুমি কী বোঝো ?
উত্তর- সময়ানুসারে সূর্যের রূপ বদল হয়। সকালের সূর্যের সঙ্গে দুপুরের কিংবা পড়ন্ত বেলার সূর্যের পার্থক্য থাকে। আবার উদীয়মান সূর্য অপরূপ রূপ নিয়ে হাজির হয়। একইভাবে আমরা দিনের বিভিন্ন সময়ে আলাদা আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে সূর্যকে দেখতে পারি। এইভাবেই সৃজনশীল মানুষের স্বতন্ত্র ভাবনায় সূর্য পৃথক রূপ নিতে পারে। তাই আমার মনে হয়, সূর্য ঠিক সূর্যের মতো নয়—এর অর্থ হল সূর্যকে কল্পনার রঙে অন্য রকম রূপদান করা হয়েছে।
প্রশ্ন: “হাতি কুমির হয়ে গেছে।”—কীভাবে হাতি কুমির হয়ে গিয়েছে ?
উত্তর- একদিন খোকন আকাশে হাতির মতো দেখতে মেঘ দেখে ভেবেছিল, ড্রয়িং খাতায় ওই হাতির মতো মেঘকে সে সহজেই এঁকে ফেলবে। ড্রয়িং খাতায় এঁকে ফেলার পর যখন সে আকাশের দিকে তাকিয়ে মেলাতে যায়, আকাশের হাতির মতোই খাতার হাতি হয়েছে কি না তখন সে দেখে, আকাশের হাতি কুমির হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, মেঘের চেহারা বদলে গিয়েছে।

