আঁকা লেখা কবিতার হাতে কলমে প্রশ্নের উত্তর / anka- lekha kobitar proshno uttor - school book solver

Sunday, 25 January 2026

আঁকা লেখা কবিতার হাতে কলমে প্রশ্নের উত্তর / anka- lekha kobitar proshno uttor

 






           আঁকা লেখা 

        মৃদুল দাশগুপ্ত 

           সপ্তম শ্রেণী


লেখক পরিচিতি

 বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় লেখক, কবি ও সাংবাদিক হলেন মৃদুল দাশগুপ্ত। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম হয়। গ্রামের স্কুলের পাঠ শেষ করে তিনি ভরতি হন উত্তরপাড়া কলেজে। এই কলেজ থেকেই তিনি জীববিজ্ঞানে

অনার্স-সহ স্নাতক হন। কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ—জলপাই এর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলি হল— এভাবে কাঁদে না', 'গোপনে হিংসার বলি', 'সূর্যাস্তে নির্মিত গ্রহণ ইত্যাদি। ছোটোদের জন্যও তিনি অনেক লিখেছেন এবং এখনও লিখে চলেছেন। তাঁর ছোটোদের জন্য লেখা ছড়ার বইগুলি হল— ঝিকিমিকি ঝিরিঝিরি, 'ছড়া ৫০','আমপাতা জামপাতা'। কবির একটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ হল—'কবিতা সহায়ক।



     ।।।।।।।।সংক্ষিপ্তসার।।।।।।।

কবি যখন মনের আনন্দে ইচ্ছেমতো রং দিয়ে ছবি আঁকেন,তখন তা দেখে তিনটি শালিক ঝগড়া থামায়। চড়ুই পাখিরা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে। মাছরাঙা পাখিরাও মাছ ধরার কথা ভুলে গিয়ে কবিকে নীল রং ধার দিতে চায়। গর্ত থেকে মুখ বাড়িয়ে ইঁদুরও তাদের পিটপিটে চোখ মেলে ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে। শুধু চড়ুই পাখি, মাছরাঙা বা ইঁদুরই নয়, রং-তুলিগুলিও কবিকে পেয়ে বেজায় খুশি হয়ে ওঠে। মাঠে চাঁদের আলো পুরু হয়ে যেন দুধের সর জমে। হালকা বাতাসে যখন শরীর কেঁপে ওঠে, তখনই কবি শুরু করেন তাঁর কবিতা লেখা। অত্যন্ত গোপনে চুপিচুপি তারার মালা যেন অজস্ৰ শব্দ হয়ে নেমে আসে কবির মনের গভীরে। সেইশব্দ দিয়ে বকুলগাছে তখন জোনাকিরা বর্ণমালা লেখে।প্রকৃতির এই অবস্থা হাওয়ায় ভাসিয়ে কবিকে আঁকা ও লেখার কাছে নিয়ে আসে। পাঠকের সঙ্গে মিলনের আনন্দ কবির কাছে পদক পাওয়ার আনন্দ হয়ে ওঠে। কবি মনে করেন এটাই তাঁর পুরস্কার, এটিই তাঁর পরম প্রাপ্তি।

বিষয়বস্তু 

আলোচ্য কবিতায় কবি প্রকৃতির দুটি রূপ তুলে ধরেছেন। একটি দিনের বেলার ও অন্যটি রাত্রিবেলার। কবি জানিয়েছেন, প্রকৃতির সবকিছুই কবিকে আঁকায় ও লেখায় প্ররণা দেয়। কবি প্রকৃতির কথা বলেন। আবার প্রকৃতিই যেন কবির লেখায় প্রাণ পায়। এই কবিতায় তাই কবি প্রকৃতিকেই বিশেষ রূপে প্রকাশ করেছেন। আলোচ্য কবিতায় কবি মৃদুল দাশগুপ্ত জীবজগতের বেশ

কিছু প্রাণীর কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন—শালিক, চড়ুই, মাছরাঙা, প্রজাপতি এবং ইঁদুর। এই প্রাণীগুলিকে আমরা প্রায়ই আশেপাশে দেখতে পাই। এদের সম্পর্কে কিছু তথ্য দেওয়া হল—

শালিক: এর বিজ্ঞানসম্মত নাম Acridotheres tristis,

গোত্র—Sturnidae (স্টার্নিডি)। এই পাখিটি বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। এদের দেহের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে বাদামি রং। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা ও ঘাড় কালচে। ঠোঁট হলুদ। এরা সর্বভুক। পোকামাকড়, শস্যদানা, ফলমূল এদের প্রধান খাদ্য।

চড়ুই- এর বিজ্ঞানসম্মত নাম—Passer domestics |

গোত্র—Passeridae (প্যাসারিডি)। এই পাখিটি এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দেখা যায়। পুরুষ পাখির দেহ উজ্জ্বল কালো,বাদামি ও ধূসর চিহ্নযুক্ত। স্ত্রী চড়াইয়ের দেহ ফ্যাকাশে বাদামি

ও ধূসরে মেশানো। শস্যদানা এদের প্রধান খাদ্য হলেও সুযোগ পেলে পোকামাকড়, বিভিন্ন রকম বীজ ও উচ্ছিষ্ট খায়।


মাছরাঙা: এর বিজ্ঞানসম্মত নাম- Alcedo atthis

গোত্র—Alcedinidae (আলসেডিনিডি)। এই পাখিটি বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়াও ইউরেশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। পাখিটির দেহের উপরিভাগ নীল বা নীলচে সবুজ, দেহতল কমলা এবং ঠোঁট লম্বা ও ধারালো ।

পাখিটির প্রধান খাদ্য মাছ হলেও ব্যাঙাচি ও জলজ পোকাও খায়। এটি প্রধানত শিকারি পাখি।


◆  প্রজাপতি: প্রজাপতি Lepidoptera (লেপিডোপ্টেরা) ও বর্গের অন্তর্গত এক ধরনের পতঙ্গ। এরা দেখতে অত্যন্ত উজ্জ্বল রঙের এবং আকর্ষণীয়। এদের মাথায় একজোড়া গোলাকার পুঞ্জাক্ষি আছে। বাড়িঘরের চারদিকে, ঝোপঝাড় ও বনভূমির সর্বত্র প্রজাপতি দেখা যায়। প্রজাপতি সাধারণত ১২টি গোত্রে বিভক্ত হয়। এদের আয়ুষ্কাল দুই থেকে তিন

সপ্তাহ ।


ইঁদুর-  ইঁদুর আমাদের পরিবেশের একটি অতি পরিচিত প্রাণী। এরা সাধারণত দৈর্ঘ্যে চার থেকে আট ইঞ্চি হয়। এরা খুব দ্রুত চলাচল করে, মাটিতে গর্ত করে বসবাস করে, এরা পৃথিবীর সব ধরনের পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারে। এরা সর্বভুক। বাংলাদেশে মোটামুটি দশটি প্রজাপতি ইঁদুর দেখা যায়।

        

          নামকরণ


যে-কোনো সাহিত্যসৃষ্টির ক্ষেত্রেই নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, নামকরণের মধ্য দিয়েই পাঠক সাহিত্য বস্তুটির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার প্রথম সুযোগ পান। তাই, কোনো সাহিত্য রচনার নামকরণ যদি মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে, সেই রচনাটির গুরুত্বও কমে

যায়।

কবি মৃদুল দাশগুপ্ত রচিত আলোচ্য ‘আঁকা, লেখা'কবিতাটি দুটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত। এই দুটি অনুচ্ছেদে কবি তাঁর ছবি আঁকা ও ছড়া লেখার সময়ে প্রকৃতির কার্যকলাপকে বর্ণনা করেছেন। এই প্রকৃতির একদিকে রয়েছে বস্তুজগৎ এবং অন্যদিকে প্রাণীজগৎ। কবি লক্ষ করেছেন, যখনই তিনি রং-তুলি কিংবা কালি-কলম হাতে নেন, তখনই প্রকৃতির

বিভিন্ন অনুষঙ্গ তাঁকে নানাভাবে উৎসাহ দেয় এবং সহায়তা করে ৷ কখনো-কখনো প্রকৃতিই কবির ছবি-ছড়ার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে। বাস্তব দৃষ্টিতে এগুলি অসম্ভব বলে মনে হলেও, প্রকৃতির সঙ্গে শিল্প-সাহিত্যের যে আত্মিক সংযোগ, তাকেই কবি এই কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। আমরা জানি, যে-কোনো শিল্প বা সাহিত্যের অন্যতম অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রকৃতির অবদান অসামান্য। আবার, প্রকৃতির সংস্পর্শে এসে তিনি যে ছড়া লেখেন বা ছবি আঁকেন, আর সেগুলিই যখন তাঁকে পাঠক সমাজের কাছে পরিচিত করে তোলে, সেটিই হয় তাঁর পরম প্রাপ্তি, শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।

সুতরাং, সমগ্র কবিতায় যে-কোনো সৃষ্টিশীলতার প্রতিনিধিরূপে ছবি আঁকা ও ছড়া লেখাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। কবিতার সঙ্গে এই দুটি বিষয় অভিন্নরূপে সংযুক্ত বলেই কবিতার ‘নামকরণ' সার্থক হয়ে উঠেছে।



শব্দার্থ

 

 ধার- ঋণ, বাকি। 

ঝাঁক—দঙ্গল। 

গর্ত—গহ্বর,বিবর।

 পিটপিট—আধচোখে দেখা। 

 খুশ-খেয়ালে—ইচ্ছেমতো, খামখেয়ালে, মর্জিতে।

চিত্র—ছবি, আলেখ্য, প্রতিলিপি। 

ঝগড়া-  কলহ, বিবাদ ৷

বেজায়—খুব,বেশ, অত্যন্ত। 

দুপুর—মধ্যাহ্ন, দ্বিপ্রহর। 

সর— দুধ,

দই -প্রভৃতির উপরকার ঘন আবরণ।  জমে—ঘন বা গাঢ় হয়ে। 

 পুরু - মোটা, স্থূল। 

ঈষৎ—অল্প, সামান্য, কিঞ্চিৎ।

থামায়-  বন্ধ করে।

 অবাক—বিস্মিত। 

মৎস্য-মাছ, মীন।

কাঁপন—কম্পন, স্পন্দন।

 ছড়া-পদ্য।

 গোপনে-অগোচরে, না জানিয়ে। 

 নামছে - নেমে আসছে, অবতরণ করছে। জোনাকি—আলোযুক্ত পোকাবিশেষ ।

আনল - নিয়ে এল। 

পরম -অত্যন্ত, অতি।

 পুলক-রোমাঞ্চ, শিহরণ, আনন্দ। 

পদক - লকেট,কণ্ঠভূষণ ।


            হাতে কলমে

    অনুশীলন প্রশ্নের উত্তর

১. 'পিটপিটে চোখ' শব্দটির মানে যে-চোখ পিটপিট করে তাকায়। এই রকম আরও পাঁচটি শব্দ তৈরি করো। একটি করে দেওয়া হল— কুড়মুড়ে চানাচুর।

উত্তর- এরকম আরও পাঁচটি শব্দ হল—কনকনে ঠান্ডা, টকটকে লাল, চটচটে আঠা, লকলকে জিভ, ছলছলে চোখ ।


২.ঠিক বানানটি বেছে নাও।

মৎস্য / মৎস / মংশ্য,

২.২ দুধের স্বর/ দুধের সর দুধের শর,

২.৩ কাপন / কাঁপন / কাপণ,

২.৪ ঈশ‍ / ইষৎ / ঈসং।


উত্তর- ২.১ মৎস্য। ২-২ দুধের সর। ২.৩ কাঁপন। ২.৪ ঈষৎ।

. নীচে দেওয়া শব্দগুলির সমার্থক শব্দ কবিতা থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো :

সামান্য, আনন্দ, মীন, নক্ষত্র, মূষিক

উত্তর-

সামান্য—ঈষৎ, 

আনন্দ- পুলক, 

মীন—মৎস্য,

নক্ষত্র—তারা, 

মূষিক—ইঁদুর।


৩. 'কম্পন' শব্দ থেকে এসেছে কাঁপন' শব্দটি, অর্থাৎ 'ম্প' যুক্তাক্ষরটি ভেঙে যাচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া ‘ম’ আগের ধ্বনিটিকে অনুনাসিক করে তুলেছে এবং

একটি নতুন 'আ' ধ্বনি চলে আসছে। এই নিয়মটি মনে রেখে নীচের ছকটি সম্পূর্ণ করো।

চন্দ্র [ ] চম্পা [ ]  ষণ্ড [ ] অঙ্ক [ ]


উত্তর-  চন্দ্ৰ— চাঁদ 

চম্পা-  চাপা, 

ঝম্প - ঝাঁপ

 যণ্ড— ষাঁড়

অঙ্ক - আঁক



৫. একসঙ্গে অনেক প্রজাপতি থাকলে আমরা বলি ‘প্রজাপতির ঝাঁক’। এইভাবে আর কী কী শব্দ তৈরি করা যায় শব্দকুরি থেকে শব্দ নিয়ে নীচের শূন্যস্থানগুলি পূরণ করো : [সারি, দল, বহর, পাল ,ঝাঁক, যূথ।

৫.১. ভেড়ার--

৫.২. কইমাছের---

৫.৩ হস্তী---

৫.৪. নৌকার---

৫.৫. সুপুরি গাছের----

৫.৬ ছাত্রদের---


উত্তর- ৫.১ ভেড়ার পাল। ৫.২ কই মাছের ঝাঁক। ৫.৩ হস্তী যূথ। ৫.৪ নৌকার বহর। ৫.৫ সুপুরি গাছের সারি। ৫.৬ ছাত্রদের দল।


৬. নীচের বিশেষ্যগুলির বিশেষণের রূপ লেখো :

[ রং, চিত্র, মাঠ, লেখা, পুলক।]


উত্তর- রং - রঙিন,

লেখা— লেখ্য, লিখিত,

মাঠে - মেঠো,


৭.নীচের বিশেষণগুলির পরে উপযুক্ত বিশেষ্য বসিয়ে বাক্য রচনা করো :

৭.১ ঈষৎ--

৭.২ বেজায়---

৭.৩ পিটপিটে--

৭.৪ পরম---

৭.৫ নীল----

৭.৬ গোপন


উত্তর: ৭.১ ঈষৎ গরম— শীতকালে ঈষৎ গরম জলে চান করা ভালো।

৭.২ বেজায় ঠান্ডা— আজ বেজায় ঠান্ডা পড়েছে।

৭.৩ পিটপিটে চোখ— সদ্যোজাত শিশু পিটপিটে চোখে তাকায়।

৭.৪ পরম আনন্দ ক্লাসে প্রথম হয়ে আমার পরম আনন্দ হল ।

৭.৫ নীল আকাশ— নীল আকাশে সাদা মেঘ ভাসছে।

৭.৬ গোপন বৈঠক— গোপন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিও না।


৮.বিপরীতার্থক শব্দ লেখো :

[ গোপন, ঈষৎ খুশি, পুর, গড়া।]

> গোপন-প্রকাশ,

 ঈষৎ-বেজায় 

খুশি-অখুশি,

পুৰু-পাতলা 

গড়া - মিলন।


৯. নিম্নরেখ অংশগুলির কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো।

৯.১ তিনটি শালিক ঝগড়া থামায়।

> ঝগড়া- কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

৯.২ গর্ত থেকে ইঁদুর, সেটাও পিটপিটে চোখ দেখছে চেয়ে।

উত্তর-: গর্ত থেকে–অপাদান কারকে ‘থেকে’ অনুসর্গ।

 ৯.৩ প্রজাপতির ঝাঁক চাইছে তাদের রাখি আমার আঁকায়

আঁকায়—অধিকরণ কারকে ‘য়' বিভক্তি।

৯.৪ এবার যেন তারার মালা খুব গোপনে নামছে কাছে।

> তারার মালা—কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।

৯.৫ সেই তো আমার পদক পাওয়া

 পদক—কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি ।



১০.বাক্য বাড়াও:

১০.১ আমি যখন আঁকি। (কী, কীভাবে ?)

উত্তর > আমি যখন নিজের ইচ্ছেমতো রং ছড়িয়ে চিত্র আঁকি।


১০.২ চাঁদের দুধের সর জমে যায়। (কোথায় ? কেমন ?)

উত্তর > মাঠে চাঁদের দুখের পুরু সর জমে যায়।

১০.৩ পিটপিটে চোখ দেখছে চেয়ে।(কে ? কোথা থেকে ?)

উত্তর > ইঁদুর গর্ত থেকে পিটপিটে চোখে চেয়ে দেখছে।

১০.৪  ছড়া লেখার শুরু। (কার ? কখন ?)

উত্তর > বাতাস কাঁপন দিতেই কবির ছড়া লেখার শুরু।

১০.৫  'অ' লিখছে 'আ' লিখছে। (কারা ? কোথায় ?)

উত্তর > দশটি জোনাকি বকুল গাছে ‘অ’ লিখছে ‘আ’ লিখছে।


১১. একটি বাক্যে উত্তর দাও:

১১.১ কবি কখন ছবি আঁকেন ?

উত্তর > কবি রাতের বেলায় ছবি আঁকেন।


১১.২  কখন তাঁর ছড়া লেখার শুরু ?

উত্তর > জ্যোৎস্না রাতে বাতাস ঈষৎ কাঁপন দিলে তাঁর ছড়া লেখা শুরু হয়।


১১.৩ তিনটি শালিক কী করে ?

উত্তর > তিনটি শালিক ঝগড়া থামায়।


১১.৪ কে অবাক তাকায় ?

উত্তর > চড়ুই পাখি অবাক চোখে তাকায়।


১১.৫  মাছরাঙা কী চায় ?

উত্তর > মাছরাঙা তার নীল রংটি ধার দিতে চায়।


১১.৬ প্রজাপতিদের ইচ্ছা কী ?

উত্তর > প্রজাপতিদের ইচ্ছা কবি যেন তাঁর আঁকা ছবিতে তাদের রাখেন।

১১.৭ গর্তে কে থাকে ?

উত্তর >  ইঁদুর থাকে।


১১.৮ চাঁদের পুরু দুধের সর কোথায় জমে ?

উত্তর> মাঠে চাঁদের পুরু দুধের সর জমে।


১১.৯ কারা, কোথায় অ-আ লিখছে ?

উত্তর > দশটি জোনাকি পোকা বকুল গাছে অ-আ লিখছে।


১১.১০  কবি কোন বিষয়কে 'পদক পাওয়া মনে করেছেন ?

উত্তর-  কবি ছড়া লেখার মাধ্যমে পাঠকদের কাছাকাছি আসতে পেরেছেন। এটিই তাঁর কাছে ‘পদক' তথা স্বীকৃতি পাওয়ার সমান।


১২. দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও :

১২.১ কবি যখন ছড়া লিখতে শুরু করেন তখন চারপাশের প্রকৃতিতে কী কী পরিবর্তন ঘটে ?

উত্তর - কবি যখন ছড়া লিখতে শুরু করেন, তখন রাত্রিবেলা মাঠে চাঁদের আলোর পুরু সর জমে এবং বাতাস

সামান্য কম্পন দিতে শুরু করে।


১২.২ কবি যখন ছবি আঁকেন তখন কী কী ঘটনা ঘটে ?

উত্তর- কবির ছবি আঁকার সময় তিনটি শালিক তাদের ঝগড়া থামিয়ে দেয়। মাছরাঙা পাখি মাছ ধরা ভুলে তার নীল রং ধার দিতে চায়। প্রজাপতির ঝাঁক আশা করে, কবি যেন তাঁর আঁকায় তাদেরকেও রাখেন। ইঁদুর গর্ত থেকে পিটপিটে চোখে তাকায় আর রং-তুলিরা কবিকে পেয়ে খুশি হয়ে ওঠে।


১২.৩  “তিনটি শালিক ঝগড়া থামায়”–কোন্ কবির, কোন্ কবিতায় এমন তিন শালিকের প্রসঙ্গ অন্যভাবে আছে ?

উত্তর > রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সহজ পাঠ'-এর দ্বিতীয় ভাগের নবম পাঠে এমন তিনটি শালিকের কথা আছে। রবীন্দ্রনাথ কবিতাটির কোনো নাম দেননি। শুধু লিখেছেন—“তিনটি শালিক ঝগড়া করে রান্নাঘরের চালে”।

১২.৪  মাছরাঙা পাখি কেমন দেখতে ? সে মৎস্য ভুলে যায় কেন ?

উত্তর- মাছরাঙা পাখি দেখতে বেশ সুন্দর। এর মাথার দিকটি নীল রঙের আর শরীর ও লেজের দিকটি ধূসর রঙের। এর ঠোঁট লম্বা।

সে কবির আঁকা ছবি দেখতে গিয়ে মৎস্য অর্থাৎ, মাছ ভুলে যায়।


১২.৫ “রং-তুলিরা বেজায় খুশি আজ দুপুরে আমায় পেয়ে।”—কবির এমন বক্তব্যের কারণ কী ?

উত্তর> রং-তুলিগুলি বেশ কিছুদিন ধরে কোনো কাজ করছিল না। ফলে, কবিও ছবি আঁকেননি। হঠাৎ একদিন দুপুরে কবির ছবি আঁকতে ইচ্ছে হওয়ায় তিনি রং ও তুলি হাতে নিলেন। এতদিন পর রং ও তুলিকে কবি কাজে লাগাচ্ছেন বলেই তারা এত খুশি।


১২.৬ “অ' লিখছে 'আ' লিখছে”–কারা কীভাবে এমন লিখছে ? তাদের দেখে কী মনে হচ্ছে?

উত্তর > দশটি জোনাকি তাদের নিজেদের আলো কখনও জ্বালিয়ে আবার কখনও নিভিয়ে অ-আ লিখছে।

তাদের দেখে মনে হচ্ছে, কবির ছড়া লেখাতে তারাও খুশি হয়েছে। রাত্রিবেলা প্রকৃতির বুকে এভাবে জোনাকি জ্বলায় পরিবেশকে আরও বেশি মধুময় সুন্দর করে তুলেছে।


১৩. অনধিক দশটি বাক্যে উত্তর দাও :

১৩.১ "এই ছড়াতেই আজ আমাকে তোমার কাছে আনলো হাওয়া”-কাকে উদ্দেশ্য করে কবি এ কথা বলেছেন ? কবির আঁকা এবং লেখা-র সঙ্গে এই মানুষটির উপস্থিতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব বিচার করো।

উত্তর> কবি শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছেন।

কবির আঁকা ও লেখার সঙ্গে এই মানুষগুলির নিবিড় টান। আঁকা ও লেখার মাধ্যমে কবি নিজের মনের আনন্দ প্রকাশ করেন। আবার এটাও বলা যায় যে, কবি সবার ভিতরে লুকিয়ে থাকা আনন্দকে নিজের মতো করে প্রকাশ করেন। তাই শিশু-কিশোরদের আনন্দের সঙ্গে কবির আনন্দের কোনো পার্থক্য থাকে না। এইভাবে আনন্দকে পাওয়াই হল তাঁর সকল খুশির উৎস এবং এটিই তাঁর পাওয়া শ্রেষ্ঠ পদক। কাজেই এই আনন্দ লাভের জন্যই পাঠক বা

দর্শকের উপস্থিতি কবি বা শিল্পীর কাছে খুবই কাম্য ।


১৫.২ এই কবিতায় যে যে উপমা ও তুলনা ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলি ব্যবহারের সার্থকতা বুঝিয়ে দাও ।

উত্তর- এই কবিতায় কবি বহু উপমা ও তুলনা ব্যবহার করেছেন। যেমন—‘চাঁদের দুধের সর, ‘তারার মালা', ইত্যাদি। উপমা বা তুলনাগুলি যে সার্থক, তাতে সন্দেহ নেই। চাঁদের আলো সমস্ত মাঠে ছড়িয়ে দুধের সরের মতন সাদা হয়। তারারা সমষ্টিগতভাবে রাতের আকাশে মালা পরায়। আর এইসব দেখে কবি পরম পুলক অনুভব করেন। কবির এই আনন্দই উপমাগুলিকে সার্থক করেছে।


১৩.৩ ছবি আঁকা, ছড়া/কবিতা লেখার মধ্যে তুমি নিজে কোনটা, কেন বেশি পছন্দ করো তা লেখো ।

উত্তর > ছবি আঁকা বা ছড়া লেখার মধ্যে আমি ছবি আঁকাকে বেশি পছন্দ করি। ছবি আঁকার অর্থ কেবলমাত্র -তুলি বোলানো নয়। তাতে অনেকটা অনুভূতি ও কল্পনা থাকে। ছবি আঁকার মধ্যে কল্পনার সঙ্গে ভাত চালনার দিকটিকেও খেয়াল রাখতে হয়। রঙের গাঢ়তা ও হালকা ধোঁয়া সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়। প্রকৃতিকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। লক্ষ রাখতে হয় প্রতিটি বিষয়ের। পৃষ্ঠার সীমাবদ্ধতা নিয়েও বেশ ভাবতে হয়। এই কারণেই ছবি আঁকা আমার ভীষণ পছন্দের কাজ।


১৩.৪  তোমার নিজের লেখা ছড়া/কবিতা, নিজের আঁকা ছবিতে ভরিয়ে চার পাতার একটি হাতে লেখা পত্রিকা তৈরি করো। পত্রিকার একটি নাম দাও।

তারপর শিক্ষিতা/শিক্ষককে দেখিয়ে তাঁর মতামত জেনে নাও।

উত্তর : নিজেরা চেষ্টা করো।




আঁকালেখা কবিতার অন্যান্য প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন: কবি রং ছড়িয়ে নিয়ে (আনন্দে/খুশ-খেয়ালে/।খেয়ালমতো) চিত্র আঁকেন ৷

উত্তর-কবি রং ছড়িয়ে নিয়ে খুশ-খেয়ালে চিত্র আঁকেন।


 প্রশ্ন: (মৎস্য/মাছরাঙা/প্রজাপতি) কবিকে নীল রং ধার দিতে চায়।

উত্তর > মাছরাঙা কবিকে নীল রং ধার দিতে চায়।


প্রশ্ন: কবি (সকাল/দুপুর/বিকেল) বেলায় ছবি আঁকতে বসেন।

উত্তর > কবি দুপুর বেলায় ছবি আঁকতে বসেন।


প্রশ্ন: খুব গোপনে কাছে নেমে আসছে (জোনাকি/চাঁদের আলো/তারার মালা) ।

উত্তর > খুব গোপনে কাছে নেমে আসছে তারার মালা।


প্রশ্ন: বকুল গাছে থাকা জোনাকির সংখ্যা (আট/দশ/ বারো)।

উত্তর-বকুল গাছে থাকা জোনাকির সংখ্যা দশ।


প্রশ্ন: কবিকে সবার কাছে নিয়ে এল–(কবিতা/ছবি/ছড়া)।

উত্তর: কবিকে সবার কাছে নিয়ে এল ছড়া।



★  একটি বাক্যে উত্তর দাও:★


প্রশ্ন: খুশ-খেয়ালে' ‘রং ছড়িয়ে ছবি আঁকার সময় প্রথমেই কী দেখা যায় ?

উত্তর: খুশ-খেয়ালে' ‘রং ছড়িয়ে' ছবি আঁকার সময় প্রথমেই দেখা যায়, তিনটে শালিক ঝগড়া থামিয়ে দিয়েছে।


প্রশ্ন: প্রজাপতির ঝাঁক কী চায় ?

উত্তর: প্রজাপতির ঝাঁক চায়, কবি যেন তাদেরকেও তার আঁকায় স্থান দেয়।


প্রশ্ন: 'রং-তুলিরা' আজ কেমন ?

উত্তর: 'রং-তুলিরা' আজ বেজায় খুশি।


প্রশ্ন: মাঠে কী জমে যায় ?

উত্তর > মাঠে চাঁদের দুধের পুরু সর জমে যায়।

প্রশ্ন:   কবির পরম পুলক ও পদক পাওয়া কী ?

উত্তর- কবির লেখা ছড়া আজ কবিকে পাঠকদের কাছে নিয়ে এসেছে এটিই  কবির পরম পুলক ও পদক পাওয়া।


 প্রশ্ন: দশ জোনাকি কোথায় কী লিখছে ?

উত্তর:  দশ জোনাকি বকুল গাছে ‘অ’-'আ' লিখছে।


প্রশ্ন: আঁকা ও লেখার উপকরণগুলির মধ্যে কোন্ কোন্ জিনিস দু-ক্ষেত্রেই লাগে ?

উত্তর- আঁকা ও লেখা—দুটি ক্ষেত্রেই লাগে এমন কয়েকটি জিনিস হল—কাগজ, পেনসিল, কলম, স্কেল, রবার।


 প্রশ্ন: তুমি যদি গাছের ছবি আঁকতে চাও, তবে কোন্ রংটি তোমার চাই ?

উত্তর- গাছ আঁকার জন্য আমার সবুজ রংটি চাই।

প্রশ্ন:  কোন্ ঋতুতে বাতাস দেহে কাঁপন ধরায় ?

উত্তর- শীত ঋতুতে বাতাস দেহে কাঁপন ধরায়।

প্রশ্ন: জোনাকির দেহে কী থাকার কারণে আলো জ্বলে ?

উত্তর- জোনাকির দেহে ফসফরাস থাকার কারণে আলো জ্বলে ।



প্রশ্ন: 'আঁকা, লেখা' কবিতায় কোন্ কোন্ পাখির নাম আছে ? তাদের মধ্যে যে-কোনো দুটি পাখির সম্পর্কে দুটি করে বাক্য লেখো।

উত্তর:  ‘আঁকা, লেখা’ কবিতায় পাখিগুলির নাম হল—শালিক, চড়ুই ও মাছরাঙা।

শালিক—শালিক আমাদের অতি পরিচিত পাখি । এই পাখির গায়ের রং ধূসর বর্ণের। বাংলাদেশে বিভিন্ন

শ্রেণির শালিক দেখা যায়।

মাছরাঙা—মাছরাঙা পাখি জলের ধারে চুপটি করে বসে থাকে। মাছ ধরার সময় তার রূপ যেন মৌন ঋষির মতো হয়ে যায়।


প্রশ্ন: আলোচ্য কবিতায় কোন্ কোন্ পতঙ্গের নাম আছে ? তাদের সম্বন্ধে দুটি করে বাক্য লেখো।

উত্তর: আলোচ্য কবিতায় দুটি পতঙ্গের নাম আছে ৷

যথা-প্রজাপতি ও জোনাকি।


■  প্রজাপতি - প্রজাপতি আমাদের একটি অতি পরিচিত পতঙ্গ। এরা ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়িয়ে মধু সংগ্ৰহ করে। এরা সাধারণত বিভিন্ন আকৃতির ও বিচিত্ররঙের হয়ে থাকে।

জোনাকি - সাধারণত, গ্রামবাংলায় সন্ধে নামলে জোনাকি দেখা যায়। গাছ কিংবা ঝোপের কাছাকাছি এরা দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায়। এদের দেহে ফসফরাস থাকার সঙ্গ একপ্রকার আলো নির্গত হয়, যা অন্যকারে অপূর্ব দেখতে লাগে।