হাট || ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা || হাতে কলমে অনুশীলন প্রশ্নের উত্তর
হাট
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
অধ্যায়-১০
কবি পরিচিতি
নদিয়া জেলার শান্তিপুরের হরিপুর গ্রামে ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের জন্ম হয়। তাঁর বাবার নাম দ্বারকানাথ সেনগুপ্ত এবং তাঁর মায়ের নাম মোহিতকুমারী দেবী। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে।তিনি শিবপুর কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন। তিনি প্রথমে নদিয়া জেলা বোর্ড এবং পরে কাশিমবাজার রাজ এস্টেটে কাজ করেন। গদ্য ও পদ্য রচনায় সুদক্ষ এই লেখক-কবি বাংলা কাব্যজগতে ‘দুঃখবাদী কবি' হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ' 'নিশান্তিকা’
(১৯৫৭)। এ ছাড়া 'অনুপূর্বা' (১৯৪৬), 'কাব্যপরিমিতি' (১৯৩১)মরীচিকা' (১৯২৩), ‘মরুশিখা' (১৯২৭), ‘মরুমায়া’ (১৯৩০), 'সায়ম' (১৯৪০), 'ত্রিযামা' (১৯৪৮), প্রভৃতি গ্রন্থও তিনি রচনা করেন। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ১৭ সেপ্টেম্বর কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত পরলোক গমন করেন।
সারসংক্ষেপ
‘হাট' কবিতাটিতে কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত একটি হাট বসার আগের অবস্থা, হাট চলাকালীন পরিবেশ এবং ভাঙা-হাটের সুন্দর বর্ণনা
লণ্ঠন দিয়েছেন। দূরে দূরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দশ বারোখানি গ্রামকে কেন্দ্র করে একখানি হাট বসে। সকালে সেখানে ঝাঁট পড়ে না, আবার
সন্ধ্যাতেও প্রদীপ জ্বলে না। সারাদিনের কেনাবেচার পর সবাই ক্লান্ত শরীরে যে যার ঘরে ফিরে যায়। এরপর দূরের গ্রামগুলিতে প্রদীপ জ্বলে উঠলেও হাট অন্ধকারেই ডুবে থাকে। সন্ধ্যায় বকের দল নিজের বাসায় ফিরে যায়। কবি কল্পনায় দেখেন, একটি দলছুট পরিশ্রান্ত
কাকের পাখার আড়ালে যেন রাত্রি নেমে আসে। সেই সময় নদীর বাতাস পাকুড় গাছের শাখায় কাঁপন ধরায়। হাটের যে চালাঘরগুলি সারাদিন কোলাহলমুখর ছিল সেগুলোও যেন চোখ বুজে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এইসব দোচালার জীর্ণ বাঁশের খুঁটির ফাঁকে সন্ধ্যার বাতাস শব্দ তোলে। শুনে মনে হয় রাত্রির নির্জন হার্টকে উদ্দেশ্য করে বিদ্রুপের বাঁশি বাজাচ্ছে। দিনের বেলা চেনা-অচেনা মানুষের ভিড়ে হাটকোলাহল মুখর হয়ে ওঠে। কিন্তু রাতে সেখানেই এক গভীর নিস্তব্ধতা বিরাজ করে। দিনের বেলা এত মানুষের আসা-যাওয়ার ফলে শেষপর্যন্ত হাটে কারোর পায়ের চিহ্নই আর আলাদা করে বোঝা যায়
না। সারাদিন জিনিসপত্র বেচাকেনা, দরাদরির পর বেলাশেষে সকলেই নিজেদের হিসাব বুঝে নেয়। কারোর থলি হয়ে ওঠে পূর্ণ, আবার কেউ-
বা ফিরে যায় খালি হাতে। হাটে অগুনতি মানুষের আনাগোনা ঘটে। ব্যবসায়ী তার মালপত্রের বোঝা নামালেই ক্রেতা ছুটে যায় দরাদরি করতে। ভোরবেলার শিশিরমাখা টাটকা ফলগুলি ক্রেতারা হাত দিয়ে পরীক্ষা করার ফলে যেন তা প্রাণশক্তি হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এইভাবে সারাদিন ফলগুলি নীরব ব্যথা সহ্য করে বিকেলে অবহেলায় সামান্য দামে বিক্রি হয়ে যায়। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে হাট বসে, আবার সময় হলে ভেঙেও যায়। তারপর হাট মুক্ত বাতাসে খোলা
পড়ে থাকে। দিনের শেষে ঘরে ফেরার সময় হলে কেউ লাভের আনন্দে গাঁটে কড়ি বেঁধে বাড়ি ফেরে। আবার কেউ বা লোকসানের ফলে শূন্যহাতে মন খারাপ করে বাড়ি ফেরে। এই নিয়মই চিরকাল ধরে চলে আসছে।
নামকরণ
সাধারণভাবে কবিতা, গল্প, উপন্যাস বা নাটকের মূলভাবনার আভাস পাওয়া যায় নামকরণের মধ্য দিয়ে। কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত তাঁর ‘মরীচিকা’ কাব্যের ‘হাট’ কবিতায় একটি হাটের ছবি তুলে ধরেছেন। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দশ-বারোখানি গ্রামের কেন্দ্রে হাট বসে। সেই হাটের অবস্থান, প্রকৃতি ও সেখানকার ক্রেতা-বিক্রেতার কাজকর্মের বর্ণনা কবি এই কবিতায় তুলে ধরেছেন। দিনের বেলায় অজস্র মানুষের
ভিড়ে জমজমাট হয়ে থাকে হাট। কিন্তু সকালে হাট শুরু হওয়ার আগে ও দিনের শেষে হাট ভাঙার পরে সেই হাটের জায়গাটা একেবারে
চুপচাপ থাকে। সারা দিনের কেনাবেচার শেষে হাট ভাঙলে মানুষ তাদের নিজেদের গ্রামে ফিরে যায় ৷ বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামলে দূরের।গ্রামগুলোয় প্রদীপের আলো জ্বলে ওঠে। আসলে ‘হাট’ কবিতায় কবি নিছক গ্রাম্য হাটের বর্ণনা দেননি। এই।কবিতায় তিনি ‘হাট’-কে জীবনের চিরন্তন সত্যের প্রতীক হিসেবে
তুলে ধরেছেন। কলরবমুখর হাটের মতোই এই পৃথিবীতেও নানারকম মানুষের আনাগোনা চলতে থাকে। হাটে মানুষ আনন্দ, হাসি-মজা অথবা দুঃখের মধ্য দিয়ে কিছুটা সময় কাটিয়ে যায়। একইভাবে এই পৃথিবীর বুকেও মানুষ হাসি-কান্না, ভালো লাগা-খারাপ লাগা, আনন্দ ও দুঃখের মধ্য দিয়ে সময় কাটায়। হাটে কেনাবেচা করে কেউ লাভ করে, আবার কেউ লোকসানও করে। সেখানে কেউ পাওয়ার আনন্দে মেতে ওঠে, আবার কেউ না-পাওয়ার দুঃখ নিয়ে বাড়ি ফেরে। এই খেলা চিরকালই চলতে থাকে। তাই ‘হাট' কবিতাটিতে কবি সাধারণভাবে একটা হাটের বর্ণনা যেমন দিয়েছেন, তেমনই এর মধ্য দিয়ে মানবজীবনের চিরকালীন সত্যটিও তুলে ধরেছেন। সুতরাং, কবিতাটির বিষয়বস্তু ও ভাবনার দিক দিয়ে 'হাট' নামকরণটি যথাযথ ও সার্থক হয়েছে।
'হাতেকলম প্রশ্নের উত্তর
১ নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।
১.১ কোন সাহিত্যিক-গোষ্ঠীর সঙ্গে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল ?
উত্তর: 'কল্লোল' সাহিত্যিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
১.২ তাঁর রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।
উত্তর: যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থ হল 'মরীচিকা' ও “মরুমায়া”।
২.নীচের বাক্যগুলি থেকে এমন শব্দ খুঁজে বের করো যার প্রতিশব্দ কবিতার মধ্যে আছে। কবিতার সেই শব্দটি পাশে লেখো:
২.১ ‘আঁধার-সাঁঝে বনের মাঝে উল্লাসে প্রাণ ঢেলেছে।”
উত্তর: সাঁঝে—সন্ধ্যায়।
২.২ “আলো, আমার আলো, ওগো আলো ভুবন-ভরা।”
উত্তর: আলো—আলোক।
২.৩ “তুমি আমার সকালবেলার সুর।”
উত্তর: : সকালবেলা—প্রভাত।
২.৪ “আমার রাত পোহাল শারদ-প্রাতে।”
উত্তর: রাত—নিশা।
২.৫ “দিনের বেলা বাঁশি তোমার বাজিয়েছিলে।”
উত্তর- দিন—দিবস।
৩. নীচের সমোচ্চারিত বা প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দযুগলের অর্থপার্থক্য দেখাও: [ দীপ, দ্বীপ;দর, দড়; শাখ, শাঁখ; বাধা, বাঁধা; নিত্য, নৃত্য]
উত্তর: দীপ—প্রদীপ
দ্বীপ—জলবেষ্টিত ভূভাগ
দড় - দক্ষ
দর-দাম
শাখ—ডালপালা,শেকর
শাঁখ—শঙ্খ
বাধা-অন্তরায়
বাঁধা—বন্ধন
নিত্য—প্রতিদিন
নৃত্য—নাচ,
৪. নীচের শব্দগুলি গদ্যে ব্যবহার করলে কেমন হবে লেখো:[ সহিয়া, সেখা, সহি, সবে, তবে, মুদিল৻ ।
উত্তর: শব্দ > গদ্যরূপ
সহিয়া > সহ্য করে
সবে > সবাই, সকলে
সেথা > সেখানে
তবে > তাহলে
সহি। > সহ্য করি
মুদিল > বন্ধ করল, বুজল।
৫. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর লেখো।
৫.১ কতগুলি গ্রামের পরে সাধারণত একটি হাট চোখে পড়ে ?
উত্তর৷ দূরে দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দশ-বারোখানি গ্রামের মাঝে একটি করে হাট চোখে পড়ে।
৫.২ হাটে সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বলে না কেন?
উত্তর: হাটে কেউ বসবাস করে না তাই সেখানে সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বলে না।
৫.৩ কার ডাকে রাত্রি নেমে আসে?
উত্তর: একটি ক্লান্ত, দলছুট কাকের ডাকে রাত্রি নেমে আসে।
৫.৪ ওপারের লোক কেন এপারেতে আসে?
উত্তর: ওপারের লোক পসরা নিয়ে এপারে আসে তাদের জিনিসপত্র বিক্রি করার জন্য ।
৫.৫ “হিসাব নাহি রে—এল আর গেল/কত ক্রেতা বিক্রেতা।” - কোনো হিসাব নেই কেন?
উত্তর: প্রতিদিনকার হাটে প্রচুর চেনা-অচেনা মানুষের আনাগোনা
চলতে থাকায় এত মানুষের হিসাব রাখা সম্ভব হয় না।
৬. কবিতায় বর্ণিত হাটের চেহারাটি কেমন লেখো।
উত্তর: কবিতায় বর্ণিত হার্টের চেহারাটি হল—
হাট বসার আগে : সকালবেলা হাট বসার আগে হাটের জায়গা জনশূন্য ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে। কারণ সেখানে ঝাঁট পড়ে না।
হাট চলাকালীন: হাট সকলের জন্যই খোলা, সেখানে কারোরই যেতে বাধা নেই। তাই হাটে চেনা-অচেনা প্রচুর মানুষের আনাগোনা চলতে থাকে। ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে চলতে থাকে জিনিসপত্র কেনাবেচা ও দরাদরি। নদীর ওপার থেকে বিক্রেতারা এপাশে মালপত্র নিয়ে আসে। তখন ক্রেতারা তাদের দিকে ছুটে যায় ওই
মালপত্র কিনতে হাট চলার সময় বহু মানুষের ভিড়ে হাটের পরিবেশ কোলাহলমুখর থাকে।
হাট ভাঙার পর : হাট ভাঙার পর সবাই সারাদিনের হিসাব মেলায়। কেউ লাভের আনন্দে গাঁটে কড়ি বাঁধে, আবার কেউ-বা লোকসান করে
মনের দুঃখে বাড়ি ফিরে যায়। সন্ধ্যা এলে হাটের বুকে এক গভীর নিস্তব্ধতা নেমে আসে। তখন জনহীন হাট অন্ধকারে ডুবে যায় ৷
৭. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো ।
৭.১ হাটের স্থান ছাড়িয়ে দূরের গ্রামের ছবি কীভাবে কবিতায় ফুটে উঠেছে?
উত্তর: শুরুর কথা: দূরে দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দশ-বারোখানি গ্রামকে নিয়ে একখানি হাট বসে।
পসরার সম্ভার: হাটে যখন কেনাবেচা চলে তখন ওপারের গ্রামের মানুষ নদী পার হয়ে এপারের
হাটে পসরা নিয়ে উপস্থিত হয়। হাট ভাঙার পর সবাই নিজের নিজের গ্রামে ফিরে যায়।
পড়ন্ত বিকেল; পড়ন্ত বিকেলে দুরের আকাশ দিয়ে যখন বকের দল উড়ে যায় তখন সূর্যের শেষ আলো যেন বকের পাখার আড়ালে মুখ লুকায়। গ্রাম্য সন্ধ্যা। এরপর গ্রামে সন্ধ্যা নামে। সন্ধ্যাবেলায় গ্রামের বধুরা ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বালায়। সেই আলোতে দূরের গ্রামগুলি যেন সেজে ওঠে।
নিস্তব্ধ রাত্রি: অন্যদিকে সারাদিনের কর্মচঞ্চল, কোলাহলমুখর হাট তখন গভীর নিস্তব্ধতা আর অন্ধকারে ডুবে যায়।
শেষের কথা: এইভাবে আলোকিত গ্রামের উল্লেখ করে কবি নির্জন হাটের একাকিত্বের বেদনাকে জীবন্ত করে তুলেছেন।
৭.২ প্রকৃতির ছবি কীরূপ অসীম মমতায় কবিতায় আঁকা হয়েছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: কথামুখ: দশ বারোখানি গ্রামকে কেন্দ্র করে একখানি হাট বসে। সারাদিনের কেনাবেচার পর হাটশেষে সবাই বাড়ি ফিরে যায় ।
পড়ন্ত বিকেল: বিকেল শেষ হতেই সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ে। পুবের মাঠ ছাড়িয়ে বকের দল যখন বাসায় ফেরে তখন সেই দৃশ্য দেখে মনে হয় সূর্যের শেষ আলো যেন বকেদের পাখার আড়ালে মুখ লুকোচ্ছে।
নিঃশব্দ রাত্রি: সন্ধ্যার পর হাটে রাত্রি নেমে আসে। কবির মনে হয় দলছুট পরিশ্রান্ত একটি কাকের পাখার আড়ালে যেন নিঃশব্দে রাত নেমে আসে। রাত্রিবেলা নদীর বাতাস পাকুড়গাছের শাখাতে কাঁপন ধরায়। দিনের বেলায় হাটের দোচালাগুলি লোকের ভিড়ে ব্যস্ত থাকলেও রাতে সেখানে নেমে আসে এক গভীর নিস্তব্ধতা।
করুণ সুরের ছোঁয়া: রাত নেমে এলে সারাদিনের ব্যস্ত হাট অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। সে সময় জীর্ণ বাঁশের ফাঁক দিয়ে বয়ে যাওয়া বাতাস বাঁশির মতো একটা করুণ সুর ছড়িয়ে দেয় চারপাশে। সেই আওয়াজ শুনে মনে হয় নিঃসঙ্গ হাটকে বিদ্রুপ করার জন্যই বুঝি এই সুরের সৃষ্টি হয়েছে! শেষের কথা: কবিতার শেষে কবি বলেছেন যে, খোলা আকাশের নীচে হাট যেন এক মুক্ত প্রাঙ্গণ। হাটে আসা-যাওয়ার কোনো বাধা নেই। তাই অগণিত মানুষের সমাবেশে হাট কোলাহলমুখর হয়ে ওঠে। প্রকৃতির কোলে আসা-যাওয়ার এই
চিরন্তন খেলা অনবরত চলতেই থাকে।
৭.৩ “বাজে বায়ু আসি' বিদ্রুপ বাঁশি” – কবির এমন মনে হওয়ার কারণ কী বলে তোমার মনে হয় ?
উত্তর: ‘হাট' কবিতাটিতে আমরা দেখি দিনের বেলা ও রাতে হাটের ছবি সম্পূর্ণ বিপরীত। দিনের কোলাহলমুখর হাট রাত নামলেই একাকী অন্ধকারে ডুবে যায়। বিকেলবেলায় হাঁটশেষে সবাই যে যার বাড়ি ফিরে যায়। বিকেলের শেষ সূর্যের আলো যখন বকের পাখার আড়ালে লুকিয়ে পড়ে, তখন দূরের গ্রামগুলিতে সন্ধ্যার দীপ জ্বলে ওঠে। আর হাট ডুবে যায় গভীর অন্ধকারে। দিনের বেলা হাটের দোচালাগুলি মানুষের ভিড়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু রাতে সেখানে নেমে আসে এক গভীর নীরবতা। তাই কবির মনে হয়েছে, সারাদিনের প্রয়োজনীয় হাট সন্ধ্যার পর একা হয়ে পড়ে। এই সময় জীর্ণ বাঁশের ফাঁক দিয়ে বয়ে চলা বাতাস যেন বাঁশির মতোই করুণ সুর সৃষ্টি করে। কবির মনে হয়, হাটের নিঃসঙ্গতাকে বিদ্রুপ করার জন্যই বুঝি এই সুরের সৃষ্টি হয়েছে।
৭.৪ "উদার আকাশে মুক্ত বাতাসে/চিরকাল একই খেলা।”-কোন্ প্রসঙ্গে কবি আলোচ্য পঙ্ক্তিটি লিখেছেন? তিনি এখানে কোন 'খেলা'র কথা বলেছেন? 'চিরকাল' বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন ?
উত্তর৷ প্রসঙ্গ: 'হাট' কবিতাটিতে কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত বলেছেন যে, হাট বসা ও হাট ভাঙা এ যেন নিয়মের গন্ডিতে বাঁধা। হাটে প্রতিদিন নিত্যনতুন যাত্রীর আগমন হয়। আবার হাটশেষে তারা নিজেদের হিসেবনিকাশ বুঝে নিয়ে যে যার বাড়িতে ফিরে যায়। কেউ কারও খোঁজ রাখে না। নিত্যনতুন ক্রেতা-বিক্রেতার আসা-যাওয়ার হাট যেন হয়ে ওঠে এক মিলনক্ষেত্র। হার্ট সবসময় সবার জন্যই খোলা থাকে। বেলাশেষে কিছু লোক সারাদিনের লাভে খুশি হয়ে গাঁটে কড়ি বেঁধে বাড়ি ফেরে। আবার কেউ কেউ লোকসানের ফলে শূন্যহাত মনের দুঃখে ঘরে ফেরে। খোলা আকাশের নীচে হাটে লাভ- লোকসানের এই খেলা চলতে থাকে চিরকাল। এই প্রসঙ্গেই কবি আলোচ্য পঙ্ক্তিটি লিখেছেন।
খেলার পরিচয়: কবি এই কবিতায় হাটের ক্রেতা-বিক্রেতার লাভ-লোকসানের হিসাবকে ‘খেলা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু
এর মধ্য দিয়ে কবি একটি গভীর ভাবের কথাও ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। তাঁর মতে হাট যেন জীবনের নাট্যমঞ্চ। সেখানে মানুষের
সফলতা-ব্যর্থতা পাশাপাশি চলতে থাকে। সেই রকমই জীবনমৃত্যুও মানুষের জীবনের একটি চিরন্তন সত্য। মানুষ জন্মায়, মারা যায়—
আবার নতুন প্রাণের সৃষ্টি হয়। পৃথিবীতে মানুষের এই নিত্য ‘যাওয়া- আসা’র বিষয়টিকেই কবি ‘খেলা’ শব্দের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন।
‘চিরকাল'-এর তাৎপর্য : জীবন আর মৃত্যু চিরন্তন সত্য। একে এড়িয়ে যাওয়া কোনোমতেই সম্ভব নয়। হাটের মতোই পৃথিবীর
বুকেও মানুষের নিত্য আসা-যাওয়া। এই আসা-যাওয়ার স্রোতটি একইসঙ্গে চিরপুরাতন ও চিরনতুন বলে কবি এখানে ‘চিরকাল’ শব্দটির উল্লেখ করেছেন।
৭.৫ তোমার দেখা কোনো হাটের/বাজারের অভিজ্ঞতা জানিয়ে দূরে থাকে এমন কোনো বন্ধুর কাছে একটি চিঠি লেখো।
উত্তর:
প্রিয় কাজল
কুসুম পুর
26-08 -2025
বেশ কিছুদিন হল তোর কোনো চিঠি পাইনি। তুই আগের চিঠিতে কলকাতার নতুন একটি শপিংমলে তোদের বেড়ানো আর কেনাকাটার গল্প জানিয়েছিস। তোর চিঠি পড়ে বুঝতে পারলাম জায়গাটি সত্যিই খুব ঝকঝকে ও সুন্দর। আমি কখনও শপিংমলে যাইনি। তবে আমি আমাদের গ্রামে আর তার আশপাশের প্রচুর হাটবাজারে ঘুরেছি। আসলে হাটে ঘুরতে আমার খুব ভালো লাগে। সেটি তো শুধু বাজার করার জায়গা নয়, বিভিন্ন মানুষের মিলনক্ষেত্র।
আমি যে-সমস্ত হাট দেখেছি তার মধ্যে আমাদের গ্রাম দোগাছির হাট আমার খুব ভালো লাগে। হাটটি ছোটো হলেও এর একটা বিশেষত্ব
আছে। সোমবার আর বৃহস্পতিবার—সপ্তাহের এই দু-দিন হাট বসে।শাকসবজি, মাছমাংস, জুতো, জামা কাপড়, চাল-ডাল-মশলা, মুখরোচক খাবার সব কিছুই পাওয়া যায় এই হাটে। আমাদের গ্রামের এই হাটে জিনিসপত্রের দামও বেশ কম। গ্রামের অনেক গরিব মানুষ রয়েছে। তারা দোকান থেকে বেশি দামে জিনিস কিনতে পারে না।
হাটের এই দুটি দিনের অপেক্ষাতেই থাকে তারা। আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে, হাটে মাঝেমধ্যে জাদুখেলা, বাঁদর নাচ এইসব দেখার
সুযোগ পাওয়া যায়। হাটের দিনগুলোতে কেনাকাটার জন্য আমিও হাতখরচের পয়সা জমিয়ে রাখি। আমাদের এলাকায় একমাত্র এই হাটেই গুড়ের গজা পাওয়া যায়। আমি আর আমার বন্ধুরা মাঝেমধ্যেই তা কিনে খাই। আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধে হলেই লোকজন
ফিরে যায়। ব্যবসায়ীরা মালপত্র গোটাতে থাকে। তারপর অন্ধকার নামলেই হাট আবার ফাঁকা। তখন কেউ কেউ পড়ে থাকা সবজি কুড়োতে থাকে আর কুকুরেরা খাবারের আশায় এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ায়। মনে হয়, ফাঁকা হাট যেন বিষণ্ণ মুখে আবার পরের হাটের দিনের কোলাহলের জন্য অপেক্ষা শুরু করছে। আমাদের এই হাটের কথা শুনে তোর কেমন লাগল জানাস । পরীক্ষার পরে আমাদের গ্রামে বেড়াতে আসিস। তখন তোকে আমি আমাদের এই হাট দেখাতে নিয়ে যাব। ভালো থাকিস। পরীক্ষা ভালো হোক ।
তোর বন্ধু
দিপক বসু
কাজল বসু
প্রযত্নে—মনোয়ার বসু
জামনগর
হুগলি
৭.৬ তোমার দেখা একটি হাট বা বাজারের ছবি তুমি এঁকে দেখাও।
উত্তর:
নিজ করো
৭.৭ এখন ‘হাট' ও 'বাজার'-এর মধ্যে কোনো তফাত খুঁজে পাও? এ বিষয়ে তোমার মতামত জানিয়ে পাঁচটি বাক্য লেখো।
উত্তর: গ্রামে ‘হাট’ সাধারণত সপ্তাহে দুদিন বা তিন দিন বসে আর ‘বাজার’ শহরে প্রতিদিনই বসে। হাটে বহু দূর থেকে লোক আসে জিনিসপত্র কেনাবেচা করার জন্য। কিন্তু আজকাল অনেক গ্রামেই আর আগের মতো হাট বসে না। এখন যে হাট বসে তার চেহারা অনেকটা শহরের বাজারের মতোই, তাই এখন হাট ও বাজারের মধ্যে খুব-একটা পার্থক্য লক্ষ করা যায় না। তবে এখনও এমন অনেক জায়গা আছে
যেখানে অনেকগুলি গ্রামকে কেন্দ্র করে সপ্তাহে একদিন বা দু-দিনহাট বসে ৷
অনান্য সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: 'হাট' কবিতা অবলম্বনে গ্রাম্য হাটের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।
অথবা, 'হাট' কবিতায় হার্টের যে রূপ বর্ণিত হয়েছে তা সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর : দূরে দূরে অবস্থিত দশ-বারোখানি গ্রামের মাঝখানে একখানি হাট বসে। সারাদিন হাট কোলাহলমুখর হয়ে থাকে। বহু গ্রামের
ক্রেতা-বিক্রেতা এখানে আসে। ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সারাদিন বেচাকেনা চলে, পরিচয় গড়ে ওঠে। সন্ধে ঘনিয়ে এলে ভিড় হালকা হতে থাকে। কেউ লাভ করে হাসিমুখে, আবার কেউ লোকসান করে বিষয় মনে গ্রামে ফিরে যায়। এরপর সন্ধ্যা নামতেই নির্জন হাট অন্ধকারে ঢাকা পড়ে থাকে। সারাদিনের হিসাব মেলায়। কেউ লাভের আনন্দে গাঁটে কড়ি বাঁধে, আবার কেউ লোকসান করে মনের দুঃখে বাড়ি ফেরে। এরপর সন্ধ্যা এলে দূরের গ্রামে যখন আলো জ্বলে ওঠে তখন অন্ধকারে ডুবে যায় জনহীন হাট।
প্রশ্ন: “ হাট ও বাজারের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
ঝাড়গ্রাম কুমুদ কুমারী ইন্সটিটিউশন]
উত্তর হাট ও বাজারের মধ্যে দুটি পার্থক্য হল—(ক) হাট সপ্তাহে।একদিন বা দুদিন বসে। বাজার সপ্তাহের প্রতিদিন বসে। (খ) হাটে খোলা জায়গায় অস্থায়ী দোকান বসে। বাজার প্রতিদিন বসে বলে দোকানগুলি স্থায়ী ও পাকা হয়।
প্রশ্ন: হাটে কত ক্রেতা বিক্রেতা এল তার হিসাব নেই কেন ?
উত্তর। দশ বারোখানি গ্রামের মাঝে একটা হাট বসে। গ্রামের অসংখ্য মানুষ সেখানে এসে ভিড় জমায়। হাট চলাকালীন অবস্থায় বেচাকেনার
জন্য অগণিত মানুষ সেখানে যাওয়া আসা করতেই থাকে। তাই হাটের ক্রেতা বিক্রেতার সংখ্যার হিসাব রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
প্রশ্ন: "কেহ কাঁদে, কেহ গাঁটে কড়ি বাঁধে .,,, চিরকাল একই।খেলা।।”—উদ্ধৃতাংশের মধ্য দিয়ে জীবনের কোন সত্য ধ্বনিত হয়েছে?
উত্তর। হাটে জিনিসপত্র কেনাবেচার জন্য বহুলোকের সমাগম ঘটে। কেনাবেচা শেষ হলে কেউ লোকসান করে, আবার কেউ লাভের কড়ি
গাঁটে গুঁজে ঘরে ফেরে। হাটের ভাঙা-গড়ার মধ্যে দিয়ে কবি আসলে মানবজীবনের কথাই বলতে চেয়েছেন। এইভাবে মানুষও সকল অথবা বিফল জীবন কাটিয়ে একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। হাটের মতোই পৃথিবীতেও চিরকাল এমনটাই চলে আসছে।
প্রশ্ন: "উদার আকাশে মুক্ত বাতাসে চিরকাল একই খেলা”- কোন্ কবির লেখা কোন্ কবিতার অংশ। উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'হাট' কবিতা থেকে আলোচ্য উদ্ধৃতিটি গৃহীত হয়েছে।
ব্যাখ্যা: 'হাতেকলমে'র ৭.৪ নং প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশের উত্তর দ্যাখো।
প্রশ্ন: হাট ও বাজারের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর হাট ও বাজারের মধ্যে দুটি পার্থক্য হল—(ক) হাট সপ্তাহে একদিন বা দুদিন বসে। / বাজার সপ্তাহের প্রতিদিন বসে। (খ) হাটে খোলা জায়গায় অস্থায়ী দোকান বসে। / বাজার প্রতিদিন বসে বলে দোকানগুলি স্থায়ী ও পাকা হয়।
প্রশ্ন: হাটে কত ক্রেতা বিক্রেতা এল তার হিসাব নেই কেন?
উত্তর। দশ বারোখানি গ্রামের মাঝে একটা হাট বসে। হাটের চারিদিক খোলা অবস্থায় থাকে। গ্রামের অসংখ্য মানুষ সেখানে এসে ভিড় জমায় । হাট চলাকালীন অবস্থায় বেচাকেনার জন্য অগণিত মানুষ সেখানে যাওয়া আসা করতেই থাকে। তাই হাটের ক্রেতা বিক্রেতার সংখ্যার হিসাব রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
প্রশ্ন: "কেহ কাঁদে, কেহ গাঁটে কড়ি বাঁধে খেলা।।”—উদ্ধৃতাংশের মধ্য দিয়ে জীবনের কোন সত্য ধ্বনিত হয়েছে?
উত্তর। হাটে জিনিসপত্র কেনাবেচার জন্য বহুলোকের সমাগম ঘটে। কেনাবেচা শেষ হলে কেউ লোকসান করে, আবার কেউ লাভের কড়ি
গাঁটে গুঁজে ঘরে ফেরে। হাটের ভাঙা গড়ার মধ্যে দিয়ে কবি আসলে মানবজীবনের কথাই বলতে চেয়েছেন। এইভাবে মানুষও সফল অথবা বিফল জীবন কাটিয়ে একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। হাটের মতোই পৃথিবীতেও চিরকাল এমনটাই চলে আসছে।
প্রশ্ন- কত না ছিন্ন চরণচিহ্ন/ছড়ানো সে ঠাঁই ঘিরে।”—এই
লাইনগুলির মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন ?
উত্তর। দশ বারোখানি গ্রামকে কেন্দ্র করে অবস্থিত হাটে সারাদিন প্রচুর লোকজন আসে। সেখানে তারা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাবেচা ও দরদাম করে। ফলে হাট কলরবমুখর হয়ে থাকে। কিন্তু অন্ধকার নামতেই হাট জনশূন্য হয়ে পড়ে। তখন সেখানে কেবল পড়ে থাকে হাটে জড়ো হওয়া মানুষের পায়ের ছাপ।
প্রশ্ন: “হাটের দোচালা মুদিল নয়ান”- কথাটির অর্থ কী ? কোন্ সময়ে হাটের দোচালা নয়ন মুদ্রিত করে ?
উত্তর- প্রশ্নে উদ্ধৃত কথাটির অর্থ হল হাটের দোচালা চোখ বুজিয়ে ফেলল অর্থাৎ ঘুমিয়ে পড়ল। সন্ধের মুখে হাট ভেঙে যায়, তখন হাটের অস্থায়ী চালাগুলির ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায়, রাত্রে সেই হাটের দোচালাগুলোকে দেখে মনে হয় তারা যেন চোখ বন্ধ করে আছে।
> সারাদিন কেনাবেচার পর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত্রি নামে। এখানে সেই সময়কার কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: “হানাহানি করে কেউ নিল ভারে/কেউ গেল খালি ফিরে।”—এই কথার অর্থ কী ?
উত্তর। হাটে মালপত্র কেনাবেচার সময় ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্য নানারকম দরকষাকষি চলে। সেই সঙ্গে চলে মালের গুণাগুণ পরখ করা। এতে মালপত্রের ভালোমন্দ নিয়ে নানারকম তর্কবিতর্ক চলে। কানাকড়ি অর্থাৎ অত্যন্ত সামান্য পয়সা নিয়েও চলে প্রচুর টানাপোড়েন। এরই মধ্য
দিয়ে কেউ কেউ লাভের মুখ দেখে। তারা লাভের অর্থ নিয়ে খুশিমনে বাড়ি ফেরে। আর যারা লোকসানের মুখে পড়ে, তারা বিষণ্ণ মনে হতাশ
হয়ে বাড়ি ফিরে যায় ।
প্রশ্ন: সহিয়া নীরব ব্যথা।”—উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর। প্রভাতের ফলগুলি সকাল থেকে ক্রেতা-বিক্রেতার শত হাতের পরখের অত্যাচার নীরবে সহ্য করে। বিকেলবেলায় অবহেলার সঙ্গে
সেগুলি কম দামে বিক্রি হয়ে যায়। যথাযথ দাম না পাওয়ার দুঃখকেই এখানে ‘নীরব ব্যথা' বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: “এল আর গেল/কত ক্রেতা বিক্রেতা।”—কথাগুলির আসল অর্থ কী ?
উত্তর প্রশ্নে উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তর ‘হাট’ কবিতা থেক নেওয়া হয়েছে। হাটে প্রতিদিন অগুনতি মানুষের আনাগোনা চলে।
সেখানে কত যে মানুষ আসে, কেউই তার হিসাব রাখে না। একইভাবে অসংখ্য মানুষ পৃথিবীতেও আসে। সেখানে কিছুকাল কাটিয়ে আবার
বিদায় নেয়। এই কবিতায় কবি ‘হাটে’ কেনাবেচার জন্য আসা ও যাওয়ার মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে মানুষের আসা ও যাওয়া অর্থাৎ জন্ম আর মৃত্যুকেই তুলে ধরতে চেয়েছেন।
প্রশ্ন: 'নিত্য নাটের খেলা' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর। সপ্তাহের কোনো নির্দিষ্ট দিনে গ্রাম থেকে একটু দূরে নির্দি, জায়গায় হাট বসে। সেখানে পণ্যদ্রব্য পরখ করে কেনাবেচা চলে। বাস্তবের হাটের ভাঙা-গড়ার মাধ্যমে কবি মূলত মানুষের জন্মমৃত্যুর কথা বলতে চেয়েছেন। হাটের লোকেদের মতো এই পৃথিবীর মানুষরাও কেউ
জীবনে সফল হয়, কেউ-বা বিফলতার মধ্যেই জীবন শেষ করে।
প্রশ্ন: 'হাট' কবিতাটিতে গ্রাম্যহাটের সকালবেলা ও রাত্রিবেলার যে চিত্র কবি কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন, তা কবিতা অনুসারে আলোচনা করো।
উত্তর। সকালবেলায় হাট বসার আগে নির্দিষ্ট জায়গাটি জনশূন্য ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকে, কারণ সেখানে ঝাঁট পড়ে না। একটু পরে সেখানে হাট বসে। হাট সকলের জন্যই খোলা, সেখানে কারোরই আসতে বাধা নেই। তাই সেখানে চেনা-অচেনা অনেক মানুষের আনাগোনা চলতে থাকে। ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে চলতে থাকে কেনাবেচা ও দরাদরি। হাট তখন কোলাহলমুখর থাকে। বিকেলবেলায় হাট ভাঙার সময় সবাই
সারাদিনের হিসাব মেলায়। কেউ লাভের আনন্দে গাঁটে কড়ি বাঁধে, আবার কেউ লোকসান করে মনের দুঃখে বাড়ি ফেরে। এরপর সন্ধ্যা এলে দূরের গ্রামে যখন আলো জ্বলে ওঠে তখন অন্ধকারে ডুবে যায় জনহীন হাট।
