মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র এবং মনস্কামনা সিদ্ধি, রোগ নিরাম - school book solver

Saturday, 3 January 2026

মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র এবং মনস্কামনা সিদ্ধি, রোগ নিরাম

 

শ্রী মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র
ধ্যান—“ওঁ চন্দ্রোদ্ভাসিতমুর্দ্ধর্জং সুরপতিং পিযুষপাত্রং বহুং।
হস্তাজেন সুধাংশুকোটি বিমলং হাস্যাস্য পকোরুহম্।।
সুরেন্দ্রায়াগ্নি বিলোচনং করতলৈঃ পাশাক্ষসূতাং।
কশান্তোজাম্ বিভতমক্ষয় পশুপতিং মৃত্যুঞ্জয় ভাবয়ে।
বিধি— স্নানান্তে শুদ্ধাসনে ও শুদ্ধবস্ত্রে বসে উপরোক্ত ধ্যান করে মৃত্যুঞ্জয় শিবের
উত্তরমুখে বসে যথাশক্তি উপচারে পূজা করবে। পূজা শেষে শিব গায়ত্রী জপ করবে।

শিব গায়ত্রী— “ওঁ তৎপুরুষয় বিদ্মহে মহাদেবায় ধীমহি তন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ।

অসাধ্য রোগ নিবারক লঘু মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্ৰ
মন্ত্ৰ—“ওঁ জুং সঃ হংসঃ মাং পালয় পালয় সোঽ হং সঃ জুং ওঁ।"
প্রয়োগ— উপরোক্ত বিধিতে ধ্যানাদি দ্বারা উত্তরমুখে বসে যথাসাধ্য উপচারে মৃত্যুঞ্জয়ের পূজা করে জপ করাই বিধি।
যার নামে সঙ্কল্প করে পূজাদি করে রুদ্রাক্ষ মালায় শিব গায়তী ১০৮ বার জপ করে, পরে উক্ত মন্ত্র ১০০৮ জপ করবে, তার অসাধ্য রোগও আরোগ্য হয়।
বিঃ দ্রঃ- মন্ত্র মধ্যে 'মাং' শব্দের স্থলে রোগীর নাম বলতে হবে।
(পরের পৃষ্ঠা দেখুন)



মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্ৰ
মন্ত্ৰ – “ওঁ হৌং জুং সব জাম্ব যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্ ।
উবারুকমিৰ বন্ধনাস্মৃত্যোমূতীয় মাতাৎ যঃ ডুবঃ ভূ ওঁ সঃ জুং হৌং ওঁ।”
মন্ত্র সিদ্ধি- শুদ্ধস্থানে রক্তবর্ণের বজ্রের ওপর শিবের চিত্র অথবা শিবলিঙ্গের সামনে উত্তরাস্যে বসে পঞ্চোপচারে শিবের পূজা করে নিতে হবে। পূজার পূর্বে যথোক্ত নিয়মে সঙ্কল্প করতে হবে রোগীর নামে। তারপর উক্তমন্ত্র ৪৫ দিনে ১,২৫,০০০ (একলক্ষ পাঁচিশ হাজার) জন করবে। ফলে মন্ত্রসিদ্ধি হবে এবং যার নামে সঙ্কল্প
করা হবে, সে আরোগ্য লাভ করবে।

    মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্ৰ
মন্ত্র—“ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিরর্দ্ধনং ।
উবারুকমিব বন্ধনাস্মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ৷৷
— যজুর্বেদ সংহিতা।
মন্ত্র সিদ্ধি — উপরোক্ত মন্ত্রটি আশ্চর্য ফসপ্রদ। যার নামে সঙ্কল্প করে, শিবের পূজা ও শিব গায়ত্রী যথাশক্তি জপ করে, উক্ত মন্ত্র প্রত্যহ উত্তরমুখে বসে রুদ্রাক্ষ মালায় ১০০৮ বার করে জপ করবে, সেই রোগী শীঘ্র রোগমুক্ত হয়।
নিজের রোগ-ব্যাধি বা অনিষ্টাশঙ্কা দেখা দিলে নিজের নামে সঙ্কল্প করে পূজাদি সমাপন পূর্বক রুদ্রাক্ষ মালায় প্রত্যহ ১০০৮ বার জপ করলে কোনও ব্যাধি ও অনিষ্টাশঙ্কা থাকে না।

মনোস্কামনা পূরক বটুক ভৈরব মন্ত্র
ধ্যান- -“ওঁ কপাল হস্তং ভুজগোপবীতং কৃষ্ণচ্ছবিং,
দণ্ডধর ত্রিনেত্রং অচিন্ত্যমাদ্যং মধুপানাসক্তং ।
হৃদি স্মরেৎ ভৈরবমিষ্টদম্ ত্বম্।।”
উপরোক্ত মন্ত্রে ধ্যানাদির দ্বারা উত্তরমুখে বসে যথাসাধ্য বটুক ভৈরবের পূজা করবে।
মন্ত্র— “ অং ক্লীং বীং রং ধ্রুবং প্রীং হ্রীং বটুক ভৈরবায় স্বাহা।
মন্ত্রসিদ্ধি— পূজাদির পর উত্তরমুখে রুদ্রক্ষ মালায় উপরোক্ত মন্ত্র ৬,০০,০০০
(ছয় লক্ষ) জপে মন্ত্র সিদ্ধ হয় এবং সাধকের মনোস্কামনা পূর্ণ হয়, অথবা যার নামে
সঙ্কল্প করে জপ করবে তার মনোস্কামনা পূর্ণ হবে।


পরের পৃষ্ঠা দেখুন





অভীষ্ট সিদ্ধিপ্রদ মহাকাল ভৈরব মন্ত্র
ধ্যান—“ মহাকালঃ যজ্ঞেদেব্যা দক্ষিণে বুক।
বিদ্রতং দণ্ডপটাঙ্গা সংদ্রা ভীমুখ শিশু ||
ব্যাঘ্রচর্মাবৃতকটিং ভূন্দিলং রক্তবাসস।
ত্রিনেত্রমূৰ্দ্ধকেশঞ্চ মুণ্ডমালা বিভূষিতা ।।
জটাভারলসচ্চন্দ্রখণ্ড মুখং জ্বলগ্নিভম্।।”
শুদ্ধাসনে উত্তরমুখে বসে উপরোক্ত ধ্যানান্তে সাধ্যমত উপচারে মহাকালের পূজা
করে নিম্নমন্ত্র জপ করতে হবে।
মন্ত্র—“ওঁ হং যং নং গং ফং সং বং মহাকাল ভৈরবায় নমঃ।"
মন্ত্রসিদ্ধি— রুদ্রাক্ষ মালায় উত্তরমুখে বসে উক্তমন্ত্র ১২,০০০ (বারো হাজার) জপে সিদ্ধ হয়, সর্বপ্রকার অভীষ্ট সিদ্ধ হয়।

বিবাহ সিন্ধিপ্রদ ভুবনেশ্বরী মন্ত্র
ধ্যান—“ওঁ উদ্যাদ্দিনেশং দ্যুতিমিন্দু কিরীটং,
তুঙ্গকুচাং নয়নত্রয়যুক্তাং।
স্মরেন্মুখীং বরদাংকুশপাশাম্ভোজকরাম্।
প্রণমেৎ ভুবনেশ্বরীম্।।
শুদ্ধাসনে উত্তরমুখে বসে ধ্যানান্তে যথাশক্তি উপচারে ভুবনেশ্বরীর পূজা ও প্রণাম
করে মন্ত্র জপ করতে হবে।
মন্ত্র—“ওঁ হ্রীং ভুবনেশ্বরী অমুকীং অমুকং শীঘ্র বিবাহ কুরু কুরু স্বাহা।”
বিঃদ্রঃ- মন্ত্র মধ্যে অমুকীং স্থলে কন্যার নাম, অমুকং স্থলে পাত্রের নাম উচ্চারণ করতে হবে।
এইভাবে উক্তমন্ত্র প্রত্যহ ১০০৮ (এক হাজার আট বার করে জপ করলে পুত্র বা কন্যার তাড়াতাড়ি বিয়ে হয়ে যায়।

বিবাহ সিদ্ধিপ্রদ গন্ধর্বরাজ মন্ত্র
ধ্যান—“ওঁ কন্যাবৃক্ষ সমাসীন উদ্যদাদিত্য সন্নিতম্।
অঙ্কস্থ কন্যা গন্ধর্বং বিশ্বাবসু প্রভুম্ স্মরেৎ।।
(পরের পৃষ্ঠা দেখুন)






উপরোক্ত ধ্যানমন্ত্র পাঠ করে, গন্ধর্ব রাজকে প্রণাম করে মন্ত্র জপ করবে।
মন্ত্র– “ও ক্লীং বিশ্বাবসু নাম গন্ধর্বঃ বিবাহদাতা গন্ধর্বরাজ কন্যানামাধিপতিঃ
লডামি দেবদত্তাং কন্যাং সুরূপাং মানদ্বারাং জন্ম বিশ্বাবসবে স্বাহা।"
মন্ত্র সিদ্ধি- শুদ্ধাসনে শুক্রবন্ধে উত্তরমুখে বসে উক্ত মন্ত্র ১০,০০০ (দশ হাজার) জপ করবে। জপ শেষে ঘৃত ও গুগুল মিশিয়ে বিষপত্র দ্বারা জপের দশাংশ অর্থাৎ ১,০০০ (এক হাজার) হোম করবে। হোম শেষে হোমের দশাংশ অর্থাৎ ১০০ (এক
শত) তর্পণ। তর্পণের দশাংশ অর্থাৎ ১০ বার মার্জন অর্থাৎ অভিসিঞ্চন করবে। শেষে
তিনটি ব্রাহ্মণ ভোজন করাবে। এই প্রক্রিয়ায় মন্ত্র সিদ্ধ হবে। তার ফলে কন্যার মনোমত পাত্রের সঙ্গে বিবাহ হয়।

বাঞ্ছিত নারী লাভার্থ সিদ্ধ গন্ধর্বরাজ মন্ত্র
মন্ত্র- " স্য শ্রীগন্ধর্বরাজ মন্ত্রস্য কামদেব ঋষিঃ বিরাটচ্ছন্দঃ কন্যাপ্রদঃ
শ্রীগন্ধর্বরাজ দেবতা ক্লীং বীজং স্বাহা শক্তিঃ অমুকস্য অভিলষিত কন্যা প্রাপ্তর্থে জপে বিনিয়োগঃ।
উপরোক্ত ষ্যাদিন্যাস করে করাঙ্গন্যাস করবে।
অঙ্গন্যাস- ও ক্লীং বিশ্বাবসু নাম গন্ধর্ব হৃদয়ায় নমঃ৷
ওঁ ক্রীং কন্যানামধিপতিঃ শিরসে স্বাহা।
ওঁ ক্লীং লভামি দেবদত্তাং শিখায়ৈ বষট্।
ওঁ ক্লীং কন্যা সুরূপা কবচায় হুং।
ও ক্লীং সালঙ্কারাং নেত্রত্রয়ায় বৌষট্।
ওঁ ক্রীং তস্মৈ বিশ্ববসবে স্বাহা অস্ত্রায় ফট্।
করন্যাস—ওঁ ক্লীং বিশ্বাবসু নাম গন্ধর্ব অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং নমঃ।
ওঁ ক্রীং কন্যানামধিপতিঃ তর্জনীভ্যাং স্বাহা।
ওঁ ক্রীং লতানি দেবদত্তাং মধ্যমাভ্যাং বষট্।
ওঁ ক্লীং কন্যা সুরূপাং অনামিকাভ্যাং হুং।
ওঁ ক্রীং সালঙ্কারাং কনিষ্ঠাভ্যাম্ বৌষট্।
ওঁ ক্লীং ভস্মে বিশ্বাবসবে স্বাহা করতল পৃষ্ঠাভ্যাম্ অস্ত্রায় ফট্।
এইরূপে অঙ্গন্যাস করন্যাস সমাপ্ত করে উপরোক্ত যন্ত্র প্রথম দিন ১০০৮ (এক হাজার আর্ট) পরে প্রত্যহ ১০৮ বার করে জপ করলে সুরূপা ও সালঙ্কারা কন্যা লাভ হয়।
(পরের পৃষ্ঠা দেখুন)




শীঘ্র বিবাহের জন্য কুমার মন্ত্র
মন্ত্র – “ওঁ হ্রীং কুমারায় নমঃ স্বাহা।”
প্রয়োগ — উক্ত মন্ত্রটি ১০,০০০ (দশ হাজার) জপ করলে কুমারী কন্যার শীঘ্র বিবাহ হয় ৷

সম্মোহন মন্ত্র
প্রথম প্রকার
মন্ত্র --“ ওঁ বহ্নি প্রেয়সী স্বাহা।”
প্রয়োগ— উপরোক্ত মন্ত্র ১০,০০০ (দশ হাজার) জপ করে, বিল্বপত্র সমিধ ও গব্যঘৃত সহযোগে ১০০৮ (এক হাজার আট) হোম করলে, মন্ত্র সিদ্ধি হয় ও বিবাহ কার্য সফলতা লাভ করে।
দ্বিতীয় প্রয়োগ
মন্ত্র—“ওঁ কামদেবায় বিদ্মহে পুষ্পবাসায় ধীমহি তন্নো ২নঙ্গ প্রচোদয়াৎ।”
প্রয়োগ- প্রতিদিন উক্ত মন্ত্র ১০০৮ (এক হাজার আট) বার করে জপ করলে নারী সম্মোহিত হয় এবং শীঘ্র কন্যার বিবাহ হয়।

    সর্ব বশীকরণ মন্ত্র
মন্ত্ৰ – “ওঁ হ্রীং যোগিনী যোগিনী যোগেশ্বরী যোগেশ্বরী যোগভয়ঙ্করী সকল স্থাবর জঙ্গম মনস্য মুখং হৃদয়ং মম বশমাকর্ষয়াকর্ষয় স্বাহা।”
প্রয়োগ— শুভ মুহূর্তে অথবা মহালয়া অমাবস্যার পরদিন প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত উক্ত মন্ত্র প্রতিদিন ১০০৮ (এক হাজার আর্ট) বার জপ করলে সফলকে বশ করা যায়। এই মন্ত্রের প্রভাবে পুত্র-কন্যার শীঘ্র বিবাহ হয়।

  সর্বকার্যে বিজয়লাভ মন্ত্ৰ
মন্ত্র—“ওঁ বিজয় সুন্দরীং ক্লীং।”
প্রয়োগ— শুদ্ধবস্ত্রে শুদ্ধাসনে বসে উত্তরমুখে উপরোক্ত মন্ত্র প্রতিদিন ১০০০ (এক হাজার) জপ করলে সর্বকার্যে বিজয় লাভ হয়।
(পরের পৃষ্ঠা দেখুন)




বিদ্যালাতে সরস্বতী মন্ত্ৰ
ধ্যান– “ৰানীং পূর্ণনিশাকরোজ্জ্বল মুখীং
       কর্পূরকুন্দ প্রভাং,
চন্দ্রাখাঙ্কিত মস্তকাং নিজবরৈঃ
      সংবিদ্রী মাদরাৎ।
বশাম গুণং সুখাঢ্য কলসং
      বিদ্যাঞ্চ তুঙ্গস্তনীম্,
দিব্যৈরাভরণৈবিভূষিত তনুং
      সিংহাধিরূঢ়াং ভজে ।।”

সরস্বতী গায়ত্রী— “বাগদেব্যৈ বিশ্বহে কামবীজায়ৈ ধীমহি তন্নো দেবীঃ প্রচোদয়াৎ।
বিধি- সরস্বতীর চিত্রসামনে রেখে শুদ্ধভাবে ধূপ-দীপ জ্বেলে যথা শক্তি দেবীর পূজা করতে হবে। তারপর ১০৮ বার সরস্বতীর গায়ত্রী জপ করতে হবে, পরে মন্ত্র জপ করতে হবে।
জপমন্ত্র— "ওঁ হ্রীং শ্রীং মানসে সিদ্ধিকরীং হ্রীং নমঃ।”
মন্ত্রসিদ্ধি— কৃত্তিকা নক্ষত্রে শ্বেত অপামার্গের (আপাং) মূল বিধিবৎ তুলে এনে উপরোক্ত মন্ত্রে ১০৮ বার অভিমন্ত্রিত করে হাতে ধারণ করবে। তারপর উক্ত মন্ত্র প্রতিদিন ১০০৮ (এক হাজার আট বার করে ১,০০,০০০ (একলক্ষ) জপ শেষ
করলে মেধাশক্তি বৃদ্ধি পায়, বিদ্যায় সাফল্য লাভ হয় ৷
বিঃ দ্রঃ- প্রতিদিন ১০,০০০ (দশ হাজার) জপ করলে তাড়াতাড়ি কাজ হয়।
এছাড়া প্রত্যহ শ্বেত করবীর মালা গেঁথে উক্ত মন্ত্র ১০৮ বার পাঠ করে, মালা অভিমন্ত্রিত করে, নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে শুদ্ধস্থানে, শুদ্ধাসনে, শুদ্ধবস্ত্রে বসে প্রত্যহ ১০,০০০ (দশ হাজার) জপ করতে হবে। ১,০০,০০০ (একলক্ষ) মন্ত্র জপ শেষ হলে মন্ত্র সিদ্ধ হবে এবং সাধক বাকসিদ্ধ হয় ও সর্ববিদ্যায় পারদর্শী হয়।