মরশুমের দিনে || সপ্তম শ্রেণী বাংলা|| হাতে-কলমে অনুশীলন প্রশ্নের উত্তর
মরশুমের দিনে
সুভাষ মুখোপাধ্যায়
অধ্যায়-৯
সপ্তম শ্রেণীর বাংলা
লেখক পরিচিতি
রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী সময়ে বাংলা কবিতার জগতে একটি স্মরণীয় নাম সুভাষ মুখোপাধ্যায়। তাঁর জন্ম ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ১২ ফেব্রুয়ারি।
১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'পদাতিক' প্রকাশিত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘অগ্নিকোণ', 'চিরকুট',
* 'ফুল ফুটুক, ‘যত দূরেই যাই, ‘কাল মধুমাস, ‘ছেলে গেছে বনে', 'দিন আসবে, ‘জল সইতে' প্রভৃতি। তিনি হাফিজ, নাজিম হিকমত ও
পাবলো নেরুদার কবিতাও অনুবাদ করেছেন। ‘যত দূরেই যাই” কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর গদ্য রচনার দৃষ্টান্ত ‘কাঁচা-পাকা', ‘ঢোল গোবিন্দের আত্মদর্শন', 'আমার বাংলা' প্রভৃতি গ্রন্থে ছড়িয়ে রয়েছে।
আলোচ্য পাঠ্যাংশটি তাঁর ‘নারদের ডায়েরি' নামক বইয়ের মরশুমের দিনে' রচনার সংকলিত ও সংক্ষেপিত অংশ। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দের ৮ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।
বিষয়সংক্ষেপ
সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের লেখা মরশুমের দিনে' রচনাংশটির শুরুতেই গ্রাম বা মফস্সলের সঙ্গে শহরের যে গভীর যোগাযোগ, তা তুলে ধরা হয়েছে। বাস-ডিপোয় অপেক্ষারত গ্রাম থেকে আসা যাত্রীদের কথা তুলে ধরার মধ্য দিয়ে সেই কথাই স্পষ্ট হয়েছে। এরপর গ্রামের প্রসঙ্গে উঠে আসে গ্রামের পালা-পার্বণের কথা, যার পিছনে রয়েছে কৃষিকাজ। ধান কাটার ভিত্তিতেই গ্রামে ঋতুর হিসাব রাখা হয়। বর্ষায় কৃষিকাজ শুরু হত বলে 'বর্ষ' বা বছর কথাটি প্রচলিত হয়। অতীতে ফসল পাকা ও কাটার সময়ের বিচারে অগ্রহায়ণ মাসে শুরু হত বছর। গ্রীষ্মে বাতাস আগুনের মতো গরম হয়ে ওঠে, রাস্তায় মরীচিকা দেখা যায়। শরতে নীল আকাশজুড়ে সাদা মেঘের আনাগোনা চলতে থাকে। ধানের ওপর ঢেউ খেলে যায় বাতাস। ধানকাটার পর সুন্দর নীল আকাশ তামার হাঁড়ির মতো সৌন্দর্যহীন দেখায়। তখন নদী-পুকুর খাল-বিল শুকিয়ে যায়, চারিদিকে শুরু হয় জলের হাহাকার। এ পরিস্থিতিতে, বৃষ্টির কামনায় গভীর বিশ্বাস ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয় বসুধারা বা ক্ষেত্রব্রত-র মতো প্রাচীন রত। কোথাও বা কিশোরীর দল ‘মেঘারানির কুলো' নামানোর প্রথা পালনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সার বেঁধে তারা বাড়ি বাড়ি গান গেয়ে মেঘকে নানা প্রলোভন দেখায়। এই প্রচেষ্টার পর মেঘের ঘুম ভাঙে। আকাশ কালো করে ঝমঝমিয়ে নামে। চাষির মুখে হাসি ফোটে। ছেলের দল মহানন্দে আম কুড়োর ছোটে। বৃষ্টি মাথায় করেই কৃষক ধান বোনা, আল বাঁধার কাজ শু রু করে। এরপর বর্ষাশেষে শুরু হয় ধান কাটার অধীর অপেক্ষায় দিন গোনা। এই সময় মেয়েরা ভাদুলি ব্রত উদ্যাপন করে। এই ভাদুলি উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে প্রাচীন বাংলার বাণিজ্যের ইতিহাস জানা যায়
পাশাপাশি জানা যায় অন্দরমহলের মেয়েদের কথা। তারা দুরূদরু বুকে প্রিয়জনদের ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে থাকত। এই ব্রত
পালনের মধ্য দিয়ে আজও দূরে থাকা আপনজনদের মনে করা হয়। আলোচ্য গদ্যাংশে কৃষিপ্রধান বাংলার বিভিন্ন মরশুমের বর্ণনা পা
যায়। বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতির পাশাপাশি বাংলার নারীদের কল্যাণময়ী রূপটিও অপূর্ব দক্ষতার সঙ্গে এই গদ্যে তুলে ধরা হয়েছে ।
নামকরণ
সাহিত্যের যে-কোনো শাখার মতো প্রবন্ধ বা নিবন্ধের ক্ষেত্রেও নামকরণের একটি বিশেষ ভূমিকা আছে। নামকরণ অর্থাৎ রচনার
শিরোনাম নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রচনাটি সম্পর্কে পাঠকের মনে একটা ধারণা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের লেখা মরশুমের দিনে
গদ্যাংশটিতে বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য ও কৃষিকাজকে কেন্দ্র করে ঋতু উদ্যাপনের চিত্র ফুটে উঠেছে। বর্ষাই এখানে প্রধান ঋতু বা মরণ
প্রায় সমগ্র রচনাটিতে একটি বিশেষ মরশুম অর্থাৎ বর্ষা ঋতু এবং বর্ষা সম্পর্কিত বাংলার লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়েছে।
সেজন্য বলা যায়, গদ্যাংশটির নামকরণ ‘মরশুমের দিনে' সার্থক ও যথাযথ হয়েছে।
‘হাতেকলমে প্রশ্নের উত্তর
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।
১.১ সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থটির নাম কী ?
উত্তর-সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থটির নাম 'পদাতিক'।
১.২ তাঁর লেখা একটি গদ্যের বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের লেখা একটি গদ্যের বই ‘ঢোল গোবিন্দের আত্মদর্শন'।
২. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও।
২..১ ধান শব্দটি কোন্ শব্দ থেকে এসেছে?
উত্তর: ধান শব্দটি এসেছে 'ধান্য' শব্দ থেকে।
২.২ 'অগ্রহায়ণ' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: 'অগ্র' অর্থাৎ আগে আর 'হায়ন' অর্থাৎ 'বছর', তাই অগ্রহায়ণ শব্দটির অর্থ হল বছরের গোড়া বা আরম্ভ।
২.৩ এদেশের সমস্ত পালা-পার্বণ, আনন্দ-উৎসব—এসবের মূলে কী রয়েছে?
উত্তর: এদেশের সমস্ত পালা-পার্বণ, আনন্দ-উৎসবের মূলে রয়েছে চাষবাস বা কৃষিকাজ ৷
২.৪ বসুধারা ব্রত কোন্ ঋতুতে হয় ?
"উত্তর, গ্রীষ্ম ঋতুতে বসুধারা ব্রত পালিত হয়।
২.৫ মেঘকে নামাবার জন্য মেয়েরা দল বেঁধে ছড়া করে তাকে কী কী নামে ডাকে ?
উত্তর: মেয়েরা দল বেঁধে মেঘকে ‘কালো মেঘা’, ‘ফুলতোলা মেঘা', 'ধুলোট মেঘা', 'তুলোট মেঘা', 'আড়িয়া মেঘা’, ‘হাড়িয়া মেঘা’ 'কড়িয়া মেঘা' ইত্যাদি নামে ডাকে।
৩. নীচের বিশেষ্য শব্দগুলিকে বিশেষণ এবং বিশেষণ শব্দগুলিকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করো: মফস্সল, বৎসর, খর, ব্রত, বিস্তর, পর্বত, ঝড়।
উত্তর:) মফস্সল (বি)—মফস্সলীয় (বিণ)
বৎসর (বি)- বাৎসরিক (বিণ)
খর (বিণ)—খরতা (বি)
ব্রত (বি)—ব্রতী (বিণ)
বিস্তর (বিণ) বিস্তার (বি)
পর্বত (বি)—পার্বত্য (বিণ)
ঝড় (বি)–ঝোড়ো (বিণ)
৪. নীচের বাক্যগুলি গঠনগতভাবে কোটি কী ধরনের লেখো (সরল/যৌগিক /জটিল):
৪.১ গ্রামের যাত্রীরা নেমে নেমে যাবে মাঝরাস্তায়।
উত্তর: সরল বাক্য।
৪.২ যেখানে ঘাসের চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না, হঠাৎ চোখে পড়বে সেখানে যেন কে সবুজ জাজিম পেতে রেখেছে।
উত্তর: জটিল বাক্য।
৪.৩ আয় বৃষ্টি ঝেপে, ধান দেব মেপে।
উত্তর: যৌগিক বাক্য।
৫. নীচের বাক্যগুলি থেকে শব্দবিভক্তি এবং অনুসর্গ খুঁজে নিয়ে লেখ
৫.১ কেউ এসেছিল দোকানের জন্য মাল তুলতে।
৫.২ বৃষ্টির ঝমঝম শব্দে অন্য সমস্ত আওয়াজ ডুবে যায়।
৫.৩ সন্ধে নাগাদ উলু দিয়ে ব্রত শেষ হয়।
৫.৪ ছেলেরা হইহই করে ছোটে আমবাগানে।
উত্তর:
বাক্য- ৫.১ কেউ এসেছিল দোকানের জন্য মাল তুলতে।
শব্দ > বিভক্তি
দোকানের > র
মাল > শূন্য,
অনুসর্গ - জন্য
বাক্য- ৫.২ বৃষ্টির ঝমঝম শব্দে অন্য সমস্ত আওয়াজ ডুবে যায়।
শব্দ > বিভক্তি
বৃষ্টি > র
ঝমঝম > শূন্য
শব্দ > এ
অন্য > শূন্য
আওয়াজ > শূন্য
ডুব > এ
অনুসর্গ - নেই
বাক্য- ৫.৩ সন্ধে নাগাদ উলু দিয়ে ব্রত শেষ হয়।
শব্দ > বিভক্তি-
সন্ধ্যে > শূন্য
উলু > শূন্য
ব্রত > শূন্য
শেষ > শূন্য
অনুসর্গ - দিয়ে
বাক্য- ৫.৪ ছেলেরা হইহই করে ছোটে আমবাগানে।
শব্দ > বিভক্তি-
আমবাগানে > এ
অনুসর্গ - করে
৬. পাঠ থেকে নিম্নলিখিত শব্দগুলির সমার্থক শব্দ খুঁজে লেখো:[ অম্বর, ধরা, মৃত্তিকা, প্রান্তর, তটিনী।]
উত্তর: শব্দ - প্রতিশব্দ
অম্বর
ধরা
মৃত্তিকা
প্রান্তর
তটিনী।]
শব্দ > প্রতিশব্দ
অম্বর > আকাশ
প্রান্তর > মাঠ
ধরা > পৃথিবী
তটিনী > নদী
মৃত্তিকা > মাটি
৭. নীচের সমোচ্চারিত / প্রায়-সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দগুলির অর্থ লেখো:
[ ধোয়া, ধোঁয়া; জলে, জ্বলে;
বাধা, বাঁধা; গায়ে, গাঁয়ে; ঝরে, ঝড়ে।]
উত্তর:
ধোয়া—পরিষ্কার করা।
ধোঁয়া-ধূম্ৰ।
জলে—বারিতে।
বাধা-প্রতিবন্ধকতা।
গায়ে—শরীরে।
জ্বলে—-পোড়ে।
বাঁধা—বন্ধন।
গাঁয়ে—গ্রামে।
ঝড়ে—জোরালো হাওয়ায়।
ঝরে—খসে পড়ে।
৮. শুদ্ধ বানানটিতে √) চিহ্ন দাও।
৮.১ মুহূর্ত / মূহুর্ত / মুহূর্ত
উত্তর: মুহূর্ত (√)
৮.২ অগ্রহায়ন / অগ্রহায়ন / অগ্রহায়ণ
উত্তর: অগ্রহায়ণ (√)
৮.৩ বিলক্ষণ / বিলক্ষন/ বিলখান
উত্তর: বিলক্ষণ (√)
৮.৪ মরিচিকা / মরীচিকা / মরীচীকা
উত্তর: মরীচিকা ( √)
৯. বেলা, ডাল, সারা, চাল- এই শব্দগুলিকে দুটি পৃথক অর্থে ব্যবহার করে দুটি করে বাক্য লেখো।
উত্তর:
বেলা (ক্ষেত্র-বিশেষ)—যত দোষ সব আমাদের বেলা।
বেলা (সময়) বেলা অনেক হয়েছে, এখন বেরোতে হবে।
ডাল দানা জাতীয় াদ্যদ্রব্য) – অনন্ত ডাল দিয়েই কোনোরকমে একমুঠো ভাত খেয়ে বেরিয়ে পড়ল।
ডাল (গাছের শাখা)—গাছের ডালে পাখিরা বসে আছে।
সারা (শেষ)—আমার কাজ এইমাত্র সারা হল ।
সারা (সমস্ত)–রমা সারাদিন ধরে পড়াশোনা করছে।
চাল (ছাউনি)—গফুরের ঘরের চাল খড়ের তৈরি।
চাল (খাদ্য-বিশেষ)—দোকান থেকে এক কেজি চাল কিনে আনো ।
১০. টীকা লেখো: [মরীচিকা, বসুধারা ব্রত, মেঘারানির,কুলো, ভাদুলি।]
উত্তর:, মরীচিকা: মরুভূমিতে গাছপালা প্রায় থাকে না। যতদূর চোখ যায় শুধু ধু-ধু বালির প্রান্তর। নির্জন মরুভূমিতে হাঁটতে হাঁটতে
অনেক সময়ই পথিকের মনে হয় দূরে যেন জল চিকচিক করছে। তপ্ত মরুভূমিতে তৃয়ার্ত পথিক সেখানে পৌঁছে দেখে শুধু বালিই রয়েছে—
জলের কোনো চিহ্ন নেই। আসলে বালির উপর সূর্যের আলো পড়ে তা প্রতিফলিত হয়ে যখন পথচারীর চোখে আসে, তখন অনেক সময়ই সেই জায়গাটা চকচকে দেখায়। তাই মনে হয় যেন সেখানে রয়েছে। একেই বলে মরীচিকা।
বসুধারা ব্রত: গ্রীষ্মের প্রবল দাবদাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই ব্রত উদযাপন করা হয়। বর্ষার আগমনকে এগিয়ে আনতে, অর্থাৎ বৃষ্টির কামনা করে গ্রামবাংলার বসুধারা ব্রত পালন করা হয়। সংস্কার অনুযায়ী বসুধারা ব্রত পালন করলে বৃষ্টির শীতল জলধারা পৃথিবীতে শুষ্কতার অবসান ঘটিয়ে বীজবপনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দেয়।
মেঘারানির কুলো: এটিও বাংলার একটি প্রাচীন সংস্কৃতি। বসুধারা ব্রতর মতোই ‘মেঘারানির কুলো' নামক প্রথাটিও বৃষ্টিকামনায় করা হয়ে থাকে। এই প্রথা অনুযায়ী কুলো, জলঘট নিয়ে কৃষক
পরিবারের অল্পবয়সি মেয়েরা দল বেঁধে পাড়ায় পাড়ায় গান গেয়ে বেড়ায়। একইসঙ্গে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল-তেল-সিঁদুর বা দু- চারটে পয়সা ও পান-সুপারি সংগ্রহ করে। তাদের গাওয়া গানের
মধ্যেই থাকে মেঘের উদ্দেশে নানা প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি, যাতে ‘মেঘারানি’ সন্তুষ্ট হয়ে বৃষ্টিরূপে পৃথিবীতে নেমে আসে।
ভাদুলি: বর্ষার শেষ দিকে অর্থাৎ ভাদ্র মাসে গ্রামবাংলার মেয়েরা ভাদুলি ব্রত পালন করে। বাংলার লৌকিক দেবী ভাদু-র নামানুসারে এই
এতটিকে 'ভাদুলি এত' বলা হয়। এই ব্রতপালনে মেয়েরা মাটিছে আলপনা দেয়। আলপনায় থাকে সাতসমুদ্র, তেরো নদী, নদীর চড়া, কাঁটার পাহাড়, বন, ভেলা, মোষ, বাঘ, কাক, তালগাছে বাবুইয়ের
বাসা এমন সব ছবি। এই ব্রত মনে করিয়ে দেয় প্রাচীন বাংলার বাণিজ্যে সমৃদ্ধ ইতিহাসকে। রাতের ছড়ায় নারীদের পরাসী সওদাগর স্বামী, শ্বশুর বা ভাইয়ের প্রতি আকুলতা প্রকাশ পায়। তারা মান
জলযাত্রার শেষে নিরাপদে পরে ফিরে আসে, সেই ছড়া বাঁধা হয়। ভাদুপি ব্রত শুধু বাণিজ্যের ইতিহাসের সাক্ষী নয়। এই ব্রত কল্যাণময়ী ভারতীয় নারীর সঙ্গেও আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয়।
১১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো।
১১.১ বাস-ডিপোয় অপেক্ষমান যাত্রীদের ছবি কীভাবে পাঠানে ধরা পড়েছে?
উত্তর: ভিন্ন পেশার যাত্রী: বাস-ডিপোটি ছোটো হলেও সেখানে নানান পেশার নানান মানুষের ভিড় আর তাদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। বাসের যাত্রীদের জিনিসপত্র ধরাধরি করে বাসের ছাদে তুলেদেয় কনডাক্টর আর ক্লিনার।
ভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী: যাত্রীদের কারোও গন্তব্য দূরের শহর বা গঞ্জ, আবার কারোর ক্ষেত্রে গন্তব্য হল গ্রাম । ভিন্ন উদ্দেশ্যের যাত্রী: গন্তব্যের মতো তাদের উদ্দেশ্যও আলাদ।
যেমন—কোর্টের মামলা, সরকারি সেরেস্তায় হাকিমের কাছে দরবার,হাসপাতালে রোগী দেখতে যাওয়া, নিজের দোকানের জন্য মাল কেনা ইত্যাদি।
ভিন্ন কর্মরত যাত্রী: যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই বাসের ভেতরে সিটের ওপর নিজেদের জিনিসপত্র রেখে বাইরে এসে দাঁড়ায়। ডিপোর সামনের চায়ের দোকানে বাসচালক চা পান করে।
শীতকালের ওই সময়ে যাত্রীরা ড্রাইভারের দিকে নজর রেখে রোদ পোহায় আর গ্রীষ্মে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে গা জুড়ায়।
১১.২ “গ্রামের সঙ্গে শহরের যে এখনও নাড়ির টান....... এইনাড়ির টানের প্রসঙ্গ রচনাংশে কীভাবে এসেছে?
উত্তর: মাঠে ফসল পাকলে গ্রামের সঙ্গে শহরের নাড়ির টান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই সময় মানুষ শহর থেকে গ্রামে মেয়ে দেখতে, পুজো দিতে আসে। আবার গ্রাম থেকে বহু মানুষ জিনিস কিনতে, সিনেমমা দেখতে বা মামলার তদবির করতে শহরে যায়। এই অবাধ আনাগোনার ফলে গ্রাম ও শহরের নানা পেশার মানুষ, যেমন-
উকিল, মোক্তার, বামুন-পুরোহিত, দর্জি ও দোকানি আর্থিকভাবে লাভবান হয়। এইভাবেই গ্রাম ও শহরের মানুষ আর্থিক দিক দিয়ে
পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে এগিয়ে চলে। তাই শহরের বাস ডিপোয় এসে পড়া মানুষদের জীবিকার কথা বলতে গিয়ে লেখক গ্ৰামএর ও শহরের এই নাড়ির টানের কথা তুলে ধরেছেন।
১১.৩ “ধানের সবচেয়ে বড়ো বন্ধু বৃষ্টি” বৃষ্টির সময়ে ধানখেকে ছবিটি কেমন ? অন্য যে যে সময়ে ধান চাষ হয়ে থাকে লেখো।
উত্তর: ধানখেতের ছবি: বৃষ্টি নামার সঙ্গে সঙ্গেই হোপলার তৈরি করা ‘মাথাল’-এ মাথা, পিঠ ঢেকে চাষিরা ধান বোনা, আল বাঁধার কাজ করার
জন্য মাঠের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় (বর্ষার আগমনে ধানখেতে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। গ্রীষ্মের প্রখর তাপে যে জমিতে ঘাসের চিহ্নমাত্র ছিল না, সেখানে বর্ষার জলে বেড়ে ওঠা সবুজ কচি ধানের সমারোহ চোখ জুড়িয়ে দেয়। মনে হয়, সমগ্র খেতজুড়ে যেন সবুজ গালিচা পাতা হয়েছে। বর্ষায় কচি ধানগাছগুলি সবুজ হয়ে মাথা তুলে দাঁড়ায়। ধানগাছ যাতে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে, সেজন্য মাঝে মাঝে খেত নিড়িয়ে দিতে হয়। বর্ষাশেষে শুরু হয় পাকা ধান কাটবার প্রস্তুতি। সারা বছরে ভারতে সাধারণত তিনবার ধান চাষ হয়।
আমন ধান। বর্ষাকালে রোপণ করে যে ধান কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে কাটা হয়, তা 'আমন ধান' নামে পরিচিত। হেমন্তকালে কাটা হয় বলে
একে হৈমন্তিক ধানও বলে। ভারতে এই ধানের উৎপাদন সর্বাধিক।
আউশ ধান: গ্রীষ্মকালে কালবৈশাখী বৃষ্টির সময়ে রোপণ করে যে ধান ভাদ্র-আশ্বিন মাসে কাটা হয়, তাকে বলা হয় আউশ ধান। ভাদ্র মাসে সাধারণত এই ধান কাটা হয়ে থাকে বলে একে 'ভাদই'-ও বলা হয় ৷
বোরো ধান। শীতকালে রোপণ করে যে ধান গ্রীষ্মকালে কাটা হয়, তাকে বলা হয় বোরো বা বসন্তকালীন ধান। দেশে সেচের সুবিধা বৃদ্ধি
পাওয়ায় শীতকালে বোরো ধানের উৎপাদন প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
১১.৪ “আগে বছর আরম্ভ হত অগ্রহায়ণে”–এর সম্ভাব্য কারণ কী ?
উত্তর: আগেকার দিনে বছর শুরুর ক্ষেত্রে দু-রকম ধারার প্রচলন ছিল। তার মধ্যে একটি ধারা অনুসারে, ফসল ঘরে ওঠার সময়কে নতুন
বছরের সূচনালগ্ন হিসেবে মনে করা হত। সে-সময়ে অগ্রহায়ণ মাসে যেহেতু নতুন ফসল ঘরে উঠত, তাই এই ‘অগ্রহায়ণ’ মাসটিকে বছরের
শত্রু হিসেবে ধরা হত। অগ্রহায়ণ নামটির মধ্যেই নতুন বছর আর নতুন ফসলের কথাটি লুকিয়ে রয়েছে। কারণ ‘অগ্র’শব্দের অর্থ হল ‘গোড়া’
বা সূচনাকাল' আর হায়ন’ শব্দের অর্থ হল বছর’ বা ‘ফসল’।
১১.৫. এদেশের যত পালা-পার্বণ, উৎসব-আনন্দ, সব কিছুরই মূলে রয়েছে চাষবাস।”–বাংলার উৎসব-খাদ্য -সংস্কৃতির সঙ্গে চাষবাস কতটা জড়িত বলে তুমি মনে কর?
উত্তর: বাংলা দেশ প্রধানত কৃষিভিত্তিক দেশ। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দার জীবিকাই হল কৃষিকাজ। সারাবছর ধরে রোদ-জল মাথায় করে তারা ফসল ফলায়। সুতরাং, তাদের আনন্দ-দুঃখ সব কিছুই কৃষিকাজের ওপরই নির্ভর করে। বাংলার উৎসবগুলিও তাই বীজ-বোনা, চাষ করা আর ফসল তোলার সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত। লক্ষ্মীপুজো, নবান্ন উৎসব, পৌষ-পার্বণ, ভাদ-টুস উৎসব, বসুধারা উৎসব—সবই তাই চাষবাসকে
কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে, বাংলার উৎসব-খাদ্য- সাংস্কৃতির সংগে এদেশের কৃষিকাজ নিবিড়ভাবে জড়িত।
১১.৬ "শহর ছাড়ালেই দু-পাশে দেখা যাবে”-শহরের চিত্রটি কেমন? তা ছাড়িয়ে গেলে কোন দৃশ্য দেখা যাবে ?
উত্তর: শহরের চিত্র: শহরে মাথার উপর দরাজ আকাশ দেখা যায় না। সেখানে বহুতল বাড়িগুলোর ফাঁক দিয়ে আকাশের কিছুটা অংশই শুধু দেখা।যায়। শহরের আকাশ ঢাকা পড়ে যায় কলকারখানার কালো ধোঁয়ায় ।
শহর ছাড়িয়ে গেলে যে দৃশ্য দেখা যায়: শহর ছাড়ালেই দেখা যায় মাথার ওপর মুক্ত সুনীল আকাশ। বাসরাস্তার দু-ধারে বট-পাকুড়, শাল-সেগুন গাছের সারি। তাদের বিস্তীর্ণ শাখাপ্রশাখা তৈরি করেছে সবুজকুঞ্জ। রাস্তার ধারের সবুজ গাছপালার এই সমারোহে আটকে যায় পথিকের দৃষ্টি। চলতে চলতে দেখা যায় কালো কুচকুচে বাঁধানো রাস্তা মাঝে মাঝে বাঁক নিয়ে সোজা সামনের দিকে এগিয়ে গেছে।
১১.৭ “এই রাস্তার ওপরই এক ভারি মজার দৃশ্য দেখা যায়”- মজার দৃশ্যটি কেমন তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: গরমে চারিদিকে হাওয়া যখন আগুনের মতো উত্তপ্ত হয়ে পড়ে, তখন বাঁধানো রাস্তার ওপর এক মজার দৃশ্য দেখা যায়। রাস্তার যেতে যেতে মনে হয়, দূরে জল চিকচিক করছে। আর সেই জলে উলটো হয়ে পড়েছে দু-পাশের গাছের ছায়া। কিন্তু সেখানে গেলে জল বা ছায়া—কোনোটারই অস্তিত্ব কিন্তু খুঁজে পাওয়া যায় না। লেখক এই বিষয়টিকে মরুভূমির মরীচিকার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
১১.৮ “ব্রতের ভিতর দিয়ে মনে পড়ে যায় সেই আপনজনদের কথা, যারা দূরে আছে”–শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নিয়ে এমনই কিছু 'ব্রত'র ছড়া খাতায় সংগ্রহ করো।
উত্তর: পুণ্যিপুকুর ব্রত:
“তুলসী তুলসী নারায়ণ, তুমি তুলসী বৃন্দাবন। তোমার মাথে ঢালি জল, অন্তিমকালে দিও স্থল।।”
“পুণ্যিপুকুর পুষ্প মালা কে পূজে রে দুপুরবেলা ?
আমি সতী লীলাবতী, সাত ভাইয়ের বোন ভাগ্যবতী।।
পূজি চন্দন দূর্বা ফুলে, বাড়ুক লক্ষ্মী বাপের কুলে।
পুণ্যিপুকুরে ঢালি জল, বাপভায়ের হোক অশেষ মঙ্গল।।”
“এ পূজনে কী হয় নির্ধনের ধন হয়।
সাবিত্রী—সমান হয় স্বামীর আদরিণী হয় পুত্র রেখে স্বামীর কোলে—মরণ যেন হয় গঙ্গাজলে।।”
সন্ধ্যামণি রত:
সন্ধ্যামণি সন্ধ্যামণি মাগি বর,
হোক সুখ শান্তি কৈলাসে ঘর।।
শান্তি জল, শান্তি জল,
সাত সাগরের শান্তি জল ।।
সোম ভক্ত পতি ভক্ত,
শত উনুন জ্বলন্ত।
উনুনে না দিয়ে ফুঁক।
রান্না ভাত খেয়ে বৌয়ের
চাঁদপানা মুখ।।
কে যায় রে কে যায় রে,
ডালিম তলা দিয়ে
সন্ধ্যামণি বাড়ি যাচ্ছেন
গামছা মাথায় দিয়ে
একবার তাকে দাঁড়াতে বল—
রেকে মেপে ধান দেবো,
পোয়ে মেপে চাল দেবো।
গুয়াপান সুপারি দেবো,
প্রাণ ভরে ভক্তি দেবো।
হোক লক্ষ্মী আমার বাপের ঘরে।
বাড়বাড়ন্ত হোক সন্ধ্যামণির বরে।।
→ কুলুই মঙ্গলবারের ব্রত
নীচের মন্ত্রটি বলে স্ত্রীলোকদের জল খেতে হয়:
সোনার মঙ্গলচণ্ডী
রুপোর বালা,
অপথ পথ করতে,
অরাজকে রাজ্য দিতে,
কেন মা মঙ্গলচণ্ডী
এল বেলা?
হাসতে, খেলতে,
পাটের শাড়ি পরতে,
সোনার দোলায় দুলতে,
শাঁখা শাড়ি পরতে,
তেল হলুদ মাখতে,
আইবুড়োর বিয়ে দিতে,
হা-পুতির পুত দিতে,
নির্ধনের ধন দিতে,
চোরের বন্ধন ঘুচতে,
কানার চক্ষু দিতে,
অন্ধের নড়ি দিতে,
তাই এত-বেলা।
আঘাটায় ঘাট করতে,
১১.৯ বিভিন্ন ঋতু বিষয়ক প্রচলিত ছড়া আর ছবি সাজিয়ে নিজেরা লিখে বিদ্যালয়ে একটি দেয়াল-পত্রিকা তৈরি করো।
উত্তর: বিভিন্ন ঋতু বিষয়ক প্রচলিত ছড়াগুলি হল
গ্রীষ্ম
- সুকুমার রায়
ঐ এল বৈশাখ, ঐ নামে গ্রীষ্ম,
খাইখাই রবে যেন ভয়ে কাঁপে বিশ্ব।
চোখে যেন দেখি তার ধূলিমাখা অঙ্গ,
বিকট কুটিলজটে ভ্রুকুটির ভঙ্গ,
রোদে রাঙা দুই আঁখি শুকায়েছে কোটরে,
ক্ষুধার আগুন যেন জ্বলে তার জঠরে।
মনে হয় বুঝি তার নিঃশ্বাস মাত্রে
তেড়ে আসে পালাজ্বর পৃথিবীর গাত্রে।
ভয় লাগে হয় বুঝি ত্রিভুবন ভস্ম-
ওরে ভাই ভয় নাই পাকে ফল শস্য !
ভীষণ চুলা জ্বালি নিজ বক্ষে ..
পৃথিবী বসেছে পাকে, চেয়ে দেখ চক্ষে
আম পাকে, জাম পাকে, ফল পাকে কত যে,
বুদ্ধি যে পাকে কত ছেলেদের মগজে।
বর্ষার কবিতা
কাগজ কলম লয়ে বসিয়াছি সদ্য,
আষাঢ়ে লিখিতে হবে বরষার পদ্য।
কি যে লিখি কি যে লিখি ভাবিয়া না পাই রে,
হতাশে বসিয়া তাই চেয়ে থাকি বাইরে।
সারাদিন ঘনঘটা কালো মেঘ আকাশে,
ভিজে ভিজে পৃথিবীর মুখখানা ফ্যাকাশে।
বিনা কাজে ঘরে বাঁধা কেটে যায় বেলাটা,
মাটি হল ছেলেদের ফুটবল খেলাটা।
আপিসের বাবুদের মুখে নাই ফুর্তি,
ছাতা কাঁধে জুতা হাতে ভ্যাবাচ্যাকা মূর্তি।
কোনখানে হাঁটু জল, কোথা ঘন কদম-
চলিতে পিছল পথে পড়ে লোকে হরদম।
ব্যাঙেদের মহাসভা আহ্লাদে গদ্গদ,
গান করে সারারাত অতিশয় বদখদ।
শরৎ
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
এসেছে শরৎ, হিমের পরশ
লেগেছে হাওয়ার 'পরে,
সকালবেলায় ঘাসের আগায়
শিশিরের রেখা ধরে।
আমলকী-বন কাঁপে, যেন তার
বুক করে দুরু দুরু
পেয়েছে খবর পাতা খসানোর
সময় হয়েছে শুরু ।
শিউলির ডালে কুঁড়ি ভ'রে এল,
টগর ফুটিল মেলা,
মালতীলতায় খোঁজ নিয়ে যায়
মৌমাছি দুই বেলা।
গগনে গগনে বরষন-শেষে
মেঘেরা পেয়েছে ছাড়া—
বাতাসে বাতাসে ফেরে ভেসে ভেসে,
নাই কোনো কাজে তাড়া।
দিঘি-ভরা জল করে চল্ চল্,
নানা ফুল ধারে ধারে,
কচি ধানগাছে খেত ভ'রে আছে—
হাওয়া দোলা দেয় তারে।
যে দিকে তাকাই সোনার আলোয়
দেখি যে ছুটির ছবি—
পূজার ফুলের বনে ওঠে ওই
পূজার দিনের রবি।
হেমন্ত
- সুফিয়া কামাল
সবুজ পাতার খামের ভিতর
হলুদ গাঁদা চিঠি লিখে
কোন পাথারের ওপার থেকে
আনল ডেকে হেমন্তকে?
আনল ডেকে মটরশুঁটি,
খেসারি আর কলাই ফুলে
আনল ডেকে কুয়াশাকে
সাঁঝ সকালে নদীর কুলে।
সকাল বেলায় শিশির ভেজা
ঘাসের ওপর চলতে গিয়ে
হালকা মধুর শীতের ধোঁয়ায়
শরীর ওঠে শিরশিরিয়ে।
আরও এল সাথে সাথে
নতুন গাছে খেজুর রসে
লোভ দেখিয়ে মিষ্টি পিঠা
মিষ্টি রোদে খেতে বসে,
হেমন্ত তার শিশির ভেজা
আঁচল তলে শিউলি বোঁটায়
চুপে চুপে রং মাখাল
আকাশ থেকে ফোঁটায় ফোঁটায়।
শীতের ছড়া
-সামসুল হক
ইঁদুর বলল, কাঁপছি শীতে
নেইকো আমার কাছে-ভিতে
লেপ-কাঁথা-তোশক।
বেড়াল বলল, ভাবনা কী তোর ?
আমার গরম পেটের ভিতর
সুড়ুৎ করে ঢোক।
পেঁচা বলল, হুতুম হুতুম
আমি থাকতে কে তোর কুটুম
আমি যে তোর কাকা ।
ইঁদুরমণি, শীত তাড়াতে
চলে এসো ঘরের ছাতে
পেটটা আমার ফাঁকা।
নববসন্তে
-সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ফুলের বনে- ফুল ফুটেছে,
কোকিল গাহে তায়;
কিরণ কোলে- লহর দোলে,
সলিল বহে যায়!
ফুলের বনে- পারণ মনে
পুলক উথলায় ।
নূতন ঋতু, নূতন রীতি,
নূতন প্রীতি, নূতন গীতি,
নিখিল ধরা আপন-হারা
নূতন চোখে চায়,
ফুলের বনে, ফুল ফুটেছে,
সমীর মুরছায়।
সোনার মৃগ- মৃগীর পানে
সোনার চোখে চায়,
কপোত সনে,- মধুর স্বনে,
কপোতী গান গায়,
সোনার ফড়িং- ভূপের বনে
ঝিঝির পিছে ধায়;
নুতন ঋঋতু, নুতন রীতি,
নূতন প্রীতি, নূতন গীতি,
নিখিল ধরা আপন তারা
সোনার চোখে চায়।
ফুলের বনে পরান মনে
পুলক উথলায়।
বিভোর হয়ে চকোর আজি
চাঁদের পানে চায়,
হৃদয় তলে প্রেম উথলে
জগৎ ভুলে যায়,
চাঁদ সে ভাসে নীল আকাশে
আপন জোছনায়;
তরুণ প্রাণে, নূতন প্রীতি,
নূতন রীতি, নূতন গীতি,
বিভোল ধরা আপন-হারা
সোনার চোখে চায়;
নিখিল সনে তরুণ মনে
পুলক উথলায়।
১১.১০“ধান কাটার পর একেবারে আলাদা দৃশ্য”— এই দৃশ্যে কোন্ ঋতুর ছবি ফুটে উঠেছে? সেই ঋতু সম্পর্কে কয়েকটি বাক্যে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো ৷
উত্তর: ঋতুর ছবি : ধান কাটার পর মাঠের দৃশ্য সম্পূর্ণরূপে পালটে যায়। এই দৃশ্যে গ্রীষ্মঋতুর ছবি ফুটে উঠেছে।
→ ঋতু সম্পর্কে কয়েকটি বাক্য: বসন্তে বাতাসের মনোরম স্নিগ্ধতার পরে শুরু হয় গ্রীষ্মকালের তাপপ্রবাহ। এই সময় সূর্য ঠিক
মাথার ওপরে থাকে। ছায়া হয় অনেক ছোটো। রোদের দিকে চোখ মেলে তাকানো যায় না। গ্রীষ্মের আগমনে নদী-খাল-বিল শুকিয়ে
যায়। উত্তাপে গাছপালার সব পাতা শুকিয়ে যায়। মানুষজন তীব্র রোদে চলাচল করতে পারে না। দুপুরবেলায় ক্লান্ত পথিক গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। অনেক অঞ্চলেই জলকষ্ট দেখা দেয়। মানুষজন তখন ফসল বোনার জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।
কবে বৃষ্টি হবে সেই আশায় দিন গুনতে থাকে। মাঝেমধ্যে অবশ্য কালবৈশাখী কিছুটা স্বস্তি দিয়ে যায়। কিন্তু কালবৈশাখীর ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতিও হয় প্রচুর। এই সময় টগর, জুঁই, চাঁপা ইত্যাদি ফুল ফোটে। এই সময়ে ফলের রাজা আমও পাওয়া যায়। ভালোমন্দ মিশিয়ে গ্রীষ্ম যে অন্য ঋতুর চেয়ে অনেকটাই আলাদা, সে-কথা বলাই যায়।
৫ অগ্রহায়ণ বলতে কী বোঝায়? ধান কাটার পর যে দৃশ্য
দেখা যায় তা সংক্ষেপে লেখো
উত্তর: অগ্রহায়ণ, 'অগ্র' অর্থাৎ আগে আর 'হায়ন' অর্থাৎ বছর, তাই অগ্রহায়ণ শব্দটির অর্থ হল বছরের গোড়া বা আরম্ভ।
→ ধান কাটার পরের দৃশ্য: ধান কাটার পর মাঠের দৃশ্য পুরোপুরি
বদলে যায়। এই সময় মাঠের চেহারা শুকনো কঙ্কালসার হয়ে যায়। রুক্ষ
মাটির বুকে আলগুলিকে দেখায় হাড়-পাঁজরের মতো। আকাশের রং তখন
তামার হাঁড়ির মতো। রোদের দিকে আর তাকানো যায় না। গোরুর গাড়ির
চাকায়, মানুষের পায়ে শুকনো মাটির ডেলাগুলো ভেঙে ধুলো হয়ে যায়।
সেই ধুলো কখনো-কখনো ঘূর্ণি হাওয়ায় উড়ে উড়ে দৃষ্টি আড়াল করে
অনুচ্ছেদ: ১৬-২২
-ছায়া বাংলা শিক্ষক " ষষ্ঠ শ্রেণি
দাঁড়ায়। বেলা বাড়লে মাটি তেতে আগুন হয়ে ও
শুকিয়ে যায়। গাছে পাতা থাকে না। চারদিকে জলের হাহাকার পড়ে যায়
উত্তর
৬ 'মরশুমের দিনে' গল্পটিতে ক্ষেত্রব্রত কারা পালন করে ? এই
ব্রতে মূলব্রতী কাকে করা হয়? মেঘকে নামানোর জন
মেয়েরা দল বেঁধে ছড়া করে তাকে কী নামে ডাকে ?
ক্ষেত্রব্রত পালনকারী: 'মরশুমের দিনে' পাঠ্যাংশ মেয়ে
জানা যায় যে চাষি ঘরের বউরা ক্ষেত্রব্রত পালন করে।
→ মূলৱর্তী: ক্ষেত্ৰব্ৰততে বুড়িদের মূলবতী করা হয়।
উত্তর মেঘের নাম: 'হাতেকলমে'র ২.৫ নং প্রশ্নের উত্তর দ্যাখো
"lat
Tard art: 133
