তোর আসল লজ্জা জলে, আসল গর্বও জলে। কোন কথার প্রকৃতিতে কথা বলা হয়েছে ? কোনি গল্প || দশম শ্রেণী
![]() |
প্রশ্ন: 'তোর আসল লজ্জা জলে, আসল গর্বও জলে।'— কোনির কোন্ কথার পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা বলা হয়েছে। তার 'আসল লজ্জা' ও ‘আসল গর্ব' জলে বলার কারণ কী?
উত্তর/ সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে ক্ষিতীশ ও কোনিকে প্রশিক্ষক আর সাঁতারু হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে নানান প্রতিবন্ধকতা ও তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ধীরেন ঘোষ, বদু চাটুজ্জে, অমিয়া, হরিচরণরা কখনও কোনিকে ক্লাবে ভরতি না-করে, কখনও সাঁতারের পুলে তাকে ডিসকোয়ালিফাই করে, কখনও-বা প্রথম হওয়া সত্ত্বেও জোর করে তাকে দ্বিতীয় বলে ঘোষণা করে বিপর্যস্ত করে দিতে চেয়েছে। আসল কথা ক্ষিতীশ ও কোনিকে ক্রীড়াক্ষেত্রে হারাতে না-পেরে তাদের মানসিকভাবে দুর্বল করতে চেয়েছে। এমনকি ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতীর দোকানে অমিয়া ব্লাউজ করতে এসে, কোনিকে দেখে বলে— 'তুই এখানে ঝিয়ের কাজ করিস?' অমিয়ার এই বক্তব্য কোনির মর্মে আঘাত করে। তাই কোনি সেই লজ্জা-অপমানের কথা প্রশিক্ষক ক্ষিতীশকে জানালে ক্ষিতীশ কোনিকে তার প্রকৃত ক্ষমতা বিষয়ে অবগত করাতে আলোচ্য কথাটি বলে।
'আসল লজ্জা ও 'আসল গর্ব' জলে বলার কারণ:
| অমিয়ার ব্যঙ্গোক্তিতে কোনি আঘাত পাওয়ায় ক্ষিতীশ তাকে উদ্দেশ্য করে উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেন। ব্যক্তিকে তার কর্ম দিয়ে, সাধনা দিয়ে সকল লাঞ্ছনা জয়ের সামর্থ্য অর্জন করতে হয়। তখন সকল তুচ্ছ মান-অপমান বোধ মূল্যহীন হয়ে পড়ে। কোনির সবচেয়ে বড়ো পরিচয় সে একজন সাঁতারু। একজন সাঁতারুর আসল লজ্জা যখন সে প্রতিযোগিতায় পরাজিত হবে আর গর্ব হল যখন সে জয়লাভ করবে। ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপমান একজন সাঁতারুকে কখনও পরাজিত করতে পারে না। ক্ষিতীশ এ কথাই বলতে চেয়েছেন।
