আজও ছিল আমার সঙ্গে । এখানে আমার সঙ্গে এখানে আমার সঙ্গে থাকার কথা কি বলা হয়েছে? উক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখো। কোনি গল্প || দশম শ্রেণী
![]() |
প্রশ্ন; 'আজও ছিল আমার সঙ্গে—কী থাকার কথা এখানে বলা হয়েছে? উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর/ বক্তার যা থাকার কথা বলা হয়েছে: প্রখ্যাত ক্রীড়াসাংবাদিক ও সুসাহিত্যিক মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে সাঁতারু কোনির জীবনে তার দাদা কমলের প্রভাব ছিল অত্যন্ত বেশি রকমের। বাবার মৃত্যুর পর সাঁতারু হওয়ার স্বপ্নে বিভোর কমলকে সাত ভাই-বোনের সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য, দেড়শো টাকা নাইনের বিনিময়ে গ্যারেজের কাজ নিতে হয়। কমল তার সাঁতারু হওয়ার অপূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য কোনিকে উৎসাহ দিত এবং কোনিও দাদার স্বপ্নপূরণের স্বপ্ন দেখত। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই কমল যক্ষ্মা রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায়। মৃত্যুর পরেও কোনি তার দাদা কমলকে এক মুহূর্তের জন্যেও ভুলতে পারেনি। তাই কোনি যখনই সাঁতার কাটত তার মনে হত, একটা মুখ যেন তার সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। সে ক্ষিতীশকে জানিয়েছে—‘জানো ক্ষিদ্দা, রোজ যখন প্র্যাকটিস করি, তখন জলের মধ্যে নীচের দিকে তাকিয়ে মনে হয়, আমার সঙ্গে একটা মুখণ্ড এগিয়ে চলেছে। আর মুখটা ঠিক যেন তার দাদার মতো। আজ অর্থাৎ কমলদিঘির সাঁতার প্রতিযোগিতার দিনেও সেই মুখ তার সঙ্গে ছিল।
,
|| উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য: কোনির সাঁতারু জীবনে সবচেয়ে বড়ো উৎসাহদাতা ছিল তার দাদা কমল। কমলের মৃত্যু বাস্তব হলেও সে কোনির অবচেতন মনে একটা চিরস্থায়ী জায়গা করে নেয়। কারণ কমলই ছিল তার সাঁতারু হওয়ার প্রথম অনুপ্রেরণা তাই কোনি স্বপ্নে দাদার কাছে মেডেল পাওয়ার অঙ্গীকার করে। তাকে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার আবদার জানায়। আসলে কোনির মনোজগতে নিজেরএক পরম প্রিয়জনের শূন্যস্থান তাকে সবসময় আহত করত। তাই জলের নীচে বিভ্রমবশত কোনি তার দাদার মুখ দেখতে পেত। তা ছাড়া আত্মা সম্পর্কিত সংস্কার বা বিশ্বাস থেকেও সে ভয় পেয়েছিল।
