সর্ব কাজে সিদ্ধি মন্ত্রসহ ভূত তাড়ানো মন্ত্র । ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ
![]() |
ষষ্ঠ অধ্যায়
প্রথম পরিচ্ছেদ
তন্ত্রোক্ত বিশিষ্ট মন্ত্র প্রয়োগ
নিম্নে তন্ত্র-শাস্ত্রসম্মত কতকগুলি বিশিষ্ট মন্ত্রের উল্লেখ করা হলো। এর দ্বারা বিভিন্ন প্রকার কার্যসিদ্ধি হয়।
শ্রীহনুমন্তজীর উপাসনা
ধ্যান-
“রামেষ্টমিত্রং জগদেক বীরং,
প্লবঙ্গ রাজেন্দ্রকৃত প্রণামম্।
সুমেরু শৃঙ্গাগমচিন্তামাদ্যং
হৃদি স্মে রহং হনুমন্তমীড্যম্ ।।
উপরোক্ত ধ্যান পাঠ করে শ্রীহনুমানজীর পূজা করতে হবে।
শ্রীহনুমৎ মালা মন্ত্ৰ
“ওঁ বজ্রকায় বজ্রতুণ্ড কপিল পিঙ্গলে ঊর্ধ্বকেশ মহাবল রক্তমুখ তড়িজ্জিহ্বা মহারৌদ্র দংট্রোৎকট কহহ করালিনে মহাদৃঢ় প্রহারিণ লঙ্কেশ্বর বধায় মহাসেতুবন্ধ মহাশৈল প্রবাহ গগনচর এহ্যেহি ভগবন্মহাবল পরাক্রম ভৈরবাজ্ঞাপয় এহ্যেহি
মহারৌদ্র দীর্ঘপুচ্ছেন বেষ্টয় বৈরিণং ভঞ্জয় ভঞ্জয় হুঁ ফট্৷৷”
★
প্রয়োগ — শ্রীহনুমানজীর চিত্র সামনে রেখে ধূপ-দীপ জ্বেলে উপরোক্ত ধ্যানমন্ত্রে
ধ্যান করে যথাসাধ্য উপচারে হনুমানজীর পূজা করবে। পরে শ্রীহনুমৎ মালা মন্ত্র ১০৮ বার পাঠ করবে, পরে গোরোচনা ও কুঙ্কুম দ্বারা উক্তমন্ত্র লিখে রূপার বা তামার মাদুলীতে ভরে হাতে বা গলায় ধারণ করলে সর্বকার্যে সিদ্ধিলাভ হয়।
সিদ্ধিদায়ক মহাবীর মন্ত্র
মন্ত্র– “ওঁ হ্রীং হোং হােং হতে হসফ্রেং হসৌং হনুমতে নমঃ।”
মন্ত্র সিদ্ধি— উপরোক্ত বিধিতে শ্রীহনুমানজীর চিত্র সামনে রেখে ধ্যানাদি সহকারে যথাশক্তি পূজা করবে। পরে উক্তমন্ত্ৰ ২২,০০০ (বাইশ হাজার) জপ করবে, পরে আমের টুকরো ও কলার টুকরো দ্বারা জপের দশাংশ অর্থাৎ ২২০০ (বাইশ শত)
হোম করবে। ২২ জন ব্রাহ্মণ কুমার যাদের পৈতা হয়েছে, তাদের ভোজন করাবে। ফলে মন্ত্র সিদ্ধি হবে। মন্ত্র সিন্ধি হলে মহাবীর তুষ্ট হয়ে সাধককে সিদ্ধি দান করেন।
মন্ত্র - সিদ্ধিদায়ক শ্রীহনুমৎ মন্ত্র
“ওঁ হ্রীং হনুমতে রামদূতায় ।
লাবিধ্বংসনায়াং জনীগর্ভসংশ্রতায়।
শাকিনী ডাকিনী বিধ্বংসলায়।
কিলি কিলি বুবু করেণ বিভীষণায়।
হনুমদেবায় ওঁ হ্রীং শ্রীং ছৌং হ্রাং ফট্ স্বাহা ৷৷
মন্ত্র সিদ্ধি— পূর্বোক্ত বিধিতে পূজা করে উক্তমন্ত্র ১০৮ বার জপ করলে সাধক সিদ্ধি লাভ করে।
পেটের পীড়ানাশক হনুমৎ মন্ত্ৰ
মন্ত্র— “ও শ্রীগুরবে নমঃ। ওঁ জেতে হনুমন্ত রামদূতং চলো বেগ চলো লোহে। বা গদা, বজ্রকা ল্যাংগেটি, পান কা বড়া, তেল সিন্দুর কী পূজা, হহংকার পবনপুত্র কালচক্রহস্ত কুবেরখিলুং মরামসাল খিলুং ভৈরব খিলুং অক্ষ খিলুং বক্ষ পিলু মেরে পে করে খাবং ছাতী ফট্ ফট্ মর্ জায়ে, দেব চল পৃথ্বী খিলু সাড়ে বারে জাত কী বাত কী খিলুং মেঘ কো খিলুং নব কড়ী
নাগ কো খিলুং য়েহি য়েহি আগচ্ছ আগচ্ছ শত্রু মুখ বন্ধনা খিলুং সর্বমুখ
বন্ধনামু খি কাকনী কামনি মুখগ্ৰহ বন্ধনা দিলুং কুরু কুরু স্বাহা।।”
প্রয়োগ ও সিদ্ধি -এই কার্যে ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করে অষ্টগ্রন্থের সাহায্যে ভূর্জপত্রে
“ওঁ অনুমতে নমঃ। মন্ত্রটি লিখে, হনুমানজীকে সিন্দুর ও চামেলী তেল, লাল চন্দন
ও কেশর দিবে। পদ্ম, কেওড়া ও সূর্যমুখী ফুলে পুজা করবে। তুলসী পত্রে রাম নাম শ্বেতচন্দন দিয়ে লিখে হনুমানজীর মাথায় চড়াবে। এইভাবে শয়ন একাদশী থেকে উত্থান একাদশী পর্যন্ত নিত্য পূজা করবে। এইভাবে পূজা করলে শ্রীহনুমানজী প্রসন্ন হয়ে থাকেন ও মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন।
সুগ্রীব মন্ত্ৰ
ধ্যান—“বালং ষোড়শহায়ণং কপিপতিং বহ্নি প্রভাভাসুর।
দোর্ভিবৃত গদা ধনুঃ শরচয়াসং বিভ্রম্ সাদরম্ ।।
বন্দে দেবস্য রূপিণং রঘুপতিং চারাধয়ন্তং মুদা।
ধ্যায়ে হহং ভগবন্তমর্কনয়নং সুগ্রীব দেব হৃদি।।”
মন্ত্র- সিদ্ধিদাতা সুগ্রীব মন্ত্ৰ
“ওঁ হ্রীং ঐং ক্লীং সৌং সুগ্রীবদেবায়।
ক্রৌং ঠঃ ঠঃ হ্রীং ঠঃ স্বাহা।।
মন্ত্র সিদ্ধি— উপরোক্ত মন্ত্র মাত্র ১০৮ বার জপেই সিদ্ধ হয় এবং সাধক অভীষ্ট লাভ করে।
গর্ভরক্ষা নৃসিংহ মন্ত্র
মন্ত্র—“ওঁ নরসিংহায় হিরণ্যকশিপুবক্ষঃস্থল বিদারনায়,
ত্রিভুবন ব্যাপকায়াং ভূত-প্রেত-পিশাচ,
ডাকিনী কুলোৰ্ম্মূলনায় স্তম্ভোদ্ভবায় সর্ব দোষাণ হর হর,
বিসর বিসর, পচ পচ, হন হন, কম্পয় কম্পয়,
মথ মথ হ্রীং হ্রীং হ্রীং ফট্ ফট্,
ঠঃ ঠঃ ঠঃ এহি এহি রাদ্রাজ্ঞাপতি স্বাহা।
ওঁ হ্রীং হ্রীং হ্রীং হুঁ হুঁ হুঁ ফট্ স্বাহা।।”
মন্ত্ৰ সিদ্ধি— দুর্গা পূজার আগের প্রতিপদ থেকে শুরু করে নবমী পর্যন্ত শুদ্ধভাবে
★ পরের পৃষ্ঠা দেখুন
বসে প্রত্যহ ১০৮ বার জপ করলে মন্ত্রসিদ্ধ হবে।
প্রয়োগ- ১। শ্বেত সরিষা নিয়ে উক্তমন্ত্রে ৭ বার অভিমন্ত্রিত করে, যার জন্য পড়বে, তার নাম করে তালি বাজালে, তার গর্তরক্ষা হবে।
প্রয়োগ — ২। গোরোচনা ও কুক্কুম দ্বারা উক্ত মন্ত্র ভূর্জপত্রে লিখে গর্তিনীকে ধারণ করালে, তার গর্ভরক্ষা হয়।
ভূত-প্রেতাদি ভয় নিবারক নৃসিংহ মন্ত্র
মন্ত্র—– “ওঁ নমো ভগবতে নরসিংহায়,
নমস্তে নমস্তে জন্তে জসে,
আবিশঃ বিভব বজ্র বজ্রদংষ্ট্রে,
কমর্শয়া বন্ধয় বন্ধয় নমো,
গ্রস গ্রস স্বাহা।
অভয় বিভূয়িষ্ঠা ওঁ ক্ষোং
মন্ত্র সিদ্ধি—শুদ্ধভাবে বসে ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে উক্ত মন্ত্র ১১,০০০ (এগারো হাজার)
জপে সিদ্ধ হয়।
প্রয়োগ— উক্ত সিদ্ধমন্ত্র প্রত্যহ ১০৮ বার জপ করলে, ভূত-প্রেত প্রভৃতির কোনও ভয় থাকে না। ভূত-প্রেতাদির উপদ্রব নাশ হয়।
জয় প্রদায়ক নৃসিংহ মন্ত্ৰ
মন্ত্ৰ — -“ওঁ জয় জয় শ্রীনৃসিংহ।'
"
মন্ত্র সিন্ধি— শুদ্ধভাবে উক্ত মন্ত্ৰ ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) জপে সিদ্ধ হয়।
প্রয়োগ— মন্ত্র সিদ্ধির পর উক্ত সিদ্ধমন্ত্র প্রত্যহ ১০৮ বার জপ করলে সকলস্থানে জয়লাভ হয়।
বিঘ্ননাশক নৃসিংহ মন্ত্ৰ
“ওঁ নৃং নৃং নৃং নৃসিংহায় নমঃ।”
মন্ত্র সিদ্ধি — শুদ্ধভাবে উপরোক্ত মন্ত্রটি ১০০৮ (এক হাজার আট) বার জপে মন্ত্র সিদ্ধি হয়। সাধকের সর্বপ্রকার বাধা-বিঘ্ন দূর হয়।
প্রয়োগ— মন্ত্র সিদ্ধির পর উত্তমন্ত্র প্রত্যহ ১০০৮ (এক হাজার আট) বার জপ
★ পরের পৃষ্ঠা দেখুন
★
করলে ধনৈবার্য্য বৃদ্ধি ও সুখলাভ হয়।
লক্ষ্মী লাভার্থ নৃসিং
মন্ত্র- “ হ্রীং কোং শ্রীং লক্ষ্মী নৃসিংহায় নমঃ ।"
মন্ত্র সিদ্ধি— শুদ্ধভাবে উপরোক্ত মন্ত্র ২,৫০,০০০ (দু' লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) জপ করলে মন্ত্র সিদ্ধি হয় এবং জপকারী লক্ষ্মী লাভ করে। তার সুখৈশ্বর্য বৃদ্ধি পায়।
কার্তবীর্যার্জুন মন্ত্ৰ
ধ্যান—“সহস্ৰভুজ মণ্ডলীজিততভী চরেণধিপং,
হিমাংশু সদৃশাননম্ ধৃতসখভুর্ণীকরম্।
সিতাম্বর ধরং সদা তুরগরাজ মধ্যস্থিতং,
স্মরামি সদা হৃদি তু কার্তবীৰ্য্যার্জুনম্।।”
উপরোক্ত রূপে কার্তবীর্যার্জুনের ধ্যানান্তে যথাসাধ্য উপচারে কার্তবীর্যের পূজা করবে।
মন্ত্ৰ- কার্তবীর্য আকর্ষণ মন্ত্ৰ
“ওঁ ঝাং ঝাং ঝাং হাং হাং হাং হেং হেং স্বাহা।”
মন্ত্র সিদ্ধি ও প্রয়োগ— কার্তবীর্যের পূজা করে উপরোক্ত মন্ত্র ১০০৮ (একহাজার আট) জপে মন্ত্র সিদ্ধি হয় এবং যে কোনও মানুষ বা বস্তুকে আকর্ষণ করা যায়। যদি ১০০৮ (এক হাজার আট) জপে কার্য সিদ্ধি না হয়, তা হলে কার্যসিদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত জপ করে যেতে হবে।
মন্ত্র- হারানো বস্তু পুনরুদ্ধার জন্য
কার্তবীর্য মন্ত্ৰ
প্রথম প্রকার
মন্ত্র -“ওঁ ফ্রৌং ব্রীং ক্লীং ভ্রূং আং হ্রীং ক্রৌং,
শ্রীং হুং ফট্ কার্তবীর্যার্জুনায় নমঃ।”
মন্ত্র সিদ্ধি ও প্রয়োগ- উপরোক্ত মন্ত্রটি ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) জপে সিদ্ধ হয়, মন্ত্র সিদ্ধি হলেই হারানো জিনিসের সন্ধান পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় প্রকার
মন্ত্র– “ওঁ ফৌং হ্রীং ক্লীং ব্রীং জাং শ্রীং ক্রৌং,
(পরের পৃষ্ঠা দেখুন)
ঐং হৌং হুং ফট্ কার্তবীর্যার্জনায় স্বাহা।”
মন্ত্র সিদ্ধি ও প্রয়োগ — উপরোক্ত মন্ত্রটিও ১,০০,০০০ (একলক্ষ) জপে সিদ্ধ
হয়, এবং মন্ত্র সিদ্ধি হলে সাধক হারানো বস্তুর সন্ধান পায়।
কার্তবীর্য রাজ বশীকরণ মন্ত্র
মন্ত্র—– “ওঁ নমো ভগবতে শ্রীকাতৰীয়াজুনায় সৰ্বদৃষ্টান্তকায় তপোবল পরাক্রম
পরিপালিত সপ্তদ্বীপায় সর্বরাজন্য চূড়ামনিয়ে মহাশক্তিমতে সহস্র বাহবে হুং ফট্।।
মন্ত্র সিদ্ধি— উপরোক্ত মন্ত্রটি ১০,০০০ (দশ হাজার) জপে সিদ্ধ হয়।
প্রয়োগ- যন্ত্র সিদ্ধির পর উক্ত সিদ্ধমন্ত্র ১০০৮ (এক হজার আট) বার জপ করে রাজার কাছে গেলে রাজা বশীভূত হয়।
সর্বরক্ষা শ্রীনারায়ণ মন্ত্র
বিধি— শুদ্ধভাবে ও শুদ্ধাসনে বসে ধূপ-দীপ জ্বেলে ফুল তুলসী ও শ্বেতচন্দন দ্বারা নারায়ণের পূজা করবে, সেই সঙ্গে সাধ্যমত উপচারও দান করবে। পরে ১০৮ বার নারায়ণ গায়ত্রী জপ করতে হবে।
নারায়ণ গায়ত্রী—“ও নারায়ণায় বিদ্মহে বাসুদেবায় ধীমহি তন্নো বিষ্ণুঃ প্রচোদয়াৎ।
তারপর মন্ত্র ১০৮ বার জপ করবে।
"ওঁ নমো ভগবতে শ্রীনারায়ণায় নমঃ,
নারায়ণায় বিশ্বমূর্তয়ে নমঃ।
শ্রীপুরুষোত্তমায় দুষ্টবুদ্ধি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ
অজীর্ণপচবিষুচিকাং হন হন
একাহিকং স্বাহিকং এ্যাহিকং চাতুৰ্থিকং
জ্বরং নাশয় নাশয় শোষয় শোষয়,
আকর্ষ আকর্ষয় শত্রুন্ মারয় মারয়,
উচ্চার্টয়োচ্চাটয় বিদ্বেষয় বিদ্বেষয়,
স্তম্ভয় স্তম্ভয় নিবারয় নিবারয়,
বিটন জন জন দহ দহ মথ মথ,
বিধ্বংসয় বিধ্বংসয় চক্রং গৃহীত্বা,
শীঘ্রমাপচ্ছাপ চক্রেণ হত্বা পরবিদ্যাং
(পরের পৃষ্ঠা দেখুন)
বিস্ফোটয় বিস্ফোটয় অর্শ বাত শূল,
দৃষ্টি সর্গ সিংহ ব্যাঘ্র দ্বিপদ চতুষ্পদ
পাদবাহ্যাপি বিস্তৃব্যন্তরীক্ষে অন্যে এপি
কেচিৎ তাদুেযাকানুসবলি
হন হন বিদ্যুন্নেপ্রদীপরতাটবীসবং স্থানা,
রাত্রি দিন পথ চৌরান্ বশং কুরু কুরু করিঃ।
ওঁ নমো ভগবতে হীং
ঠ ঠং ঠং ঠং ঠ: নমঃ ।।"
বিধি- প্রত্যহ স্নানান্তে শুদ্ধবস্ত্রে শুদ্ধাসনে পূর্বমুখে বসে উপরোক্ত নারায়ণ গায়ত্রী এবং নারায়ণ মন্ত্র ১০৮ বার করে প্রত্যহ জপ করলে, সবদিক থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়।






