চিঠি কবিতার হাতে-কলমে অনুশীলন প্রশ্নের উত্তর । সপ্তম শ্রেণী বাংলা। - school book solver

Friday, 26 December 2025

চিঠি কবিতার হাতে-কলমে অনুশীলন প্রশ্নের উত্তর । সপ্তম শ্রেণী বাংলা।

 


চিঠি কবিতা
কবি জসীমউদ্দিন
অধ্যায় -৮
সপ্তম শ্রেণী

কবি পরিচিতি
কবি জসীমউদ্দিন ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার অম্বিকাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মৌলবি আনসার উদ্দিন আহমেদ ছিলেন পেশায় শিক্ষক। মা ছিলে আমিনা খাতুন। জসীমউদ্দিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ পাস করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। কবির উল্লেখযোগ্য কবিতার বইগুলি হল।'নক্সী কাঁথার মাঠ' (১৯২৯), 'সোজন বাদিয়ার ঘাট', 'বালুচর' (১৯৩০), ‘ধানক্ষেত' (১৯৩২), 'রাখালী' (১৯৩৩) প্রভৃতি। ‘বেদের।মেয়ে' (১৯৫১) হল তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনা। জসীমউদ্দিন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ডিলিট উপাধিতে সম্মানিত হন। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদক' দ্বারা সম্মানিত।করেন। বাংলা সাহিত্যে 'পল্লিকবি' রূপেই তিনি সবচেয়ে পরিচিত। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ মার্চ তিনি মারা যান।

সারসংক্ষেপ
“চিঠি” কবিতায় কবি তাঁকে পাঠানো নানান চিঠিতে বর্ষার রূপ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। প্রথমেই ভোরের ছবি ফুটে উঠেছে লাল মোরগের
চিঠিতে। চখাচখি কবিকে দিয়েছে বালুচরের খবর। সেই চিঠিতেই কবি জানতে পেরেছেন বর্ষার ঢেউ বালুচরে কী কী লিখে গেছে।।গাঙশালিকও কবিকে গাঙের পাড়ের মোড়ল হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। শিল্পী-পাখি বাবুইয়ের কারুকাজ করা চিঠিতে কবি দারুণ এক শিল্পকর্মকে খুঁজে পেয়েছেন। কবি বর্ষার ফসল ও খেতের খবর।পেয়েছেন কোড়াকুড়ীর চিঠিতে। এইসব চিঠিই কবি কোনো-না- কোনো পাখির কাছ থেকে পেয়েছেন। এরপর কবি চিঠি পেলেন তাঁর খোকা ভাইয়ের কাছ থেকে। দূর আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে যে পাখিরা  মেঘেদের পাড়ায় পড়াতে যায়, তাদেরই পড়াগুলি বর্ণ হয়ে খোকা ভাইয়ের চিঠিটিতে ধরা পড়েছে। এই বর্ণগুলোই চিঠিটিকে কবির কাছে শীতের সোনা রোদের মতো মিঠে করে তুলেছে। কবির নির্জন ধরে এই চিঠি পাওয়ার আনন্দ যেন নূপুরের মতো ঝুমুর ঝামুর বাজছে। সব।মিলিয়ে এই কবিতায় পল্লিকবি জসীমউদ্দিন প্রকৃতি ও মানুষের সুন্দর সম্পর্কের কথা শুনিয়েছেন।
নামকরণ
যে-কোনো সাহিত্যসৃষ্টির ক্ষেত্রেই নামকরণের একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকে। এর কারণ হল নামকরণের মধ্য দিয়েই সাহিত্যিক রচনাটির বিষয়বস্তুর সঙ্গে পাঠকের পরিচয় করিয়ে দেন। কবিতার ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায়, কবি নামকরণের সাহায্যেই মূলভাবটির একটি ধারণা পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন।
‘চিঠি' কবিতাতে কয়েকটি চিঠির মাধ্যমে কবি জসীমউদ্দিন পল্লিবাংলার রূপকে তুলে ধরেছেন। কবি তাঁকে পাঠানো কয়েকটি চিঠি বা বার্তার মধ্যে এই অপরূপ রূপের বর্ণনা পেয়েছেন। প্রথমে বিভিন্ন।পাখির কাছ থেকে বার্তা পেয়ে কবির মন আনন্দে ভরে উঠেছে। কবি জানিয়েছেন, লাল মোরগ, চখাচখি, গাঙশালিক আর বাবুইপাখির কাছ থেকে তিনি চিঠি পেয়েছেন। কবির চিঠি এসেছে কোড়াকুড়ির কাছ থেকেও। বর্ষাকালের ফসলের খেত থেকে তারা জানিয়েছে সবুজ
পাতাগুলি জলে ডুবে গিয়ে দুলছে। মনে হচ্ছে তারা যেন আনন্দে নেচে।উঠছে। এই চিঠিতে কবি আরও জানতে পেরেছেন আকাশজুড়ে মেঘের ডাকের কথা আর উদাস বাতাসের মনখারাপের গল্প। এই চিঠিগুলি থেকে তিনি জেনেছেন প্রকৃতির নানান খবর। সবশেষে কবি
জানিয়েছেন, তাঁর খোকা ভাইয়ের থেকে পাওয়া চিঠির কথাও। সেই চিঠি শীতের ভোরের রোদের মতোই মিষ্টি। এইসব চিঠি কবির মনকে
আনন্দময় প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম করে তুলেছে। তাই চিঠি পড়ার।আনন্দের কথাই এই কবিতায় বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে। সে কারণেই
বলা যায়, কবিতাটির নামকরণ সার্থক ও যথাযথ হয়েছে।

'হাতেকলমে' প্রশ্নের উত্তর

১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও
১.১ কৰি জসীমউদ্দিনকে বাংলা কাব্যজগতে কোন্ অভিধায় অভিহিত করা হয়েছে?
উত্তর: কবি জসীমউদ্দিনকে বাংলা কাব্যজগতে ‘পল্লিকবি' অভিধায় অভিহিত করা হয়েছে
১.২ তাঁর লেখা দুটি কবিতার বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: কবি জসীমউদ্দিনের লেখা দুটি বিখ্যাত কবিতার বই হল 'নক্সী কাঁথার মাঠ' এবং 'রাখালী'।

২.  নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।
২.১ কবি কার কার থেকে চিঠি পেয়েছেন ?

উত্তর: কবি প্রথমে লাল মোরগের চিঠি পেয়েছেন। তারপর একে একে কবিকে চিঠি দিয়েছে চখাচখি, বাবুই পাখি এবং কোড়াকুড়ী।
সবশেষে কবি তাঁর খোকা ভাই-এর কাছ থেকে চিঠি পেয়েছেন।

২.২ লাল মোরগের পাঠানো চিঠিটি কেমন ?
উত্তর: সদ্য ফোটা ভোরের আলোর বার্তা নিয়ে লাল মোরগ কবিকে যে চিঠি পাঠিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ভোর-জাগানো সুর আর উষার
রঙিন হাসির ছবি।
২.৩ চখাচখি কেমন চিঠি পাঠিয়েছে?
উত্তর: চখাচখি নদীর ধারের বালুচরের খবর জানিয়ে কবিকে চিঠি পাঠিয়েছে। বর্ষা এসে ঢেউয়ের সাহায্যে বালুচরে নানা বার্তা লিখে
গেছে। গাঙশালিকের গাঙের পাড়ের মোড়ল হওয়ার জন্য আমন্ত্রণের কথাও সেখানে লেখা রয়েছে।
২.৪ গাঙশালিক তার চিঠিতে কী বলেছে?
উত্তর: চিঠি' কবিতায় গাঙশালিক তার পাঠানো চিঠিতে কবিকে “গাঙের পাড়ের মোড়ল' হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
২.৫ বাবুই পাখির বাসার থেকে আসা চিঠিটি কেমন?
উত্তর: বাবুই পাখির পাঠানো চিঠিটা তার সূক্ষ্ম কারুকাজ করা বাসার মতোই সুন্দর। ধানের পাতা আর তালের পাতায় বোনা নানান নকশা-আঁকা সেই চিঠিটি কবিকে অনাবিল আনন্দ দিয়েছিল।

২.৬ কোড়াকুড়ীর পাঠানো চিঠিটির বর্ণনা দাও।
উত্তর: বর্ষাকালে ফসলের খেতে বৃষ্টির জলে কচিপাতার নাচন, গুরুগুরু শব্দে মেঘের ডাক যা অনেকটা কান্নার মতো, উদাস বাতাসের মন খারাপের গল্প—এই সব কথাই কবি কোড়াকুড়ীর পাঠানো চিঠি থেকে জানতে পেরেছেন।

২.৭ কার চিঠি পাওয়ায় কবির মনে হয়েছে নিখিল বিশ্ব তাঁকে চিঠি পাঠিয়েছে?
উত্তর: কবির খোকা ভাইয়ের লেখা চিঠিতে সমগ্র প্রকৃতির একটি সুন্দর বর্ণনা রয়েছে, যা পড়ে কবির মনে হয়েছে নিখিল বিশ্বই তাঁকে চিঠি পাঠিয়েছে।
২.৮ এই কবিতায় কোন্ ঋতুর প্রসঙ্গ রয়েছে?
উত্তর। এই কবিতায় মূলত বর্ষাকালের প্রসঙ্গই রয়েছে। তবে কবিতার শেষে খোকা ভাইয়ের চিঠির প্রসঙ্গে কবির মনে শীতকালের প্রসঙ্গ এসেছে।

২.৯ কবিতায় অন্য ঋতুর পটভূমি সত্ত্বেও খোকা ভাইয়ের চিঠি লেখনখানি শীতের ভোরের রোদের মতো' মিঠে হওয়ার তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।

উত্তর: শীতকালের ভোরে এক চিলতে রোদও আমাদের আরাম দেয়। এই রোদের উত্তাপ আরও উষ্ণ হয়ে ধরা দেয় গ্রামবাংলার দরিদ্র পল্লিবাসীদের কাছে। তাদের কাছে এই উত্তাপ প্রবল শীতে প্রকৃতির আদরের মতোই। অন্যদিকে থোকা ভাইয়ের পাঠানো চিঠিও কবির কাছে পরম আদরের। তাঁর কাছে এই চিঠির মূল্য অসীম। তাই চিঠিটি হাতে পেয়ে কবি অত্যন্ত সুখ অনুভব করেন। এই সুখকে অনেকটা 'শীতের ভোরের রোদের মতো' মনে হয় কবির।

২.১০ “খুশির নূপুর ঝুমুর ঝামুর বাজছে আমার নিরালাতে।” পঙক্তিটির অর্থ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: ‘নিরালা' শব্দটির অর্থ নিরিবিলি বা নির্জন। কবি যে জায়গায় থাকেন, সেই পরিবেশটিও নির্জন। তা সত্ত্বেও নানান জনের কাছ থেকে পাওয়া নানান চিঠিতে তিনি প্রকৃতির প্রচুর খবর পেয়েছেন।
যদিও তাঁর মনে সবচেয়ে বেশি আনন্দের সঞ্চার করেছে তাঁর খোকা ভাইয়ের লেখা একখানি চিঠি। ফলে তাঁর চারপাশ এখন আর নির্জন নয়। তা খুশি আর আনন্দে ভরে উঠেছে। কবির মনে হয়েছে, এই আনন্দই নূপুরের মতো ঝুমুর ঝামুর শব্দ তুলে কবির চারপাশের পরিবেশকে মুখরিত করে তুলেছে।

৩. কবিতা থেকে এমন তিনটি শব্দ খুঁজে বের করো যা কোনো ধ্বনির অনুকরণে তৈরি। একটি উদাহরা দেওয়া হল। যেমন—কলকল
উত্তর: [১] কিচিরমিচির, [২] গুরুগুরু, [৩] ঝুমুর ঝামুর।
৪ শব্দঝুড়ি থেকে ঠিক শব্দ নিয়ে শূন্যস্থানে বসাও:

[ স্রোতে ,রঙিন,, গঙ্গা, সোঁতে, ক্রন্দন ]
উত্তর: রঙ্গিন > রঙিন, গঙ্গা > গাঙ, স্রোতে > সোঁতে, ক্রন্দন > কাঁদন।

৫ 'ঢেউ-এ ঢেউ-এ'—এখানে 'ঢেউ-এ' শব্দটি পরপর দু বার ব্যবহার হওয়ায় অর্থ দাঁড়িয়েছে, 'অজস্র ঢেউ-এ'।
অর্থাৎ একই শব্দ পরপর দু-বার ব্যবহারে বহুবচনের ভাব তৈরি হয়েছে। এই কবিতাটি থেকে আরও তিনটি অংশ উদ্ধৃত করো যেখানে এমন ঘটেছে।

উত্তর: পরপর দু-বার ব্যবহারে বহুবচনের ভাব তৈরি হয়েছে এমন আরও তিনটি অংশ–
[১] কত কী কী—অনেক কিছু অর্থে।
[২] পাখিরা সব ঝাঁকে ঝাঁকে অনেক ঝাঁক' অর্থে। [৩] দেয়ার ডাকে—বহুবার ডাকছে অর্থে।

৬. গাঙের পাড়ের মোড়ল'—শব্দবন্ধটিতে পরপর দু-বার
'এর' সম্বন্ধ বিভক্তিটি এসেছে। কবিতা থেকে এমন আরও শব্দবন্ধ খুঁজে বের করো যেখানে পরপর দু- বার 'র' বা 'এর' বিভক্তি প্রয়োগে সম্বন্ধ পদ তৈরি হয়েছে।

উত্তর: পরপর দু-বার 'র' বা 'এর' বিভক্তি প্রয়োগে সম্বন্ধপদ তৈরি হয়েছে এমন আরও তিনটি উদাহরণ হল [১] 'মোরগের ভোর- জাগানোর';
[২] 'চখাচখির বালুচরের'
[৩] 'কোড়াকুড়ী বর্ষাকালের':
[৪] 'শীতের ভোরের রোদের'।

৭. কর্তা কর্ম-কিয়া পদক্রম অনুসারে নীচের বাক্য- গুলিকে আবার লেখো
৭.১  লিখে গেছে গাঙশালিকে গাঙের পাড়ের মোড়ল হ'তে।
উত্তর: গাঙশালিকে গাঙের পাড়ের মোড়ল হতে লিখে গেছে।
৭.২ ইহার সাথে পেলুম আজি খোকা ভাইয়ের একটি চিঠি।
উত্তর: আজি ইহার সাথে খোকা ভাইয়ের একটি চিঠি পেলুম।
৭.৩ সবুজ পাতার আসরগুলি নাচছে জল-ধারায় মেতে।
উত্তর: সবুজ পাতার আসরগুলি জল-ধারায় মেতে নাচছে।
৭.৪ উদাস বাতাস আছড়ে বলে কে যেন বা চাইছে কাকে।
উত্তর: উদাস বাতাস আছড়ে বলে কে যেন বা চাইছে কাকে।
৭.৫ শীতের ভোরের রোদের মতো লেখনখানি লাগছে মিঠি
উত্তর: লেখনখানি শীতের ভোরের রোদের মতো মিঠি লাগছে।

৮. নীচের বাক্যগুলিকে ভেঙে দুটি বাক্যে পরিণত করো।
৮.১ চিঠি পেলুম লাল মোরগের ভোর-জাগানোর সুর-ভরা।
উত্তর: [১] লাল মোরগের চিঠি পেলুম।
[২] সেই চিঠিখানি ভোর-জাগানোর সুর-ভরা।

৮.২ সবুজ পাতার আসরগুলি নাচছে জল-ধারায় মেতে।
উত্তর: [১] সবুজ পাতার আসরগুলি নাচছে।
[২] আসরগুলি জল-ধারায় মেতে নাচছে।
৮.৩ শীতের ভোরের রোদের মতো লেখনখানি লাগছে মিঠি।
[১] লেখনখানি শীতের ভোরের রোদের মতো।
উত্তর :
[২] তা মিঠি লাগছে।

৮.৪ আকাশজুড়ে মেঘের কাঁদন গুরুগুরু দেয়ার ডাকে
উত্তর:
[১] গুরুগুরু দেয়া ডাকছে।
[২] সেই ডাকে আকাশজুড়ে মেঘের কাঁদন।

৮.৫ লিখে গেছে গাঙশালিকে গাঙের পাড়ের মোড়ল হ'তে
উত্তর- (১)  গাঙশালিকে লিখে গেছে।
(২) সে গাঙের পাড়ের মোড়ল হতে লিখেছে।

৯.  নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো ।
৯.১ কবি প্রকৃতির কোন্ কোন্ প্রতিনিধির কাছ থেকে কেমন সমস্ত চিঠি পেয়েছিলেন, বিশদে লেখো।
উত্তর: কবি প্রকৃতির যে সমস্ত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে চিঠি পেয়েছিলেন তারা হল—লাল মোরগ, চখাচখি, বাবুইপাখি এবং কোড়াকুড়ী। প্রকৃতির খুব কাছের এইসব পাখি কবিকে চিঠি দিয়ে
প্রকৃতির সংবাদ জানিয়েছে। যেমন—
লাল মোরগের চিঠি: লাল মোরগের চিঠিতে কবি ভোরবেলায় সবেমাত্র জেগে ওঠা সূর্যের সুন্দর
ছবি দেখতে পেয়েছেন। সেই ঊষাকালে নরম রোদের মিষ্টি আলো লাল মোরগের পাখায় রঙিন আভা ছড়িয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে, চারিদিক যেন রঙিন হাসিতে ভরে গেছে।
চখাচখির চিঠি: চখাচখি তার চিঠির মাধ্যমে ঝকমকে বালুচরের গায়ে বর্ষা কী কী লিখে গেছে তার খবর কবিকে জানিয়েছে। গাঙশালিক কবিকে গাঙের পাড়ের মোড়ল হওয়ার ডাক দিয়েছে।
বাবুই পাখির চিঠি; বাবুই পাখির চিঠি শুধু পড়তেই নয়, দেখতেও ভারি সুন্দর। ধান এবং তালের পাতায় বোনা সুন্দর নকশার সেই চিঠিটি তাই কবিকে আনন্দ দিয়েছে।
কোড়াকুড়ীর চিঠি: প্রকৃতির শেষ প্রতিনিধি হল কোড়াকুড়ী। বর্ষার জলধারায় ফসলের খেতে সবুজ পাতারা কীভাবে নেচে উঠেছে, তা কবি কোড়াকুড়ীর চিঠি থেকে জানতে পেরেছেন। তা ছাড়া আকাশজুড়ে মেঘের ডাক এবং উদাস বাতাসের মন খারাপের কথাও
কবি এই চিঠির মাধ্যমে জানতে পেরেছেন।
শেষের কথা: এককথায় প্রকৃতির প্রতিনিধিরা তাদের চিঠির মাধ্যমে বর্ষাপ্রকৃতির নানা রূপ কবির সামনে তুলে ধরেছে।
৯.২ খোকা ভাইয়ের চিঠিটির প্রসঙ্গে কবি যে সমস্ত উপমা ও তুলনাবাচক শব্দ ব্যবহার করেছেন তাদের ব্যবহারের সার্থকতা বুঝিয়ে দাও‌।
উত্তর: খোকা ভাইয়ের চিঠির প্রসঙ্গে ব্যবহৃত উপমা ও তুলনাবাচক শব্দগুলি হল—
১। শীতের ভোরের রোদের মতো: শীতকালে ভোরের নরম মিষ্টি রোদ মনকে সতেজ এবং ভালো করে দেয়, খোকা ভাইয়ের
চিঠিটিও কবির কাছে একই রকম আনন্দদায়ক ও মন-ভালো- করা। এই উপমাটি ব্যবহার করে কবি বোঝাতে চেয়েছেন, এই চিঠি কবিকে কতখানি খুশি করেছে।
২। আকাশের সুনীল পাতা: সারা আকাশকেই কবি চিঠি লেখার নীল রঙের পাতা হিসেবে কল্পনা করেছেন।
৩। মেঘের পাড়ায়: মেঘের রাজ্যে প্রতিদিন ঘটে চলা নানান ঘটনা নিয়ে সকলেরই প্রবল উৎসাহ। কবি এক-একটি মেঘকে এক-একটি পাড়া বলে কল্পনা করেছেন। সেখানে পাঠশালায় কেউ পড়াচ্ছে এবং সেই পাঠের হরফ খোকা ভাইয়ের চিঠিতে এসে জমা হচ্ছে।
৪। খুশির নূপুর: 'নূপুরের শব্দ নিজের উপস্থিতি সকলকে জানান দেয় এবং পরিবেশকে মুখরিত করে। কবির চিঠি পাওয়ার খুশিও তেমনই চারপাশের নির্জন পরিবেশকে আনন্দময় করে তুলেছে।
তাই নিজের খুশিকে কবি নূপুরের ধ্বনির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
সব দিক থেকে বিবেচনা করে বলা যায়, এই উপমাগুলি নিঃসন্দেহে যথার্থ ও সার্থক হয়েছে।

৯.৩ তোমার প্রিয় বন্ধুকে তোমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের ঘটনাটি জানিয়ে একটি চিঠি লেখো।
উত্তর:
                    তারিখ: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

প্রিয় কাজল,
আজ বিকেলে স্কুল থেকে হস্টেলে এসে ঢুকতেই ক্লাস নাইনের সুবিরদা দুদ্দাড় করে ছুটে এল। বলল, "নে, যার কথা তুই সবসময়
বলিস, সেই অনীশই তোকে এবার চিঠি পাঠিয়েছে।” এখন রাত সাড়ে নটা বাজে। খাওয়া দাওয়ার পর তোকে এই চিঠিটা লিখতে বসলাম। আজ তোর চিঠিটা পড়ে আমার ক্লাস ফাইভ থেকে ফার্স্ট হয়ে সিক্সে ওঠার দিনটার কথা ভীষণভাবে মনে পড়ে গেল। বাবা মার্কশিট দেখেই স্কুলের বাইরের বুকস্টল থেকে কিনে দিলেন
'মোল্লা নাসিরুদ্দীনের গল্প'। ক্লাস শুরু হবে সেই জানুয়ারিতে। শিয়ালদহ থেকে বহরমপুর পর্যন্ত ট্রেনে যেতে যেতেই বইটা পড়া শেষ। সত্যজিৎ রায় কী যে অপূর্ব লিখেছেন গল্পগুলো, আর কত সুন্দর ছবি। গরমের ছুটিতে তোকে পড়তে দেব। তোর দিদি এবং কাকু কাকিমাকে আমার প্রণাম জানিয়ে শেষ করছি। ভালোবাসা নিস।
          ইতি তোর বন্ধু
                     মলয়

হোসেনপুর
পূর্ব বর্ধমান
723415