একুশের কবিতা আশরাফ সিদ্দিকী হাসে কলমে অনুশীলন প্রশ্নের উত্তর সপ্তম শ্রেণি বাংলা - school book solver

Tuesday, 23 December 2025

একুশের কবিতা আশরাফ সিদ্দিকী হাসে কলমে অনুশীলন প্রশ্নের উত্তর সপ্তম শ্রেণি বাংলা

 


একুশের কবিতা
কবি - আশরাফ সিদ্দিকী

 সপ্তম শ্রেণি বাংলা
লেখক পরিচিতি
অধুনা বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলায় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে কবির জন্ম হয়। তিনি হলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি, লেখক তথা খ্যাতনামা লোকতত্ত্ববিদ। একসময় পাক্ষিক মুকুল পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। তাঁর রচিত কাব্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘বিষকন্যা’, ‘উত্তর আকাশের তারা', 'কাগজের নৌকা' প্রভৃতি।
সংক্ষিপ্তসার
১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে যে-ভাষা আন্দোলন হয়েছিল, সেই আন্দোলনকে মাথায় রেখে কবি আশরাফ সিদ্দিকী তাঁর ‘একুশের কবিতা” নামক কবিতাটি রচনা করেছেন। 'পাখি সব করে রব' মদনমোহন তর্কালঙ্কারের লেখা তিন খণ্ডে সম্পূর্ণ 'শিশুশিক্ষা' গ্রন্থের ‘প্রভাতবর্ণন' কবিতা দিয়ে শুরু হয়েছে। এই কবিতায় কবি বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের স্বরূপ তুলে ধরেছেন। কবির স্মৃতিপটে ভেসে উঠেছে হারানো শৈশবের ছবি।
রাত শেষ হয়ে সকাল এল। কানে ভেসে এল পাখিদের কলকাকলি। সেইসঙ্গে বাগানে ফুলের কুঁড়িগুলিও পাপড়ি মেলতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের এই সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে ছেলেদের মন ভরে গেল। এর মধ্যেই কবির নিজের দেশ-মাঠ-বন-নদীর উপস্থিতি রয়েছে। ভাষায় ও সুরের দোলায় একে একে কানে বাজতে থাকল জারিগান, সারিগান, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি-সহ নানা গান ও তাদের সুর। সুরের সঙ্গে সুর মিশে কবির মনের মধ্যে ফুটে উঠল বাংলা মায়ের মুখ, আর তাঁর গাওয়া কত না গানের কলি'। হঠাৎ ভাষা আন্দোলনে বিন্নি ধানের মাঠের ধারে শোনা
গেল গুলির আওয়াজ। থেমে গেল পাখিদের গান। গুলির আঘাতে তারা ঝরে গেল/ পড়ে গেল মাটিতে'। তাদের শোকে কালবৈশাখীর ঝড় উঠল। সেই ঝড়ের দাপটে কেঁপে উঠল বাংলাদেশের মাঠ-ঘাট-হাট-বাট-বন-মন। ইতিহাস থমকে দাঁড়াল। লেখা হল করুণ গাথা। তাই হাজার পাখির কলতানে দিগন্ত মুখরিত হল। দেখা গেল একুশের মিছিলে কবির মা দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বাংলায় কথা বলতে বড়ো ভালোবাসেন। কারণ বাংলা ভাষার কথা ও ছড়ার ছন্দে রূপকথা আর মিষ্টি সুরের ফুল ছড়ানো রয়েছে।
তাইতো প্রতিটি মা-ই একুশের মিছিলে গুন গুন করে গেয়ে ওঠেন—'পাখি সব করে রব' কবিতাখানি।
বিষয়বস্তু
'একুশের কবিতা' বাংলা ভাষা আন্দোলনে শহিদ হওয়া ও মাতৃভাষার মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠা করে। বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে কবি ভীষণ স্মৃতিমেদুর হয়ে পড়েছেন। আবাল্য পাঠ্য।'প্রভাতবর্ণন' কবিতাতেই বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের পূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে। তাকে ঘিরেই কবির তথা সকলের বেড়ে ওঠা। এর মধ্যেই প্রতিটি বাংলা ভাষাভাষীদের আন্তরিক মনন এবং তার সার্বিক বিকাশ ও প্রকাশ ঘটে।

নামকরণ
‘একুশের কবিতা’টি বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কবিতা।
‘একুশে ফেব্রুয়ারি' দিনটিকে ঘিরে বাংলা ভাষাভাষীদের উন্মাদনা একটা অন্যতর মাত্রায় পৌঁছে যায়। এই দিনে বিশ্বের প্রতিটি মাতৃভাষা সর্বাঙ্গীণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫২
খ্রিস্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারিতেই বাংলা ভাষায় মর্যাদাপ্রতিষ্ঠার জন্য তৎকালীন পাক-সেনার গুলিতে ভাষা-আন্দোলনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রফিক, সালাম, বরকত, রহমান, ও জব্বার প্রাণ দেন। সেই থেকেই 'একুশ'কে ঘিরে বাংলাভাষীরা এক শাশ্বত উৎসাহে নিজেদের ডুবিয়ে রাখে। তারই শেষ
মর্যাদা প্রদানে ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ নভেম্বর ‘ইউনেস্কো' ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে আন্তর্জাতিক ‘মাতৃভাষা দিবস' তথা 'ভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে। সুতরাং 'একুশ' শুধু আর বাঙালি নয়। তা বিশ্ববাসীর হয়ে ওঠে আর এভাবেই একুশের কবিতা নামকরণ সার্থক হয়ে ওঠে।

হাতে কলমে প্রশ্নের উত্তর
১. এই কবিতায় কিছু চন্দ্রবিন্দু-যুক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। “কাঁপালো” এবং “দাঁড়িয়েছেন'। প্রসঙ্গত
দুটি শব্দই ক্রিয়া। চন্দ্রবিন্দু দিয়ে শুরু এমন পাঁচটি অন্য ক্রিয়া ব্যবহার করে পাঁচটি বাক্য লেখো।

একটি করে দেওয়া হল, হাঁটা।
কাঁদা— ছেলেটা কাঁদছে কেন বোঝা গেল না।
খোঁড়া—বিপদে পড়ে শ্যামলবাবু মাথা খুঁড়ছেন।
গাঁথা—ফুল দিয়ে মালাটি গাঁথো।
চেঁচানো—অত চেঁচানো ভালো নয়।
ধুঁকছে— অনেকটা পথ হেঁটে বৃদ্ধ লোকটি ধুঁকছেন।

২. গুনগুন- মৌমাছি যেভাবে ডানার একটানা আওয়াজ করে, তাকে গুনগুন বলে। বাস্তব ধ্বনির অনুকরণে তৈরি হওয়া এই ধরনের শব্দকে বলে অনুকারী বা ধন্যাত্মক শব্দ। নীচে কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ।শিখে নিতে পারবে।
উত্তর-
পাখা > বনবন করে ঘুরছে।
মাছিটা > ভনভন করে উড়ছিল
হাওয়া > শনশন করে বইছে

নদী > চলছে কলকল করে।
কাচের > বাসনগুলো বানবান করে ভেঙে গেল।
বাজ > পড়ল কড়কড় শব্দ করে।
পটকা > ফাটছিল দুমদাম করে।

বৃষ্টি > পড়ছিল ঝরবার করে।
কাগজটা > ফরফর করে ছিঁড়ে গেল ।
কয়েকটা তাল > পড়ল ধুপধাপ করে।

৩. “আমার মায়ের গাওয়া কত না গানের কলি !”-
এখানে ‘মায়ের গাওয়া' শব্দবন্ধটি একটি বিশেষণের কাজ করছে। এরকম আরও অন্তত পাঁচটি তৈরি করো। একটি করে দেওয়া হল—

উত্তর-  মায়ের পরা হলুদ শাড়িটি খুব সুন্দর।
মায়ের দেওয়া বইটি আমার খুব প্রিয়।
মায়ের বলা কথাগুলি বড্ড মনে পড়ে।
মায়ের চলে যাওয়াটা আমার ভালো লাগেনি।
মায়ের শোনানো গল্পগুলি যেন চোখে ভাসে।

৪. নীচের বিশেষ্যগুলিকে বিশেষণে ও বিশেষণগুলিকে বিশেষ্যে পরিবর্তন করে বাক্য রচনা করো :
সুর, দেশ, মাঠ, বন, মিষ্টি, মুখর, ইতিহাস, ফুল।
উত্তর- সুর > সুরেলা = সুরেলা ধ্বনিতে বাতাস ভরে গেল।
দেশ > দেশীয় = দেশীয় শিল্পের সর্বনাশ একদিনে হয়নি।
মাঠ > মেঠো = উদাস মেঠো সুরে বাংলাদেশের প্রাণ ভরে আছে।
বন > বুনো = বুনো ঘাসে উঠোন ভরে গিয়েছে।
মিষ্টি > মিষ্টত্ব = তোমার কথাবার্তায় এবার একটু
মিষ্টত্ব আনো।
মুখর > মুখরিত = অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণ মুখরিত হল।
ইতিহাস > ঐতিহাসিক = নেতাজি সুভাষচন্দ্র একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব।
ফুল > ফুলেল = ফুলেল হাসিতে উদ্যান পূর্ণ হয়ে
থাকে।

৫. 'রব' শব্দটিকে একবার বিশেষ্য এবং একবার ক্রিয় হিসেবে দুটি আলাদা বাক্যে ব্যবহার করে দেখাও
রব = পাখিরা সব রব করতে করতে উড়ে গেল।
(বিশেষ্য)
রব = তখন আমি রব না এ ধরায়। (ক্রিয়া)

৬. 'কলি', 'সুর', 'পাল'—শব্দগুলিকে দুটি করে ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করে আলাদা বাক্যে লেখো।
> কলি-(কুড়ি) = গোলাপ গাছের চারায় কলি এসেছে।
কলি -(কবিতা/গানের চরণ) = তুমি গানের প্রথম কলিটা ধরো।
> সুর - (ধ্বনি)- হারমোনিয়ামের শব্দে সুর লাগাও।
সুর (দেবতা)= সুরলোকে সাধারণের প্রবেশাধিকার নেই।

> পাল- (দল)=রাখাল গোরুর পাল লয়ে মাঠে যায়।
পাল ( নৌকার পাল) = পালতোলা নৌকা ভেসে চলেছে।

৭.  ‘মুখ’ শব্দটিকে পাঁচটি আলাদা অর্থে ব্যবহার করে পাঁচটি আলাদা বাক্য লেখো :
> মুখ রাখা (সম্মান বাঁচানো) = বাবাকে কথা দিয়েছি যখন, তখন তাঁর মুখ রাখতেই হবে।
মুখ ভার (অভিমান করা) = মেয়েটি মুখ ভার করে আছে কেন?
মুখ চাওয়া (প্রত্যাশী হওয়া) = পরের মুখ চেয়ে বসে না-থেকে কাজ করো।
মুখ খারাপ করা (অশ্লীল কথা বলা) = কারও সঙ্গে মুখ খারাপ করবে না।
মুখ উজ্জ্বল করা (গৌরবান্বিত করা) = এই ছেল একদিন দেশ ও জাতির মুখ উজ্জ্বল করবে।

৮. প্রত্যয় নির্ণয় করো :
কথকতা, মুর্শিদি, মুখর, পোহাইল, ভাটিয়ালি ৷
কথকতা—কথক + তা।
মুর্শিদি—মুর্শিদ+ই।
মুখর—মুখ+ র ।
ভাটিয়ালি—ভাটি + আলি ৷
পোহাইল—পোহা + ইল।

৯.নিম্নরেখ অংশগুলির কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো :
৯.১ পাখি সব করে রব। ।
উত্তর- পাখি—কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।

৯.২ কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
উত্তর > কাননে-অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি।

৯.৩ তাই তো সহস্র পাখির কলতানে আজ দিগন্ত মুখর।
উত্তর- দিগন্ত—কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।

৯.৪ তিনি বাংলাভাষায় কথা বলতে বড়ো ভালোবাসেন।
কথা—কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

৯.৫ রাখাল গোরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।
উত্তর→ রাখাল কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।

১০. একটি-দুটি বাক্যে উত্তর দাও :
১০.১ “পাখি সব করে রব”—উদ্ধৃতাংশটি কার লেখা, কোন্ কবিতার অংশ ? কবিতাটি তাঁর লেখা কোন বইতে রয়েছে ?

উত্তর-'পাখি সব করে রব' উদ্ধৃতাংশটি মদনমোহন
তর্কালঙ্কারের লেখা 'প্রভাতবর্ণন' কবিতার আংশ । কবিতাটি তাঁর লেখা তিন খণ্ডে সমাপ্ত 'শিশুশিক্ষা'
গ্রন্থের প্রথম ভাগ বইতে আছে।

১০.২ এই পঙ্ক্তিটিতে পাঠের সুরকে ‘মন্ত্রের মতো' বলা হয়েছে কেন ?
উত্তর > ‘পাখি সব করে রব’ পঙ্ক্তিটির সুর শিশুমনকে নাড়িয়ে দেয়—তাকে মুগ্ধ করে তোলে। শিশুরা সুরের দোলায় . মোহিত হয়ে দুলে দুলে পড়তে থাকে। তাই এই পক্তির সুরকে ‘মন্ত্রের মতো’ বলা হয়েছে।

১০.৩ এই সুরকে কেন ‘স্মৃতির মধুভাণ্ডার’ বলা হয়েছে ? তা কবির মনে কোন্ স্মৃতি জাগিয়ে তোলে ?
উত্তর- ‘পাখি সব করে রব’ পক্তির সুর পরিণত কবি মনকে আজও বিমুগ্ধ করে। কবির স্মৃতিতে আজও সেই সুর অমলিন। তাই তাকে ‘স্মৃতির মধুভাণ্ডার' বলা হয়েছে।
> এই সুর কবির মনে কবির দেশ, বন, মাঠ, নদী,
সারি, জারি, মুর্শিদি, ভাটিয়ালি-সহ বহু গানের সুর ও তাঁর মায়ের মুখ ও মায়ের গাওয়া গানের কলি
মনে করিয়ে দেয়।

১০.৪  “সেই আমার দেশ-মাঠ-বন-নদী”—দুই বঙ্গ মিলিয়ে তিনটি অরণ্য ও পাঁচটি নদীর নাম লেখো ।
উত্তর: . তিনটি অরণ্য হল—সুন্দরবন অরণ্য, গোরুমারা অভয়ারণ্য, জলদাপাড়া অরণ্য।
পাঁচটি নদীর নাম হল—গঙ্গা, ইছামতী, যমুনা, পদ্মা, মেঘনা।

১০. টীকা লেখো :
জারি, সারি, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, বিন্নি ধান, কথকতা, রূপকথা।
উত্তর- » জারি——জারি' শব্দটি ফারসি ‘যারী’ শব্দ থেকে উৎপন্ন।হয়েছে। ‘জারি একধরনের গান। বাংলাদেশের মুসলমানরা এই গানে অভ্যস্ত ও পারদর্শী। এটি একধরনের পল্লিগীতি। ‘জারি' শব্দের অর্থ হল ক্রন্দন।।কারবালা প্রান্তরের শহিদ হাসান-হোসেনের স্মরণে।বিলাপ করে এই গান গাওয়া হয়।

> সারি–তুর্কি ‘সারি’ থেকে শব্দটি এসেছে। সারি এক ধরনের গান। মাঝি-মাল্লারা এই গান করে থাকে। নদীবহুল বাংলাদেশে এই গানের প্রচলন বেশি । নদীর উন্মুক্ততায় মাঝি-মাল্লাদের কণ্ঠে এই গান অন্য মাত্রা আনে। এই গান দ্রুত ছন্দের ও বীর রসাত্মক। নৌকার প্রধান মাঝির সঙ্গে অন্যরাও এই গান করেন।

ভাটিয়ালি: ভাটিয়ালি' এক ধরনের রাগিণী বিশেষ।।ভাটার স্রোতে নৌকা ভাসিয়ে এই রাগিণীতে গান গাওয়া হয়। নদীর কলধ্বনিতে ভাটিয়ালির সুর দিগন্ত বিস্তৃত হয়ে সবাইকে মুগ্ধ করে।

মুর্শিদি—মুর্শিদি বাস্তব বিষয়ক দেহতত্ত্বের গান।
লৌকিকতার মোড়কের রূপকে এই গান রচিত হয়।।সুর ও মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষের লোকসংগীত।এটি। আধ্যাত্মিকতা এই গানের মূল ভাব ।
বিন্নি ধান—এটি আউশ ধানের একটি প্রকার। জল জমিতে এই ধান ভালো ফলে। এই ধান থেকে
ভালো খই হয়।
কথকতা—রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ প্রভৃতি গ্রন্থের।পাঠ ও ব্যাখ্যা করার কাজই হল 'কথকতা'। যাঁরা এই কাজ করে থাকেন, তাঁদের বলা হয় কথক' বা।‘কথক ঠাকুর’।
রূপকথা—বাস্তবের সঙ্গে সংগতিহীন কাল্পনিক কাহিনিকে ‘রূপকথা” বলে। এটি মূলত ছেলে ভোলানোর উদ্দেশ্যে লেখা। এই কাহিনিতে রাক্ষস-।রাক্ষসি, ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমি একটা মুখ্য ভূমিকা নেয়।
এই কাহিনি সর্বদা মিলনান্তক হয়। ‘ঠাকুরমার ঝুলি,।রাক্ষস-খোক্কোসের গল্প, ‘আরব্য রজনী'র গল্প সবই।রূপকথার গল্প ।

১০.৬ তোমার জানা দুটি পৃথক লোকসংগীতের ধারার নাম লেখো ।
উত্তর > আমার জানা দুটি পৃথক লোকসংগীতের ধারা হল— গম্ভীরা ও বাউল গান ৷

১০.৭  “ইতিহাস থমকে দাঁড়িয়ে লিখে নিলো সব”- সব বলতে এখানে কী কী বোঝানো হয়েছে ?
উত্তর→ ‘সব বলতে সবকিছুকেই বোঝায়। এই সবকিছুর মধ্যেই আছে বাংলাদেশের ভাষা-আন্দোলনের কথা। ভাষার জন্য রফিক, সালাম, বরকত, রহমান ও জব্বারের
শহিদ হওয়ার কথা, বাংলাদেশের আন্দোলন ও দেশ।স্বাধীন হওয়ার কথা, ভাষাকে কেন্দ্র করে বাঙালি।জাতির উত্থান ও বিশ্বে মর্যাদা পাওয়ার কথা এখানে বোঝানো হয়েছে।

১০.৮ "তাই তো সহস্র পাখির কলতানে আজ দিগন্ত মুখর- 'সহস্র পাখি' কাদের বলা হয়েছে ?

উত্তর- সহস্র পাখি' কথার সাধারণ অর্থ হল, হাজার পাখি বা বহুপ্রকার পাখি। কিন্তু এখানে কথাটির তাৎপর্য
অন্যরকম। এখানে 'হাজার পাখি' হল বাংলা ভাষাভাষী লক্ষ-কোটি শিশু সন্তান। বহু শিশুর সমাবেশকেই এখানে 'সহস্র পাখি'-র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
১১. ব্যাখ্যা করো:
১১.১  কয়েকটি পাখি...... পড়ে গেল মাটিতে”।

উত্তর- ভাষা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ গুলি চালাল। তাতে মারা গেল রফিক, সালাম, বরকত, রহমান ও জব্বার-এর মতো যুবকরা। মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠা করতে, তাকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করাকে কবি গুলি খেয়ে পাখির মাটিতে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। ভাষা আন্দোলনকারী ওই বীর সন্তানরা এখানে পাখির সমতুল।

১১ ২ “সেই শোকে কালবৈশাখীর ঝড় উঠলো আকাশে”।
উত্তর- ভাষা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের গুলি চালনায় কয়েকজন তরতাজা যুবক প্রাণ হারায়। বাংলা ভাষাভাষীরা শোকস্তব হয়। সমস্ত দেশ জুড়ে বিদ্রোহের ঝড় ওঠে। বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় আছড়ে পড়ে। বিশ্বজুড়ে এই ফেটে পড়া নিন্দা ও দেশের বিপ্লবাত্মক পরিস্থিতিকে কবি আকাশে কালবৈশাখীর ঝড় ওঠার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
১১.৩ “কথায় কথায় কথকতা কতো রূপকথা” ।
উত্তর- বাংলায় কথকতার প্রচলন ছিল। এই ভাষায় কল্পকাহিনিরও শেষ নেই। পুরাণ, ইতিহাসের কাহিনি গানের সুরে পাঠ করে ও তার ব্যাখ্যা দিয়ে কথক ঠাকুররা দেশবাসীর মনে দেশপ্রেম ও ব্যক্তিত্ব জাগিয়ে তুলত। আর রূপকথার মধ্য দিয়ে শিশুরা কল্পনা করতে শিখত। এভাবেই বাংলার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সমৃদ্ধ হত ও আনন্দ পেত।

১১৪ "তাই তো আজ দ্যাখো এ মিছিলে এসে দাঁড়িয়েছেন আমার মা।”
উত্তর > একুশে ফেব্রুয়ারি।ভাষা-আন্দোলনকারীদের স্মরণ করে
প্রতিটি দেশে ভাষাপ্রেমিকরা সমবেত হন। বিশেষ
করে বাংলাভাষীরা এদিন আনন্দে আত্মহারা হয়ে বাংলার আকাশ-বাতাসকে মুখরিত করে তোলে। তাতে দেশমাতাও আনন্দে উদবেলিত হন। কবি উপলব্ধি করেন, দেশমাতাও সেই আন্দোলনে শামিল হয়ে সবাইকে আশীর্বাদ জানাচ্ছেন।

১২. আট-দশটি বাক্যে উত্তর দাও :
১২.১ এই কবিতায় 'পাখি- শব্দের ব্যবহার কতখানি সার্থক হয়েছে, তা কবিতার বিভিন্ন পদ্ধতি উদ্ধৃত করে আলোচনা করো।
উত্তর→ আলোচ্য কবিতাংশে পাখি হল মানুষের দ্যোতক।
যে-কোনো ভাষায় কথা বলা মানুষ সেই ভাষার পাখি। আর বাচ্চা-শিশু-কিশোররা সে ব্যাপারে আরও অনেকটাই এগিয়ে। মায়ের মুখ থেকে শিশুরা প্রথমে।এই ভাষা শেখে। তারপর শিশুরা মাতৃভাষাতেই জ্ঞান অর্জন শুরু করে। তারপর সে বড়ো হয়। এই মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্যই একদল যুবক প্রাণ।দিয়েছিল—এ কথাও তারা জানে। তারাও মাতৃভাষায় কথা বলায় পাখির সমতুল। কবির ভাষায়—
“কয়েকটি পাখির গান শেষ না হতেই তারা ঝরে গেল পড়ে গেল মাটিতে।”
পাখিরা সাধারণত শেখানো বুলিই ব্যবহার করে।
সেই অর্থে পাখি যা শেখে, সেটিই তার ‘মাতৃভাষা'।
এই কারণেই মাতৃভাষায় কথা বলা যুবকেরা কবির কল্পনায় ‘পাখি’-র সঙ্গে উপমিত হয়েছে। তাই
‘পাখি’ শব্দের ব্যবহার সর্বতোভাবে সার্থক।

১২.২  কবিতাটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর→ নামকরণের অংশ দেখো।
১৩. “শুধু মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়বদ্ধতার প্রকাশ নয়, এই কবিতায় রয়েছে আবহমানের ও অমরতার প্রতি বিশ্বাস”–পাঠ্য কবিতাটি অবলম্বনে ওপরের উদ্ধৃতিটি আলোচনা করো
উত্তর- ‘একুশের কবিতা’য় কবি আশরাফ সিদ্দিকী মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা ও শ্রদ্ধা জানানোর সঙ্গে সঙ্গে আবহমানতা ও অমরতার প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন।
প্রথমেই কবি অতীত ঐতিহ্যের কথা বলতে গিয়ে মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ‘প্রভাতবর্ণন' কবিতার পঙক্তি তুলে ধরেছেন। আবহমান অমরত্বের প্রতিষ্ঠায় কবি মদনমোহনের সুরে বলেন—'পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল।—“শিশুশিক্ষা'র এই পাঠ মনের মধ্যে চিরকাল থেকে যায়, কবিরও আছে। তারপর একসময় ভাষা নিয়ে আলোড়ন ওঠে বাংলা ভাষাভাষীদের ওপর উর্দু ভাষার চাবুক নেমে আসে। ভাষা তখন হওয়ার উদ্রেক হয় কিন্তু তরুণ যুবকদের প্রবল প্রতিবাদে তা থেমে যায়। অবশেষে বাংলা ভাষা অমরত্ব লাভ করে। একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্ববাসীর কাছে মর্যাদার স্থানে অধিষ্ঠিত হয়। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে যার সূচনা হয়েছিল ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে (১৯৭২) তার পরিসমাপ্তি ঘটে।
১৪. মনে করো তুমি এমন কোনো জায়গায় দীর্ঘদিনের জন্য যেতে বাধ্য হয়েছ, যেখানে কেউ তোমার মাতৃভাষা বোঝেন না। নিজের ভাষায় কথা বলতে না পারার যন্ত্রণা জানিয়ে বন্ধুকে একটি চিঠি লেখো।
উত্তর-এটি কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নয় তাই উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছি না।