মুশকিলে পড়ে গেছি। বক্তা কেন মুশকিলে পড়েছেন আলোচনা করো। ডাকঘর নাটক । দ্বাদশ শ্রে
![]() |
প্রশ্ন: “মুশকিলে পড়ে গেছি। যখন ও ছিল না তখন ছিলই না”–বক্তা কেন মুশকিলে পড়েছেন?
উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ডাকঘর' (১৯১২) নাটকের প্রথম দৃশ্যে মাধবদত্ত মুশকিলে পড়েছেন। মাধবদত্তের নিজের কোনো সন্তান নেই। এতদিন পর্যন্ত সন্তানস্নেহ উপলব্ধি করতে পারেননি। কিন্তু তাঁর স্ত্রীর গ্রামসম্পর্কের ভাইপো, পিতৃ-মাতৃহারা অমলকে তিনি তাঁর বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন। অমলের ওপর মাধবদত্তের বাৎসল্যরস সঞ্চারিত হতে শুরু করেছে। অমল রোগগ্রস্ত শিশু, আয়ু খুব কম। কবিরাজের কথামতো তিনি অমলকে রৌদ্র
আর বায়ু থেকে রক্ষা করার জন্য ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। শৈশবকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা খুবই মুশকিলের। অমল যতদিন ছিল না ততদিন সন্তান স্নেহ বা হারানোর কোনো যন্ত্রণা ছিল না। কিন্তু অমল যখন মাধবদত্তের ঘর জুড়ে বসল, সেই ঘর থেকে যদি অমলের ভালোমন্দ কিছু ঘটে যায় তাহলে মাধবদত্তের ঘর আবার অন্ধকার হয়ে যাবে, তিনি সন্তানহারা হয়ে যাবেন। এই সন্তান হারানোর কথা ভেবেই মাধবদত্ত মুশকিলে পড়ে গেছেন।
মাধবদত্ত এতদিন পর্যন্ত বহু পরিশ্রম করে টাকা রোজগার করেছেন একপ্রকার নেশাগ্রস্তের মতো হয়ে। তাঁর এতদিনের সঞ্চয়ে কেউ ভাগ বসায়নি বা ভাগ বসানোর মতো কেউ ছিল না। কিন্তু অমল এ বাড়িতে আসার পর থেকে তার চিকিৎসার জন্য নানাভাবে টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। তাঁর সঞ্চিত সম্পদে হাত পড়েছে। এ বিষয়েও মাধবদত্তের একপ্রকার বৈষয়িক ভাবনা কাজ করেছে বিষয়ী মানুষের সঞ্জিত সম্পদ খরচ হয়ে যাওয়া মুশকিলে পড়ার সামিল।
