বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' রচনায় প্রাবন্ধিক বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে যেসব অসুবিধার কথা বলেছেন তা আলোচনা করো।
![]() |
প্রশ্ন: 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চায় এখনও নানারকম বাধা আছে/- লেখক কোন্ ধরনের বাধার কথা বলেছেন ?
অথবা, 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' রচনায় প্রাবন্ধিক বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে যেসব অসুবিধার কথা বলেছেন তা আলোচনা করো।
উত্তর > বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার পথে সম্ভাব্য বাধা সম্পর্কে রাজশেখর বসু তাঁর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে আলোচনা করেছেন। বাধাগুলি এইরূপ—
> পাঠকের অভাব : ইংরেজি জানে এবং ইংরেজিতে বিজ্ঞান পাঠ করেছে এমন পাঠকের বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা বেশ কঠিন।
> পারিভাষিক শব্দের অভাব : বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ও কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও উপযুক্ত পারিভাষিক শব্দের অভাব এ পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
>বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অভাব : পাশ্চাত্য দেশগুলির তুলনায় আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের বিজ্ঞানবোধ খুবই কম। সামান্য বিজ্ঞানবোধ না-থাকলে বিজ্ঞানভিত্তিক রচনা বোধগম্য হয় না। তাই বাংলায় বিজ্ঞান রচনার ক্ষেত্রে সমস্যা থেকে গেছে।
> ভাষার আড়ষ্টতা : অনেক লেখকের ভাষা আড়ষ্টতা ও ইংরেজির আক্ষরিক অনুবাদ দোষে দুষ্ট হয়ে রচনা তার সাবলীলতা হারায়।
> অবাস্তব ভাবনা : অনেকে পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে রচনাকে সহজবোধ্য করার ভাবনা ভাবলেও তা বাস্তবতা পায়নি।
> অলংকারের ব্যবহার : উপমা ও রূপক ছাড়া অন্যান্য অলংকার বিজ্ঞানভিত্তিক রচনার গুরুত্বকে লঘু করে দেখায়।
> ভুল তথ্য পরিবেশন : শেষ বাধাটি হল ভুল তথ্য পরিবেশন। অনেকে না-জেনে কিংবা সামান্য জেনে বাংলায় বিজ্ঞান রচনায় ভুল তথ্য পরিবেশন করেন। প্রাবন্ধিকের মতে, আলোচিত বাধাগুলি অতিক্রম না করতে পারলে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা ত্রুটিহীন হওয়া সম্ভব নয়।
