কিন্তু দরকার মতন বাংলা শব্দ পাওয়া না গেলেও বৈজ্ঞানিক রচনা চলতে পারে। -যুক্তিসহ আলোচনা করো। - school book solver

Thursday, 10 September 2026

কিন্তু দরকার মতন বাংলা শব্দ পাওয়া না গেলেও বৈজ্ঞানিক রচনা চলতে পারে। -যুক্তিসহ আলোচনা করো।


প্রশ্ন: 'কিন্তু দরকার মতন বাংলা শব্দ পাওয়া না গেলেও বৈজ্ঞানিক রচনা চলতে পারে। -যুক্তিসহ আলোচনা করো।

 উত্তর > ত্রুটিপূর্ণ সংকলন :রাজশেখর বসু রচিত ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ নামক প্রবন্ধ থেকে জানা যায়, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ও কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে যে দুটি পরিভাষা সমিতি গঠিত হয়েছিল, তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ পরিভাষা-সংকলন প্রস্তুত করতে ব্যর্থ হয়েছিল। সংকলনগুলি ছিল যথেষ্ট ত্রুটিপূর্ণ।

পরিভাষার প্রয়োজনীয়তা: কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-কৃত পরিভাষা সংকলনটি তেমন বড়ো না-হওয়ায়,আরও বহু শব্দ সংযোজনের প্রয়োজন ছিল। তাই এই বিষয়টিকে অতিক্রম করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।


প্রাবন্ধিকের সিদ্ধান্ত: 

প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু এই সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে জানিয়েছেন যে, যতদিন না উপযুক্ত ও প্রামাণ্য বাংলা পরিভাষা রচিত হয়, ততদিন বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান-সংক্রান্ত রচনার ক্ষেত্রে বাংলা বানানে ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করা চলতে পারে। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত পরিভাষা সমিতি বহু ইংরেজি শব্দই বজায় রেখেছে এবং তাদের মতে নবাগত রাসায়নিক বস্তুর ইংরেজি নামই বাংলায় লেখা উচিত, যেমন- অক্সিজেন, প্যারাডাইক্লোরোবেনজিন। এ ছাড়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর জাতিবাচক নামও ইংরেজি ভাষায় বাংলা বানানে লেখা যেতে পারে, যেমন— ম্যালভাসি, ফার্ন, আরথ্রোপোডা ইনসেক্টা ইত্যাদি।

প্রশ্ন: 'পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় এ দেশের জনসাধারণের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান নগণ্য – লেখকের এমন মন্তব্যের কারণ কী?

উত্তর > প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু তাঁর 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনার ক্ষেত্রে নানা অসুবিধার কথা তুলে ধরতে গিয়ে উক্ত মন্তব্যের অবতারণা করেছেন।

ভারতীয়দের নগণ্য বৈজ্ঞানিক জ্ঞান: বিজ্ঞানের ছাত্র রাজশেখর বসু তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার দ্বারা অনুভব করেছেন,

ভারতবর্ষের সমসাময়িক মানুষেরা বিজ্ঞান বিষয়ে তেমন দক্ষ নয়। বিজ্ঞান নিয়ে কৌতূহলও অনেকের মধ্যে ছিল না। হয়তো টাইফয়েড, আয়োডিন, মোটর, ক্রোটন, জেব্রা ইত্যাদির মতো গুটিকতক ইংরেজি তারা শিখেছে স্বাভাবিকভাবে, কিন্তু সুশৃঙ্খল আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্য সম্পর্কে তারা ছিল অন্ধকারে; অথচ

একই সময়কালে ইউরোপ-আমেরিকার মতো দেশগুলিতে মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানের জ্ঞান অধিক ছিল। তাই প্রাবন্ধিক বলেছেন – 'ইউরোপ আমেরিকায় পপুলার সায়েন্স লেখা সুসাধ্য এবং সাধারণে তা সহজেই বোঝে। কিন্তু আমাদের দেশে বয়স্কদের জন্য যা লেখা হয়, তাও প্রাথমিক বিজ্ঞানের মতো গোড়া থেকে না-লিখলে বোধগম্য হয় না। প্রাবন্ধিকের মতে, সাধারণ মানুষদের জন্য যাঁরা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান লেখেন, তাঁরা এ বিষয়ে অবহিত না হলে তাঁদের লেখা জনপ্রিয় হবে না।

প্রাবন্ধিক অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি জানেন সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষও বদলাবে। তাই তিনি আশা করেন, এ দেশে একদিন বিজ্ঞানশিক্ষার বিস্তার ঘটবে আর এইসকল অসুবিধাগুলো দূরীভূত হবে; তখন বৈজ্ঞানিক সাহিত্যরচনা সুসাধ্য হবে।