সর্ব মনষ্কামনা সিদ্ধ পর্ব ৩ - school book solver

Thursday, 6 August 2026

সর্ব মনষ্কামনা সিদ্ধ পর্ব ৩

সর্ব মনস্কামনা সিদ্ধ পর্ব ৩





প্রথম অধ‍্যায়

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

মন্ত্র এবং জপাদির নিয়ম

নিত্যকর্ম সমাপনপূর্বক আচমন, স্বস্তিবাচন, সঙ্কল্প, সামান্যার্ঘ্য স্থাপন, বিঘ্নাপসারণ, ভূতাপসারণ, আসনশুদ্ধি, পুষ্পশুদ্ধি, শোধিত পঞ্চগব্য দ্বারা স্থানশুদ্ধি করে, গুরু, গণেশ ও মন্ত্রাধিষ্ঠাত্ দেবতার পূজা করে জপ করবেন।

ইষ্ট দেবতা,


মন্ত্রদাতার কর্তব্য—যে সকল মন্ত্রের আদিতে, মধ্যে বা অন্তে “ওঁ” শব্দ আছে,

এরূপ মন্ত্র শূদ্র ও স্ত্রীজাতিকে দিবেন না। শূদ্র বা স্ত্রীজাতিকে আপন মন্ত্র, গুরুর নিকট প্রাপ্ত মন্ত্র, অজপা মন্ত্র, প্রণব ও স্বাহা যুক্ত মন্ত্র প্রদান করলে, দীক্ষাদাতাকে অধোগামী



ছবি ৩৯ 


হতে হয়, মন্ত্রগ্রহণকারীও নরকগামী হয়। প্রণব এবং লক্ষ্মীবীজ শূদ্র ও নারীগণ উচ্চারণ করলে নরকগামী হয়। বারাহী তন্ত্রে বলা হয়েছে-

গোপালস্য মনুদেয়ো মহেশস্য চ পাদজে।

তৎপত্ন্যাশ্চাপি সূৰ্য্যস্য গণেশস্য মনস্তথা ।। বারাহী তন্ত্র।


শূদ্র ও স্ত্রীলোকগণ গোপাল মন্ত্র, শিবমন্ত্র, দুর্গামন্ত্র এবং গণেশ মন্ত্র গ্রহণ করতে

পারে। এ ছাড়া অন্য মন্ত্র গ্রহণ করলে মহাপাপী হয়।

কোন্ মন্ত্র গ্রহণে অধিকারী, প্রথমে সে সম্পর্কে ভালভাবে বুঝে সেই দেবতার

মন্ত্র থেকে নক্ষত্রচক্র ও রাশিচক্র বিচার করে অনুকৃত মন্ত্রগুলি গ্রহণ করে তার সাধনা করা দরকার। বীজগুলির মনন, স্মরণ এবং উচ্চারণাদির সাহায্যে সংসার থেকে উদ্ধার হওয়া যায়, সেজন্যই বলা হয় মন্ত্র।


মন্ত্রের জাতি বিচার—কুড়িটি বর্ণের সংমিশ্রণে সৃষ্ট মন্ত্রকে মালামন্ত্র বলা হয়।

নপুংসক মন্ত্র, সূর্যের অষ্টাক্ষর মন্ত্র, পঞ্চাক্ষর মন্ত্র, দ্বি অক্ষর, ত্রি অক্ষর ও একাক্ষর মন্ত্রগুলির সিদ্ধি বিচার করবে না। মহাদেব পাৰ্ব্বতীকে বলেছেন—মালামন্ত্র, একাক্ষর মন্ত্র এবং বৈদিক মন্ত্রের সিদ্ধি বিচার করবে না। যে মালা মন্ত্রের শেষে ‘হুঁ ফট্’ (হুং ফট্) থাকে, সেগুলি পুংলিঙ্গ। যে সকল মন্ত্রের শেষে “স্বাহা” আছে, সেগুলি স্ত্রী মন্ত্র। যে সকল মন্ত্রের শেষে ‘নমঃ' আছে, সেগুলি নপুংসক মন্ত্র । অতএব লিঙ্গভেদে

মন্ত্র ভিন্নপ্রকার। কিন্তু মহাবিদ্যা উপরোক্ত সর্বপ্রকার ভেদবর্জিত।

মালিনী বিজয় তন্ত্রে বলা হয়েছে--

"কালী নীলা মহাদুর্গা ত্বরিতাচ্ছিন্নমস্তিকা।

বাগাদিনী চান্নপূর্ণা তথা প্রত্যঙ্গিরা পুনঃ।।

কামাখ্যা বাসলী বালা মাতঙ্গী শৈলবাসিনী।

ইত্যাদাঃ সকলা দেব্যাঃ কলৌ পূর্ণ ফলপ্রদাঃ ।।

সিদ্ধমন্ত্রতয়া নাত্র যুগসেবা পরিভ্রমঃ ।

তথা চৈতা মহাবিদ্যা কলিদোষান্ন বাধিত ।।”

   ;—মালিনী বিজয় তন্ত্র ।

অর্থাৎ—কালী, নীলা, (নীল সরস্বতী অর্থাৎ তারা), মহাদুর্গা, ত্বরিতা, ছিন্নমস্তা,

বাগাদিনী, অন্নপূর্ণা, প্রত্যঙ্গিরা, মাতঙ্গী, কামাখ্যা, বাসলী, বালা ও শৈলবাসিনী প্রভৃতি দেবীগণ কলিযুগে পূর্ণ ফল দান করেন। এদের মন্ত্রসকল সিদ্ধমন্ত্র। অতএব এই সব দেবীর আরাধনায় বা জপে যুগ-নিয়ম পালনের প্রয়োজন হয় না।




পাতা ৪০


কালী, তারা, ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলা, মাতঙ্গী

এবং কমলা। এই দশটি মহাবিদ্যাকে সিদ্ধবিদ্যা বলা হয়। যথা--

কালী তারা মহাবিদ্যা ষোড়শী ভুবনেশ্বরী।

ভৈরবী ছিন্নমস্তা চ বিদ্যা ধূমাবতী তথা ।।

বগলা সিদ্ধবিদ্যা চ মাতঙ্গী কমলাত্মিকা।

এতাদশ মহাবিদ্যা সিদ্ধবিদ্যা প্রকীর্তিতা ।।         —মুণ্ডমালা তন্ত্র।

এই দশমহাবিদ্যার মন্ত্র গ্রহণে সিদ্ধাদি বিচার, নক্ষত্র চক্রাদিবিচার, কালশোধন,

অগ্নিমিত্রাদির বিচারের দরকার হয় না। এই সব সিদ্ধবিদ্যা সাধনে সাধকের কিছুই

দুঃসাধ্য থাকে না। তবে শুনে জপ করলে হবে না—গুরুর প্রয়োজন। যার পক্ষে

যেটি প্রযোজ্য, সেটিই তাকে জপ করতে হয়। নতুবা বৈরীমন্ত্র লাভ হেতু কুফল হতে

পারে।


      মন্ত্ৰ কি ?

মন্ত্রগুলি হলো দেব-দেবীর সূক্ষ্ম নাম। সেই সব সূক্ষ্ম নাম করে দেবতার চিন্তা

করতে হলে, দেবতার বীজমন্ত্র জপ এবং সেই মন্ত্র উচ্চারণ করে যথাশক্তি উপচারে

দেব-দেবীর পূজা করতে হয়। যাকে মনন ও স্মরণমাত্র সর্বপ্রকার পাপ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়, তার নাম মন্ত্র। প্রমাণ--

“মনানাত্রায়তে যস্মাত্তস্মান্মত্রঃ প্রকীৰ্ত্তিতঃ ॥

"

আবার অপরপক্ষে বলা হয়েছে—যাকে মনন স্মরণমাত্রে সর্বপ্রকার পাপ থেকে

ত্রাণ পাওয়া যায়, তার নাম মন্ত্র। ইহা স্মরণ ও মননে বিশ্বজ্ঞান লাভ করা যায়, সংসার বন্ধন হতে মুক্তি পাওয়া যায়, তাকে বলে মন্ত্র। প্রমাণ—

“মননং বিশ্ববিজ্ঞানং ত্রাণং সংসার বন্ধনাৎ।

যতঃ করোতি সংসিদ্ধে মন্ত্র ইত্যুচ্যতে ততঃ ।। - পিঙ্গলা তন্ত্র।



বীজমন্ত্রের উৎপত্তি


 প্রকৃতির প্রথম তত্ত্ব হলো মহৎ তত্ত্ব। তারপরে যখন প্রকৃতির দ্বিতীয় তত্ত্বের

পরিণাম স্বরূপ অহংতত্ত্বের উদ্ভব হয়, তখন সত্ত্বঃ, রজঃ ও তমোগুণের পরস্পর

ঘাত-প্রতিঘাতের ফলে নানাপ্রকার শব্দ উৎপন্ন হয়। এই সকল শব্দকেই বীজমন্ত্র বলা হয়। এই বীজ থেকেই দেবতাদের নামকরণ করা হয়েছে। এই সব বীজমন্ত্র জপ করলেই দেব-দেবীর নাম ধরে ডাকা হয়। এইভাবে দেব-দেবীকে ডাকার নামই হলো-মন্ত্রযোগ



পাতা ৪১


বা মন্ত্রজপ। প্রমাণ-

"নামরূপাত্মনোঃ শব্দো ভাবয়োববলম্বনাৎ।

যে যোগঃ সাধ্যতে সোংয়ং মন্ত্রযোগঃ প্রকীৰ্ত্তিতঃ ।

বীজেষু শক্তি নিহিতা মন্ত্রং বীজবিবর্জিতাঃ ।।”

-মন্ত্রযোগ সংহিতা।

এখানে সাধককে মনে রাখতে হবে শুধুমাত্র মন্ত্র জপ করলেই হবে না, তার অর্থ হৃদয়ঙ্গম করতে হবে । নামরূপাত্মক শব্দ বা মন্ত্রের ভাব অবলম্বনের মাধ্যমে যে যোগসাধনা করা হয়, তাকেও শব্দ বলা হয়। মন্ত্রের অর্থ সম্যক জেনে নিয়ে শুদ্ধভাবে উচ্চারণ অভ্যাস করতে হবে। মন্ত্রের অর্থ না জানলে বা উচ্চারণ বিশুদ্ধ না হলে মন্ত্রজপে ফল হয় না, উপরন্তু তাতে সাধকের বিপদ ঘটার সম্ভাবনা। বীজমন্ত্রের নিজস্ব একটি অন্তর্নিহিত শক্তি আছে, সেই অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারাই সাধক সিদ্ধিলাভ করে। কিন্তু উচ্চারণ বিশুদ্ধ না হলে সেই শক্তির বিকাশ হয় না ফললাভও হয় না।



    পুরশ্চরণ

শুধুমাত্র দীক্ষা গ্রহণ করে জপ করলেই ফলোদয় হয় না। মন্ত্রের পুরশ্চরণ করা

বিশেষ প্রয়োজন। প্রমাণ-

গুরোরাজ্ঞাং সমাদায় শুদ্ধান্তঃকরণো নরঃ।

ততঃপুরষ্ক্রিয়াং কুর্য্যান্মন্ত্র সংসিদ্ধি কামায়া ।।

জীবহীনো যথা দেহী সর্বকর্মসু ন ক্ষমঃ।

পুরশ্চরণহীনোঽপি তথা মন্ত্ৰ প্ৰকীৰ্ত্তিতঃ ৷৷

তস্মাদাদৌ স্বয়ং কুর্য্যাদ গুরুং বা কারয়োম্বুধঃ।

গুরোরভাবে বিপ্রং বা সর্বপ্রাণি হিতেরতম্ ।।

স্নিগ্ধং শাস্ত্রবিদং মিত্রং নানাগুণ সমন্বিতম্ ।

স্ত্রিয়ং স্বগুণোপেতাং সপুত্রাং বিনিযোজয়েৎ।। শ্রুতি।


শ্রুতির এই প্রমাণে দেখা যায়, একমাত্র শুদ্ধচিত্ত ব্যক্তি গুরুর আদেশে মন্ত্রসিদ্ধি

হেতু পুরশ্চরণ করবে। প্রাণহীন দেহ যেমন সর্বকর্মে অক্ষম, সেরূপ পুরশ্চরণ ব্যতীত

মন্ত্রসিদ্ধি বা ফলদানে অসমর্থ। এজন্যই আগে গুরুর সাহায্যে অথবা স্বয়ং পুরশ্চরণ করবে। গুরুর অভাবে শাস্ত্রবিধি অনুযায়ী অথবা সবার হিতাকাঙ্ক্ষী সর্বগুণসম্পন্ন সদাচারী ব্রাহ্মণের সাহায্যে পুরশ্চরণ করাতে হবে। পুত্রবতী ও গুণবতী স্ত্রী-গুরুকেও পুরশ্চরণ



পাতা ৪৩

কার্যে নিয়োগ করতে শাস্ত্রে বলা হয়েছে-

পুরস্করণের স্থান নির্ণয় পুরশ্চরণ যেখানে সেখানে করা যায় না, তার কতকগুলি শাস্ত্রনিদ্দিষ্ট স্থান আছে। শ্রুতিতে এর সম্পর্কে প্রমাণ দেওয়া হয়েছে।

পুণ্যক্ষেত্রং নদীতীরং গুহা-পর্বতকন্দরম্।

তীর্থপ্রদেশাঃ সিন্ধুনাং সঙ্গমঃ পাবনং মহৎ ||

উদ্যানানি বিবিক্তানি বিল্বমূলং তটং গিরেঃ।

তুলসী কাননং গোষ্ঠং বৃষশূন্যং শিবালয়ম্ ।।

অশ্বত্থামলকীমূলং গোশালা জলমধ্যতঃ ।

দেবায়তনং কুলং সমুদ্রস্য নিজালয়ম্।।

সাধনেষু প্রশস্তানি স্থানান্যেতানি মন্ত্রিণাম্।

সূর্য্যস্যানেগুঁরোরিন্দ্রদীপস্য চ জলস্য চ ।।

বিপ্ৰণাঞ্চ গৰাঞ্চৈব সন্নিধৌ শস্যতে জপঃ।

অথবা নিবসেত্তত্র যত্রং চিত্ত: প্রসীদতি।। শ্রুতি।


অর্থাৎ পূণ্য তীর্থক্ষেত্র, নদীতীর, পর্বতগুহা, পর্বতপৃষ্ঠ, তীর্থস্থান, উভয়নদীর সঙ্গমস্থল, পুষ্পাদি শোভিত উদ্যান, নির্জনস্থান, বিশ্বমূল, তুলসী কানন, গোষ্ঠ অর্থাৎ গোচারণ স্থান, বৃষশূন্য শিবমন্দির, অশ্বত্থবৃক্ষের মূল, আমলকী বৃক্ষের মূল, গোয়াল,

জলমধ্যস্থ চর বা দ্বীপ, দেবালয়, সমুদ্রতীর, নিজগৃহ, পুরশ্চরণ কার্যে উপরোক্ত স্থানসমূহ শাস্ত্রসিদ্ধ। অগ্নি, সূর্য, চন্দ্র, গুরু, জল, ব্রাহ্মণ ও গাভী এবং প্রজ্বলিত দীপ সাক্ষাতে জপে মন্ত্রসিদ্ধ হয়। অথবা পুরশ্চরণকারীর মনোমত স্থানও পুরশ্চরণের জন্য প্রশস্ত।


     কূর্মচক্র

শ্রুতিতে বলা হয়েছে—এমন কতকগুলি স্থান আছে, যেখানে পুরশ্চরণ করলে

কর্ম-চক্রের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু কোনও গ্রামে বা স্বগ্রামে ও স্বগৃহে পুরশ্চরণ করতে হলে, কোনও অভিজ্ঞ জ্যোতিষদ্বারা কুর্মচক্র বিচার করতে হবে। প্রমাণ—

পর্বতে সিন্ধুতীরে বা পুণ্যারণ্যে নদীতটে,

যদি কুর্যাৎ পুরশ্চর্যাং তত্রকূর্ম ন চিন্তয়েৎ।

গ্রামে বা যদি বা বাস্তৌ গৃহে ত্বষ্ণ বিচিন্তয়েৎ ।।—শ্ৰুতি।



পাতা ৪৩


পর্বত, সমুদ্রতীর, পুণ্যময় অর্থাৎ পবিত্র অরণ্য এবং নদীতীরে পুরশ্চরণ করলে

কর্মচক্র বিচারের দরকার হয় না। কিন্তু গ্রামে বা নিজ বাস্তুতে পুরশ্চরণ করলে অবশ্যই কর্মচক্র বিচার করতে হবে।


    কর্মচক্রের স্থান বিচার


কূর্মচক্র বিচার করে কর্মের মুখভাগে বসে পূজা ও জপে সিদ্ধিলাভ হয়। কুর্মের

হস্তে বসে উপরোক্ত কাজ করলে আয়ুক্ষয়। কুর্মের কুক্ষিতে বসে পূজা জপ করলে মানসিক উদাসীনতা। কুর্মের পাদভাগে বসে পূজা জপ করলে দুঃখ লাভ হয়। লেজের দিকে বসে পূজা জপ করলে রাজদণ্ড ও দেশত্যাগের ভয়।


     মন্ত্র সংস্কার

দীক্ষা গ্রহণের পর মন্ত্রের সংস্কার না করে জপ করলে ফললাভ হয় না। মন্ত্রের

সংস্কার হলো দশটি। শাস্ত্রে বলা হয়েছে—

জননং জীবনং পশ্চাত্তাড়নং বোধনস্তথা।

অর্থভিষেকো বিমলীকরণাপ্যায়েন পুনঃ

তর্পণং দীপনং গুপ্তিদশৈতা মন্ত্র সংন্ত্রিয়া ।।

অর্থাৎ—১। জনন, ২। জীবন, ৩। তাড়ন, ৪। বোধন, ৫। অভিষেক, ৬। বিমলীকরণ, ৭। আপ্যায়ন, ৮। তর্পণ, ৯। দীপন এবং ১০। গুপ্তি।

১। জনন— অর্থাৎ জীবন। মন্ত্রের প্রতিটি বর্ণকে প্রণব 'ওঁ' দ্বারা পুটিত করে,

এক-একটি বর্ণ একশতবার করে জপ করলেই মন্ত্রের জনন ক্রিয়া হয়। বিশ্বসার-তন্ত্রে ১০০ বার স্থলে দশবার জপেও কাজ হয় বলা হয়েছে।

২। তাড়ন—মন্ত্রকে ভূর্জপত্রে লাল কালির দ্বারা লিখে প্রত্যেকটি বর্ণকে বরুণ

বীজ 'বং' দ্বারা চন্দন মিশ্রিত জলদ্বারা একশতবার বা দশবার তাড়না করলে মন্ত্রের তাড়ন ক্রিয়া হয়।

৩। বোধন—তারপর মন্ত্রের প্রত্যেকটি বর্ণকে বহ্নিবীজ 'রং' মন্ত্রে রক্ত করবী

দ্বারা পূজা করলে মন্ত্রের বোধন কার্য হয়।

৪। অভিষেক - তারপর মন্ত্রের প্রত্যেকটি বর্ণকে রক্ত করবী দ্বারা 'রং' মন্ত্রে

অভিমন্ত্রিত করে অশ্বত্থ পল্লব দ্বারা যে তন্ত্রোক্ত মন্ত্র, সেই মতানুযায়ী ‘অভিষিঞ্চামি' বা 'অভিষিঞ্চামি নমঃ' মন্ত্রে সমস্ত বর্ণগুলিকে অভিষেচন করলে মন্ত্রের অভিষেক ক্রিয়া হয়। এ বিষয়ে গুরুর উপদেশ পালনীয়।



পাতা ৪৪


৫। বিমলীকরণ-সুষুম্নাকাণ্ডের মূল ও মধ্যভাগে জ্যোতির্ময় ভাবনা করে ‘ওঁ হৌং’

মন্ত্রদ্বারা পুটিত করে ১০ বার বা ১০০ বার জপ করলে, মন্ত্রগত দোষাদি দূর হয়ে

বিমল হয়। এটি হলো মন্ত্রের বিমলীকরণ।

৬। আপ্যায়ন—ভুজপত্রে মন্ত্রটি লিখে কুশোদক, পুষ্পোদক বা স্বর্ণোদকে অভ্যুক্ষন করলে মন্ত্রের আপ্যায়ন করা হয়।

৭। তর্পণ—মন্ত্রের প্রত্যেক বর্ণকে কিংবা বর্ণসংখ্যাকে জলদ্বারা তর্পণ করলেই

তর্পণ করা হয়। তবে শক্তিমন্ত্রে মধুদ্বারা, বিষ্ণুমন্ত্রে কপূর মিশ্রিত জলদ্বারা, শিবমন্ত্রে

দুগ্ধদ্বারা তর্পণ করবে। অভিষেকেও একই নিয়ম।

৮। দীপন—মন্ত্রকে “ওঁ হ্রীং শ্রীং” বীজমন্ত্র দ্বারা পুটিত করে জপ করলে মন্ত্রের

দীপন হয়। ‘“ওঁ” বীজের নাম—তারা। “হ্রীং ” বীজের নাম—মায়া। “শ্রীং” বীজের

নাম—রমা বা লক্ষ্মী।

৯। গুপ্তি-মন্ত্ৰ সর্বদা গোপন রাখতে হয়, একেই বলে মন্ত্রগুপ্তি।



  মন্ত্র জপের ফল

জপনিষ্ঠো দ্বিজশ্রেষ্ঠাঽখিল যজ্ঞফলং লভেৎ।

সর্বেষাং এব যজ্ঞানাং জায়তেঽসৌ মহাফলম্ ৷৷

জপেন দেবতা নিত্যং স্তুয়মালা প্রসীদতি।

প্রসন্না বিপুলান্ কামান্ দদ্যান্মুক্তিঞ্চ শাশ্বতীম্।।

যক্ষঃ রক্ষঃ পিশাচাশ্চ গ্রহাঃ সপাশ্চ ভীষণাঃ ।

জন্মিনং নোপসর্পন্তি ভয়ভীতাঃ ত্বমস্তুতঃ ।।

যাবন্ত কর্মযজ্ঞাঃ সুঃপ্রতিষ্ঠাদি তপাংসি চ।

সর্বে তে জপযজ্ঞস্য কলাং নার্হন্তি ষোড়শীম্৷৷

মনঃ সংহত্য বিষয়ান্মন্ত্রার্থগত মানসঃ।

ন দ্রুতং ন বিলম্বঞ্চ জপেন্মৌক্তিক হারবৎ ॥

জপযজ্ঞই যজ্ঞমধ্যে শ্রেষ্ঠ ও বিশেষ ফলপ্রদ, জপনিষ্ঠ সাধক সর্বপ্রকার যজ্ঞফল

লাভ করে। প্রত্যহ স্তুতির জন্য মন্ত্রের অধিষ্ঠাত্রী দেব-দেবী তুষ্ট হন, সাধককে কাম্যবস্তু প্রদান করেন ও মুক্তি প্রদান করেন। যক্ষ, রক্ষ, পিশাচ, গ্রহ ও ভীষণ সম্পাদি জপের প্রভাবে ভীত হয়ে জপকারী ব্যক্তির নিকট থেকে দূরে পলায়ন করে।

ক্রিয়া, যজ্ঞ, প্রতিষ্ঠা, তপ প্রভৃতি কিছুই রূপ-যজ্ঞের ষোল ভাগের একভাগ তুল্যও



পাতা ৪৫


ফলপ্রদ নয়। বাচিক জপের চেয়ে উপাংশু জপ শতগুণ ফলদায়ক। উপাংশু জপের

চেয়ে মানস জপ সহস্রগুণ ফলপ্রদ।

সাধককে জপ করার সময় বিষয়চিন্তা প্রভৃতি ত্যাগ করে সংযতমনা হয়ে শুধুমাত্র

মন্ত্রকে চিন্তা করে খুব দ্রুতও নয় ও খুব আস্তেও নয়, এইভাবে পর্যায়ক্রমে জপ করতে হয়।

      জপের প্রকার

জপ তিন প্রকার। যেমন—মানস জপ, উপাংশু জপ এবং বাচিক জপ। 

মানস জপ—মন্ত্রের অর্থ স্মরণ করে মনে মনে জপ করাকে মানস জপ বলে। 


উপাংশু জপ—মন্ত্রাধিষ্ঠাত্রী দেবতার প্রতি মনোনিবেশ করে, শুধুমাত্র নিজে শোনা যায় এইভাবে জিভ ও ঠোঁট নেড়ে মন্ত্র উচ্চারণ করাকে উপাংশু জপ বলে। 


বাচিক জপ-মন্ত্র স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করে জপ করার নাম বাচিক জপ।

মানসঃ সিদ্ধি কামানাং পুষ্টিকামৈরুপাংশুকঃ।

বাচিকো মারণে চৈব প্রশস্তো জপ ঈরিতঃ ।

অর্থাৎ, সিদ্ধিলাভ হেতু সাধক মানস জপ করবেন। পুষ্টিকর্মে উপাংশু জপে ফললাভ

হয়। মারণকার্য্যের জন্য সাধক বাচিক জপ করবেন।


     মন্ত্ৰ-চৈতন্য

চৈতন্যহীন মন্ত্রকে পশুভাবে স্থিত বলা হয়। এজন্য মন্ত্র সুষুম্নাধ্বনিতে উচ্চারণ

করে সাধক জপ করলে সিদ্ধিলাভ হয়। মূলাধার পদ্মের মধ্যে ব্রহ্মনাড়িতে রয়েছেন স্বয়ম্ভূ লিঙ্গ, সেখানে কুণ্ডলিনী শক্তি বিরাজিতা। তার মধ্যেও যন্ত্র গ্রথিত থাকে। তাঁকে চিন্তা করে কুণ্ডলিনী শক্তিকে জাগ্রত করতে হবে। অতঃপর সহস্রার পদ্মের মধ্যস্থিত পরমানন্দময় সদাশিবের সঙ্গে কুণ্ডলিনী শক্তির মিলন ঘটাতে হয়। প্রথমে সাধনার দ্বারা গুরুর নির্দেশ মত এই যৌগিক শক্তি লাভ করতে হয়। এই সাধনায় সিদ্ধিলাভ হলে সাধকের আর আনুষ্ঠানিক পূজা-হোমাদির প্রয়োজন হয় না।

মন্ত্র জপের সময় যদি সাধকের মন পরমশিব, শক্তি এবং বায়ু পৃথক পৃথক স্থানে অবস্থান করে, যদি একত্র করতে না পারা যায়, তাহলে কোনমতে সাধক সিদ্ধিলাভ করতে পারে না। মন্ত্র জপের পূর্বে মন্ত্রের জাতকাশৌচ অর্থাৎ জননাশৌচ হয় এবং মন্ত্র উচ্চারণের পরে মন্ত্রের মরণাশৌচ হয়। সেজন্য মহাদেব পার্বতীকে বলেছেন—এই দুটি অশৌচ নিবারণের জন্য বীজমন্ত্রকে প্রণব (ওঁ) দ্বারা পুটিত করে প্রথমে ১০৮






পাতা ৪৬



বার জপ করে নিয়ে তারপর প্রকৃত জপ করবে। মন্ত্রের অর্থ, মন্ত্রচৈতন্য ও যোনিমুদ্রা গুরুর কাছ থেকে শিক্ষা না করে জপ করলে তাতে সিদ্ধিলাভ করা যায় না। চৈতন্য না হলে মন্ত্র ফলদায়ক হয় না।

      জপের সেতু

তত্র সেতুং বিনা জপস্য ব্যর্থত্বাত্তন্নিরূপ্যতে।

শাস্ত্রাণাং প্ৰণবঃ সেতুমন্ত্রানাং প্রণবঃ স্মৃতঃ ।।

শ্রবত্যনৌকৃতঃ পূর্বং পরস্তাঞ্চ বিশীর্য্যতে।

নিঃসেতু সলিলং যন্ত্রৎ ক্ষণান্নিন্মং প্ৰগচ্ছতি ॥

মন্ত্রস্তথৈব নিঃসেতু ক্ষণাৎক্ষরস্তি মজ্জনাম্ ।।

চতুর্দশো স্বরো সোঽসৌ সেতুরৌকার সংজ্ঞকঃ ।

স চানুস্বারনাদাভ্যাং শূদ্রাণাং সেতুরুচ্যতে ।।

অর্থাৎ, সেতুবিহীন জপ নিষ্ফল হয়। 'ওঁ'-কার হলো সকল মন্ত্রের সেতু স্বরূপ।

সেতুর সাধারণ অর্থ হলো সংযোগ। কাজেই মন্ত্র ও দেবতার সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী সেতু (ওঁ) সংযোগ ব্যতীত জপ নিষ্ফল। কাজেই জপের পূর্বে ‘ওঁ’-কার রূপ সেতু প্রয়োগ করতে হয়। তা না হলে সেই জপ নদীগর্ভে পতিত হবার মতই নিষ্ফল হয়।

চতুর্দশ স্বরবিন্দু নাদ মণ্ডিত “ওঁ”-কার স্ত্রীলোক ও শুদ্রদের জপের সেতুর কাজ করে।



    জপ সংখ্যা

মন্ত্র জপ করতে হলে সাধককে জপের সংখ্যা রাখতে হয়। তা না হলে কুশ ব্যতীত

যেমন স্নান-দানাদি, আবার জল ব্যতীত যেমন দান নিষ্ফল হয়, সেই প্রকার সংখ্যাবিহীন জপ নিষ্ফল।


জপ-সংখ্যা রাখার নিয়ম

মুক্তাফলৈর্বিদ্রুমেন রুদ্রাক্ষেঃ স্ফটিকেন বা।

গণনা সর্বথা কাৰ্য্যা সম্যগগুলি পৰ্বভিঃ ৷৷


অর্থাৎ, জপের সংখ্যা মনে রাখার জন্য মুক্তা, বিদ্রুমমণি, রুদ্রাক্ষ, স্ফটিক, স্বর্ণ,

রৌপ্য, মণি, প্রবাল, বা অঙ্গুলির সাহায্য গ্রহণ করতে হয়। প্রায় সব ক্ষেত্রেই অঙ্গুলি

পর্বেই জপ-সংখ্যা গণনা করা হয়, এর নাম করমালা। করমালা জপ পুরুষ দেবতার




ছবি ৪৭


একপ্রকার, স্ত্রী দেবতার অন্যপ্রকার। পুরুষ দেবতার করমালাকে শৈবমালা এবং স্ত্রী-দেবতার করমালাকে শক্তিমালা বলা হয়। করমালা জপের নিয়ম

হৃদয়ে হস্তমারোপ্য তির্য্যক্ কৃত্বা করাঙ্গুলীঃ।

আচ্ছাদ্য বসনা হস্তৌ দক্ষিণেন জপেৎ সদা ।।

অর্থাৎ, দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুলিসকল হৃদয়ে বক্রভাবে রেখে, উত্তরীয় দ্বারা হস্ত আচ্ছাদন করে জপ করতে হয়। জপকালীন অঙ্গুলীর পর্ব সন্ধিতে বা অঙ্গুলির অগ্রে জপ করলে জপ নিষ্ফল হয়। শুধুমাত্র পর্বে জপ করতে হবে।

জপ করার সময় মালার মেরু লঙ্ঘন করা চলবে না। পুরুষ দেবতার মন্ত্রে মধ্যমাঙ্গুলির দুটি পর্ব মেরু, এবং শক্তিমন্ত্রে তর্জনীর দু'টি পর্ব মেরু বাদ রাখতে হবে।


পুরুষ দেবতার করাঙ্গুলি – অনামিকার মধ্যপর্ব নিম্নপর্ব, কনিষ্ঠার তিন পর্ব,

অনামিকার অগ্রপর্ব, মধ্যমার অগ্রপর্ব, তর্জনীর অগ্র, মধ্য ও নিম্নপর্ব।


স্ত্রী-দেবতার করাঙ্গুলি—অনামিকার মধ্যপর্ব ও নিম্নপর্ব, কনিষ্ঠার নিম্ন, মধ্য,

অগ্রপর্ব, অনামিকার অগ্রপর্ব, মধ্যমার অগ্র, মধ্য ও নিম্নপর্ব এবং তর্জনীর মূলপর্বে জপ করবেন।


  প্রাণায়াম ও নিয়ম

সাধনা করতে হলে সাধককে অবশ্যই প্রাণায়াম করতে হবে। সাধনার প্রধান সোপান হলো প্রাণায়াম। প্রাণায়ামে কুম্ভকের সাহায্যে দেহের অভ্যন্তরে শ্বাসবায়ু রোধ করলে, দেহ লঘু হয়। এই রোধশক্তি যত বেশী হবে, শরীর তত বেশী লঘু 'অর্থাৎ হাল্কা হবে। সেজন্যই শাস্ত্রে সাধককে প্রাণায়ামের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে—

প্রাণায়ামঃ পরমঃ ব্রহ্ম পরমাত্মা চতুর্থঃ।

ব্রহ্মা চ পুরকো জ্ঞেয়ঃ কুম্ভকো বিষ্ণুরুচ্যতে।

রেচকঃ শঙ্করো জ্ঞেয়ঃ পরাৎপরতর শিবঃ ।।

অর্থাৎ, প্রাণায়াম পরমব্রহ্ম স্বরূপ। প্রাণায়ামের পুরক হলো ব্রহ্মা চতুরানন্। কুম্ভক হলো স্বয়ং বিষ্ণু এবং রেচক অংশ পরাৎপর শিব।

প্রাণায়ামকারী সাধক পদ্মাসনে বা সুখাসনে বসে মেরুদণ্ড সোজা রেখে দক্ষিণ হস্তের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দ্বারা দক্ষিণ নাসাপুট রুদ্ধ করে মূলমন্ত্র বা ‘ওঁ' মনে মনে ষোড়শ বার জপ করতে করতে শ্বাসবায়ু গ্রহণ করতে হবে। এবার দক্ষিণ হস্তের মধ্যমা 




পাতা  ৪৮


ও অনামিকা দ্বারা বাম নাসাপুটও রুদ্ধ করে মূলমন্ত্র বা ‘ওঁ’ চতুঃষষ্টি বার জপ করতে হবে। অতঃপর দক্ষিণ নাসাপুট থেকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ তুলে নিয়ে মূলমন্ত্র বা ‘ওঁ’ দ্বাত্রিংশদ্বার জপ করতে করতে ধীরে ধীরে শ্বাসবায়ু ত্যাগ করবেন।

এইভাবে তিনবার করলে একবার প্রাণায়াম করা হয়। শ্বাসগ্রহণ অর্থাৎ পুরকে যত সংখ্যা জপ করবেন, কুম্ভকে অর্থাৎ শ্বাসরোধে তার চারগুণ এবং রেচকে অর্থাৎ শ্বাসত্যাগে পুরকের দ্বিগুণ জপ করতে হয়। অর্থাৎ পুরক ১৬ হলে, কুম্ভক হবে ৬৪ সংখ্যা ও রেচক হবে ৩২ সংখ্যা। এইভাবে সাধ্যমত সংখ্যা বাড়িয়ে বা কমিয়ে অভ্যাস করবেন।



জপের পূর্বে পূজাদি বিষয়

সাধক শুদ্ধাসনে বসে আচমন, বিষ্ণুস্মরণাদি করে বিঘ্নাপসারণ, ভুতাপসারণ, আসনশুদ্ধি, জলশুদ্ধি, পুষ্পশুদ্ধাদি করে ভূতশুদ্ধি করবেন। কারণ ভূতশুদ্ধি না হলে কোনও কার্য্যে সাফল্য লাভ করা যায় না, তারপর প্রাণায়ামাদি ক্রিয়া সমাপ্ত করে,

ন্যাসাদি কার্য করবেন। দেব-দেবী পূজাপদ্ধতি অনুযায়ী ন্যাস করতে হয়। অন্যথায় পূজার্চনা নিষ্ফল হয়।

দ্বাদশ রাশি ও মন্ত্র

সকল মানুষের জন্ম রাশি এক প্রকার হয় না। বিভিন্ন মানুষের জন্মরাশি বিভিন্ন।

অতএব জন্মরাশি অনুসারে যন্ত্র জপ করলে, ভাল ফললাভ হয়। নিজ নিজ জন্মরাশি অনুযায়ী নিম্নলিখিত মন্ত্র জপ করলে সংসারে অশান্তি ও রোগাদি দূর হয়, সম্মান ও প্রভাব বৃদ্ধি হয়। গ্রহগণ অনুকুল হয়। প্রত্যহ প্রাতেঃ রাশি অনুসারে মন্ত্র ১০৮ বার জপ করে অন্য কর্ম করবেন।

১। মেষ রাশির মন্ত্র — "ও হ্লীং শ্রীং লক্ষ্মী নারায়ণায় নমঃ।”

২। বৃষ রাশির মন্ত্র – “ওঁ গোপালায় উত্তরধ্বজায় নমঃ।”

৩। মিথুন রাশির মন্ত্র—“ওঁ ক্লীং কৃষ্ণায় নমঃ।”

-

৪। কর্কট রাশির মন্ত্র— “ওঁ হিরণ্যগর্ভায় অব্যক্ত রূপিণে নমঃ।”

৫। সিংহ রাশির মন্ত্র——“ওঁ ক্লীং ব্রহ্মণে জগদাধারায় নমঃ।”

৬। কন্যা রাশির মন্ত্র- -“ওঁ নমো প্রীং পীতাম্বরায় নমঃ।”

-

৭। তুলা রাশির মন্ত্র—– “ওঁ তত্ত্বনিরক্তনায় তারকরামায় নমঃ।”

৮। বৃশ্চিক রাশির মন্ত্র—“ওঁ নারায়ণায় সুরসিংহায় নমঃ।।”

-


পাতা ৪৯



৯। ধনু রাশির মন্ত্র—“ওঁ শ্ৰীং দেবকৃষ্ণায় ঊর্ধ্বসপ্তায় নমঃ।”

১০। মকর রাশির মন্ত্র “ওঁ শ্রীং বৎসলায় নমঃ।”

১১। কুম্ভ রাশির মন্ত্র — “ওঁ শ্ৰীং উপেন্দ্রায় অচ্যুতায় নমঃ।”

১২। মীন রাশির মন্ত্র – “ওঁ ক্লীং উদ্ধৃতায় উদ্ধারিণে নমঃ।”