সর্ব মনস্কামনা সিদ্ধ পর্ব ২ - school book solver

Saturday, 1 August 2026

সর্ব মনস্কামনা সিদ্ধ পর্ব ২


সর্ব মনস্কামনা সিদ্ধ পর্ব ২




দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

গুরু ও শিষ্য লক্ষণ

সমস্ত শিক্ষা বিষয়েই গুরুর প্রয়োজন। গুরু ছাড়া জ্ঞানলাভ অসম্ভব। সেজন্যই বলা হয়েছে—

অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন শলাকয়া।

চক্ষুরুন্মিলীতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ৷৷

অর্থাৎ গুরুদেবই জ্ঞানরূপ কজ্জ্বল শালাকা দ্বারা অজ্ঞানান্ধকার নাশ করে তিনিই জ্ঞানচক্ষু প্রদান করেন। সেই গুরুকে প্রণাম করি। সাধনার পথে অগ্রসর হতে হলে পথ প্রদর্শকরূপে গুরুর প্রয়োজন। তাঁর আদেশ উপদেশ মেনে এগিয়ে যেতে হবে




সাধন পথে।

আধ্যাত্মিক সাধনাই হোক অথবা অন্য কোনও কাজই হোক, তাতে সিদ্ধিলাভ করতে হলে গুরুর প্রয়োজন। গুরুর কৃপা, তাঁর পথ নির্দেশনা সাধন পথের সম্বল বলে জানতে হবে। যিনি কঠোর সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেন, এইরকম সিদ্ধপুরুষই হলেন গুরু। তবে বর্তমানে এইরকম সিদ্ধপুরুষ দুর্লভ, থাকলেও তাঁরা লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকেন। ক্বচিৎ কখনও কোনও ভাগ্যবান ব্যক্তি এইরকম গুরুর সন্ধান পান।


এই রকম সিদ্ধ মহাপুরুষের সন্ধান যদি না পাওয়া যায়, তাহলে তন্ত্রস্রষ্টা মহাদেবকে মানসিক গুরুরূপে মেনে নিয়ে সাধনা করতে হবে। সাধন সম্পর্কের গ্রন্থাদি পাঠ করে, সেইরকম নিয়মগুলি ও আচার-অনুষ্ঠান করতে হয়।

সাধককে উপযুক্ত গুরু বেছে নিতে হয়। এজন্য, অরণ্যচারী বা গুহাবাসী সন্ন্যাসী, শ্মশানবাসী, বা মঠাধ্যক্ষের প্রয়োজন হয় না। যে কোনও সদগুণসম্পন্ন সংসারী মানুষ গুরু হতে পারেন। এজন্য তাঁর নিম্নলিখিত গুণগুলি থাকা আবশ্যক।

১। শিষ্যের আপন দেশবাসী, ঈশ্বরবিশ্বাসী, নিত্য-পূজা পাঠকারী এবং বর্ণাশ্রমানুযায়ী কোনও আশ্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে, সেই অনুযায়ী আচরণকারী হতে হবে।

২। সদাচারী, সত্যভাষী, শান্ত-সৌম্য ব্রাহ্মণ হওয়া দরকার।

৩। যাঁর মনে লোভ, ক্রোধ, হিংসা, ছলনা নেই, সকল বিষয়ে নির্লিপ্ত, সহজ, সরল, পবিত্র জীবন-যাপন করেন, তিনি গুরু পদবাচ্য।

৪। যিনি চরিত্রগত দুর্বলতা, বিলাসিতা, প্রসাধন প্রিয়, চঞ্চলতা থেকে মুক্ত, তিনিই গুরুপদ বাচ্য।

৫। যিনি সামাজিক কুসংস্কার মুক্ত, রাজনীতি ও ষড়যন্ত্র কিছুতেই লিপ্ত নন, তিনিই গুরু হবার যোগ্য ।

৬। আশ্রমনিষ্ঠ, কর্তব্যপরায়ণ, পরোপকারী, সংযমী, শাস্ত্রাধ্যায়নকারী, স্থিরচিত্ত ও মৃদুভাষী গুরু হবার যোগ্য।

৭। নম্র, বিনয়ী, ব্রাহ্মণের ধর্ম পালনকারী, মেধাবী, আস্থাবান, বিবেকী গুরু হবার যোগ্য।

এ ছাড়া নিম্নলিখিত চিহ্ন বা ব্যাধি থাকলে তাকে গুরুপদে বরণ করা যায় না।

যেমন-

১। পঙ্গু, একচক্ষু, খঞ্জ, এক হাতবিশিষ্ট অঙ্গহীন ব্যক্তি গুরুর যোগ্য নয়।


২। যার দেহে শ্বেতী বা শ্বেতকুষ্ঠ আছে।

৩। অধিক অঙ্গযুক্ত। ৪। বিকৃতাঙ্গ। ৫। ছলনাকারী, প্রতারক, বিলাসী, শঠ, লোভী, আলসী। ৬। অমিতাহারী, ভোজনবিলাশী। ৭। গুরুনিন্দাকারী, হিংসুক, পরশ্রীকাতর, অজ্ঞাতকুলশীল, দম্ভী, অজ্ঞানী, অশিক্ষিত। ৮। কুৎসিত দেহধারী, বিকৃত নখ, চক্ষুদোষ

ও কালো দন্তযুক্ত। ৯। চরিত্রহীন, বিষয়ভোগী, কলহপ্রিয়, তার্কিক, অভিশাপ গ্রস্ত, বেশী কথাবলে, ধূর্ত, অবিশ্বাসী, নিত্যকর্মে বিমুখ। ১০। দয়া-মায়াহীন, কর্কশ-স্বরযুক্ত, নারীচর্চাকারী, বিষয়লোভী, সঞ্চয়ী, অপরাধী, ক্ষমা ও দয়াহীন।

উপরোক্ত লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিগণ পাতকী হয়। এই সব অশুভ লক্ষণ থাকলে তাদের সংস্পর্শে আসাও পাপ, এদের গুরু করা যায় না।


   দীক্ষা গ্রহণ সম্পর্কে জ্ঞাতব্য

উপযুক্ত গুরু পাওয়া গেলে দীক্ষা গ্রহণ করবেন। দীক্ষা অর্থে গুরুকর্তৃক মন্ত্রোপদেশ ৷ গুরুদের দীক্ষাদান করার সঙ্গেই শিষ্যকে সাধনা সম্পর্কে নানাপ্রকার শিক্ষা দিয়ে দেন।

সাধনা একপ্রকার নয়— বিভিন্ন উদ্দেশ্য সিদ্ধিলাভের জন্য বিভিন্ন প্রকার সাধনা আছে। গুরু শিষ্যকে সেই বিষয়ে শিক্ষাদান করে শিষ্যের পাশে থেকে তাকে নির্দেশ দেন এবং বিপদাপন্ন হলে সর্বতোভাবে রক্ষা করেন। শিষ্যকেও গুরুর আদেশ যথাযথ পালন করতে হয়। গুরু কাছে থাকলে কোনও বাধাই শিষ্যকে তার সাধনভ্রষ্ট করতে পারে না। এখানে একটা কথা বলে রাখা দরকার— দীক্ষা গ্রহণ যখন-তখন হয় না, তার জন্য প্রথমে মুহূর্ত নির্ণয় করতে হবে, তারপর মাস, পক্ষ, তিথি, দিন, লগ্ন, নক্ষত্র, যোগ প্রভৃতি বিচার করে দেখতে হবে।


       মুহূর্ত ও তার প্রভাব

দিবা-রাত্রির এক-একটি অংশ এক এক প্রকার বিশেষ শক্তির দ্বারা সম্পন্ন হয়, একেই বলা হয় মুহূর্ত প্রভাব। প্রহর, ঘন্টা, পল পর্যন্ত একটা না একটা বিশেষ প্রভাব যুক্ত হয়। আবার সেইসব প্রভাব বা শক্তি প্রত্যেকটি কাজেই সহায়ক হয় না। কাজেই বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন মহুর্তের দরকার হয়ে পড়ে। যে মুহূর্তে চলা কাজ নির্বিঘ্ন



ও ফলদায়ক হয়, সেটিই হলো শুভমুহূর্ত। আবার অনেক সময় দেখা যায়, যে মুহূর্তে ক্রিয়া-কর্মের অনুষ্ঠান করলে নানাপ্রকার বিঘ্ন দেখা দেয় এবং কাজে অসাফল্য দেখা দেয়, তাকে বলা হয় অশুভ মুহূর্ত। অনুকূল মুহূর্তে সাধনা শুভ ও ফলদায়ক। প্রতিকূল মুহূর্তের সাধনা শুধু নিষ্ফলই নয়, সাধকের পক্ষে ক্ষতিকারক এমন কি প্রাণহানিও হতে পারে। এই মুহূর্তেই প্রয়োজন হয় গুরুর।

পক্ষ নির্ণয়—মুহূর্ত নির্ণয়ের পরেই পক্ষ নির্ণয় করতে হবে। পক্ষ হলো দু'টি শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষ। প্রতি পক্ষে চন্দ্রের অবস্থিতি ১৫ দিন অন্তর হয়ে থাকে। এখন কোন্ পক্ষে কি কাজ ফলদায়ক, সে সম্বন্ধে বলা হচ্ছে।

১। কৃষ্ণপক্ষে দীক্ষা গ্রহণ করলে—আধ্যাত্মিক লাভ, জ্ঞান লাভ, ঈশ্বর সামীপ্য,।মোক্ষ লাভ হয়।

২। সাংসারিক ব্যাপারে সিদ্ধিলাভ করতে হলে, শুক্লপক্ষে দীক্ষাগ্রহণ করতে হবে।

তিথি-নির্ণয় > পক্ষ নির্ণয় হবার পর তিথি নির্ণয় করার বিশেষ আবশ্যক। চন্দ্রকলার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডল ও সমূহ প্রাণীজগৎ প্রভাবিত হয়। বিশেষ করে মানুষের মনের ওপর চাঁদের প্রভাব খুব বেশী। দীক্ষা গ্রহণের শুভ তিথিগুলি হলো—দ্বিতীয়া, পঞ্চমী, সপ্তমী, দশমী, ত্রয়োদশী ও পূর্ণিমা।

দিন-নির্ণয়—তিথি নির্ণয় করে দিন নির্ণয় করতে হবে। দিন নির্ণয়ের জন্য শুভ

দিনগুলি হলো—রবি, সোম, বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার। এ ছাড়া গুরুর আদেশ।অনুসারে দিন নির্ণয় করতে হবে।


লগ্ন—দিন, তিথি, নির্ণয় করার পর লগ্ন নির্ণয়েরও বিশেষ প্রয়োজন। এজন্য শুভলগ্ন বিচার করে দীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য শুভলগ্ন হলো— মেষ, কর্কট, বৃশ্চিক, তুলা, মকর এবং কুম্ভ প্রশস্ত লগ্ন।

নক্ষত্র—লগ্ন বিচার করে নক্ষত্র বিচার করতে হবে। শাস্ত্রে পুষ্যা নক্ষত্রকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। এ ছাড়া—হস্তা, অশ্বিনী, রোহিণী, স্বাতী, বিশাখা, জোষ্ঠা, উত্তরফল্গুনী, উত্তরাষাঢ়া, উত্তরভাদ্রপদ, শ্রবণা, আদ্রা, ধনিষ্ঠা এবং শতভিষাও প্রশস্ত। ভাদ্রমাসের ষষ্ঠী, আশ্বিনের ত্রয়োদশী (কৃষ্ণপক্ষের), কার্তিকমাসের শুক্লানবমী, শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণাপঞ্চমী তিথি শুভ।



কোন্ মাসে দীক্ষা গ্রহণের কি ফলাফল—চৈত্র মাসে দীক্ষা গ্রহণে নানাপ্রকার সিদ্ধিলাভ হয়। এই মাসটি গোপাল মন্ত্র গ্রহণের প্রশস্ত মাস।

এইভাবে বৈশাখে—অর্থলাভ, জ্যৈষ্ঠ মাসে— মারণ কর্ম। আষাঢ়ে— কুটুম্বহানি। শ্রাবণে—আয়ুবৃদ্ধি। ভাদ্রে—সম্ভানহানি। আশ্বিনে-রত্নলাভ অর্থাৎ অর্থলাভ। কার্তিক ও অগ্রহায়ণে—মন্ত্রসিদ্ধি। পৌষে—–বিদ্বেষণ। মাঘে—জ্ঞান, বুদ্ধি, ঐশ্বর্য। ফাল্গুনে—মনোস্কামনা পূর্ণ।

দিনের প্রভাব— রবিবারে— অর্থবৃদ্ধি। সোমবারে — শান্তিলাভ। মঙ্গলবারে—।আয়ুনাশ। বুধবারে - সম্পত্তিলাভ। বৃহস্পতিবারে— জ্ঞানলাভ। শুক্রবারে— দুর্ভাগ্য। শনিবারে—অপযশ।

তিথির প্রভাব–তিথি অনুযায়ী চন্দ্র ও সূর্যরশ্মির প্রভাব পৃথিবীর ওপর বিভিন্ন ভাবে প্রকাশ পায়। সেজন্য বিভিন্ন তিথিতে বিভিন্ন তান্ত্রিক কার্য করতে হয়। এখানে

সে সম্পর্কে বলা হলো—

প্রতিপদে—অজ্ঞানতা। দ্বিতীয়া এবং তৃতীয়ায়—বুদ্ধিভ্রংশ ও অজ্ঞানতা। চতুর্থীতে—অর্থহানি। পঞ্চমীতে — বুদ্ধির বিকাশ। ষষ্ঠীতে — বুদ্ধিনাশ। সপ্তমীতে— সুখবৃদ্ধি। অষ্টমীতে— মানসিক শক্তি বৃদ্ধি। নবমীতে – রোগ-ব্যাধিতে কষ্ট। দশমীতে—সম্মান লাভ। একাদশীতে —সদাচারী। দ্বাদশীতে—সর্ববিষয়ে সিদ্ধিলাভ। চতুর্দশীতে— জন্মান্তরে ত্রয়োদশীতে—অর্থনাশ । পক্ষীযোনি অমাবস্যায়—কর্মনাশ। পূর্ণিমায়—ধর্মবৃদ্ধি। লাভ ।

যোগ প্রভাব—যত প্রকার যোগ আছে, তার মধ্যে নিম্নলিখিত ১৬টি যোগ

দীক্ষাগ্রহণে শুভ। যেমন—

আয়ুষ্মান, প্রীতি, শোভন, বুদ্ধি, সৌভাগ্য, ধ্রুব, শিব, ব্রহ্মা, ইন্দ্র, সুকর্মা, বরীয়ান্, সাধ্য, সিদ্ধি, হর্ষণ, শুক্র।

দীক্ষাগ্রহণে শুভাশুভ নক্ষত্র

          শুভ

অশ্বিনী—মঙ্গলকারক।

রোহিণী— জ্ঞানবৃদ্ধি।

হস্তা-- অর্থলাভ ।

চিত্রা- জ্ঞানলাভ।





মৃগশিরা- সুখলাভ ।

স্বাতী— শত্রুহানি।

পুনর্বসু অর্থপ্রাপ্তি।

অনুরাধা- বন্ধুপ্রাপ্তি।

পুষ্যা শত্রুনাশ।

মুলা- যশোলাভ।

মঘা- দুঃখনাশ।

শতভিষা—বুদ্ধিলাভ।

পূর্বফল্গুনী-ঐশ্বর্য ও বুদ্ধিলাভ।

পূর্ব ভাদ্রপদ-সুখপ্রদ।

উত্তরফল্গুনী-- জ্ঞানবৃদ্ধি।

রেবতী—যশোবৃদ্ধি।


             অশুভ

ভরণী— মৃত্যুতুল্য।

বিশাখা— দুঃখপ্রদ।

কৃত্তিকা— দুঃখপ্রদ।

জ্যেষ্ঠা-পুত্ৰনাশ।

আর্দ্রা মিত্রহানি।

শ্রবণা—দুঃখপ্রদ।

অশ্লেষা-- মৃত্যুতুল্য।

ধনিষ্ঠা— দারিদ্রতা।

উপযুক্ত বা অনুপযুক্ত আসন

১। ভূম্যাসন—শুধু মাটিতে বসে সাধনাতে সাধকের হানি হয় ও মানসিক কষ্ট হয়।

২। পত্রাসন —পাতার তৈরী আসনে সাধকের উদ্বেগ, ভ্রম ও চাঞ্চল্য দেখা দেয়।

৩। তৃণাসন—ঘাস, লতা ইত্যাদির আসনে অর্থনাশ ও কীর্তিনাশ।

৪। কাষ্ঠাসন—কাষ্ঠের আসনে সাধকের ভাগ্যে বিপর্য্যয় ঘটে।

৫। বংশ নির্মিত আসন —এই আসনে সাধকের দুঃখ-দারিদ্র দেখা যায়।

৬। চেয়ার বা বস্ত্রাসন—এই আসনে সাধকের রোগ-ব্যাধি ও অশান্তি বৃদ্ধি।

৭। প্রস্তরাসন—পাথরে বসে সাধনা করলে সাধক পীড়াগ্রস্ত হয়।

৮। মৃগচর্ম্ম—এই আসন শ্রেষ্ঠ, এতে জ্ঞান ও সিদ্ধিলাভ হয়। কৃষ্ণসার মৃগচর্ম খুবই প্রভাবশালী, কিন্তু এটি দুষ্পাপ্য।

৯। ব্যাঘ্রচর্ম—এই আসনে সাধকের দারিদ্রতা দূর হয়, মোক্ষলাভ হয়।

১০। কম্বলাসন--এই আসনে দেহ-মনের ক্লেশ নাশ করে সিদ্ধি দান করে।

১১। বেত্রাসন-বেত নির্মিত আসনে সাধক শান্তি লাভ করে।

১২। কুশাসন—এটি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সুলভ ও সর্বকার্যে শুভ।



দীক্ষাগ্রহণে শুভস্থান

নিম্নলিখিত স্থানগুলি দীক্ষাগ্রহণে শুভ।

যে স্থলে গরু বাঁধা থাকে।

গোশালা বা গোয়াল

দেব মন্দির

অরণ্য

উপবন

পর্বত গুহা

নদীতট

গঙ্গাতীর

তীর্থস্থান

পবর্ত শিখর

তেতুঁলবৃক্ষ মূলে

শিবালয়।


        অশুভ স্থান

চন্দ্রনাথ পর্বত

কন্যাগৃহ (শ্বশুরালয়)

সূর্যক্ষেত্র

মাতঙ্গ ক্ষেত্র

গয়াতীর্থ

বিরজাতীর্থ

ভট্টগ্রাম

এক্ষেত্রে বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে—গুরু যদি আদেশ করেন, তবে যে কোনও

স্থানে যে কোনও সময় দীক্ষাগ্রহণ করতে পারেন।




        মালাজপ

দীক্ষা গ্রহণের পর সাধক যে কার্যে ক্রিয়াকলাপ বা জপাদি করবেন, তার বিভিন্ন মালা দ্বারা জপের নির্দেশ আছে। তন্ত্রে তার উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন—

১। মারণ, বিদ্বেষণ ও উচ্চাটনাদি কর্মে অর্থাৎ বিশেষ কোনও উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য পদ্মবীজের মালায় জপ করতে হবে।

২। পুত্রলাভ কামনায় পত্রজীবের মালায় জপ প্রশস্ত।

৩। কামনাসিদ্ধি অর্থাৎ সাত্ত্বিক বা রাজসিক উদ্দেশ্যে রূপার মালা প্রশস্ত।

৪। পাপমুক্তির জন্য কুশমূলের গাঁঠ নির্মিত মালা প্রশস্ত।

৫। অর্থলাভ, লক্ষ্মীর কৃপা, আয়বৃদ্ধি প্রভৃতির জন্য মুগার মালা প্রশস্ত।

৬। ত্রিপুরসুন্দরী সাধনা করতে হলে, রক্ত চন্দন কাঠের মালা প্রশস্ত।

৭। বগলা বিষয়ে সাধনার জন্য হরিদ্রার মালা প্রশস্ত।

৮। ভৈরবী সাধনার জন্য সাধক স্ফটিক, শঙ্খমালা, স্বর্ণ, মণি বা মুগার মালা ব্যবহার।


করবেন।

মালার অভাবে কর জপ করার বিধিও আছে, তবে তার ফল খুব কম হয়। অঙ্গুলি পত্রজীবের মালায় দশগুণ, শঙ্খমালায় শতগুণ, মুগার মালায় সহস্রগুণ, জপে আটগুণ, রত্ননির্মিত মালায় দশ হাজার গুণ, মতির মালায় লক্ষগুণ, পদ্মবীজের মালায় দশ লক্ষগুণ, সুবর্ণ মালায় কোটি গুণ, কুশমুলের মালায় শতকোটি গুণ ফললাভ হয়।


       রুদ্রাক্ষ মালা

যত প্রকার মালা আছে, তার মধ্যে রুদ্রাক্ষ মালা সর্বশ্রেষ্ঠ। রুদ্রাক্ষ মালায় জপ করলে যে ফল পাওয়া যায়, তার সংখ্যা প্রকাশ করা যায় না।

রুদ্রাক্ষ এক প্রকার ফলের বীজ। পুরাণে দেখা যায়—শিবের চক্ষু থেকে এর সৃষ্টি। সেজন্য এর নাম হয়েছে রুদ্রাক্ষ। রুদ্র + অক্ষ=রুদ্রাক্ষ।

যাই হোক, রুদ্রাক্ষ মালা ব্যবহার করতে হলে বেছে নিতে হবে। পোকা ধরা, ভাঙ্গা, জ্বলে দিলে ভেসে ওঠে, এরকম রুদ্রাক্ষে ফল হয় না। এই মালা ধারণ করার পূর্বে সংস্কার করে নিতে হবে। রুদ্রাক্ষ একমুখ থেকে শুরু করে ২১ (একবিংশতি) মুখ পর্যন্ত দেখা যায়। এর মধ্যে একমুখী রুদ্রাক্ষ বেশ মূল্যবান এবং খুব কম পাওয়া যায়, কিন্তু পঞ্চদশ অর্থাৎ পনেরো মুখ থেকে একবিংশতি মুখ অর্থাৎ একুশমুখ রুদ্রাক্ষ খুবই দুষ্প্রাপ্য।


 রুদ্রাক্ষ ধারণের ফলাফল

১। একমুখী রুদ্রাক্ষ—ধারণে মহাপাপ নাশ, জ্ঞান ও সাত্বিকতা এবং সর্ব সিদ্ধিলাভ হয়। এতে ধন-ধ্যান্যাদি ঐশ্বর্য বৃদ্ধির সঙ্গে দৈবী কৃপা লাভ হয়।

২। দ্বিমুখী রুদ্রাক্ষ—চঞ্চলতা নাশকারী, কামনা-বাসনাপূর্ণ, বশীকরণ, ভূতাদি বাধানাশ, মৃগী ও মুচ্ছারোগ নাশক। স্ত্রীলোকের অত্যন্ত উপকারী।

৩। ত্রিমুখী রুদ্রাক্ষ—সুখ-শান্তি, কার্যসিদ্ধি, বিদ্যালাভ ও জ্ঞানদায়ক।

৪। চতুর্মুখী রুদ্রাক্ষ —একে পূজা, স্পর্শ ও ধারণে সর্ববিধ মঙ্গল হয়।

৫। পঞ্চমুখী রুদ্রাক্ষ —মোক্ষদাতা, কামনাপূরণকারী শান্তিদাতা। কমপক্ষে তিনটি ধারণ করা বিধেয়।

৬। ষড়মুখী রুদ্রাক্ষ —এটি কার্তিকেয়ের অংশজাত। এতে পাপনাশ, জ্ঞান-বুদ্ধি বৃদ্ধি, বিদ্যালাভ করায়। বিদ্যার্থীদের অত্যন্ত উপকারী।



৭। সপ্তমুখী রুদ্রাক্ষ —সিদ্ধিদাতা, সুখদাতা, দুঃখনাশক, রোগনাশক।

৮। অষ্টমুখী রুদ্রাক্ষ —ভৈরবরূপী এই রুদ্রাক্ষ পাপধ্বংসী, আয়ুপ্রদ শিবলোক প্রাপ্তিদাতা।

৯। নয়মুখী রুদ্রাক্ষ এটি নব দুর্গা স্বরূপা রুদ্রাক্ষ। এটি পরম কল্যাণদায়ক, সুখ-সৌভাগ্য দানকারী।

১০। দশমমুখী রুদ্রাক্ষ —নারায়ণের কৃপাধন্য এই রুদ্রাক্ষ রোগ-শোক নাশক, বাধা-বিঘ্ন নাশক, ভূতাদি বাধা অপসারক, কামনা পূরক।

১১। একাদশ মুখী রুদ্রাক্ষ -মোহন কর্মে ও ঐশ্বর্য-শ্রীবৃদ্ধির সহায়ক।

১২। দ্বাদশমুখী রুদ্রাক্ষ —সূর্যের প্রিয় এই রুদ্রাক্ষ শ্রীবৃদ্ধি কারক। তেজস্বিতা প্রদায়ক।

১৩। ত্রয়োদশমুখী রুদ্রাক্ষ—এটি অত্যন্ত অভীষ্ট সিদ্ধিকারী।

১৪। চতুদর্শমুখী রুদ্রাক্ষ—মহাদেবের প্রিয় এই রুদ্রাক্ষ পাপ ধ্বংসকারী, মোক্ষদাতা, সাত্বিকতা বৃদ্ধিকারক।


     রুদ্রাক্ষ ধারণ

রুদ্রাক্ষের মালা গেঁথে গলায় ধারণ করলে ফলদায়ক হবে না। রুদ্রাক্ষকে লাল

সুতাদ্বারা অথবা সোনা, রূপা বা তামার তারের দ্বারা গ্রন্থি দিয়ে, শুদ্ধাসনে উত্তরমুখে বসে আচমন, বিষ্ণুস্মরণ করে, ধূপ-দীপ জ্বেলে, পঞ্চগব্য, গঙ্গাজল বা তীর্থজলে স্নান করিয়ে, গন্ধ, পুষ্প, ধূপ, দীপ, রক্তচন্দন, অক্ষত, বিল্বপত্রাদির দ্বারা শিবের পূজা করে, দশবার শিব গায়ত্রী জপ করবেন।

শিব গায়ত্রী—ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্দ্ধনম্।

উর্ধারুকমিব বন্ধনামৃত্যুর্মুক্ষীয়মামৃতাৎ ৷৷

অথবা-

“ওঁ তৎপুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবায় ধীমহি, তন্নো রুদ্র প্রচোদয়াৎ।”

অতঃপর মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র “ওঁ জুং সঃ” কিংবা “ওঁ নমঃ শিবায়” মন্ত্রে বিল্বপত্র

সমিধ দ্বারা ১০৮ হোম করে তারপর শিবলিঙ্গে রুদ্রাক্ষ মালা স্পর্শ করিয়ে ধারণ করবেন।

হোমের ভস্মদ্বারা তিলকাদি ধারণ করে, শিবের প্রণাম মন্ত্রে শিবকে প্রণাম করবেন।



ছবি ৩৬


যথা-

“ওঁ মহাদেব মহাত্মানং মহাযোগী মহেশ্বর।

মহাপাপ হরং দেবং মকারায় নমো নমঃ ॥”

তারপর মালাতে “ওঁ নমঃ শিবায়” মন্ত্র ১০৮ বার জপ করে, জপ সমর্পণ করবেন।

যথা—“ওঁ গুহ্যাতিগুহ্য গোপ্তা ত্বং গৃহাণাস্মাৎ কৃতং জপম্। সিদ্ধির্ভবতু মে দে

তৎপ্রসাদান্মহেশ্বর।”


   শিষ্যের লক্ষণ

এর আগে গুরুর লক্ষণ সম্পর্কে আলোচনা করেছি, এখন শিষ্যের লক্ষণ সম্পর্কে আলোচনা করা হচ্ছে। নিম্নলিখিত দোষ-ত্রুটি থাকলে তাকে শিষ্য করা যায় না।

যেমন—পাপাশয়, ঝগড়াটে, দুর্দান্ত প্রকৃতির, অত্যাচারী, হিংসাপরায়ণ, কৃপণ,

অবিশ্বাসী, আচারভ্রষ্ট, আলস্যপ্রিয়, পরনিন্দাকারী, দীর্ঘসূত্রী দোষযুক্ত, লোভী, ক্রোধী, কপট, কটুভাষী, হিংসা-দ্বেষপূর্ণ, দুষ্কৃতকারী, শাস্ত্রের অবমাননাকারী, অশিক্ষিত, তোষামুদে, দম্ভ ও অহংকারী, দুষ্ট-স্বভাব, চোর, প্রতারক, মিথ্যাবাদী, ঈশ্বরে অবিশ্বাসী, চঞ্চল প্রকৃতির প্রভৃতি স্বভাবযুক্ত শিষ্যের অনুপযুক্ত।

তন্ত্র-ক্রিয়ার কতকগুলি পালনীয়

১। তন্ত্র সাধনায় প্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলি শুদ্ধ হওয়া চাই। কৃত্রিম, পচা, পুরাতন,

উচ্ছিষ্ট, অপবিত্র স্থানে জাত দ্রব্য ব্যবহারে ফল হয় না। জড়ি-বুটি, ধাতু, সুগন্ধি

দ্রব্য, হোমের দ্রব্যাদি, ঘৃতাদি, অন্নাদি, তৈলাদি, যেন কৃত্রিম না হয় এবং তন্ত্রোক্ত

পরিমাণ মতো ব্যবহার করতে হবে। তান্ত্রিক ক্রিয়ায় অধিকাংশ সময়েই হোম করতে হয়। সেজন্য হোমের কাষ্ঠ ও অন্যান্য সামগ্রী, ঘৃত, স্থান প্রভৃতি শুদ্ধ হওয়া চাই। কোনও দ্রব্য বা গাছের নাম বুঝতে না পারলে, অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে জেনে নেবেন।

২। তান্ত্রিক ক্রিয়া বা মন্ত্র সাধনার সময় নগ্ন থাকা নিষিদ্ধ। তবে কিছু কিছু তন্ত্রোক্ত

কর্মে নগ্ন হয়ে পূজা ও জপের কথা বলা হয়েছে।

৩। যে কার্যের জন্য যে বর্ণের বস্ত্র ব্যবহারের কথা তন্ত্রে উল্লেখ আছে, সেই

বর্ণের বস্ত্র ও উত্তরীয় ব্যবহার করবেন। অপবিত্র, মলিন, দুর্গন্ধযুক্ত, ছিন্ন বা সেলাই করা বস্ত্র নিষিদ্ধ।

৪ । তন্ত্রোক্ত যে কোনও ক্রিয়ায় সাধক, জগ, পূজা, যন্ত্র-লিখন, বস্তু-সংযোজন

বা অপর যে কোনও প্রয়োগ শুদ্ধাবস্থায় করতে হবে।



ছবি ৩৭


৫। শিখাবন্ধন অবশ্যই করবেন, মাথার চুল খোলা রাখবেন না। খোলা মাথায়

একখণ্ড বস্ত্র অবশ্যই রাখবেন।

৬। যে কার্যে যে আসনের কথা বলা হয়েছে, সেই আসন ব্যবহার করবেন।

৭। স্থির চিত্তে ও দৃঢ় মনে ক্রিয়াকলাপ করবেন, অস্থির হলে চলবে না।

৮। কোলাহল, লোক সমাবেশ, মানসিক অশান্তি, ধূলিপূর্ণ বা আবর্জনা পূর্ণ স্থান,

ধোঁয়া, ঝড়-বৃষ্টি, মানসিক ক্রোধ, উদ্বেগ, শোক, শ্রম, চিন্তা, দুঃখ প্রভৃতি সযত্নে

পরিত্যাগ করবেন।

১। নির্দেশিত সময় অনুযায়ী দিক, আবহাওয়া, স্বর প্রভৃতি যথাযথ মেনে চলবেন।

১০। ক্রিয়া করতে করতে কাশি, হাঁচি, থুথু ফেলা, উঠে পড়া, অঙ্গ সঞ্চালন,

তন্দ্রাভাব, আহার প্রভৃতি নিষিদ্ধ।



      আসনভঙ্গী ও মুদ্রা

তন্ত্র সাধনায় নয়টি আসন বিশেষ প্রয়োজন। যথা—

১। পদ্মাসন (বদ্ধ), ২। পদ্মাসন (মুক্ত), ৩। বীরাসন, ৪। বজ্রাসন, ৫। ভদ্রাসন,

৬। দণ্ডাসন, ৭। পর্যবকাসন, ৮। উৎকটাসন, ৯। গোধিকাসন।



    মুদ্রা

 সাধন ও জপাদিতে মুদ্রার বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তা সে তান্ত্রিক ক্রিয়াই হোক আর বৈদিক ক্রিয়াই হোক। মুদ্রার অর্থ-টাকা পয়সা নয়, দেহকে একটা বিশেষ স্থিতিতে আনা। এই ক্রিয়াটি শুধু হাতের সাহায্যেই করা হয়। তান্ত্রিক ক্রিয়ায় যে সকল মুদ্রার প্রয়োজন হয়, নিম্নে তার বিবরণ দেওয়া হলো। যেমন—

১। আবাহনী, ২। স্থাপনী, ৩। সন্নিধাপনী ৪। সন্নিরোধনী, ৫। সম্মুখীকরণী।

৬। অঙ্কুশ মুদ্রা, ৭। অবগুণ্ঠন মুদ্রা, ৮। নারাচমুদ্রা, ৯। কুর্মমুদ্রা, ১০। যোনিমুদ্রা,

১১। মুণ্ড মুদ্রা, ১২। খড়্গগমুদ্রা, ১৩। ভূতিনীমুদ্রা।


     পূজা উপচার

পূজা পদ্ধতিতে যে সকল উপচারে পূজা হয়, সেগুলি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত।

যেমন—১। ষটত্রিংশ উপচার, ২। অষ্টাদশোপচার, ৩। ষোড়শোপচার, ৪।

দ্বাদশোপচার, ৫। দশোপচার, ৬। সপ্তোপচার, ৭। পঞ্চোপচার।



ছবি

১। ষট্‌ত্রিংশ উপচার—এর অর্থ হলো ৩৬টি উপচার দ্বারা পূজা। যেমন- ১।

আসন ২। অভ্যঞ্জন ৩। উদ্বর্ত্তন ৪। প্রোক্ষণ ৫। সমার্জন ৬। পঞ্চগব্যদি স্নান ৭।

পঞ্চামৃত স্নান ৮। আবাহন ৯। পাদ্য ১০। অর্ঘ্য ১১। আচমনীয় ১২। স্নানীয় ১৩।

মধুপর্ক ১৪। পুনরাচমনীয় ১৫। বস্ত্র ১৬। যজ্ঞোপবীত ১৭। অলঙ্কার ১৮। গন্ধ ১৯।

পুষ্প ২০। ধূপ ২১। দীপ ২২। নৈবেদ্য ২৩। তাম্বুল ২৪। পুষ্পমাল্য ২৫। সাধার

ভোজ্য ২৬। অনুলেপন ২৭। শয্যা ২৮। চামর ব্যজন ২৯। আদর্শ দর্শন ৩০। প্রণাম

৩১। নৃত্য ৩২। গীতবাদ্য। ৩৩। গান ৩৪। স্তব-স্তুতি ৩৫। প্রদক্ষিণ ৩৬। দন্তকাষ্ঠ

প্রদান ও বিসর্জন।



২। অষ্টাদশোপচার—১। আসন ২। স্বাগত ৩। পাদ্য ৪। অর্ঘ্য ৫। আচমনীয়।

৬। স্নান ৭। বস্ত্র ৮। অলঙ্কার ৯। গন্ধ ১০। পুষ্প ১১। ধূপ ১২। দীপ ১৩। নৈবেদ্য

১৪। দর্পণ ১৫। মাল্য ১৬। অনুলেপন ১৭। প্রণাম ১৮। বিসর্জন।



ষোড়শোপচার—১। পাদ্য ২। অর্ঘ্য ৩। আচমনীয় ৪। স্নান ৫। বস্ত্র ৬। অলঙ্কার

৭। গন্ধ ৮। পুষ্প ৯। ধূপ ১০। দীপ ১১। নৈবেদ্য ১২। আচমনীয় ১৩। তাম্বুল

১৪। স্তোত্র ১৫। তর্পণ ১৬। প্রণাম।


দ্বাদশোপচার—১। অর্ঘ্য ২। পাদ্য ৩। আচমনীয় ৪। মধুপর্ক ৫। পুনরাচমনীয়

৬। গন্ধ ৭। পুষ্প ৮। ধূপ ৯। দীপ ১০। নৈবেদ্য।


সপ্তোপচার—১। অর্ঘ্য, ২। গন্ধ ৩। পুষ্প ৪। অক্ষত ৫। ধূপ ৬। দীপ ৭। নৈবেদ্য।


পঞ্চোপচার—১। গন্ধ ২। পুষ্প ৩। ধূপ ৪। দীপ ৫। নৈবেদন